বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা এসব শেখাচ্ছে ক্লাস রুমে ও টেলিভিশনে

আমিনুল ইসলাম

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা এসব শেখাচ্ছে ক্লাস রুমে ও টেলিভিশনে

রায়হান নামের ছেলেটাকে সিলেটের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ১০ হাজার টাকার জন্য বিনা অপরাধে ছেলেটার প্রাণ গেল। 

এই নিয়ে একটা বাক্যও লিখিনি। উল্টো লিখেছিলাম- আপনারা ইচ্ছে মতো হত্যা করুন। সকাল-বিকেল-সন্ধ্যায় হত্যা করুন। দয়া করে হত্যা করার পর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানুষটাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী কিংবা ছিনতাইকারী বানিয়ে ফেলেন না! বলে দিয়েন- হার্ট ফেইল করে মোরে গেছে!

আকবর নামে পুলিশের এক এসআই নাকি তাকে হত্যা করেছে। পত্র-পত্রিকা পড়ে অন্তত তেমনটাই জানতে পেরেছি।

এই আকবরকে আজ অবদি খুঁজে পাওয়া যায়নি!

এখন শুনতে পাচ্ছি সে নাকি পালিয়ে গেছে! শুধু সেটাই না, পালিয়ে যেতে নাকি সাহায্য করেছে আরেক এসআই হাসান!

তো, এই হাসানকে কি শাস্তি দেওয়া হয়েছে জানেন? 

‌‘সাময়িক’ ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জলজ্যান্ত একটা মানুষ হত্যাকারীকে আরেক এসআই পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে; তাকে তো সঙ্গে সঙ্গে জেলে ভরে দেওয়া উচিত! আর আমরা কি করছি?

তাকে ‘সাময়িক’ ভাবে বরখাস্ত করেছি! এর মানে দাঁড়াচ্ছে, সে হয়ত আবার কাজে যোগ দিতে পারে!

আচ্ছা, আপনাদের কারও কি জানা আছে একটা পুলিশ ফাঁড়িতে সব মিলিয়ে কতো জন পুলিশ থাকে?

যেই রাতে রায়হান নামের ছেলেটাকে মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য হত্যা করা হয়েছে; সেই রাতে কি ওই পুলিশ ফাঁড়িতে কেবল এসআই আকবর'ই ছিল? আর কেউ কি ছিল না?

তারা কি কোনো প্রতিবাদ করেছে?

তারা কি তাদের বড় কর্তাকে বিষয়টা জানিয়েছে?

তারা কি ফোন করে সংবাদ মাধ্যমকে ব্যাপারটা বলেছে?

নাকি তারা সবাই মিলে মহা আনন্দে ছেলেটাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে?

কে জানে, হয়ত ১০ হাজার টাকার কিছুটা তাদের ভাগেও যাবে, এই লোভে চুপচাপ বসে ছিল। প্রাণ গেলে যাচ্ছে কোথাকার রায়হানের! তাদের এতে কী! ১০ হাজার টাকার ভাগ পেলেই তো হচ্ছে!

সেই রাতে পুলিশ ফাঁড়িতে থাকা অন্যান্য পুলিশদের কেন আইনের আওতায় এনে বিচার করা হচ্ছে না? নাকি সাময়িকভাবে তাদের অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে? সময় মতো আবার ফিরিয়ে আনা হবে!

আপনাদের আসলে লাল-সালাম!

ও আচ্ছা, সালাম দিয়ে আবার অপরাধ করে ফেললাম না তো?

আজকাল তো আবার দেশের সেরা!!! বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক; যারা নিজদের সমাজ বিজ্ঞানী, অপরাধ বিজ্ঞানী মনে করে- তারা সালাম কীভাবে দিতে হবে; সেই তালিমও দিচ্ছে!

দেশে এতো কিছু হয়ে যাচ্ছে; এইসব তাদের চোখে পড়ছে না! কে কীভাবে সালাম দিচ্ছে, এই নিয়ে আপনারা এখন উঠে-পড়ে লেগেছেন!

এই হচ্ছে আমাদের দেশ; দেশের পুলিশ, সেরা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সংবাদ মাধ্যম এবং বুদ্ধিজীবী সমাজ!

যারা প্রত্যেকে নিজ জায়গায় নিজদের সেরা মনে করে!

সেরা মনে করতে কোনো সমস্যা নেই। সেটা করা যেতেই পারে। কিন্তু নিজেকে সেরা মনে করতে গিয়ে অন্যদের ছোট করতে হবে কেন?

এই যে টেলিভিশনে গিয়ে এতো এতো সমাজ বিশ্লেষণ করে বেড়াচ্ছেন; আপনারা কী বুঝতে পারছেন না- এই দেশের এক নম্বর সমস্যা হচ্ছে- আমরা সবাই নিজেদের সেরা মনে করি! সেটা করতে গিয়ে দিনে-রাতে অন্যদের ছোট করে বেড়াচ্ছি!

আপনি যখন ধরেই নিবেন- অন্যরা আপনার চাইতে ছোট, খারাপ কিংবা এই টাইপ! তখন আপনি সেই মানুষ গুলোর বিরুদ্ধে গিয়ে যে কোনো অন্যায় করে ফেলতে পারবেন।

কারণ আপনি তো ধরেই নিয়েছেন- আপনি'ই শ্রেষ্ঠ!

নোয়াখালীর ধর্ষণের ঘটনা দেখুন কিংবা সিলেটের এই পুলিশের ঘটনাই বিবেচনা করুন।

এরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজদের শ্রেষ্ঠ, ক্ষমতাবান কিংবা সেরা মনে করে অন্যদের আর মানুষ'ই মনে করেনি! 

এই জন্য'ই আমাদের সমাজে এতো সমস্যা। 

আর এইসব আমাদের কারা শেখাচ্ছে?

আরও পড়ুন: যে কারণে ভাই-ভাবি-ভাতিজা-ভাইজিকে খুন করে রায়হানুল

আর কেউ না- আমাদের দেশ সেরা!!!! বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বয়ং এইসব শেখাচ্ছে শুধু ক্লাস রুমে না; আজকাল টেলিভিশনে গিয়েও বলে বেড়াচ্ছে!

আমিনুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, অস্ট্রিয়া।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য