ভালো কাজ করা মানুষের এত বড় শত্রু কি থাকে?

তসলিমা নাসরিন


ভালো কাজ করা মানুষের এত বড় শত্রু কি থাকে?

নিউইয়র্ক শহরে অর্থাৎ ম্যানহাটনে আমি একসময় বাস করেছি। তখন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে আমি একটা ফেলোশিপ করছিলাম। ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি কোথাও আমাকে থাকতেই হতো। আমার অ্যাপার্টমেন্ট ছিল ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গেই, ওয়াশিংটন স্ট্রিটে। যে স্ট্রিটের ওপরই ছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। 

এলাকাটাকে ডাউনটাউন বলে, হাডসন নদীর পাড়েই। আবাসিক এলাকা হিসেবে মোটেও জনপ্রিয় নয়। তাই শহরের অন্যান্য ভালো আবাসিক এলাকার চেয়ে ভাড়াও বেশ কম ছিল। ইয়ুপ্পিদের বসবাসের জন্যই মূলত বিল্ডিংগুলো তৈরি। YUPpie মানে ইয়ং আরবান প্রফেশানাল।  

২৩ তলায় আমার অ্যাপার্টমেন্ট ছিল ছোট একখানা স্টুডিও, কিন্তু ওতেই আমি খুশি ছিলাম, কারণ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দেখা যেত হাডসন আর ইস্ট রিভার, দেখা যেত এলিস আইল্যান্ড। আর মাথা খুব কাত করলে লিবার্টি স্ট্যাচু। বিল্ডিংটায় ছিল ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা রক্ষী। অচেনা সবাইকে গ্রাউন্ড ফ্লোরে বসা নিরাপত্তা রক্ষীরা থামাতো, কোথায় কোন ফ্লোরে কার কাছে যাবে জিজ্ঞেস করা হতো, যার কাছে যাবে তাকে রক্ষীরা জানাতো, সে যদি অনুমতি দিত, তবেই আগন্তুক তার কাছে যেতে পারতো।  আগন্তুককে অবশ্য নিরাপত্তা রক্ষীদের খাতায় লিখে আসতে হতো সব, নিজের নাম ঠিকানা ফোন নম্বর  সই...কটার সময় এলো...সব।  

আমাদের ওই সাধারণ মানের বিল্ডিংয়েই যদি নিরাপত্তার ব্যাপারে এত কড়াকড়ি, তাহলে ধনীদের এলাকায়, যেখানে মিলিওনিয়ার বিলিওনিয়াররা বাস করে, সেখানে কী অবস্থা। আপার ইস্ট সাইডের লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্টে এক পরিচিত নারী সঙ্গে কয়েক বছর আগে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ওরে বাপরে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত স্ক্যান করে তারপর ভেতরে ঢুকতে দিল। অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকছি না তো যেন ফ্লাই করার জন্য এরোপ্লেনে ঢুকছি।
 
আজ সকালে ফাহিম সালেহ’র হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে প্রথমেই যে প্রশ্নটি মাথায় এল, তা হলো খুনি কী করে ঢুকলো ওই বিল্ডিংয়ে। সিকিউরিটির লোকেরা কোথায় ছিল? ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্ট ছিল ২.২৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে কেনা। প্রচণ্ড ধনী লোকদের বাস বিল্ডিংয়ে। ধনীরা নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। তাই বলছি, কালো পোশাকে আবৃত খুনিটি যে কোনও অ্যাপার্টমেন্টে বাস করে না, তা তো সিকিউরিটির লোকেরা জানতো, তাহলে থামায়নি কেন?  খুনিটি টুকরো টুকরো করে কেটেছে ফাহিমকে। ইলেক্ট্রিক করাত নিয়ে গিয়েছিল কাটার উদ্দেশেই। মাথা, পা, হাত প্লাস্টিকের ব্যাগেও ভরেছে। টুকরোগুলো কি সে যাবার সময় নিয়ে যেতে চেয়েছিল? কিন্তু নেবেই বা কেন? পাশের অ্যাপার্টমেন্টের লোকেরা ফাহিমের আর্ত চিৎকার শুনেছে, কিন্তু পুলিশে কল করেনি। এও খুব বিজার। 

