মানবিক মূল্যবোধে অটল এক নক্ষত্র ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

হাবিবুল ইসলাম হাবিব

মানবিক মূল্যবোধে অটল এক নক্ষত্র ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

রুচি, চাওয়া-পাওয়ায় অন্য দশটা লোকের সঙ্গে মেলে না। দীর্ঘ একটা সময় ধরে ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত আইনজীবী। অর্থ উপার্জন করেছেন দুই হাতে।

কিন্তু তেমন কিছুই রাখেননি নিজের কাছে। সব দান করেছেন চিকিৎসা সেবায়। তিনি ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। স্ত্রী গত হয়েছেন আগেই। একসময় নানা ইস্যুতে সরব ছিলেন তিনি। বার্ধক্যের ভারে চলাফেরা করতে না পারলেও মানবিক মূল্যবোধে তিনি ছিলেন অটল।

নীতি ও নৈতিকতার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। কখনো রাজনীতিবিদ, কখনো বা চিকিৎসকদের সমালোচনা ও প্রশংসা করেছেন নির্দিধায়।

কখনো কখনো তীর্যক কথাও শুনতে হয়েছে। সেই অভিমান থেকেই রফিক-উল হক শেষ বয়সে অনেকটা চুপ হয়ে যান বলে মনে করেন ঘনিষ্টজনরা। প্রখ্যাত আইনজীবী রফিক উল হক ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য এক জীবন যাপন করে গেছেন।

কাজ করেছেন বাংলাদেশের সব বিখ্যাত মানুষদের সঙ্গে। তবে আইনজীবী রফিক-উল সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ওয়ান ইলাভেনের পর। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই তাকে বিপুল পরিচিতি এনে দেয়।

সাহসিকতার সঙ্গে তিনি রাজনীতিবিদদের পাশে এসে দাঁড়ান। ওই সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় সব নেতারই আইনজীবী ছিলেন তিনি। তবে তাদের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেও পিছুপা হননি।


আরও পড়ুন: রফিক উল-হক ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী


ব্যারিস্টার রফিক-উল হক কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। এছাড়া জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। 

স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে নানা আইন প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। তাঁর বাল্যকাল কাটে কলকাতার চেতলায়। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে চলে আসেন ঢাকায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারী আইনে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

অবসরে বই পড়তে ভালো বাসতেন। আর ক্রিকেট খেলা দেখাটাও বেশ পছন্দ করতেন। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় তিনি দান করে দিয়েছেন তার জীবনের প্রায় সমস্ত আয়। 

বার্ধ্যক্যজনিত কারণে শারীরিক নানা সমস্যায় থাকা ব্যারিস্টার রফিকুল হককে গত ১৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার আদ-দ্বিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। অবশেষে শনিবার সকালে তিনি এই মারা যান।

news24bd.tv কামরুল

 

মন্তব্য