সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ৩২ মিনিট আগে

চেয়ারম্যান কুপিয়ে আঙুল কাটল ইউপি সদস্যের

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

চেয়ারম্যান কুপিয়ে আঙুল কাটল ইউপি সদস্যের

বগুড়ার শিবগঞ্জে এক নারী ইউপি সদস্যকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে বাম হাতের আঙুল কেটে ফেলেছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। হতদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগকারী শ্রমিককে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবাদ করায় তাকে কোপানো হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত ওই ইউপি সদস্যর নাম শাহানাজ বেগম (৪০)। 

বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহাবালা মীরাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শাহানাজ ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম হাতেম আলীর মেয়ে।


শাহানাজ বেগম জানান, ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রুপম ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করার অভিযোগে তিনজন শ্রমিক আজাদুল আকন্দ, কল্পনা বেগম এবং নাসিমা বেগম ২৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানতে পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রুপম বুধবার রাতে তার বাহিনী নিয়ে ওই শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ তুলে নেবার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। না তুললে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

শাহানাজ আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় চেয়ারম্যান রুপম, ইউপি সদস্য নান্নু মিয়াসহ ৫-৭ জনের বাহিনী আজাদুলে বাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক উঠিয়ে আনার চেষ্টা করে। নারী সদস্য শাহানা এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তখন ইউপি চেয়ারম্যান তাকে রামদা দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি বাম হাত দিয়ে বাধা দেন। এতে তার হাতের আঙুল কেটে যায়। এছাড়াও হকিস্টিক দিয়ে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

বলেন, আমি বগুড়া শহরে বাস করি। ঘটনাস্থলে আমি যায়নি। তাকে মারপিটের কোনো ঘটনাই আমি জানি না।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবীর সাংবাদিকদের বলেন, ইউপি নারী সদস্যকে চেয়ারম্যান রামদা দিয়ে কুপিয়েছেন এমন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য