কিটের ৬০০ কোটি টাকা বাকি, মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করোনা পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

কিটের ৬০০ কোটি টাকা বাকি, মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করোনা পরীক্ষা

দেশে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার শুরু থেকে এ পর্যন্ত যত কিট সরকার সংগ্রহ করেছে সে সবের বিলই বকেয়া রয়েছে। কেবল কিটই নয়, নতুন স্থাপনকৃত পিসিআর মেশিন, এমনকি চিকিৎসাকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীরও (পিপিই) কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি।

টাকা না পেয়ে কিট ও মেশিন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন ওই সরবরাহকারীদের একদিকে বোঝানো এবং অন্যদিকে নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করারও চেষ্টা চলছে।

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ কিট আনা হয়েছে দেশে, যার মূল্য প্রতিটি দুই হাজার ৭০০ টাকা দরে প্রায় ৪০৫ কোটি টাকা। এই বিল পরিশোধ করা হয়নি। পিসিআর মেশিন বাবদ প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। পিপিইসহ অন্য উপকরণের বিল বকেয়া রয়েছে হাজার কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে ও তথ্য-উপাত্ত থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিল পরিশোধ নিয়ে জটিলতার কারণ হিসেবে জানা গেছে, কেনাকাটায় সঠিক প্রক্রিয়া বা বিধি-বিধান অনুসরণ না করা, কখনো বা তাত্ক্ষণিক মৌখিক নির্দেশে সরবরাহ নেওয়া এবং অতিরিক্ত দামসহ আরও কিছু দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত শুরু হওয়া। 

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন যেকোনো কেনাকাটা বা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করছে। জরুরি পরিস্থিতির কেনাকাটা হলেও এই মুহূতে উপযুক্ত বিধি-বিধান অনুসরণ ছাড়া সাহস করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে এ ক্ষেত্রেও এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

শুধু বিলই নয়, এর সঙ্গে আরেক জটিলতা তৈরি হয়েছে আমদানি করা প্রায় আট লাখ কিট ফেরত দেওয়া নিয়েও। সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতির কারণে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে দেশে করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম। এ অবস্থায় একটি কিট দিয়ে দুটি নমুনা পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুরুতে ১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে কিট সরবরাহ করার আদেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কখনো বা মৌখিক নির্দেশনা পেয়েও কেউ কেউ নিজেরা বিদেশ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কিট এনে সরবরাহ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। তবে এর মধ্যে ভাগে ভাগে প্রায় সাত লাখ কিট এনেছে এককভাবে একটি প্রতিষ্ঠান, যাদের ওই কিট আনা হয়েছে চীন থেকে। 

বাকি আটটি প্রতিষ্ঠান প্রায় এক লাখ করে কিট এনেছে কোরিয়া, ইতালিসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে। চীনের কিটগুলোর মতোই অন্য দেশের কিটও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুঝে নিয়ে বিভিন্ন ল্যাবে বিতরণ করেছে। কিন্তু একপর্যায়ে ওই সব কিট ফেরত দেয় বিভিন্ন ল্যাব। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেসব কিট ফেরত নিতে বলে সরবরাহকারীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চীন ছাড়া অন্য যেসব দেশের কিট সরবরাহ করা হয়েছে সেটা পিসিআর মেশিনে সেট হয় না বা সেট করতে দেরি হয়, এমন কারণ দেখিয়ে ফেরত নিতে বলা হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। অন্যদিকে সরবরাহকারীরা তাদের বিল পরিশোধে চাপ দিতে থাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। তাতে সাড়া না পেয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অজুহাত দেখিয়ে কিট সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সরবরাহকারীরা কোটি কোটি টাকা মূলধন খাটিয়ে লাখ লাখ কিট এনে দিয়েছে। এখন যদি তারা ওই বিল না পায় কিংবা আবার কারও কারও কিট নানা অজুহাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ফিরিয়ে দেয় সেটা সরবরাহকারীদের পথে বসানোর শামিল হবে। বকেয়া বিল না পেলে তারা আবার কিট আনার টাকা পাবে কোথায়? এ ছাড়া যারা পিসিআর মেশিন সরবরাহ করেছে তারাও বিল পাচ্ছে না। ফলে এখন আবার তাদের কাছে মেশিন চাইলে তারা কিভাবে দেবে?’

