কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নিবেদিত প্রাণ এক নেতার বিরামহীন প্রচেষ্টা

জুয়েল কিবরিয়া

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নিবেদিত প্রাণ এক নেতার বিরামহীন প্রচেষ্টা

বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে প্রায় এক কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। যেখানে মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছুঁইছুঁই। আমাদের দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে বহু আগেই এবং মারা গেছে প্রায় এক হাজার ৭০০ মানুষ। দেশের এই দুঃসময়েও বরাবরের মতো জনগণের পাশে আছেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। করোনার সংক্রমণ রোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি। দূরদর্শী এই তরুণ নেতা দেশে করোনা বিস্তারের আগেই বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য পরিস্থিতি আঁচ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এজন্য করোনা পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, খাদ্য, ত্রাণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছেন। অন্যদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি নিজ দপ্তরের কাজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলমান রাখতে পেরেছেন। একইসাথে নিজের নির্বাচনী এলাকায় সংক্রমণ ঠেকাতে সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন তিনি। করোনার এই প্রাদুর্ভাবের সময় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর কর্মতৎপরতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সবার দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। এই নিবন্ধে তাঁর সামগ্রীক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার প্রয়াস চালানো হবে।

অনলাইন সাংবাদ সম্মেলন:
করোনা বিস্তারের শুরুতেই যখন বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে শারীরিক উপস্থিতি নিয়ে সংবাদকর্মীগণ প্রশ্ন তুলছিলেন ঠিক তখনই (২০ মার্চ) তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম অনলাইনে সাংবাদ সম্মেলন করেন। তারই দেখানো পথ ধরে পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় এই ট্রেন্ড চালু হয় যেখানে আইসিটি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ভার্চুয়াল অফিস:
করোনা ভাইরাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আইসিটি বিভাগের এটুআই কর্তৃক প্রবর্তীত ই-নথির মাধ্যমে প্রতিটি সরকারি অফিস তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালু রাখে। গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও পথ বাতলে দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী; সবার স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বজায় রেখে কাজ চলমান রাখতে ২৩ মার্চ থেকে তিনি নিয়মিত অনলাইনে জুম অ্যাপের সাহায্যে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমসহ সব ধরণের সভা পরিচালনা শুরু করেন। 

নিজ এলাকায় তৎপরতা:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতিতে নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন চলনবিলের মাটি ও মানুষের নেতা পলক। অসহায় ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণের পাশাপাশি ধানকাটা শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কৃষকের মাঝে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কম্বাইন হার্ভেস্টার ও রিপার মেশিন হস্তান্তর করেন। দলীয় কর্মীদের সাথে নিয়ে নিজেও সরাসরি ধান কাটায় অংশগ্রহণ করেন। নাটোরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করেন। এক সময়ের ২৩ চরমপন্থীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে গত ২৮ এপ্রিল তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুদান। চলনবিলের সাধারণ মানুষ করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ও তাদের সন্তান পলক-কে আগের মতোই পাশে পেয়ে স্বস্তিতে আছে।

ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ:
আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে কয়েকটি দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদক কোম্পানি গত ৩১ মার্চ ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষাকারী ভেন্টিলেটরসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে তারা কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ এপ্রিল বিশ্বখ্যাত মেডিকেল যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিক্স ও ওয়লটনের কারিগরী সহযোগিতায় দেশেই তৈরি হয় বিশ্বমানের পিবি-৫৬০ মডেলের স্পেসিফিকেশনে ‘ডব্লিউপিবি-৫৬০ ভেন্টিলেটর’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা:
প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে চালু হয় ‘প্রবাসবন্ধু কলসেন্টার’। ফলে সৌদিআরব ও বাহরাইনে কর্মরত প্রায় ২৪ লাখ প্রবাসী ঘরে বসেই সেবা নিতে পারছেন স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তারগণের মাধ্যমে। আইসিটি বিভাগের সার্বিক সহায়তায় জনগণের কাছে গুজব বা মিথ্যা তথ্যের বিপরীতে সঠিক ও সর্বশেষ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে হোয়াটসঅ্যাপের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ব্যবহারকারীর জন্য ২৩ এপ্রিল একটি ইনফোবট চালু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে জনপ্রিয় ভাইবার বটে ০২ মে চালু করা হয় ‘লাইভ করোনা টেস্ট’। অন্যদিকে ভার্চুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ১৪ এপ্রিল চালু করা হয় ‘হ্যালো ডক’। প্রাথমিকভাবে এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ জনের বেশি ডাক্তারের সমন্বয়ে একটি দক্ষ টিম রোগীদের সেবা প্রদান করছেন। মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বিনামূল্যে এ সেবা নিতে ভিজিট করতে হবে https://web.facebook.com/amarlab.bd/ এই লিংকে।

বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ:
করোনার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঘরে বসে নিজের বাড়ি, হাসপাতাল ও ফার্মেসিসহ প্রয়োজনীয় স্থানের তথ্য একটি ম্যাপে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ০৮ এপ্রিল শুরু হয় ‘বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ’ ক্যাম্পেইন। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক-এর পরিকল্পনা মোতাবেক এই ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে আইসিটি বিভাগের সাথে কাজ করে বাংলাদেশ স্কাউটস ও গ্রামীণফোন। ডিজিটাল সার্চিং ম্যাপে সংযুক্ত করার মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্থানের তথ্য ম্যাপে সংযুক্ত করা শুরু হয় পলকের আহ্বানে। যেকোনো স্থান থেকে angladeshchallenge.com এই ঠিকানায় গিয়ে সঠিক ম্যাপিং লোকেশন নিবন্ধন করা যাবে।

কল ফর নেশন:
বর্তমান ও ভবিষ্যতের জাতীয় সংকট মোকাবেলায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে “কল ফর নেশন” প্লাটফর্ম তৈরি করা হয় গত ৩০ মার্চ। উদ্যোক্তাবান্ধব এ প্লাটফর্মের আওতায় 'কভিড-১৯' প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করতে অনলাইন প্রতিযোগিতা আহ্বান করা হয়। গত ৮ জুন দেশের তরুণ বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের জমা দেওয়া ৬৮১টি প্রকল্প থেকে ৬টি ক্যাটাগরিতে ৬টি প্রকল্পকে বিজয়ী ঘোষণাসহ সর্বমোট ৩৬টি পুরস্কার দেওয়া হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গত ২২ জুন শুরু হয় ‘জাতীয় হাই-স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২০। এর আগে ৬২টি দলের অংশগ্রহণে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড।

ত্রাণ বিতরণে প্রযুক্তি:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনা পরিস্থিতিতে তথ্য-প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগ ১৯ এপ্রিল থেকে যৌথভাবে কাজ শুরু করে। এলক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ তৈরি ও জাতীয় তথ্য সেবা হেল্পলাইন ৩৩৩-এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিউআর কার্ড ও ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপকারভোগীদের কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ তৈরির জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করে দিয়েছে জুনাইদ আহমেদ পলকের আইসিটি বিভাগ।

ন্যাশনাল ডেটা এনালিটিক্স টাস্কফোর্স:
আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ১৮ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করে “ন্যাশনাল ডেটা এনালিটিক্স টাস্কফোর্স”। করোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে যাচ্ছে এই টাস্কফোর্স। সারাদেশ থেকে প্রতিদিন পাওয়া তথ্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ১১টি প্রস্তাব করেছে টাস্কফোর্স। ন্যাশনাল ডেটা এনালিটিক্স টাস্কফোর্স করোনার তথ্য-উপাত্ত (ডেটা) বিশ্লেষণ করে সংক্রমণের মাত্রা ও মৃত্যুর হার অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকাকে লাল, হলুদ এবং সবুজ জোনে ভাগ এবং লাল ও হলুদ জোনকে কীভাবে সবুজ জোনে পরিণত করা যায় সে ব্যাপারে করনীয় ও সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরছে। 

কোভিড-১৯ ট্র্যাকার:
করোনা ভাইরাসের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে গত ২০ এপ্রিল মানচিত্রভিত্তিক "কোভিড-১৯ ট্র্যাকার" তৈরি করেছে আইসিটি বিভাগ। ভাইরাসটি কিভাবে ছড়াচ্ছে প্রতি মুহূর্তে এর হালনাগাদ তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হচ্ছে এর মাধ্যমে। প্রতিমুহূর্তে covid19tracer.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে জানা যাচ্ছে আক্রান্ত, সুস্থ, সঙ্কটাপন্ন ও মৃত রোগীর সংখ্যা। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ৪ জুন পরীক্ষামূলকভাবে ব্লুটুথ ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ‘করোনা ট্রেসার বিডি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে।