মাত্র ৩৩ বছর বয়সী উদ্যমী পরিশ্রমী স্বপ্নবান যুবকটিকে কারা মেরেছে, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে। হত্যার পেছনে, পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভবত অর্থকড়ির বিষয় জড়িত ছিল। অল্প বয়সেই প্রচুর কাজ করেছেন, নতুন নতুন আইডিয়ার জন্ম  দিয়েছেন, নতুন নতুন অ্যাপ বানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন কোম্পানি গড়েছেন ফাহিম। নাইজেরিয়ার শহরে ভিড়ের রাস্তায় পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা ক্লান্ত মানুষকে ফাহিমের তৈরি গোকাডা কোম্পানি রাইড দেয়, বাংলাদেশে তার পাঠাও কোম্পানি একই কাজ করে, মানুষকে বাইকে রাইড দেয়। মানুষের সময় বাঁচে। মানুষ স্বস্তি পায়। এরকমই তো জানি। 

তাহলে কে বা কারা হিটম্যান পাঠাবে ওকে কেটে টুকরো করার জন্য? ভালো কাজ করা মানুষের এত বড় শত্রু কি থাকে? নিশ্চয়ই থাকে। আমারই তো আছে। মানুষের ভালোর জন্য চল্লিশ বছর ধরে লিখছি, আমাকে পেলে তো ধর্মান্ধরা ওভাবেই টুকরো টুকরো করে কাটবে। 

মানুষের মতো ভালো প্রাণী জগতে কেউ হয় না, মানুষের মতো নৃশংসও কেউ হয় না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

পরবর্তী খবর

‘ঘরে ঈদ সুপার হিট’- এটাই হোক আমাদের শ্লোগান

শওগাত আলী সাগর

‘ঘরে ঈদ সুপার হিট’- এটাই হোক আমাদের শ্লোগান

‘ঘরে ঈদ, সুপার হিট’। কথাটা মনে ধরে গেলো। মহামারীর এই সময়ে এর চেয়ে সুন্দর কথা আর কি হতে পারে। ‘অ্যালামনাই এসোসিয়েশন অব নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্রিটিশ কলম্বিয়া চ্যাপ্টারের’ ঈদ শুভেচ্ছার ভিডিওটা নিউজফিডে ভেসে উঠতেই কৌতূহল বশত: ক্লিক করেছিলাম।

সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট আলবিনা তাদের সদস্যদের একটি প্রতিযোগিতার খবর দিতে গিয়ে জানালেন, বিষয়বস্তু হচ্ছে- ‘ঘরে ঈদ সুপার হিট’। আমার কাছে মনে হলো- এটি তো কেবল প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, একটি শ্লোগান, একটি ক্যাম্পেইনের মুল বিষয়, একটি ম্যাসেজ।

আরও পড়ুন


এবার ফিলিস্তিনের হয়ে ইসরাইলে রকেট হামলা চালালো লেবানন

ইসরাইলের যে কোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম আইয়াশ-২৫০ ক্ষেপণাস্ত্র

বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত

নিউজ টোয়েন্টিফোরের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জামিল হাসান খোকন আর নেই


বিশ্বের দেশে দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে আমাদের যে স্বজনরা রাত পোহালেই (শুক্রবার) ঈদ উৎসবে মেতে উঠবেন- তাদের জন্য এটি একটি জরুরী বার্তা বটে।

অন্তত এই বারের জন্য ‘ঘরে ঈদ সুপার হিট’- এটাই হোক আমাদের শ্লোগান।
ঈদের শুভেচ্ছা সবাইকে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