ওই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, যে অজুহাত দেখিয়ে সাত-আট লাখ কিট ফিরিয়ে দেওয়া চেষ্টা চলছে সেটা সঠিক নয়। কিটগুলো দেশে থাকা সব পিসিআর মেশিনেই সেট হয় এবং পরীক্ষাও হয় সঠিকভাবেই। এখানে অন্য কোনো ব্যাপার থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ কিটগুলোর কার্যকারিতার মেয়াদ থাকে ছয় মাস। এর মধ্যেই কারো কারো কিটের মেয়াদ দেড়-দুই মাস চলে গেছে। ফলে ওই সরবরাহকারীদের কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে এখন কম দামে হলেও প্রাইভেট ল্যাবগুলোকে কিছু কিছু করে সরবরাহ করতে শুরু করেছে। প্রাইভেট ল্যাবে যে কিট ব্যবহার করা যায় তা কেন একই মেশিনে সরকারি ল্যাবে ব্যবহার করা যাবে না, সেটা বোধগম্য নয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, করোনা পরীক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সবচেয়ে বেশি কিট দেওয়া বা এখন এককভাবে চীনের সব কিট সরবরাহকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওভারসিজ মার্কেটিং করপোরেশন (ওএমসি), যারা একই সঙ্গে পিসিআর মেশিনসহ আরও কিছু উপকরণ দিচ্ছে। কিন্তু এই বড় প্রতিষ্ঠানটিও কিছুদিন ধরে বেঁকে বসেছে বিলের জন্য। তাদের বকেয়া ২০০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে জানায় একাধিক সূত্র। যদিও ওই প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে রাখঢাক করছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অনেক দিন ধরেই এককভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে বা তাদের কাজ দেওয়ার জন্যই অন্যদের কিট গ্রহণ করা হচ্ছে না।

ওএমসির অন্যতম পরিচালক মারুফ মান্নান বলেন, ‘বিলের জন্য কিট বা মেশিন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছি—এই কথা সঠিক নয়। শুধু আমাদেরই নয়, কারও বিলই তো দিচ্ছে না। অন্যরা কেন কিট দিচ্ছে না সেটা আমি বলতে পারব না। আমরা কেন দিচ্ছি না সেটাও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই ভালো বলতে পারবে।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক  ও অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান বলেন, ‘আগে কী হয়েছিল না হয়েছিল সেটা আমি বলতে চাই না। আমি দায়িত্ব নিয়েছি ২৭-২৮ দিন। 

এর আগে কোন প্রক্রিয়ায় কাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, বিধি-বিধান মানা হয়েছিল কি হয়নি, সেটাও আমি দেখতে চাই না। তবু যেহেতু বিষয়টি আমার নজরে এসেছে তাই আমি আগের বিল ও ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সুরাহার জন্য নির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। সেখান থেকেই বিষয়টির সমাধান আসবে বলে আশা করি।’

অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানকে কিটের কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রায় এক লাখ কিট হাতে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আগের যে কিটগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে কথা উঠেছে সেই কিটগুলো থেকে কিছু কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ওই কিটগুলোর সমস্যা সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি যতটা জেনেছি সেটা হচ্ছে, ওই কিটগুলো কোনো কোনো ল্যাবের মেশিনে প্রপারলি সেট হয় না, আবার সময় খুব বেশি লাগে। এখন যেহেতু আমাদের কাজ চালিয়ে দেওয়া জরুরি তাই দেরি হলেও ওই ধরনের কিছু কিটের সাপোর্ট নেওয়া যেতে পারে, যা নিয়ে ওই সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, হাতে এখনো যে পরিমাণ কিট আছে তা দিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ চলবে। এর মধ্যে অন্য সব জটিলতা কাটিয়ে আরো সরবরাহ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

সিএমএসডির পরিচালক জানান, কিটের সংকটের চেয়ে বরং সরবরাহ সংকটটাই বেশি। কোনো এলাকার ল্যাবে হয়তো কিট বেশি আছে, কোনো এলাকার ল্যাবে কম আছে। যেখানে কম সেখানে এক দিন বেশি চাপ পড়লে ঘাটতির প্রশ্ন ওঠে। আর সেখান থেকে কেন্দ্রে খবর আসার পর কিট পৌঁছাতে হয়তো কয়েক ঘণ্টা বা দু-এক দিন সময় লেগে যায়। 

