মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৫ মিনিট আগে

অতীতে ফিরে গেলেন ওয়ালশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অতীতে ফিরে গেলেন ওয়ালশ

ছিলেন বোলিং কোচ। এবার পেয়ে গেলেন প্রধান কোচের দায়িত্ব। সেটাও একটি মাত্র সিরিজের জন্য। বলা হচ্ছিল, ক্যারিবীয় কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশের কথা। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব নেন ওয়ালশ। তার সঙ্গে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। হেড কোচ না থাকায় তার কাঁধেই এখন গুরুদায়িত্ব। অন্তবর্তীকালীন এ দায়িত্ব ওয়ালশকে ফেলে আসা দিনগুলোর কথাই মনে করিয়ে দিলো।

আজ মিরপুর শেরে বাংলায় এক সংবাদ-সম্মেলনে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন ৫৫ বছর বয়সী এই জ্যামাইকান,‘অন্তবর্তীকালীন অধিনায়ক হিসেবে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমি সেটা উপভোগ করেছিলাম এবং আমরা দলগত সাফল্যও পেয়েছিলাম। হ্যাঁ, আমাকে এই মুহূর্তে ওই স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে এবং আমার দায়িত্বও সচেতন করছে। আশা করছি ওই জিনিসটা এখানে নিয়ে আসতে পারবো এবং দলকে এগিয়ে নিতে পারবো। তাহলেই আমি খুশি হবো। এটা চ্যালেঞ্জিং হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

ওয়ালশের এই গল্পটা দুই যুগ আগের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেতৃত্বে তখন রিচি রিচার্ডসন। ১৯৯৪ সালে ভারত সফরের আগে হঠাৎ ‘তীব্র ক্লান্তি’ ভর করে ক্যারিবীয় অধিনায়কের। বিশ্রামে যান রিচি রিচার্ডসন। ভারত সফরে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল অভিজ্ঞ কাউকে। এগিয়ে আসলেন ওয়ালশ। দায়িত্ব নিলেন নিজ কাঁধে। তাতেই বাজিমাত। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করল ১-১ ব্যবধানে। পরের সিরিজে ওয়ালশেরই নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

রিচার্ডসন ফিরে আসায় অধিনায়কত্ব হারালেও ওয়ালশ যে পরবর্তী অধিনায়ক হবেন তা মোটামুটি নিশ্চিতই ছিল। বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। এক সিরিজ বাদেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট ওয়ালশ যুগের পথচলার শুরু। ক্যারিবীয়দের ২২ টেস্ট ও ৪৩ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেন তিনি।

লড়াকু ওয়ালশের অসাধারণ নেতৃত্বগুণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওই সময়টায় ভয়ংকর দলে পরিণত হয়। কার্টলি অ্যামব্রোসোর সঙ্গে গড়ে তোলা বিশ্বখ্যাত পেস বোলিং জুটির গল্পটা তো সবারই জানা । ১৭ বছর আগে খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় বলা সেই ওয়ালশ এখন পেশাদার কোচ। ক্যারিয়ারের এই সময়টায় যেন পুরোনো চ্যালেঞ্জ নতুন করে পেলেন তিনি। ডুবতে থাকা জাহাজের নাবিকের ওপর এখন স্রোতের বিপরীতে চলতে থাকা টাইগারদের তীরে ভেড়ানোর গুরুদায়িত্ব।

তবে নিজের চ্যালেঞ্জ নিয়ে শিষ্যদের চাপ দিতে চান না ওয়ালশ। হঠাৎ দায়িত্ব পাওয়ায় বিচলিতও নন তিনি, ‘আমি কোচিং স্টাফদের একজন হয়ে কাজটা করতে চাই। সুযোগটি এসেছে এবং সেটা লুফে নিয়ে আমি আমার কাজটা করতে চাই। এটা হঠাৎ করে আসলেও এর জন্য আলোচনায় বসা জরুরি ছিল না। কারণ আমরা শেষ সিরিজ প্রধান কোচ ছাড়া খেলেছি। আমার দায়িত্বটা অন্তবর্তীকালীন। আমি আমার সেরাটা দিয়ে অবদান রাখতে চাই বাংলাদেশ ক্রিকেটে। দলকে ছন্দে ফিরিয়ে আনাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।’

বকাঝকা দিয়ে নয়, পিতার মতো আদর আর ভালোবাসা দিয়ে শিষ্যদের থেকে সেরাটা বের করে আনার ইচ্ছে তার, ‘একজন বাবার মতো করেই তাদের বোঝানো হবে। তাদেরকে সেভাবেই আত্মবিশ্বাস দেওয়া হবে। প্রত্যেককেই বুঝতে হবে দলে তার ভূমিকা কতটুকু। তারা যেন দলের হয়ে খেলে এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এটাই হবে দলের নীতি।’

ক্যারিবীয় কিংবদন্তি আবারো বাংলাদেশকে জয়ের ধারায় নিয়ে আসতে পারেন কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

মন্তব্য