শ্রীলঙ্কায় জন্ম নেওয়া কি অপরাধ, প্রশ্ন মুরালিধরনের

ফাইল ছবি

শ্রীলঙ্কায় জন্ম নেওয়া কি অপরাধ, প্রশ্ন মুরালিধরনের

অনলাইন ডেস্ক

মোহম্মদ আজহারউদ্দিন, এম এস ধোনির জীবন নিয়ে তাদের বায়োপিক হয়েছে। তা নিয়ে বিতর্ক হয়নি। কিন্তু এবার এক বিদেশি ক্রিকেটারের বায়োপিক ঘিরে ভারতে শুরু হয়েছে জোরদার বিতর্ক। সেই ক্রিকেটার শ্রীলঙ্কার সাবেক স্পিনার কিংবদন্তি মুথাইয়া মুরালিধরন।

আরও পড়ুন: 


লা লিয়ায় হোঁচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ


সম্প্রতি মুরালির জীবনকেন্দ্রীক ওই ছবি '৮০০'-এর ফার্স্টলুক প্রকাশ পেয়েছে। মুরালীধরনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন 'মাক্কাল সেলভান'খ্যাত তামিল সুপারস্টার বিজয় সেতুপথি। কিন্তু গত ১৩ অক্টোবর ছবির পোস্টার প্রকাশ পেতেই বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

বলা হচ্ছে, ছবিতে নাকি দেখানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু তামিলদের ওপর অত্যাচারে সমর্থন ছিল কিংবদন্তি এই স্পিনারের।

সেই কারণেই '‌৮০০'‌ সিনেমাটি বয়কটের দাবি উঠেছে। তার চেয়েও বড় বিষয়, ইউটিউবে একদিন আগেও সিনেমার ট্রেলারটি দেখা গেলেও এই বিতর্কের পরে সেটিও আর দেখা যাচ্ছে না। আর এই ছবিতে যেহেতু মুরালীর ভূমিকায় বিজয় অভিনয় করেছেন, তাকেও আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই 'শেম অন বিজয় সেতুপথি #' ব্যবহার করছেন।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মুরালিধরন বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আমি এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বড় হয়েছি। যুদ্ধের পরবর্তীকালে যে ভয়াবহতা ও বেদনা সৃষ্টি হয়েছিল সেটাই আমি সকলের সঙ্গে ভাগ করতে চাই। আমরা শ্রীলঙ্কায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের মধ্যে থেকেছি। কীভাবে আমি ক্রিকেট দলে যোগ দিতে পেরেছি এবং ওই পরিস্থিতি থেকে নিজেরা কীভাবে সাফল্যের স্বাদ পেয়েছি, সেই গল্পই বলা হচ্ছে '৮০০' ছবিতে। শ্রীলঙ্কায় জন্ম নিয়েছি বলে কী আমি আমার জীবনের গল্প তুলে ধরতে পারব না?

তিনি এখানেই না থেমে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ২০১৯ সালে আমি বলেছিলাম যে ২০০৯ সালটি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের বছর ছিল। কিন্তু লোকেরা মনে করেন ওই বছরটি আমাদের দেশে তামিলিয়ানদের হত্যা করা নিয়ে যে খবর ছড়িয়েছিল, সেই ঘটনার সমর্থনে আমি ওই বছরটিকে সুখের বছর বলেছি।

তিনি বলেন, একটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করুন। যুদ্ধকালীন সময়ে আমি বড় হয়েছি, অনেক কষ্টে আমি সাফল্য অর্জন করেছি। এমনও হয়েছে স্কুলে গিয়ে আমি খোঁজ নিতাম, যারা আমার সঙ্গে গতকালও গল্প করেছিল, তারা আজ বেঁচে আছে কিনা। এমন এক বিদ্বেষের বাতাবরণের মধ্যে বড় হয়েছি।

মুরালি আরও জানান, একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমি সুরক্ষা সম্পর্কে ভেবেছিলাম। আমি হলফ করে বলতে পারি গত ১০ বছরে উভয় পক্ষের কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আর এই কারণেই আমি বলেছিলাম যে ২০০৯ সালটি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের বছর। আমি কখনই নিরীহ মানুষ হত্যার পক্ষে সমর্থন করিনি এবং ভবিষ্যতেও কখনও এই জাতীয় কাজ সমর্থন করব না।

ভারতের তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকেসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও '৮০০' ছবি বয়কটের দাবিতে রাস্তায় পর্যন্ত নেমেছে। তারা একযোগে জানিয়েছে, মুরালিধরন তামিলদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, তিনি সেইসময় শ্রীলঙ্কার শাসকশ্রেণীকে সমর্থন করেছিলেন।

news24bd.tv কামরুল