তিনি বলেন, কিট সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে একটি কিট (আরটিপিসিআর কিট) দুই ভাগ করে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করে এক কিটে দুজনের নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

পরবর্তী খবর

করোনার দ্বিতীয় বছর আরও প্রাণঘাতী হবে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক

করোনার দ্বিতীয় বছর আরও প্রাণঘাতী হবে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, করোনা মহামারির দ্বিতীয় বছর আরও বেশি প্রাণঘাতী হবে। আমরা এই মহামারির দ্বিতীয় বছরের জন্য অনেক বেশি প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস শুক্রবার (১৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এ সতর্কবার্তা দেন।

একই সঙ্গে শিশুদের টিকা দেওয়ার বদলে দরিদ্র দেশগুলোকে টিকা সরবরাহ করতে উন্নত বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, ‘কিছু দেশ শিশু ও কিশোরদের টিকা দিতে চাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় আমি তাদের আহ্বান জানাবো, তারা যেন শিশু-কিশোরদের টিকা না দিয়ে সেসব টিকা ‘কোভ্যাক্স’জোটের কাছে হস্তান্তর করে।’

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

অতিরিক্ত চর্বিতে করোনা ঝুঁকি বাড়তে পারে ৮৬ শতাংশ, ইসরায়েলি গবেষকদের সমীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

অতিরিক্ত চর্বিতে করোনা ঝুঁকি বাড়তে পারে ৮৬ শতাংশ, ইসরায়েলি গবেষকদের সমীক্ষা

ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্রের সমস্যা বা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ওজন— এই ধরনের সমস্যা থাকলে তা কোভিডের বিপদ বাড়িয়ে দিতে পারে। এই কথা অনেক আগেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন সমীক্ষায়।

কিন্তু কী পরিমাণে ওজন বৃদ্ধি হলে, তা কোভিডের বিপদ কতটা মাত্রায় বাড়াতে পারে, হালে তার ব্যাখা দিলেন ইজরায়েলের কয়ে জন গবেষক।

ইজরায়েলেরে ‘চেইম শেবা মেজিক্যাল সেন্টার’-এর বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন, ‘বডি মাস ইন্ডেক্স’ বা ‘বিএমআই’-এ বৃদ্ধির সঙ্গে কোভিডের সংক্রমণের আশঙ্কা প্রায় ২২ শতাংশ বেড়ে যায়।

ওজনকে (কিলোগ্রাম এককে) উচ্চতার (মিটার এককে) স্কোয়ার দিয়ে ভাগ করলে যে ফল পাওয়া যায়, তাকেই বিএমআই বলে ধরা হয়।

যাদের বিএমআই ৩০ থেকে ৩৪.৯-এর মধ্যে, তাদের ‘ক্লাস ওয়ান ওবেসিটি’র মধ্যে রাখা হয়। এই বিভাগের মানুষের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। আর যারা ‘ক্লাস টু ওবেসিটি’র মধ্যে পড়ছেন (বিএমআই ৩৫ থেকে ৩৯.৯) তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে ৩৮ শতাংশ।

‘ক্লাস থ্রি ওবেসিটি’ (বিএমআই ৪০ বা তার বেশি)-র ক্ষেত্রে সেটাই বেড়ে যায় প্রায় ৮৬ শতাংশ। সমীক্ষা বলছে, বিএমআই প্রতি ১ একক বৃদ্ধিতে ২ শতাংশ করে বাড়ে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা।


আরও পড়ুনঃ


গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

তাহসান-মিথিলার ‘সারপ্রাইজ’-এর রহস্য উন্মোচন, আড়ালে অন্য কেউ

ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়ার মধ্যে কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই

ইসরায়েলের হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: মিয়া খলিফা


ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে কোভিড সংক্রমণের পর বাড়াবাড়ি আশঙ্কা থাকে। শুধু তাই নয়, ইজরায়েলের এই গবেষকদের সমীক্ষা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ে মেদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে। তাই করোনা সংক্রমণ এড়াতে মেদ কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

