লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণ-হত্যার শিকার নারীর পরিচয় মিলেছে

রাহাত খান, বরিশাল

লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণ-হত্যার শিকার নারীর পরিচয় মিলেছে

ঢাকা থেকে বরিশালগামী এমভি পারাবত-১১ লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার শিকার নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বরিশাল সদর নৌ থানার এসআই অলক চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বরিশাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ওই নারীর লাশ শনাক্ত করে তার পরিবারের সদস্যরা। পরে তাদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করে নৌ পুলিশ।

নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী (২৯)। তার বাবার নাম আব্দুল লতিফ মিয়া। দুই শিশু ছেলের জননী লাবনীর স্বামী একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। বাবা আব্দুল লতিফ মিয়া ও মা মমতাজ চোধুরীর সাথে ঢাকার পল্লবী-২ নম্বর এলাকার বাসায় থাকতেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায়। লাবনী উন্মুক্ত বিশ্ববিস্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। এক ভাই ও তিন বোনের মধ্যে লাবনী সবার ছোট।

আরও পড়ুন: 


অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ৩ বন্ধু মিলে ধর্ষণের চেষ্টা


স্বজনদের উদ্বৃতি দিয়ে নৌ পুলিশ জানায়, চাকরির প্রলোভনে গতকাল সোমবার ঢাকার সদরঘাট থেকে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে লঞ্চযোগে বরিশাল আসছিল লাবনী। ওই দিন রাত ৯ টা পর্যন্ত লাবনীর সাথে ফোনে কথা হয় তার বাবার। পরদিন গতকাল সোমবার সকালে লঞ্চের কেবিন থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিটের পরিদর্শক আল মামুনুর রশিদ।

আরও পড়ুন: বিএনপির ৩ নেতার কাণ্ড, ধর্ষণের ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ

তবে তার সাথে থাকা ওড়না ও ব্যাগ সহ অন্যান্য আলামত নিয়ে যাওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষনিক ওই নারীর পরিচয় উদঘাটন করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আঙ্গুলের ছাপ অনুযায়ী তার পরিচয় উদঘাটন করে পুলিশ। সে অনুযায়ী তার স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল মর্গের হিমঘরে ওই নারীর লাশ শনাক্ত করে তার বাবা আব্দুল লতিফ এবং ভাই মোক্তার মিয়া।

আরও পড়ুন: দাদির বয়সী বলেও ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেলেন না ৯০ বছরের বৃদ্ধা

এর আগে গত সোমবার মর্গে ওই নারীর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই নৌ থানার উপ-পরিদর্শক অলক চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদর নৌ থানার ওসি আবদুল্লাহ-আল মামুনকে।

আরও পড়ুন: ‘ধর্ষণ চেষ্টাকারীর’ মাথা ফাটিয়ে বাঁচল ৮ম শ্রেণির ছাত্রী

তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুল্লাহ-আল মামুন বলেন, স্বজনরা শনাক্ত করার পর ওই নারীর লাশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের  চেস্টা চলছে। অভিযুক্ত ঘাতককে শনাক্ত করতে পারলেও তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন পুলিশ পরিদর্শক আবদুল্লাহ-আল মামুন।

আরও পড়ুন: ১০ লাখ টাকা ডাকাতি: ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য