টেলি-মেডিসিন:
আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গেম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ১৩মে "পাঠাও টেলিমেডিসিন" সেবার উদ্বোধন করেন। খরচ ও ঝুঁকি কমাতে ইতোমধ্যে ‘প্রভা’ ও ‘সহজ’ এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো টেলিমেডিসিন সেবা চালু করেছে। এর মাধ্যমে অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে যাচ্ছে। অন্যদিকে একই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে বিশেষায়িত টেলিহেলথ সেন্টার। 

একদেশ:
আর্তমানবতার সেবায় দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদান ও আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য গত ১৫ মে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ডিজিটাল ক্রাউডফান্ডিং প্লাটফর্ম ‘একদেশ’ চালু করা হয়। যাকাত কিংবা আর্থিক অনুদান প্রদান করতে একদেশ ওয়েবসাইট https://ekdesh.ekpay.gov.bd/ অথবা ‘একদেশ’ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনুদান গ্রহীতা হিসেবে যুক্ত আছে। ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট অথবা ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে যাকাত কিংবা অনুদান দেওয়া যাবে এই প্লাটফর্মটিতে।

ই-ব্যাংকিং সেবা:
গ্রাহকদের সুরক্ষায় ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে সোনালী ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ৩ জুন ব্যাংকের প্রথম মোবাইল অ্যাপস সোনালী ই-সেবা উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। দ্রুততম সময়ে এই সেবা নিশ্চিত করার জন্য গ্রাহকের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করে দেবে আইসিটি বিভাগের সফটওয়্যার ‘পরিচয়'। এই সফটওয়্যার গ্রাহকের যেকোনো তথ্য (কেওয়াইসি) নিমিষেই বাংলাদেশ জাতীয় ডিজিটাল আর্কিটেকচারের (বিএনডিএ) সাথে মিলিয়ে নিতে পারবে।

এডুকেশন ফর নেশন:
করোনা মহামারীর মধ্যে ঘরবন্দী শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের জন্য ১ জুন ‘এডুকেশন ফর নেশন’ প্লাটফর্ম চালু করা হয়। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাসগুলো অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। ৬০ মিনিটের প্রতিটি ক্লাসে ৪৫ মিনিট পাঠদান ও ১৫ মিনিট প্রশ্ন-উত্তর পর্ব থাকছে; প্রতিদিন ৪টি করে ক্লাস হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের এই দূরদর্শী উদ্যোগে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার যে মডেলটি তৈরি হয়েছে তা পর্যায়ক্রমে দেশের সবকয়টি সরকারি স্কুল ও কলেজে চালু করা হবে।

ফুড ফর নেশন:
আইসিটি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় গত ২৩ মে বাংলাদেশের প্রথম উম্মুক্ত কৃষিপণ্য প্লাটফর্ম ফুড ফর নেশন (foodfornation.gov.bd) চালু করে কৃষি মন্ত্রণালয়। কৃষক, বাজারজাতকারী, আড়ৎদার, বিপণনকারী আর প্রাতিষ্ঠানিক ভোক্তা একই প্লাটফর্মে পণ্যের দাম ও মান যাচাইয়ের পাশাপাশি সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগেরও সুযোগ পাবেন। রেজিস্ট্রেশন করে কৃষিপণ্য নির্বাচন করতে, বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে ও কেনাকাটা করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। স্টার্টআপ বাংলাদেশের মাধ্যমে এখানে যুক্ত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রোফাইলে দেওয়া মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও সুবিধামতো মাধ্যম নির্বাচন করে লেনদেন করা যাবে।

প্লাজমা প্লাটফর্ম:
কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় প্লাজমা সংগ্রহ এবং সরবরাহ সহজ করার লক্ষ্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরকে সাথে নিয়ে ০৯ জুন ‘সহযোদ্ধা’ প্লাজমা নেটওয়ার্ক প্লাটফর্ম গড়ে তোলা হয়। ডাক্তার প্লাজমা থেরাপি দেয়ার পরামর্শ দিলে আক্রান্ত রোগীর জন্য সহযোদ্ধার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.shohojoddha.com) ভিজিট করে প্লাজমা খোঁজা এবং সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয় সব সুবিধা থাকছে এখানে।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আইসিটি বিভাগের সবাইকে সাথে নিয়ে অনলাইনে ব্যতিক্রমী ঈদ পুণর্মিলনী আয়োজন করেন। দেশের সকল প্রান্তে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি থাকায় দেশবাসী করোনা পারিস্থিতিতেও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ঈদ আনন্দ উদযাপন করেছে। ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস এবং ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও উদযাপন করা হয় ডিজিটাল প্লাটফর্মে। করোনা মহামারীতেও একটি মুহূর্ত থেমে নেই প্রতিমন্ত্রী পলক। বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজ করছে তাঁর আইসিটি বিভাগ। এলক্ষ্যে একটি গাইডলাইন ও টাইমফ্রেম ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি ই-নামজারির জন্য জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ পেয়েছে সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়। এই পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ ও জাতির সম্মিলিত অর্জন। মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিক নির্দেশনা মোতাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের তৎপরতায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামক যে পরিবর্তনের গল্প সূচিত হয়েছে তা দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য সেক্টরে অচিরেই প্রতিফলন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

লেখক: জনসংযোগ কর্মকর্তা, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ
ই-মেইল: [email protected])

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

পরবর্তী খবর

শনিবার ঢাকার যে সব মার্কেট বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার ঢাকার যে সব মার্কেট বন্ধ

জরুরি প্রয়োজনে ঢাকার কোথাও বের হবেন? তার আগে দেখে নিন শনিবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে।

অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকা:
বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারী বাজার, চাঙ্খারপুল, গুলিস্থানের দক্ষিণ অংশ।


ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তে হয়

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত


 

অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট:
আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সামনের দিন খারাপ হতে পারে

তালুকদার বিপ্লব

সামনের দিন খারাপ হতে পারে

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার নো মাস্ক নো সার্ভিস নির্দেশনা জারি করলেও তা মানছেন না অনেকেই। বিশেষ করে রাজধানীর বেশিরভাগ কাচাঁবাজার ও নামিদামি রেস্তোরাগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি উপক্ষিত। এ অবস্থা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রবেশের পথকে প্রশস্ত করবে বলে মতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে সরকার। একই সাথে মাস্ক না পরার কারণে জরিমানাও করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে  নো মাস্ক, নো সার্ভিস কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বেশির ভাগ খোলাবাজার ঘুরে দেখা যায় মাস্ক পরার প্রবণতা নেই দোকানিদের মধ্যে। মাস্ক ছাড়াই কেনাবেচা করছেন, কথাও বলছেন ক্রেতাদের সাথে।

স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না রাজধানীর জনসমাগম স্থলের বিভিন্ন ফাস্টফুড দোকান এবং নামিদামি হোটেল-রেস্তরাগুলোয়। অবশ্য সিটি কর্তৃপক্ষ বলছে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

৬ গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ের আসরে স্বামী!

মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাবস ব্যবহার ছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাচাঁর বিকল্প নেই বলে মনে করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মরামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রোধে অধিক সচেতনতার বিকল্প নেই বলেই মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

‘ধর্ষকের শাস্তি হোক ফায়ারিং স্কোয়াডে’

অনলাইন ডেস্ক

ধর্ষকের শাস্তি ফায়ারিং স্কোয়াডে দেওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব আব্দুল করিম।বুধবার নিউজ টোয়েন্টিফোরের ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ড যেমন সমর্থন করা যায় না ঠিক তেমনি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ড কাম্য। 

‘যে জঘন্য বাবা নিজ মেয়েকে ধর্ষণ করে সে জঘন্য বাবার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে তাকে যদি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে জনসন্মুখ্যে হত্যা করা হয় তাহলে এর একটা ইফেক্ট পড়বে। যেমন সৌদি আরবে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি দেওয়া হয় জনসন্মুখে। এমন দু চার টা শাস্থি দেওয়া হলে এর একটা ইফেক্ট পড়বে। এটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে দ্রুত বিচার আইনে তাকে যদি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাহলে এই কলঙ্ক থেকে আংশিক মুক্তি মিলবে।’

আনোয়ার সাদীর উপস্থাপনায় ‘পিছু ছাড়ছে না সংকট’ শীর্ষক আলোচনাটিতে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

