শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০ | আপডেট ১৮ মিনিট আগে

পাহাড় ধসের ৩১ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পাহাড় ধসের ৩১ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত

টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটি শহরের ৩১টি স্থানকে পাহাড় ধসের ঝুকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে জেলার ১০টি উজেলায় সরকারি-বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ।

তিনি বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসূমে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে রাঙামাটিতে। তাই বর্ষার আগে মানুষকে
সচেতন করতে মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এরই মধ্যে চলছে পাহাড়ে টানা, ভারি ও মাঝাড়ি বৃষ্টিপাত। তাই বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এখন থেকে রাঙামাটি পৌরসভার প্রায় ৩১টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়ছে। একই সাথে যারা পাহাড়ের
পাদদেশে বসবাস করে তাদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বার বার নিদের্শ দেওয়া হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, রাঙামাটির বাকি ১০টি উপজেলায়ও সতর্কতা বার্তা জারি করা হয়েছে। মানুষ যাতে
পাহাড় ধসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে এখনই সর্তক হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে শহরের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একে এম মামুনুর রশিদ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্ররা।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাইন বোর্ড দিয়ে সর্তকতা বার্তা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

সেগুলো হলো- শহরের চম্পানির মার টিলা, চেঙ্গির মুখ, এসপি অফিস সংলগ্ন ঢাল, মাতৃমঙ্গল এলাকা,
কিনারাম পাড়া, র্স্বর্ণটিলা, রাজমনি পাড়া, পোস্ট অফিস কলোনি, মুসলিম পাড়া, কিনা মোহন ঘোনা, নতুন পাড়া পাহাড়ের ঢাল, শিমুলতলী, রূপনগর এলাকা পাহাড়ের ঢাল, কাঁঠালতলী মসজিদ কলোনি, চম্পকনগর পাহাড়ের ঢাল, আমতাবাগ স্কুলের ঢাল, জালালাবাদ কলোনি পাহাড়ের ঢাল ও রাঙামাটি বেতার এলাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটিতে ১৫ হাজারের অধিক পরিবার পাহাড় ধসে ঝুঁকিতে বসবাস করে। তাই প্রতি বছর বর্ষায় পাহাড় ধসের প্রাণ ঘটনা ঘটে এ অঞ্চলে। রাঙামাটি পৌর সদরের নয়টি ওয়ার্ডে ৩১টি স্থানে ৬০৯ পরিবারের প্রায় আড়াই হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে। এর বাইরে রাঙামাটি সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৭৫০ পরিবারের তিন হাজার ৪২৪ জন লোক পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিতে আছে। তাই বৃষ্টি দেখলেই আতঙ্ক শুরু হয় পাহাড় বাসিন্দাদের মধ্যে।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটিতে ২০১৭সালে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ১২০, আর ২০১৮সালে ৯জন ও ২০১৯ সালে তিনজন। তাই চলতি বছর বর্ষাতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে এগে থেকে মাঠে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য