গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি, মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

তালুকদার বিপ্লব

গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি, মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

ক্ষমতা ও টাকার জোরে মামলার এজাহার পাল্টে ফেলেছে গাজীপুরের অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানের মূল হোতারা। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা। 

গাজীপুর তিতাসের সহকারী ব্যবস্থাপক এবং ব্যবস্থাপক প্রকৗশলী সুরুজ আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দফায় দফায় এজাহার পরিবর্তন করা হয়েছে।

সমগ্র গাজীপুর জুড়ে ১৬৪টি এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ সনাক্ত করেছে গাজীপুর তিতাস কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধান বলছে,গাজীপুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে গাজীপুর সদর, জয়দেবপুর, হোতাপাড়া, গাছা, বাসন এবং শ্রীপুর থানা এলাকায়।

অনুসন্ধানে গাজীপুর বোড বাজার, গাছা থানা এবং জয়দেবপুর, হোতাপাড়া ও মনিরপুর এলাকা। এখানে বস্তি থেকে আবাসিক এলাকা, সর্বত্রই অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি।

সমগ্র গাজীপুর জুড়ে এমন অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার অফিস খুলে বসেছে তিতাসের কালো তালিকা ভুক্ত ঠিকাদার সোলাইমান ভুইয়া, তার ছেলে ফয়েজ ভূঁইয়া এবং শরীফ হোসেন ও তার ভাই আলমগীরসহ অনেকে।

নিউজ টোয়েন্টিফোরের তথ্যে রোববার গাজীপুর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও তিতাস কর্তৃপক্ষের অভিযানে আটক করা হয়, সোলাইমান ভূঁইয়ার ছেলে ফয়েজ ভূঁইয়া ও শরীফ হোসেনের ভাই আলমীরকে।

দেখা যায়, গাছা থানার এক কিলোমিটারের মধ্যেই নিজস্ব ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে সোলাইমান ভূঁইয়ার অবৈধ গ্যাস সংযোগের অফিস। যা তিতাস অফিস নামেই চেনে এলাকার বাসিন্দারা।

গাজীপুর জেলা নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট এবং গাছা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে এসময় আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়, তিতাসের লগোযুক্ত প্রায় ১০ হাজার ফাইল। গ্যাস সংযোগের আবেদন, বিভিন্ন সরকারি কমকর্তা, থানা ও কাউন্সিলরদের নামের নকল সিল। মদের বোতল ও যৌন উত্তেজক স্প্রে ও ট্যাবলেট। গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেক বই।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা জানান, তিতাস গ্যাসের বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র, সিল উদ্ধার করা হয়েছে। যে সব দিয়ে তারা মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।


আরও পড়ুন: পৌরসভা নির্বাচন ডিসেম্বরে


কিন্তু ঐ রাতেই দফায় দফায় পরির্বতন করা হয় মামলারে এজাহার। অবশেষে মামলার এজাহার থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দিয়ে একটি সাধারণ মামলা করে,গাজীপুর তিতাজের ব্যাপস্থাপক প্রকৗশলী সুরুজ আলম।

এই নিয়ে টেলিফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিযানের নেতৃত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। বলেন, এই ধরণের অভিযোগ পরিবর্তন এক ধরণের জালিয়াতি।

এমনকি মামলার এজাহারে প্রধান দুই আসামি সোলাইমান ভূঁইয়া এবং শরিফুল ইসলামকে ২ এবং ৪ নাম্বার আসামী করা হয়। এবং আটক হওয়া ফয়েজ ভূঁইয়া এবং আলমগীরকে আলাদা আলাদা অফিস থেকে আটক করা হলেও এজাহারে তা উল্লেখ হয়নী।

নিউজ টোয়েন্টিফোর / সুরুজ আহমেদ

মন্তব্য