কাশিমপুর জেল থেকে মই দিয়ে পালান আবু বকর, ক্যামেরায় সে দৃশ্য

অনলাইন ডেস্ক

কাশিমপুর জেল থেকে মই দিয়ে পালান আবু বকর, ক্যামেরায় সে দৃশ্য

দিনের আলোয় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের ১৮ ফুট উঁচু সীমানাদেয়াল টপকে পালিয়েছেন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আবু বকর সিদ্দিক। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো কারাগারের দেয়াল টপকাতে তিনি মই ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

অথচ কারাগারটির চার কোনায় অনেক উঁচুতে স্থাপিত পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে সর্বক্ষণ রয়েছে নিরাপত্তা প্রহরী। ভেতরের উন্মুক্ত স্থানে কে কী করছে তা সহজেই চোখে পড়ে তাদের। কিন্তু সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেছেন আবু বকর। গতকাল বুধবার পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে পায়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কারা কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে বন্দি আবু বকরের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে গঠিত তিন সদস্যর কমিটিতে আরো দুজন যুক্ত হয়েছেন। এ কারণে আগে বেঁধে দেওয়া তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি কমিটি। আইজি (প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ‘তদন্ত কমিটিতে আরো দুজন যুক্ত হওয়ায় তদন্ত রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে।’ আজ বৃহস্পতিবার কাঙ্ক্ষিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা থেকে বকরের পালিয়ে যাওয়ার পুরো চিত্র পেয়েছে। এরই মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১২ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারা সূত্র জানায়, কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন কাজ করার জন্য ল্যাডার (মই) রয়েছে। আবু বকর সেই মই দিয়ে অনেকবার বিদ্যুতের কাজ করেছেন।

ঘটনার দিন দুপুরের পর তিনি মইটি নিয়ে অনেকের চোখের সামনে দিয়েই সীমানাপ্রাচীরের দিকে যান। তখন তিনি কোনো কাজে যাচ্ছেন ভেবে কেউ কিছু বলেনি। তাঁকে পাহারাও দেননি কোনো কারারক্ষী। এই সুযোগে মই লাগিয়ে সহজেই তিনি উঠে যান দেয়ালের ওপর। পরে লাফ দিয়ে বাইরের দিকে নেমে পালিয়েও যান। সন্ধ্যায় লক-আপ করার সময় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। 

গত ৬ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে এভাবে পালিয়ে যান বন্দি আবু বকর। এরপর অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন্স) কর্নেল আবরার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে রয়েছেন ডিআইজি প্রিজন্স তৌহিদুল ইসলাম ও একজন জেলার। 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

মন্তব্য