মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ | আপডেট ০৯ মিনিট আগে

১৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে হজ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন

অনলাইন ডেস্ক

১৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে হজ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন

আগামী ১৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের হজ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন। তবে যদি কেউ নিবন্ধন বাতিল করতে না চায় তবে তার নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য কার্যকর থাকবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে সৌদি সরকার বাইরে থেকে হজযাত্রীদের হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গতকাল এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ এ তথ্য জানায়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর অন্য দেশ থেকে কোনো হজযাত্রী হজ পালন করতে সৌদি আরবে যেতে পারবেন না। সৌদিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও সৌদি আরবের নাগরিকদের অংশগ্রহণে সীমিত পরিসরে হজ অনুষ্ঠিত হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে ২০২০ সালে হজ পালনের জন্য প্রাক-নিবন্ধিত ও নিবন্ধিত ব্যক্তিদের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তসমূহ হলো- ২০২০ সালে হজ পালনের জন্য যাদের প্রাক-নিবন্ধনের মেয়াদ বৈধ ছিল, তা ২০২১ সালের জন্য বলবত থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় যেসব প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তি ২০২০ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য বৈধ থাকবে। নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমা টাকা ২০২১ সালের প্যাকেজ মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ২০২০ সালের হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল বিষয়ে ই-হজ সিস্টেমের ওপর সব ব্যাংকের প্রতিনিধি, নিবন্ধন কেন্দ্রের প্রতিনিধি এবং হজযাত্রী নিবন্ধনকারী এজেন্সির প্রতিনিধিদের ১৩ জুলাই থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হজ পালনের জন্য সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল করতে চাইলে আগামী ১৯ জুলাই থেকে হজ পোর্টাল http://www.hajj.gov.bd/ অথবা https://prp.pilgrimdb.org/ লিংকে নিজে বা নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে আবেদন করতে পারবেন। 

আবেদন অনুমোদিত হলে তার অনুকূলে নিবন্ধন বাতিল ভাউচার তৈরি হবে এবং ২০২০ সালের নিবন্ধন ও প্রাক-নিবন্ধন উভয়ই বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের কর্তন ছাড়া প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনার হজ নিবন্ধন বাতিলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের জন্য জমা সমুদয় অর্থ অনলাইনে সরাসরি হজযাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। কোনো হজযাত্রীর ব্যাংক হিসাব না থাকলে তার ইচ্ছানুযায়ী পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। এজন্য তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিবন্ধন বাতিল ভাউচার ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য জমা সমুদয় অর্থ হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি নিবন্ধনকারী ব্যাংক থেকে অনলাইনে হজযাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর অথবা এজেন্সির মাধ্যমে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রাক-নিবন্ধনের জন্য জমা অর্থ আগের মতো পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা থেকে হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি অথবা এজেন্সির মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে। ২০২০ সালে নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমা টাকা ২০২১ সালের প্যাকেজমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাস যেন ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য এবারের হজে মুজদালিফা, মিনা ও আরাফাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সৌদি সরকার। কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে। 

খালিজ টাইমস জানায়, সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে এক সরকারি সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নেওয়া সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অমান্য করলে শাস্তির বিধান অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

নিউজ টোয়েন্টিফোর / সুরুজ আহমেদ

মন্তব্য