শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০ | আপডেট ০১ মিনিট আগে

লাদাখের পর আন্দামানে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক

লাদাখের পর আন্দামানে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে ভারত

লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এবার আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নিয়েও সতর্ক ভারত। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর কাজ শুরু করেছে ভারত। চিনের বিস্তারবাদ স্ট্র্যাটেজির মোকাবিলায় ভারত মহাসাগরের ওপরে আন্দামান-নিকোবরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।

আন্দামান-নিকোবরে সেনার পরিকাঠামো (military infrastructure development) ও সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বহু দিন ধরেই আটকে ছিল বলে সেনা সূত্রের খবর।

কিন্তু লাদাখে চিনের আক্রমণাত্মক ও বিস্তারবাদ মনোবৃত্তির (aggressive and expansionist moves) জন্য এবার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (Indian Ocean Region) নিরাপত্তা নিয়েও নড়েচড়ে বসেছে ভারত।

২০০১-এ প্রথম আন্দামান-নিকোবর কম্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই এখনও পর্যন্ত দেশের প্রথম এবং একমাত্র থিয়েটার কম্যান্ড, যেখানে আর্মি, বায়ুসেনা এবং নৌসেনা একটিই অপারেশনাল কম্যান্ডারের অধীনে রয়েছে।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আন্দামান-নিকোবর কম্যান্ড অবহেলার শিকার ছিল বলে অভিযোগ। যথেষ্ট পরিমাণে ফান্ড এই কম্যান্ডের জন্য নির্দিষ্ট করা হত না বলেও অভিযোগ।

ভারত মহাসাগরের ওপরে অবস্থানগত বিচারে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আন্দামান-নিকোবর কম্যান্ডের প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এতদিন যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে। কিন্তু গলওয়ানের সংঘর্ষের পর নড়েচড়ে বসেছে ভারত।

ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে আন্দামান-নিকোবরের কাছ দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানি করে চিন। সেই বিষয়টি মাথা রেখেই এবার আন্দামান-নিকোবর কম্যান্ডের গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। উত্তর আন্দামানের শিবপুরে নৌসেনার এয়ার স্টেশন আইএনএস কোহাসারের (INS Kohassa) রানওয়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। 

ক্যাম্পবেলে আইএনএস বাজের (INS Baaz) রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানোরও কথা চলছে। প্রয়োজনে বড় যুদ্ধবিমান যাতে এখান থেকে কাজ করতে পারে, তার জন্য বাড়ানো হচ্ছে রানওয়ের দৈর্ঘ্য।

আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে সেনা কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য যে রোল-অন প্ল্যান (“roll-on” plan) নেওয়া হয়েছে, তাতে ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে (phased military force accretion)। আরও যুদ্ধবিমান (warships), নৌজাহাজ (aircraft) ও সেনা এখানে মোতায়েন করা হবে। এই কাজে ৫৬৫০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে বলে খবর।

২০২৭-এর মধ্যে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে সেনা পরিকাঠামো বৃদ্ধির কাজ সম্পুর্ণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এখানে আগামী বছরে যুদ্ধবিমানের পাকাপাকি ঘাঁটি তৈরি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

এদিকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনা সেনাদের সংখ্যা বাড়িয়ে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিয়েছে বেইজিং। ভারতও পাল্লা দিয়ে সেনা মোতায়েন করে চলেছে।

লাদাখে একসঙ্গে এত সেনা মোতায়েন অতীতে কখনও করেনি ভারত। চীনকে বার্তা পাঠাতে শুক্রবার লাদাখে আরও এক ডিভিশন সেনা মোতায়েন হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

পূর্ব লাদাখে এই মুহূর্তে ভারতের সেনা মোতায়েন বেড়ে দাঁড়াল চার ডিভিশন। মে মাসের আগে মাত্র এক ডিভিশন মোতায়েন ছিল। এক-একটি ডিভিশনে থাকে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার সেনা সদস্য। অর্থাৎ‌ চার ডিভিশন মিলিয়ে ভারতের দিক থেকে প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি সেনা মোতায়েন রয়েছে পূর্ব লাদাখে।

শুক্রবার লাদাখে দাঁড়িয়ে সরাসরি চীনকে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এবং সেনাপ্রধান এম এম নারাবনে।

সেনাদের উদ্বুদ্ধ করতে মৃত সৈনিকদের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি দুই মাকে সব চেয়ে বেশি সম্মান করি। এক, ভারতমাতা এবং দুই, বীরমাতা, যারা এই সাহসী, পরাক্রমী সেনাদের জন্ম দিয়েছেন।’

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য