শরীর সুস্থ রাখে মিষ্টি কুমড়া

অনলাইন ডেস্ক

শরীর সুস্থ রাখে মিষ্টি কুমড়া

মিষ্টি কুমড়া যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী। পুষ্টিগুণে ভরপুর মিষ্টি কুমড়া নিয়মিত খেলে দূরে থাকতে পারবেন অনেক রোগ থেকে। হাল্কা মিষ্টি স্বাদের এই সবজি নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। গর্ভবতী, শিশু থেকে শুরু করে সর্দি-কাশি, চোখ, ত্বক, হার্ট, ক্যান্সার ইত্যাদি ছাড়াও অন্য রোগের ক্ষেত্রে উপকারে আসে এই মিষ্টি কুমড়া।

মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন), ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস।

মিষ্টি কুমড়ার ইংরেজি নাম Sweet gourd বা Pumpkin, বৈজ্ঞানিক নাম Cucurbita moschata । এটি মিষ্টি লাউ নামেও পরিচিত। মিষ্টি কুমড়া গাছের উৎপত্তিস্থল মধ্য আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশ।  মিষ্টি কুমড়া ভাজি, তরকারি ছাড়াও ভর্তা করে খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। তবে অনেক দেশে ডেজার্ট, স্যুপ এবং সালাদেও এটি ব্যবহার করে থাকে।

চরাঞ্চলের পলি মাটিতে মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হয়। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোঁ-আশ বা এঁটেল দোঁ-আশ মাটি এর চাষাবাদের জন্য উত্তম। বাসা-বাড়ির ছাদেও মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা যেতে পারে।

প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণ

খাদ্যশক্তি ২৬ কিলোক্যালরি, আমিষ ১ গ্রাম, শর্করা ৫ গ্রাম, ফাইবার ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, ভিটামিন এ ৭২০০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ৯ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৪০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম, কোলেস্টেরল ০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৮ মিলিগ্রাম, জিংক ০.৩ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৪৪ মিলিগ্রাম।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাদ্য তালিকায় নিয়মিত মিষ্টি কুমড়ার উপস্থিতি অসুখ-বিসুখ থেকে অনেক দূরে রাখে। এবার জেনে নেই মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা :

চোখ সুস্থ রাখে

চোখ অমূল্য সম্পদ। এই সম্পদ ধরে রাখিতে মিষ্টি কুমড়া অন্যন্য। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ বা বিটা ক্যারোটিন। আমাদের রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিটা-ক্যারোটিন ও আলফা-ক্যারোটিনের মত ক্যারটিনয়েড সমূহ চোখের ছানি পড়া রোধসহ চোখের রেটিনা কোষ রক্ষা করে। তাই চোখকে সচল ও সুস্থ রাখতে আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন মিষ্টি কুমড়া রাখুন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মিষ্টি কুমড়া একটি অত্যন্ত উপকারি সবজি। মিষ্টি কুমড়ার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ই মানবদেহকে ক্যান্সার ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এছাড়া এ সবজির ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

ওজন কমায়

কম ক্যালোরি এবং প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকায় মিষ্টি কুমড়া ওজন কমাতে একটি উপযুক্ত খাবার। যারা তাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা সানন্দে মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

 যারা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভোগেন তারা মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন। কারণ মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম  আছে, যা শরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

ত্বক উজ্বল করে

ত্বক উজ্বল করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে। মিষ্টি কুমড়ার ভিটামিন-এ ও সি চুল ও ত্বক ভালো রাখে। তাই উজ্জ্বল চুল ও চকচকে ত্বকের জন্য নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন। বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে। এছাড়া এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিংক যা ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো রাখে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।


রোজা রেখে ২৮০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বাড়ি পৌঁছাল মৌসুমি

পরিচয় পাওয়া গেছে পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই মাইক্রোবাস চালক ও মালিকের

ইসরায়েলের লড শহরে জরুরি অবস্থা জারি

দেশে পৌঁছেছে চীনের ৫ লাখ টিকা


খাদ্য হজমে সহায়ক

মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকায় তা সহজেই হজম হয়। হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মিষ্টি কুমড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাক নালীর খাদ্য সঠিক উপায়ে সরবরাহে মিষ্টি কুমড়ার তুলনা হয়না।