এই সময়টায় শত্রুর সঙ্গে বসবাস আমাদের

রাশেদা রওনক খান

এই সময়টায় শত্রুর সঙ্গে বসবাস আমাদের

এই সময়টায় শত্রুর সঙ্গে বসবাস আমাদের, তাই বলে জগতের আর সব আনন্দযজ্ঞ কি থেমে যাবে, না যায় কখনো? গত ঈদ এর মতোই এবারের ঈদও কেটে যাবে করোনার মতো এক বিষাক্ত শত্রুকে ঘায়েল করার চিন্তা ভাবনার মধ্যদিয়ে....জানিনা, কতোটা সম্ভব এই অতি ক্ষুদ্র অথচ বিষাক্ত ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়া! সামনে কি অপেক্ষা করছে, তাও খুব একটা জানিনা আমরা!

কিন্তু আমার ভাবনা আরও কিছু ভাইরাস নিয়ে! আমাদের শত্রু যে কেবল এক করোনা ভাইরাস তাতো নয়, মনের ভেতরে সযত্নে লালিত যে কলুষিত ভাইরাস আছে, সেতো করোনার চেয়ে কোন অংশে কমও নয়, করোনাকে যেমন খালি দেখা যায়না, তেমনি এই মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা হিংসা, বিদ্বেষ, নিচুতার মতো ভাইরাসকেও দেখা যায়না, কিন্তু দুটোই শেষ করে দিচ্ছে সমাজের স্বাভাবিক পথচলা, ঘটাচ্ছে ছন্দপতন|

সারা বিশ্ব জুড়েই যেন এম্প্যাথিটিক চৈতন্যবোধের অভাব, আমরা হয়তো কিছুটা এগিয়ে, নানা কারণেই....! ধর্ম, লিঙ্গ, শ্রেণী, পেশা, সামাজিক মর্যাদা নির্বিশেষে একের প্রতি অন্যের সহমর্মিতার অভাব যেন দিনকে দিন বেড়েই চলছে| মানুষ পরপস্পরকে ভালবাসতে শিখুক, অন্যের ধর্ম কিংবা যেকোনো পরিচয়ের প্রতি পরস্পর শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠুক, করোনার মতো মনের বিষাক্ত ভাইরাসটা ছড়িয়ে না পড়ুক, অন্তত সমাজকে ধ্বংস করে না দিক! এইটুকু মঙ্গল কামনার মাঝেই এবারের ঈদ উদযাপিত হউক, সবাইকে ঈদ মোবারক!

রাশেদা রওনক খান(ফেসবকু থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

ঐক্যবদ্ধ মুসলিম বিশ্বের প্রত্যাশায় উদযাপিত হোক এবারের ভিন্নধর্মী ঈদ

ড. তুহিন মালিক

ঐক্যবদ্ধ মুসলিম বিশ্বের প্রত্যাশায় উদযাপিত হোক এবারের ভিন্নধর্মী ঈদ

ঈদ মোবারক। করোনার আঘাতে কত মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেছে। কত মানুষ এতটুকু অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুমুখে ছটফট করছে। কত মানুষ আজ সর্বস্বান্ত। অথচ এই দুঃসময়ে আজ আমরা যারা ঈদ মোবারক বলতে পারছি। তারা কতই না সৌভাগ্যবান। আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া। আলহামদুলিল্লাহ।

আমরা যখন আকাশে ঈদের চাঁদের অপেক্ষারত। ফিলিস্তিনিরা তখন আকাশের দিকে চেয়ে আছে ইসরাইলী দূর্বৃত্তের ছোঁড়া বোমার আঘাত থেকে প্রানে বাঁচতে। আমরা যখন ঈদে বাড়ি যাচ্ছি। আলেমরা তখন রিমান্ডে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী সকল মজলুম, নিপীড়িত ও অসহায় মানুষগুলোর মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া চাই। আমাদের আল্লাহ এক। রাসুল এক। কোরআন এক। তবুও কেন আমরা এক হতে পারছিনা! ঐক্যবদ্ধ মুসলিম বিশ্বের প্রত্যাশায় উদযাপিত হোক এবারের ভিন্নধর্মী পরীক্ষাময় ঈদ।


আরও পড়ুনঃ


গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

তাহসান-মিথিলার ‘সারপ্রাইজ’-এর রহস্য উন্মোচন, আড়ালে অন্য কেউ

ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়ার মধ্যে কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই

ইসরায়েলের হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: মিয়া খলিফা


তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।

“আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের সৎকর্মগুলো কবুল করুন।"

সবাইকে ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

সেই দিনগুলি কি আমরা আর ফিরে পাবো?