সজীব ওয়াজেদ জয় তারুণ্যের জাদুকর

ড. কাজী এরতেজা হাসান

সজীব ওয়াজেদ জয় তারুণ্যের জাদুকর

প্রজন্ম কথাটা আমরা ইদানিং খুব ব্যবহার করি। ‘তরুণ প্রজন্ম’ কথাটা আজ বিশ্বের সব জায়গায় বহুল ব্যবহৃত শব্দ।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একজন আইকন একটা প্রজন্মের জন্য হয়ে ওঠেন বদলে দেওয়ার জয়গান। বাংলাদেশের এমন একজন তরুণ আইকন, যিনি বদলে দিয়েছেন দেশের বেকার যুবকদের ভাগ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে দুর্বার গতিতে আমাদের ছুটে চলা যার হাত ধরে, তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়।

লেখার শুরুতেই তাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা বক্তব্য খুব মনে পড়ছে। ২০১৮ সালে জুলাই মাসের ২৫ তারিখ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, নিজে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেই ‘টাকার অভাবে’ একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়াতে পারেননি। ছেলে-মেয়ে ও ভাগনে-ভাগ্নিদের লেখাপড়া নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করেছে, চাকরি করেছে। পড়ার মাঝে গ্যাপ দিয়ে চাকরি করে আবার পড়াশোনা করেছে।

একবার গ্র্যাজুয়েশন হয়েছে, কিছু দিন চাকরি করেছে, স্টুডেন্ট লোন নিয়েছে, সেটা শোধ দিয়েছে আবার ভর্তি হয়েছে মাস্টার্স ডিগ্রি করেছে। আবার সেই লোন শোধ দিয়েছে। এইভাবে পড়েছে। পড়াশোনা করা অবস্থায়ও ঘণ্টা হিসেবে কাজ করেছে, পার ঘণ্টা একটা ডলার পেত, সেটা দিয়ে তারা চলত। ’ টাকার অভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটিতে দুই সেমিস্টার পড়ে ছেলে জয়ের সেখান থেকে চলে আসার কথাও বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করার পর জয় কিছু দিন চাকরি করে এরপর আরও উচ্চ শিক্ষার জন্য এমআইটিতে (আমেরিকা) চান্স পেল। আমি তার শিক্ষার খরচ দিতে পারিনি। দুটো সেমিস্টার পড়ার পর নিজে কিছু দিল, আমাদের কিছু বন্ধুবান্ধব সহযোগিতা করল, যার জন্য যেতে পারল। আর আব্বার বন্ধু আমার ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন। উনি বলতেন, তুমি পলিটিক্স করো এটা আমার ওপর ছেড়ে দাও। তিনি না থাকলে আমি পড়াতে পারতাম না। এমনকি মিশনারি স্কুলে তারা পড়েছে। সাত দিনই সবজি বা ডালভাত খেতে হতো, একদিন শুধু মাংস খেতে পারত। এভাবে কৃচ্ছ সাধন করে এরা বড় হয়েছে। ’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘যখন এমআইটিতে দিতে পারলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী, আমার দ্বিধা হল, কাকে বলব টাকা দিতে বা কীভাবে আমি টাকা পাঠাবো, বুঝতে পারিনি। কার কাছে দেনা হব? আমার কারণে তার পড়া হল না। দুটো সেমিস্টার করে তাকে বিদায় নিতে হল। তারপর সে চাকরিতে ঢুকল। ’

সজীব ওয়াজেদ জয় ২০০৭ সালে মায়ের অনুরোধেই হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদন করেন। সেই সময়ের কথা তুলে ধরে হাসিনা বলেন, ‘২০০৭ সালে বউমা অসুস্থ হলে দেখতে গেলাম। তখন তাকে অনুরোধ করলাম। কারণ আমার ভেতরে এই জিনিসটা খুব কষ্ট লাগত যে, আমি প্রধানমন্ত্রী হলেও তার পড়ার খরচ দিতে পারিনি। তখন আমি বললাম, তুমি হার্ভার্ডে আবেদন কর। আমি অনুরোধ করার পর সত্যি সে আবেদন করল। চান্স পেয়ে গেল। ’ ছেলেকে প্রথম সেমিস্টারের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়ে তা আর সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম, ফার্স্ট সেমিস্টারের টাকা আমি দেবো। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার আগে গ্রেফতার হয়ে গেলাম। তবে আমি চেয়েছিলাম, চান্স যখন পেয়েছে যেভাবে পারুক চালাক। পরে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে তা ভাড়া দিয়ে সেই ভাড়ার টাকা দিয়ে, কলেজ থেকে দূরে বাসা নিল যাতে সস্তায় বাসা পায়, গাড়ি রেখে মোটরসাইকেল চালিয়ে সে আসত। রেহানার মেয়ে অক্সফোর্ডে চান্স পেয়েছে সে পড়াশোনা করল- স্টুডেন্ট লোন নিয়ে তারপর পড়াশোনা শেষে চাকরি করে লোন শোধ দিল, সে ২১ বছর বয়স থেকে চাকরি করে। কয়েক বছর চাকরি করার পর সে মাস্টার্স ডিগ্রি করল। আবার চাকরি করল। ’

সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন। পরে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই। বাংলাদেশের জাতির জনক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়। শৈশব, ছেলেবেলা আর সাধারণের মতো কাটেনি তার। তার জন্মের সময় থেকে তার মা-নানিসহ পরিবারের সবাই গৃহবন্দি। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশের স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি। ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বেকারত্ব ছিল বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অভিশাপ। সেই অভিশপ্ত জনশক্তিই এখন বাংলাদেশের সম্পদ। এখন তরুণ প্রজন্ম চাইলে নিজেকে চাকুরির বাজারে না নিয়েই ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে পারে। হতে পারে উদ্যোক্তা। এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হচ্ছে সুলভ মূল্যে বেশি গতির ইন্টারনেট। সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে এবং দিকনির্দেশনায় কমতে থাকে বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য।  

১৯৯৬ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যখন ক্ষমতায় তখন থেকেই সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। দলের জন্য কাজ করতে গিয়েই তিনি বুঝতে পারেন তরুণ প্রজন্মকে ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই ভাবনা থেকেই তিনি তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। তার এই দূরদর্শিতার কারণের খুব অল্প সময়ের মধ্যে সীমিত জনবল নিয়েও বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ার সাথে ভালোভাবেই সংযুক্ত করতে পেরেছে।

২০০০ থেকে ২০০৮ এই সময়ে বাংলাদেশ ছিল অন্ধকার জনপদ। দেশের তেমন কোনো উন্নয়ন তো হয়ইনি বরং দেশের হতাশ তরুণ প্রজন্মও জড়িয়ে যাচ্ছিল জঙ্গিবাদের করাল গ্রাসে। সেই অবস্থা থেকে আজকের ২০১৯ এর বাংলাদেশ অনেকটাই পরিপক্ব, সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় শক্ত অবস্থান পেয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বেই।

১৭ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে সজীব ওয়াজেদ জয়কে শেখ হাসিনার সম্মানসূচক আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বলে রাখা ভালো এ পদের জন্য কোনো বেতন নেন না তিনি। এই সময়েই শুরু হয় বাংলাদেশের মহাকাশে পদার্পণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের যাত্রা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গাজীপুরের বেতবুনিয়া কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে মহাকাশ গবেষণার স্বপ্নের যে বীজ বপন করেছিলেন তারই সফল বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের এমন একটি অভিজাত ক্লাবের সদস্য যেখানে মাত্র ৫৬টি দেশের অবস্থান। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট অনেকটা এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে।

তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে দেশে তৈরি করা হচ্ছে হাইটেক পার্ক। তরুণ প্রযুক্তিবিদদের মিলনমেলা ঘটছে এসব হাইটেক পার্কে। গাজীপুরে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা-সমৃদ্ধ হাইটেক পার্কে করা হবে দেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল তৈরি করেছে বাংলাদেশ, যেখানে যুক্ত রয়েছে পঁচিশ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট। সুদক্ষ পরিকল্পনা এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই আজ বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সারদের দুনিয়ায় শক্ত অবস্থান করে নিতে পেরেছে। বাংলাদেশ সরকারের টেকসই উন্নয়নের যে মহাপরিকল্পনা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই শিক্ষিত দক্ষ প্রযুক্তিমুখী তরুণ প্রজন্ম।

