রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ২ জন রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক

রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ২ জন রিমান্ডে

মুমূর্ষু স্বামীর জন্য রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে এক নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব (৪৩) ও সহায়তাকারী মাশনু আরা বেগম ওরফে শিল্পীর (৪০) দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী এই আদেশ দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার ওমেদার মোহাম্মদ সরোয়ার এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার বিশ্বাস আসামিদের হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন:


সৌদি অনুমোদিত ১৮টি এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা রিনিউ


এর আগে গত শুক্রবার রাত ৮টায় রাজধানীর মিরপুরে মনিপুরীপাড়ায় শিফা ভিলা নামের একটি ফ্ল্যাট থেকে র‌্যাব ২-এর একটি বিশেষ দল দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে  র‍্যাব ২-এর কমান্ডিং অফিসার (সিপিসি-২) মেজর এম এম পারভেজ আরেফিন বলেন, আসামি মনোয়ার হোসেন সজীবের মা ও অভিযোগকারী গৃহবধূর স্বামী সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীর জন্য ‘ও' পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন বলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন। পরে রক্তের সন্ধানে গৃহবধূ হাসপাতালটির নিচ তলার ব্ল্যাড ব্যাংকে যান। সেখানেই বসে ছিলেন ধর্ষক সজীব।

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, ব্ল্যাড ব্যাংকে রক্ত না থাকায় সজীব তখন ওই গৃহবধূকে মালিবাগের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে যেতে বলেন। কিন্তু গৃহবধূ মালিবাগ চিনেন না বলে সজীবকে জানান। পরে সজীব তাঁকে জানান, ‘আমি তোমাকে মালিবাগে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিয়ে যাব।’ সেই কথা মতো সকালে তাঁরা দুজন রওনা দেন মালিবাগের কোয়ান্টামে। কিন্তু সেখানে রক্ত না থাকায় কোয়ান্টাম থেকে জানানো হয়, টাকা রেখে যেতে। টাকা দিলে পরেরদিন রক্ত পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়।

মেজর এম এম পারভেজ আরেফিন জানান, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের প্রয়োজনের কারণে গৃহবধূ কোয়ান্টামে টাকা জমা না দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। পরে তাঁরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রওনা দেন। রওনা দিয়ে পরে তাঁরা ফার্মগেট পর্যন্ত আসেন। সেখানে আসার পর মনোয়ার হোসাইন সজীব ওই গৃহবধূকে বলেন, 'মিরপুরের মনিপুরে আমার এক বোন আছেন। সেখানে গেলে রক্তের ব্যবস্থা হতে পারে।' পরে তাঁরা দুজনই মনিপুরে যান। সে সময় সজীব তাঁকে একটি বাসায় উঠতে বলেন। কিন্তু গৃহবধূ রাজি হচ্ছিলেন না। পরে গৃহবধূকে জোর করে অপর আসামি শিল্পীর বাসায় ওঠানো হয়। এরপর শিল্পী তাদের নাস্তা খাওয়ানোর কথা রান্নাঘরের দিকে যান। সে সময় সজীব ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর তিনি যাতে এই ঘটনা কাউকে না বলেন সেজন্য মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে তাঁরা হাসপাতালে চলে যান। গৃহবধূর স্বামী অধিক অসুস্থ হওয়ায় এই ঘটনা তিনি কাউকে জানাননি। পরে অন্যভাবে রক্ত ম্যানেজ করেন ওই গৃহবধূ। কিন্তু পুনরায় রক্তের প্রয়োজন হয়। এই ঘটনা সজীব জানতে পারেন। পরবর্তী সময়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সজীব পুনরায় রক্ত ম্যানেজ করে দেওয়ার কথা জানান ওই গৃহবধূকে। পরে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা তাঁর স্বামীকে জানিয়ে দেন। এরপরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর স্বামী র‍্যাবের কাছে  অভিযোগ করেন। ওই দিন রাতে মনিপুরে ওই বোনের বাড়ি থেকে সজীব ও তাঁর বোনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গ্রেপ্তারের পর পুরো ঘটনা স্বীকার করেছেন সজীব।

news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য