গর্ভবতীর রক্তস্বল্পতা রোধ করে

মিষ্টি কুমড়া ও কুমড়ার বীজ গর্ভবতী মায়েদের রক্তস্বল্পতা রোধ করে অকাল প্রসবের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়, তাই গর্ভবতী মায়েরা তাদের অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য নির্দ্বিধায় খেতে পারেন মিষ্টি কুমড়া।

এছাড়া মিষ্টি কুমড়ার বিভিন্ন উপাদান দেহের কিডনি, লিভার, হার্টকে সুস্থ রাখে, বাতের ব্যথাসহ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রশমন ঘটায়। মিষ্টি কুমড়ার ফাইবার দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রেখে স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র : নিউট্রিশন হাউস অব বাংলাদেশ

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

‍একুশ শতকের বৃক্ষ ‘নিম’ রোগ প্রতিরোধের উৎস

অনলাইন ডেস্ক

‍একুশ শতকের বৃক্ষ ‘নিম’ রোগ প্রতিরোধের উৎস

“রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিমপাতা অনেক রোগ নিরাময়েরও ক্ষমতা রাখে।” তাই আদিকাল থেকেই ওষুধি গুণের কারণে নিম মানুষের আপন বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। বহু গুণাগুণের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিমকে “একুশ শতকের বৃক্ষ” বলে ঘোষণা করেছে।  করোনা রোধে টিকার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদানও বেশ উপকারী। মেডিকেল নিউজ টুডের তথ্যানুযায়ী, নিম একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা ফ্রি  র‌্যাডিকেলগুলির  প্রভাবকে হ্রাস করে।

আয়ুর্বেদের মতে, নিম চিনি বা চিনির মিছরির সঙ্গে খেলে কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চাইলে প্রতিদিন একটি করে নিম ক্যাপসুলও নিতে পারেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিমপাতা অনেক রোগ নিরাময়েরও ক্ষমতা রাখে। এটি লিভার এবং হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে।

তিতা স্বাদের কারণে অনেকে নিম পাতার রস খেতে না চাইলেও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়া শুধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, শারীরিক নানা অসুস্থতাও কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে।

নিম পাতায় থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। এটি দেহের অভ্যন্তরে উপস্থিত অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকেও মেরে ফেলে। এটি পেট পরিষ্কার রাখে এবং সে কারণেই এটি ত্বকের জন্যও কার্যকর। নিম পাতা হজমের জন্যও উপকারী। এক কাপ নিমপাতায় ক্যালোরি থাকে ৩৫ গ্রাম। ফলে প্রতিদিন নিমপাতার রস খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

নিম পাতার নির্যাসে ডায়াবেটিস, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। 

নিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চমৎকার ভাবে কাজ করে। নিমের পাতা রক্তের সুগার লেভেল কমতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্তনালীকে প্রসারিত করে রক্ত সংবহন উন্নত করে। 

প্রতিদিন কাঁচা পাতা পাওয়া না গেলে নিম পাতা ডাল থেকে ছড়িয়ে সিল-পাটায় বেটে মিহি করে নিতে হবে। এরপর ছোট ছোট বড়ি করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর কাঁচের বোতলে এটি অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এর গুণাগুণ ভালো থাকবে। 

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেল চীনের টিকা

অনলাইন ডেস্ক

জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেল চীনের টিকা

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য চীনের সিনোফার্মের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিইএইচও)। শুক্রবার এ টিকাটি তালিকাভুক্ত করে সংস্থাটি। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে উদ্ভাবিত করোনার টিকাগুলোর মধ্যে এটাই প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমর্থন লাভ করল। চীন এবং আরও অনেক জায়গায় লাখ লাখ মানুষকে ইতিমধ্যে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

এর আগ পর্যন্ত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের করোনার টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিল ডব্লিউএইচও।

কয়েক দিন আগে বাংলাদেশেও চীনের সিনোফার্মের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে চীন সরকারের উপহার হিসেবে এই টিকার পাঁচ লাখ ডোজ বাংলাদেশে আসছে।

পার্কিংয়ের জায়গা থেকে শুরু করে যাত্রীদের বসার জায়গাসহ সর্বত্র ছিল উপচেপড়া ভিড়।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর