কলা বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক পেল অভিভাবক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

কলা বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক পেল অভিভাবক

নেত্রকোনায় কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক শিশুটি দীর্ঘ একমাস পর পেল অভিভাবক। আইনি জটিলতা শেষে মঙ্গলবার ৮ সেপ্টম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে শিশুটিকে নতুন পিতা মাতার হাতে তুলে দেয়া হয়। 

এ সময় শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী শিশুটিকে নিঃসন্তান এক দম্পতির হাতে তুলে দেন। এর আগে অভিভাবক বাছাই শেষে গত ২৫ আগস্ট শিশুটির নামকরণ করা হয় ফাতিমা বিনতে খান। মদন উপজেলার বালালী গ্রামের রুহুল আমিন খানের নামানুসারে শিশুটির নামকরণ করা হয়। 

রুহুল আমিন খান দম্পতিও জায়গা লিখে দিয়ে শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে পেয়ে আনন্দিত। তারা আলোকিত মানুষ হিসেবে শিশুটিকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেন। 

উল্লেখ্য গত ৯ আগস্ট ঠিক একমাস পূর্বে নেত্রকোনা জেলা সদরের কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা এলাকার একটি কলাবাগানে (সদ্য প্রসূত)  নবজাতকটি পরে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশের জরুরী সেবায় ৯৯৯ কল দেন।
 
পরে মডেল থানার পুলিশ সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে সমাজ সেবার মাদ্যমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করেন।
 
এদিকে গত একমাস যাবৎ নার্সদের সেবা এবং পুলিশের পাহারায় ফুটফুটে কন্যা শিশুটি বেড়ে ওঠে। গত ৩০ দিন নার্সরা বাড়তি যত্ন নিয়েছেন শিশুটির। সেইসাথে নিরাপত্তার জন্য নারী পুলিশের সদস্যদের ডিউটিও রেখেছে অব্যাহত। 

উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. আব্দল্লাাহ আল মামুন বলেন, শিশুটিকে নিতে ছয় দম্পতি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু যাচাই বাছাই করে এবং সকল শর্তে রাজি হয়ে জমি লিখে দেয়ার পর শিশিুটিকে আমরা রুহুল আমীন দম্পতির কাছে দেবার সিদ্ধান্ত নেই। 

ভবিষৎতে তাদের কোন সন্তান জন্ম লাভ করলেও ফাতিমা তাদের প্রথম সন্তান হিসেবে সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তিতে সমান অধিকার ভোগ করিবে। 

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

মন্তব্য