জ. ই. মামুন

সেই দিনগুলি কি আমরা আর ফিরে পাবো?

একসময় আমাদের মুখে মাস্ক পরতে হতো না, বারবার হাত ধোয়া লাগতো না। আমরা বসন্তকালে বাতাসে ফুলের গন্ধ পেতাম, হাজারিবাগে গেলে ট্যানারির গন্ধ পেতাম। এখন কেবল মাস্ক আর নিজের নিঃশ্বাসের গন্ধ ছাড়া ভালো-মন্দ আর কোনো গন্ধ পাই না।

আমরা একসময় দল বেঁধে স্টেডিয়ামে গিয়ে ফুটবল- ক্রিকেট খেলা দেখতাম, ওপেন এয়ার কনসার্টে গিয়ে গান শুনতাম, গানের তালে বন্ধু বান্ধবদের সাথে লাফালাফি করতাম! বছরে দু’একবার আমরা বিদেশেও যেতাম!

এক সময় ঈদের দিনে আমরা জাতীয় ঈদগা বা গ্রামের ঈদগায় অনেক মানুষ গাদাগাদি করে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তাম। নামাজ শেষে কোলাকুলি করতাম। আমাদের কোনো সামাজিক দূরত্ব ছিলো না! পূজার সময় আমরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াতাম, প্রতিমা দেখতাম, গান শুনতাম, আরতি দেখতাম! প্রবারণা পূর্ণিমায় কত মানুষের ভিড়ে ফানুস ওড়ানো দেখতাম! বড়দিনে ক্রিসমাস ডিনারের দাওয়াতে যেতাম!

আমরা এক সময় প্রেসক্লাব, ঢাকা ক্লাব, গল্ফ ক্লাব কত ক্লাবে যেতাম, আড্ডা দিতাম। মাঠে খেলাধুলা করতাম, তর্ক বিতর্ক করতাম। টেলিভিশনের স্টুডিওতে বসে আমরা টক শো করতাম। উত্তেজনায় টেবিল ভেঙে ফেলতাম থাপ্পর মেরে। এখন আমরা জুমে আড্ডা দেই, মিটিং করি, টক শো করি। খেলাধুলা করি অনলাইনে, মোবাইলে, ল্যাপটপে।


আরও পড়ুনঃ


গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

তাহসান-মিথিলার ‘সারপ্রাইজ’-এর রহস্য উন্মোচন, আড়ালে অন্য কেউ

ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়ার মধ্যে কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই

ইসরায়েলের হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: মিয়া খলিফা


আমাদের সেই দিনগুলি, সেই নানা রঙের দিনগুলি কি আমরা, পৃথিবী নামক এই গ্রহের অসহায় মানুষেরা আর কোনোদিন ফিরে পাবো?

সবাইকে বিরস-বিবর্ণ ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

হারুন আল নাসিফ

গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

নাসা জানিয়েছে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনো গ্রহাণুর পৃথিবীকে আঘাত করা বা পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়া ঠেকাতে হলে আন্তত পাঁচ বছর আগে গ্রহাণুটিকে সনাক্ত করতে পারতে হবে।

আর প্রয়োজনীয় সময়টুকু পেতে তাদের নতুন একটি স্পেস টেলিস্কোপ লাগবে। নাসা ছয় মাস পরে পৃথিবীকে আঘাত করবে এমন একটি গ্রহাণুর দৃশ্যপট সিমিউলেট করে দেখতে পেয়েছে। আছড়ে পড়া ঠেকানোর জন্য এসময়টি যথেষ্ট নয়।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর