প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন সফল মুক্তা চাষি
প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন সফল মুক্তা চাষি

প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন সফল মুক্তা চাষি

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

নীলফামারীর জুলফিকার রহমান বাবলা, পাবনার আল মামুন, লালমনিরহাটের  রুহুল আমিন লিটন, নোয়াখালীর নাসির, ঝিনাইদহের দেলোয়ার তুফান, নেত্রকোণার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দেলোয়ার হোসেন, এরা এখন সবাই মুক্তা চাষি। দেশব্যাপী এখন মুক্তাচাষীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত মুক্তা চাষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা এখন মাঠে ঘাটে কাজ করছে।

চলতি অক্টোবর মাসের ৯-১০ তারিখ দুই মেয়াদী ময়মনসিংহে অবস্থিত ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মুক্তা চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রশিক্ষণার্থীদের একজন দেলোয়ার হোসেন তুফান জানালেন, তিনি প্রথম বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মুক্তা চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে তিনি নিজেই দেলোয়ার পার্ল ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায়। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক হলেও মুক্তা চাষে এখন তিনি অধিক সময় ব্যয় করছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আগ্রহী ব্যক্তিদের তিনি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন ফেনী, নাটোর, শেরপুর, বরিশাল, নোয়াখালী, পিরোজপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ি, যশোর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১৫টি জেলায় ইমেজ মুক্তা চাষ হচ্ছে।

দেলোয়ারের ফার্মে উৎপাদিত মুক্তা প্রসেস করার জন্য তিনি একটি অলংকারের দোকান দিয়েছেন। এখানে মুক্তা প্রসেস করে দেশ-বিদেশে বিক্রি করেন।

তিনি মনে করেন, ইমেজের ডিজাইন ভালো হলে মুক্তা বিক্রি করা কোনো সমস্যাই না।

অনলাইনে প্রচুর অর্ডার পাওয়া যায়। প্রথম দিকে একটি ইমেজ ৩০০-৪০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রয় হয় বলে তিনি জানান।

একইভাবে লালমনিরহাটের লিটন জানান, তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার আয়ের তেমন কোনো উৎস ছিল না। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মুক্তা উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি এখন ৪০ শতাংশ পুকুরে মুক্তা চাষ করছেন এবং ইতোমধ্যে মুক্তা বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ করেছেন।

তিনি নিজেই অনেক বেকার যুবককে মুক্তা উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মুক্তা চাষে তিনি স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদানের দাবি জানান।

নেত্রকোণার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানালেন, দেশে ইমেজ মুক্তা চাষ ক্রমশ: সম্প্রসারিত হওয়ায় তিনি এখন ইমেজ তৈরি করে তা বিক্রি করে যাচ্ছেন। এটিও এখন ক্রমশ: ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে। একইসাথে তিনি ইমেজ মুক্তাও চাষ করছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট থেকে আরও জানা যায় ইমেজ মুক্তা সম্পর্কে দেশের মানুষের ধারণা এখনও সীমিত। ফলে বাজারজাতকরণে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, খামারে উৎপাদিত মুক্তা দেশে পরিচিতি বা বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার জন্য ‘স্বাদুপানির ঝিনুকের মুক্তা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক দুইদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের  আয়োজন করা হয়েছে এবং এ প্রশিক্ষণে ১৫টি জেলার ২১ জন মুক্তা চাষি এবং উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেছেন। মুক্তা বাজারজাতকরণ সহজ করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন চেইন শপের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা এ নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার সকলেই মুক্তা উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এক্ষেত্রে সরকারও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

news24bd.tv তৌহিদ

সম্পর্কিত খবর