বুনো হাতির মুখোমুখি

জয়দেব রোয়াজা

বুনো হাতির মুখোমুখি

মৃত্যুর মুখোমুখি যাকে বলে তাহা টের পেলাম আজ দুই বন্ধু মিলে !! গাণিতিক হিসাবে ৯৯ % মৃত্যু ! আর মাত্র ১% বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। জীবনে প্রথম দুইটা বুনো দাঁতাল হাতির সামনে !! 

সমস্যা শুরু হয় দুপুর থেকে কং চাই দা তার প্রিয় মোবাইল সেট হারিয়ে ফেলে , সেইটার খুঁজে আবার চিম্বুক পাহাড়ে যেতে হলো , সেখান থেকে ব্যাট্যা পাড়া , না পাওয়া গেলো না , এদিকে ততক্ষনে যে টার্গেট ছিলো ,অর্থাৎ দিনের আলো থাকতে কাপ্তাই পৌঁছা তা আর হলো না।

বান্দরবান থেকে কাপ্তাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম সন্ধ্যে ৭.৩০ এ। মাঝ পথে একটা বাঁক ঘুরতেই প্রথম হাতিটার দেখা।


আরও পড়ুন: দুর্নীতি লুটপাট মানুষই করে জিনভূতেরা নয়


মোটর সাইকেল ঘুরিয়ে পিছনে ফিরার আর কোনো সুযোগ নেই । ফলে কোনো রকমে হাতিটার ডান পাশ দিয়ে যেতে পারলাম । কিন্তু !! এর পরেই সেই বিরাট দাঁতাল হাতিটির একেবারে সামনে আমাদের বাইক !! তার মৃদু গর্জন , মাথা দোলানো আর শুর টি এতো কাছে ,চাইলেই আমাদের মাথায় বারী মারতে পারে ,এই দূরত্ব !!

সত্যি বলতে কি আমি জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম , বামে খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠা অসম্ভব , আর ডানে বাগান সুরক্ষার জন্য বাঁশের শক্ত বেড়া !!

মনে আছে এক ঝলক ছেলে মেয়ের মুখ ভেসে উঠলো , প্রায় এক মিনিটের ও বেশি সময় আমরা হাতিটির মুখোমুখি , এদিকে পিছনে ফেলে আসা হাতিটি ও মনে হচ্ছে খুব কাছে এসে গেছে !! ঠিক সেই মুহূর্তে কংচাই দা , হর্ন দিলেন ,দিতেই থাকলেন !!

হাতিটি কি মনে করে একটা হুংকার দিয়ে ডান পাশের বেড়া দুমড়ে মুচড়ে এক পাশে সরে দাঁড়ালো। সেই মুহূর্তে কংচাই দা কিভাবে যে বাইক চালিয়েছেন তা আর বললাম না , যেকোনো মুহূর্তে বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের খাদে পড়ে যেতে পারতো ! হ্যা কংচাই দাদার তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধি হর্ন এইযাত্রায় আমাদের জীবন বাঁচিয়েছে !! 
তাই বন্ধু বন্ধুরা ভুলে ও বান্দরবান টু কাপ্তাই টু রাঙামাটি কখনোই রাতে অতিক্রম করা উচিত নয়। মৃত্যু ভয় এবং বেঁচে থাকার আনন্দ আজ নুতুন ভাবে উপলদ্ধি করলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ কংচাই দা , আপনার কারণেই আজকে আমরা বেঁচে ফিরলাম !!

জয়দেব রোয়াজা : শিল্পী (ফেইসবুক থেকে )

মন্তব্য