মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ | আপডেট ০৯ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট আগে

দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর বর্ণনা

অনলাইন ডেস্ক

দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর বর্ণনা

‘পাশের লঞ্চটা ধাক্কা দেয়ার সাথে সাথে লঞ্চটা কাইত হয়ে ডুবে গেছে। তলাইয়া যেতে ১০ সেকেন্ডও সময় নেয় নাই। আমি কেবিনে ছিলাম। গ্লাস খুলে আমি বের হইছি। ভেতরে আমার আপন দুই মামা ছিলেন। তারা তো বের হতে পারেন নাই। তাদের খোঁজ করছি।’

ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে বেঁচে ফেরা মো. মাসুদ এভাবেই লঞ্চডুবি ও নিজের দুই মামা নিখোঁজের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তার নিখোঁজ দুই মামা হলেন- আফজাল শেখ ও বাচ্চু শেখ।

তিনি আরও বলেন, ‘ঘাটে ভেড়ার জন্য আমাদের লঞ্চটা সোজা আসছিল। অন্য একটা লঞ্চ আড়াআড়িভাবে (বাঁকা) রওনা দেওয়ায় ওই লঞ্চের ধাক্কা লাগে আমাদের লঞ্চের মাঝে। এর পর পরই লঞ্চটি ডুবে যায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই।’

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

সদরঘাটের জেটিতে দুই মামার খোঁজে অবস্থান করা মো. মাসুদ বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর লঞ্চে থাকা প্রায় ৫০ জনের মতো যাত্রী আমরা সাঁতরে উঠতে পারছি। বাকি যাত্রী কেউ উঠতে পারে নাই। তারা লঞ্চের ভেতরেই ছিল। আমরা প্রায় ১৫০ জনের মতো লোক ছিলাম।’

মাসুদ রাজধানীর ইসলামপুরের গুলশান আরা সিটিতে কাপড়ের ব্যবসা করেন। প্রতিদিন সকালে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে কাপড়ের দোকান করেন। গতকাল রোববার ময়মনসিংহ থেকে তার দুই মামা তাদের মুন্সিগঞ্জের বাসায় বেড়াতে যান। তাদের নিয়ে আজ সকালে লঞ্চের একটি কেবিনে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। কিন্তু লঞ্চ পাড়ে ভেড়ার আগের মুহূর্তে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিখোঁজ হন তার দুই মামা।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

মন্তব্য