আন্তর্জাতিক উৎসবে সর্বাধিক খেতাব জিতলেন বাংলাদেশী নির্মাতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক উৎসবে সর্বাধিক খেতাব জিতলেন বাংলাদেশী নির্মাতা

ভারতের অন্যতম সামাজিক সংগঠন ‘উই ফিল সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের ব্যাপ্তি ছিল প্রায় দেড় মাস। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের ২৬টি চলচ্চিত্রের বিভিন্ন কলা-কুশলীদের সম্মাননা জানানো হয়। 

এই উৎসবে সেরা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  শারীফ অনির্বাণ। ২৬টি দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে এ উৎসবে সর্বাধিক খেতাবও অর্জন করেছেন তিনি। 

শারীফের রিকশা চালক বাবার গল্প নিয়ে নির্মিত 'ইনভেস্টমেন্ট' সিনেমাটি তাকে এই উৎসবে সেরা পরিচালকের খেতাব এনে দেয়। যেখানে দেখা যায় একজন রিক্সাচালক বাবা তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তানের সাথে দেখা করতে আসেন ক্যাম্পাসে।দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেখা হলেও বন্ধুদের সামনে দুজন দুজনের সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করে। অনির্বাষ জানান তাঁর চোখে দেখা বাস্তব ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে শর্টফিল্ম ইনভেস্টমেন্ট। 

আরও পড়ুন:


স্ত্রীর মামলায় সঙ্গীত পরিচালক শওকত ইমন কারাগারে


এ ছাড়াও তার অন্য তিনটি শর্টফিল্ম 'কসমোপলিটন', 'ড্রিম ড্রাইভার' এবং 'সোনার বাংলা' যথাক্রমে সেরা স্ক্রিপ্ট, সেরা আর্ট ডিরেকশন এবং সেরা সামাজিক বার্তা প্রদানের জন্য বিজয়ী হিসেবে মনোনীত হয়।  বিইআরডি ল্যাব-এর ব্যানারে সিনেমা ৩টির প্রযোজনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, সামিাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এমন কাজের সাথে যুক্ত আছেন। এমন স্বীকৃতি আরো ভালো কাজের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করেন তিনি।

এই সিনেমাগুলোতে সহযোগী ও সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন, আহমেদ সালেকীন, নাঈম মাহমুদ, জিহাদুল ইসলাম বিপ্লব এবং মতিয়ার রহমান। ক্যামেরার সামনে ও পেছনে কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল উদ্যমী তরুণ-তরুণী। 

উৎসবে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে যৌথভাবে মনোনীত হয়েছে ভারতের রজত তালুকদারের 'মা' এবং নেদারল্যান্ডের অগ্নিভা সেনগুপ্তের 'তারাতুম' সিনেমা দুটি। সম্মাননা হিসেবে বিজয়ীদের সার্টিফিকেট এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

এর আগে শারীফ অনির্বাণের স্বল্পদৈর্ঘ্য’ চলচ্চিত্রগুলো মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ভারতের শিলিগুড়ি, নাইজেরিয়া,হলিউডের পাইনস্টুডিও  ‘সিলেট আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ প্রদর্শিতহয়। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশের স্বাধীন নির্মাতারা আন্তর্জাতিক উৎসব থেকে তাদের কাজ দিয়ে আরো প্রশংসিত হবে বলে মত এই তরুণ নির্মাতার।

অনির্বানের পরবর্তী প্রজেক্ট নীরার উপাখ্যান। পুরুষতান্ত্রিীক সমাজে নারীর স্বপ্ন ইচ্ছের অপমৃত্যু, লকডাউনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বাস্তবতা নিয়েই যার গল্প। এই সিনেমাতেও ক্যামেরার সামনে পেছনে কাজ করবেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অপেশাদার অভিনয়শিল্পীরা। 

তরুণ এই নির্মাতা জানান তারা জিরো বাজেট ফিল্ম কনসেপ্ট দিয়ে ইতিবাচক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করবেন। জীবনের গল্প বলবেন। 

news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য