বেনজির ও ফাতিমা ভুট্টো ফুফু ভাতিজির লড়াই

নঈম নিজাম

বেনজির ও ফাতিমা ভুট্টো ফুফু ভাতিজির লড়াই

মিথুন রাশির জাতিকা ফাতিমা ভুট্টো। বেনজির ভুট্টোর ভাতিজি। মুর্তজার মেয়ে। ছোটবেলা কেটেছে বেনজিরের ভীষণ আদর নিয়ে। ক্ষমতার রাজনীতিতে ফুফু-ভাতিজির সেই আদুরে অবস্থানটা আর থাকল না। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাতিমা ভুট্টোকে ফোন করেন তার মা। বললেন, বেনজিরকে আহত করা হয়েছে। সবাই বলছে সমাবেশে একটা বড় গন্ডগোল হয়েছে। এরপরই ফাতিমাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন সঙ্গে থাকা দলের একজন কর্মী। ফাতিমা গাড়িতে উঠে বসেন। তখনই তাকে জানানো হয়, বেনজির নিহত হয়েছেন। বাকিটা শোনা যাক ফাতিমার নিজের মুখে-“কার কথা বলা হলো? বহু বছর ধরে তাকে ওয়াদি সম্বোধন করে আসছি। ওয়াদির জন্য খুব আঘাত পেলাম। বললাম তারা আরও একজন ভুট্টোকে আজ রাতে হত্যা করতে পারে না। বাড়িতে ফিরে আমার ভাইকে বললাম, সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাচ্ছে। আব্বা আবার ফিরে আসবেন।... পরবর্তী পাঁচ দিন আমি কাঁদতে থাকলাম। কাঁদলাম আব্বার জন্য, পিতামহের জন্য, চাচা শাহ, দাদি জুনাম ও ওয়াদির জন্য। ...দাফনে আমি আসিফকে দেখে অবাক হলাম। ভাবছিলাম, কীভাবে সে আরও একজন ভুট্টোর দাফনে উপস্থিত হলো। হঠাৎ মনে পড়ল, তিনি বেনজিরের স্বামী। তার উপস্থিত থাকতেই হবে। অনুভব করলাম দুঃখ ও রাগে আমার অন্তর ভেঙে যাচ্ছে। ...জুলফি সিদ্ধান্ত নিল বেনজিরকে কবর দেওয়ার সময় উপস্থিত থাকবে। পরিবারের জীবিত সদস্যদের মাঝে সেই একমাত্র পুরুষ। আমি কাঁদলাম। ভাইকে হুমকি দিলাম। আমি চাইনি সে বেনজিরের শবদেহের পাশে যাক। ছয় ফুট গভীর গর্তে জারদারির সঙ্গে নামুক, যে মানুষটিকে পিতার মৃত্যুর জন্য দায়ী মনে করি। লোকজনও তাকে দায়ী মনে করে। জুলফি সত্যিই বেনজিরকে কবর দিল। আমি ওর মতো সহৃদয় হতে পারতাম না। জুলফি মৃতদেহ কবরে রাখল। দাফন শেষ সূরা ফাতিহা পাঠ করে তারপর গেল আমাদের পিতার কবরে।”

হায় ইতিহাসের নির্মমতা। এভাবেই নিজের ফুফুর মৃত্যু ও দাফনের বর্ণনা দেন ফাতিমা। তার ভিতরে একটা জ্বালা ছিল। ক্ষোভ ছিল। এই ক্ষোভ তার পিতাকে নিয়ে। যিনি বেনজিরের ভাই। ফাতিমার মনে পড়ল অনেক বছর আগে তার বাবার মৃত্যুর রাতের কথা। গুলির উড়া খবর শুনে বাবার অবস্থান জানতে ফোন করছিলেন ফুফু প্রধানমন্ত্রী বেনজিরকে। সেই ফোন ধরেন আসিফ আলী জারদারি। ফাতিমার তখন বয়স ১৪ বছর। রাজনীতির মারপ্যাঁচ বোঝেন না। জারদারি বললেন, তুমি কি জান না তোমার পিতাকে গুলি করা হয়েছে। থমকে গেলেন ফাতিমা। স্তব্ধ হয়ে গেলেন। বাবার সঙ্গে সম্পর্কটা ভীষণ অন্যরকম। এভাবে নিজের বাবার খোঁজ পাবেন ভাবতেও পারেননি। এমন ইতিহাসই একদা আঘাত হেনেছিল বেনজিরকে। বাবার সর্বশেষ জানতে অক্সফোর্ড থেকে করাচির ক্লিফটন রোডের বাড়িতে বোনকে ফোন করতেন বেনজির। জুলফিকার আলি ভুট্টো তখন পাকিস্তানে বন্দী। হত্যা মামলায় বিচার হচ্ছে। সবাই বলতেন ফাঁসি হবে। দুই ভাইয়ের নির্বাসিত জীবন। বেনজির বাড়িতে তার বোনকে ফোন করতেন। ফাতিমা তখন শিশু। বেনজিরের প্রিয় আদুরে ভাতিজি। সেই ফাতিমা কিশোরীকালে কঠিন সময়ের মুখোমুখি। অনেক কিছু বোঝার বয়স হয়নি। শুধু দেখছে ভাইবোনের দূরত্ব ক্ষমতার রাজনীতিতে। ফোনে ফাতিমাকে স্তব্ধ হতে দেখে রিসিভার নেন তার মা। ফোন রেখে তার মা দৌড়ে গাড়িতে উঠছিলেন। পেছনে ছুটছেন ফাতিমা। তার মা বলছেন, তুমি জুলফির সঙ্গে থাক। আমি হাসপাতালে যাচ্ছি। ফাতিমা মায়ের সেই কথা শোনেননি। বাবা বাবা বলতে বলতে গাড়িতে ওঠে। গাড়ির ভিতরে ফাতিমাকে জড়িয়ে ধরেন তার মা।

তারা ভেবেছিলেন মুর্তজা ভুট্টো হয়তো আহত। গুলি লেগেছে। কিন্তু হাসপাতালে ঢুকেই দেখে এক রক্তাক্ত পরিবেশ। বাবা ও তার সহকর্মীদের মৃতদেহ ভীষণ আঘাত হানে ফাতিমার মনে। করোনাকালে ফাতিমার লেখা ‘সংস অব ব্লাড অ্যান্ড সোর্ড’ পড়লাম। অনেক দিন আগেই পড়েছিলাম বেনজিরের আত্মজীবনী। দুই নারীর ভীষণ কষ্টের কাহিনি দুই বইতে। দুজনের কষ্টের কথাগুলো আলাদা করে বলেছেন। বেনজির লিখেছেন তার বাবা জুলফিকার আলি ভুট্টোকে নিয়ে। আর ফ্রান্সে রহস্যজনকভাবে বিষপানে মৃত্যুবরণকারী ভাইকে নিয়ে। পরিবারের নির্বাসন, নিপীড়ন নির্যাতন নিয়ে। ফাতিমাও একই কথা লেখেন। ফাতিমার দুঃখ তার ফুফুর নিষ্ঠুর শাসন ও নির্যাতন নিয়ে। নিয়তির অন্যরকম খেলা! ফ্রান্সে ভাই শাহনেওয়াজের মৃতদেহ পড়ে আছে। পাশে ছিল বিষের বোতল। ভাইয়ের লাশ নিয়ে মাতম করছেন বেনজির। আত্মজীবনীতে বেনজির লিখেছেন, ‘তাকে চিৎকার করতে দেখে ছোট্ট ফাতি বলল, ফুফি ফুফি কী হয়েছে? বেনজির নিজেকে সামলে বললেন, কিছু হয়নি। বেনজির এরপর ফাতি ও শাহের মেয়ে সাসিকে নিয়ে গেলেন পাশের রুমে। তাদের কিছু খেলনা দিলেন। বললেন, তোমরা খেল।’ ফিরে এসে দেখলেন, মীর কাঁদছে। বেনজির এই ভাইটিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন। সেই কান্নার দাগ একদিন শুকিয়ে গেল। পাকিস্তানের ক্ষমতার পালাবদলে বেনজির প্রধানমন্ত্রী হলেন। ভুট্টো পরিবারের উত্তরাধিকারে ক্ষমতার রাজনীতিতে দাপুটে অবস্থানে এলেন। ছোট্ট ফাতি বড় হয়েছে। ফুফুকে দেখছে ক্ষমতার চেয়ারে। আর তার বাবাকে দেখছে বিরোধিতায়। যে ভাইকে জড়িয়ে ধরে বেনজির শোকের মাতম করেছেন। নিষ্ঠুর নিয়তি ক্ষমতার রাজনীতি। এই রাজনীতি আপন পর চেনে না। ভাইবোনের সম্পর্ক ধরে রাখে না। আজ আপন কাল পর হয়ে যায় মুহূর্তে।
১৯৯৪ সালে বেনজির প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কারাগারে ছিলেন মুর্তজা। মামলার রায়ে বিচারপতি আলী আহমেদ জুনেজা জামিন দেন মুর্তজাকে। সেই রাতেই চাকরি হারাতে হয়েছিল বিচারপতিকে। জুনেজা পরে বলেছেন, ন্যায়বিচার করেছি। কারও ফোন ধরিনি। জামিন দিয়েছি। আবার এই কারণে চাকরিও হারিয়েছি। ক্ষমতার নিষ্ঠুরতা সব সময় অন্যরকম। এখানে চিরস্থায়ী আপন পর নেই। কারাগার থেকে বেরিয়ে মুর্তজা জামশোরোতে এক বক্তৃতায় বললেন, ‘আমার বোন বেনজির এবং শহীদ ভুট্টোর দলকে অবরোধ করে রেখেছে মাফিয়া চক্র, চোর-বাটপাড় আর জিয়ার এজেন্টরা। আমরা তাদের তাড়িয়ে দেব।’ ব্যস আর যায় কোথায়? এই বক্তৃতার রেশ ধরে আসিফ আলি জারদারি নামেন এক নতুন লড়াইয়ে। ক্ষমতার লড়াই। এই লড়াইয়ের শেষ পরিণতি ছিল ভয়াবহ। এ নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফারুক লেঘারি টিভি সাক্ষাৎকারে একবার দাবি করেন, বেনজিরের শাসনকালে আসিফ আলি জারদারি একদিন গভীর রাতে তার কাছে বলেছেন, মুর্তজাকে শেষ করে দেওয়া হবে। হয় সে থাকবে না হয় আমি। এভাবে ভাইবোনের ক্ষমতার রাজনীতিকে আরেকদিকে নিয়ে যান জারদারি।

