বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ | আপডেট ১১ মিনিট আগে

ফ্রিজ থেকেও কি ছড়ায় করোনা ভাইরাস?

অনলাইন ডেস্ক

ফ্রিজ থেকেও কি ছড়ায় করোনা ভাইরাস?

এসি পর এবার ফ্রিজ নিয়েও দিধাবিভক্তি। এসি থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ‘তত্ত্ব’-এর পর এবার ফ্রিজ থেকেও করোনা ছড়ায় কিনা এ নিয়ে পাওয়া গেছে নানা মন্তব্য। প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ফ্রিজের আড়ালে বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ছে না তো মারণ ভাইরাস করোনা এই প্রশ্ন এখন সকলের মনে। তাহলে কি মাস্ক ও চশমা পরে খুলতে হবে ফ্রিজ? না কি এখন থেকে কোনও খাবার আর রাখা যাবে না ফ্রিজে।

এই নতুন উদ্ভুত ‘তত্ত্ব’ই ভাইরাল এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়। যুক্তি হিসেবে সেখানে বলা হয়েছে সম্প্রতি এমন কিছু কেস দেখা গিয়েছে যেখানে বাড়ির সদস্যরা বাড়ি থেকে না বেরিয়েও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই ঘটনা থেকেই তথাকথিত কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় খ্যাত বিশেষজ্ঞ ফ্রিজকেই ভিলেন বানালেন। কিন্তু সত্যিটা কি জানেন?

ফ্রিজ থেকে ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস? বা আদৌ কি আমাদের বাড়ির রেফ্রিজারেটরে বেঁচে থাকতে পারে করোনা ভাইরাস? ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ফ্রিজ থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ায় না। ফ্রিজ ব্যবহারে অহেতুক আতঙ্কের দরকার নেই।’

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফ্রিজে ভাইরাস থাকে কিন্তু তার তাপমাত্রা কমপক্ষে মাইনাস ১৯০ ডিগ্রি হতে হবে। এই পরিমাণ ঠান্ডা ছাড়া ভাইরাস সংরক্ষণ সম্ভব নয়। আসলে ল্যাবে ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাইরাসকে সংরক্ষণ করা হয়। তাতে তারা জমে থাকে। ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাইরাস সক্রিয় হয়।

ঘরোয়া ফ্রিজের তাপমাত্রা ১৯০ ডিগ্রি হওয়া অসম্ভব। ঘরোয়া ফ্রিজের তাপমাত্রা ০ থেকে -৩ ডিগ্রির মধ্যে থাকে। ফ্রিজের সাধারণ অংশের তাপমাত্রা থাকে ৪-১০ ডিগ্রি। ফ্রিজের তাপমাত্রায় ভাইরাস বাঁচার সম্ভাবনা কমই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ফ্রিজ থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ এখনও মেলেনি।

তবে বিশেষজ্ঞরা ফ্রিজে খাবার রাখা নিয়েও সতর্কবাণী শুনিয়েছেন। তাদের পরামর্শ, বাজার থেকে সবজি এনেই ফ্রিজে ঢুকাবেন না। ভাল করে শাক-সবজি ধুয়ে তারপর ফ্রিজে ঢুকান। ফ্রিজে জিনিস ঢুকিয়ে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ থাকতে সপ্তাহে নিয়মিত ফ্রিজের ভিতরের অংশ পরিষ্কার করতে হবে। সবজি রাখার জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

তবে বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি, ভাইরাসের উপর তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও আলোর প্রভাব রয়েছে। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাইরাস ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাঁচে। কম তপমাত্রা ও আর্দ্রতায় ভাইরাস ২৮ দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে।২০১০-সালে আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজির গবেষণায় প্রকাশ করা হয় এমনটাই তথ্য।

নিউজ টোয়েন্টিফোর / সুরুজ আহমেদ

মন্তব্য