সজীব ওয়াজেদ জয় জানেন আজকের দুনিয়ায় “ডাটা” কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের প্রতিটা মানুষের ডাটা ডিজিটালি সংরক্ষণের চিন্তা থেকেই বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রকে করা হয় “স্মার্ট”। পাসপোর্টকে করা হয় মেশিন রিডেবল। এতসব প্রজেক্টে থাকা ডাটাগুলোকে আবার নিয়ে আসা হয় একটা সেন্ট্রাল ডাটাবেসে। যেখান থেকে এখন সেবাপ্রদানকারী সংস্থাগুলো যে কারো পরিচয় সহজেই নিশ্চিত হতে পারে।

আমরা অবাক হয়ে দেখি এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের চেয়ে অনেক দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে ফেলতে পারছে এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারছে। এসবই সম্ভব হয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ায়। দেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নিতে এবং পূর্ণাঙ্গ-স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুইটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এর একটি হচ্ছে, ক্যাশলেস সমাজ গঠন অর্থাৎ সকল লেনদেন নগদের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে করা। অপরটি হচ্ছে সকল সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসা।

ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তুলতে পারলে দুর্নীতি কমে যাবে; সরকারের আয় বাড়বে। সবার টাকার একটা ‘ট্রেস’ থাকবে। আর সরকারি সেবাগুলোকে পুরোপুরি অনলাইনে নিয়ে আসতে হবে। জনগণ যেন ‘ইন লাইন’ (অপেক্ষমাণ) না থাকেন বরং ‘অনলাইন’ থাকেন সেই বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন আজ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির ঘরে জন্ম নেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জয় নাম রাখেন নানা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা ও বাবার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন জয়। পরে মায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারতে চলে যান তিনি। তার শৈশব ও কৈশোর কাটে ভারতে। সেখানকার নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে নির্বাচিত হন সজীব ওয়াজেদ জয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্লোগানটি যুক্ত হয় তার নেপথ্যে ছিলেন জয়।

পরবর্তী সময়ে পর্দার অন্তরালে থেকে গোটা দেশে তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটান এই তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে অবৈতনিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

লেখাপড়া করা অবস্থায় রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত থাকলেও জয় সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান ২০১০ সালে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিতৃভূমি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ দেয়া হয় তাকে, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসেন তিনি। বর্তমানে মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আজ আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি নেই।  

আমরা প্রত্যেকেই স্বপ্নচারী। আমাদের মতো সজীব ওয়াজেদ জয়ও একজন স্বপ্নচারী মানুষ। তিনিও স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। তবে আমাদের অনেকের চেয়ে তিনি যে কারণে আলাদা সেটি হচ্ছে তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেনই না, সেই স্বপ্ন অন্যকে দেখাতেও পারেন, সেই স্বপ্নকে আমাদের হাতের মুঠোয় দিয়ে দিতে পারেন। বলা যায় তিনি একজন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। সজীব ওয়াজেদ জয় একজন স্বপ্নচারী মানুষ, একজন তারুণ্যের জাদুকর। স্বপ্নাতুর এই মানুষটির জন্মদিনে শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা ও দ্য পিপলস টাইমস। পরিচালক: এফবিসিসিআই।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

পরবর্তী খবর

সমুদ্রে তেলাপোকা সদৃশ প্রাণীর সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক

সমুদ্রের গভীরে তেলাপোকার মতো দেখতে বড় একটি প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভারত মহাসাগরের গভীর থেকে এই প্রাণী ধরেছেন সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমুদ্র বিজ্ঞানীরা।
প্রাণীটির রয়েছে ১৪ খানা পা, বিশাল দুই শুঁড়। বীভৎস মুখ আর বিকট আকার। গভীর, রহস্যময় সমুদ্রের অন্দরে যে আজব ও অচেনা প্রাণীরা বাস করে তাদের ধরতেই ১৪ দিনের অভিযানে নেমেছিলেন বিজ্ঞানীরা। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা উপকূলে শুরু হয়েছিল সেই অভিযান। গভীর সমুদ্রে বাস করে এমন ১২ হাজার প্রাণীকে খুঁজে বার করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মধ্যেই ছিল এই বিশাল তেলাপোকা। তবে এটি সাধারণ তেলাপোকার মতো নয়। একই রকমের দেখতে হলেও পায়ের সংখ্যা ছয়ের বদলে চৌদ্দ। মুখের সামনে বিশাল দুই শুঁড়। কিছুটা সামুদ্রিক লবস্টারের সঙ্গে মিল আছে। এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে ব্যাথিনোমাস রাকসাসা।

পরবর্তী খবর