১৯৯৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়িতে ফিরছিলেন মুর্তজা। করাচির ৭০ ক্লিফটন সড়কের দিকে এগিয়ে চলছে তার গাড়ি। সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষীরাও রয়েছে। তাদের গাড়ি চলছিল মুর্তজার পাশ ঘেঁষে। গাড়ি চালাচ্ছিলেন আশিত জাতোই নামের একজন দলীয় নেতা। পাশের আসনে মুর্তজা। পেছনের আসনে বসা ইয়ার মোহাম্মদ নামের একজন নিরাপত্তারক্ষী। গাড়িবহর বাড়ির কাছে আসতেই পুলিশ রাজপথের লাইট বন্ধ করে দেয়। ব্যারিকেড দিয়ে আটকায় গাড়িবহরকে। গাড়ির অন্যদের মুর্তজা বললেন, মনে হচ্ছে আবারও আটক করবে। চালকের আসনে থাকা দলীয় নেতা আশিত বললেন, ছোট ব্যাগে কাপড় নিয়ে তৈরি হয়ে এসেছি। নিলে নিয়ে যাবে। হঠাৎ খেয়াল করলেন, তাদের গাড়িটি বহরে থাকা অন্যগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পুলিশ। সামনের রাস্তা বন্ধ। পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে গাড়ির জানালা খুললেন মুর্তজা। নিরাপত্তারক্ষী ইয়ার মোহাম্মদ পেছন থেকে নামলেন। দাঁড়ালেন জানালার কাচ ঘেঁষে পুলিশ ও মুর্তজার মাঝে। মুর্তজা গাড়ির জানালার বাইরে হাত উঁচু করে তার রক্ষীদের বললেন, গুলি করবে না কেউ। সেই সময় গুলি আঘাত হানলো ইয়ার মোহাম্মদের শরীরে। এবার গাড়ির দরজা খুললেন মুর্তজা। বেরিয়ে এলেন ভিতর থেকে। মুহূর্তে পুলিশ অফিসার নির্দেশ দিলেন, গুলি কর। গুলি কর। চারদিক থেকে শুরু হলো গুলিবর্ষণ। পেছনের পিকআপে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও এগিয়ে আসে ততক্ষণে। তারা চেষ্টা করে মুর্তজাকে গাড়ির ভিতরের দিকে নিতে। তারাও গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মুহূর্তে।

আশিত চিৎকার করে পুলিশকে বলছিলেন, অ্যাম্বুলেন্স ডাকো। না, কোনো অ্যাম্বুলেন্স আসেনি। একটি পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় মুর্তজাকে। করাচির একজন সিনিয়র সাংবাদিক হাসনেইন খবর পেয়ে মুহূর্তে ঘটনাস্থলে আসেন। সঙ্গে থাকা ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললেন। পুলিশ সেই ক্যামেরাসহ সাংবাদিকের ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু আরেকজন সাংবাদিক সঙ্গে থাকা গোপন ক্যামেরায় ছবি তুলে ফেলেন। পুলিশ তা দেখতে পায়নি। পরে ফাতিমাকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তার পিতা ঘটনাস্থলে মারা যাননি। পুলিশ গাড়িতে তোলার পর আবারও তাকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ফাতিমা লিখেছেন, ‘হাসপাতালে আমি আব্বার মুখ আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করলাম। তার মুখ তখনো গরম ছিল, রক্তে ভিজে গিয়েছিল। কামরার শেষ প্রান্তে গেলাম। ধাতু নির্মিত চেয়ারে বসলাম। নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না।’

ফাতিমা লিখেছেন, তখন রাত ৩টা। আম্মা অপেক্ষা করছিলেন আব্বার মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ছাড়িয়ে আনার জন্য। এমন সময় প্রধানমন্ত্রী এলেন। বেনজির তার ইসলামাবাদের বাড়ি থেকে করাচি এসে প্রথমে নিজের বাড়িতে যান। তারপর হাসপাতালে এলেন। এটি মানুষকে দেখানোর জন্য, তিনি শোকাহত। তার সঙ্গে ছিলেন ওয়াজিদ দুররানি, সেই রাতে গুলিবর্ষণকারীদের একজন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর তাকে অভিনন্দন জানাতে দেখা গিয়েছিল ছবিতে। আর প্রধানমন্ত্রীর ভাইয়ের হত্যাকান্ডে জড়িত সোয়েব সাডডলও ছিলেন এই সময়। ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে বেনজির লিখেছেন, ‘১৯৯৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আমার পরিবার আরও একটি হত্যার শোকে পাথর হয়ে যায়। আমার ভাই মুর্তজা করাচিতে তার বাড়ির সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। আমি পাগলের মতো হয়ে পড়ি। কারণ বেশ কয়েক বছর রাজনৈতিক বিরোধের পর আমরা সবেমাত্র নিজেদের ঐক্য সুদৃঢ় করেছিলাম। আমাদের পরিবারের সবাই আবার একত্রিত হয়েছিলাম। আমার সন্দেহ হয়েছিল আমার সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল মুর্তজা হত্যাকান্ড।’ মুর্তজা হত্যায় পরবর্তী সরকারের আমলে আসিফ জারদারির আটক নিয়ে বেনজির লিখেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যার অভিযোগে আমার স্বামীর গ্রেফতার বিদ্বেষপূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ।’ ফুফুর এই মতের সঙ্গে এখনো একমত হতে পারেননি ফাতিমা। ফাতিমা আহাজারি নিয়ে বারবার বলছেন, তার পিতার হত্যার জন্য দায়ী আসিফ আলি জারদারি। তার দুঃখ তার ফুফু তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী।

ট্র্যাজেডিতেই ভরা ভুট্টো পরিবারের ইতিহাস। জিয়াউল হক ক্ষমতায় আসার পর জুলফিকার আলি ভুট্টোর ফাঁসির সময় গোটা পরিবার ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়ে। ভুট্টোর এক ছেলের মৃত্যু হয় বিদেশে। ১৯৮৬ সালে বেনজির দেশে আসেন। ’৮৮ সালে বেনজির প্রথম ক্ষমতায় আসেন। সেই সময়ে তিনি বাংলাদেশে আসেন পীর মুজিবুর রহমান চিশতির আমন্ত্রণে। ক্ষমতায় আসার আগে চিশতির কাছে বেনজিরের অঙ্গীকার ছিল এমনই। ক্ষমতায় বেনজির সেই সময়ে বেশি দিন থাকতে পারেননি। ’৯০ সালে আবার ভোটে ক্ষমতায় আসেন নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানে ভুট্টো পরিবারের সমস্যার শেষ ছিল না। ’৯৩ সালে আবার পরিস্থিতি বদলে যায়। রাজনীতির পালাবদল আবারও ক্ষমতায় আনে বেনজিরকে। কিন্তু এই সময় ভুট্টো পরিবার ক্ষমতার বিবাদে জড়িয়ে পড়ে নিজেরাই। মুর্তজাকে নিয়ে ক্লিফটন রোডের বাড়িতে থাকতেন মা নুসরাত ভুট্টো। ছেলের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েন নুসরাত। এই সময় ক্লিফটন রোডের বাড়ি থেকে মাকে নিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে যান বেনজির। তারপর আর ফেরত পাঠাননি। শরীর খারাপের কারণে রাখেন দুবাইতে। কিন্তু আর মুখ খোলেননি নুসরাত। তিনি ভেঙে পড়েন সম্পূর্ণরূপে। অথচ একদা পাকিস্তানের রাজনীতিতে তারও অবস্থান ছিল। স্বামী হারানোর পর প্রথম পুত্র শাহনেওয়াজ চলে গেলেন বিষপানে। এরপর মুর্তজা গেলেন মেয়ের শাসনকালে পুলিশের গুলিতে। ভুট্টো পরিবারের শেষ ট্র্যাজেডি বেনজির। ভোটের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সময় তিনিও চলে যান বোমা বিস্ফোরণে। পাকিস্তানের নষ্ট রাজনীতির শিকার হন বেনজির। ইতিহাসের এক কঠিন নির্মমতায় ভুট্টো পরিবারের সবাইকে যেতে হয় এক করুণ অধ্যায় নিয়ে। এই অধ্যায়ের আড়ালে ছিল ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ বিরোধের কালো দিকটি। যার সর্বনাশা খেলায় এখনো আহাজারি আর্তনাদ নিয়ে কথা বলছেন ফাতিমা।

লেখক: সিইও, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য