ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক কীভাবে ও কেন এলো ?

নাহিদ জিহান

ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক কীভাবে ও কেন এলো ?

ইসলাম ধর্মের প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর মনোভাবের দরুন ফ্রান্সসহ উত্তপ্ত গোটা বিশ্ব। এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশে ফরাসি পণ্য বয়কটের আহ্বান করা হয়েছে। এমনকি ফরাসি পণ্য বর্জনের দাবিতে টুইটার হ্যাশট্যাগ সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

গেলো ১৬ অক্টোবর প্যারিসের শহরতলি এলাকায় স্যামুয়েল প্যাটি নামের এক স্কুলশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হামলাকারী আবদুলাখ আনজোরোভ পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। হামলাকারী চেচেন জাতিগোষ্ঠীর এবং জন্ম রাশিয়ার মস্কোতে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নিহত ওই শিক্ষক ইতিহাস ও ভূগোল পড়াতেন। ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ ক্লাসে তিনি শিক্ষার্থীদের রম্য পত্রিকা শার্লি এবদো’তে ২০১৫ সালে প্রকাশিত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখিয়েছিলেন। তবে কার্টুন দেখানোর আগে ওই শিক্ষক ক্লাসে বলেছিলেন, ক্লাসে থাকা মুসলিম শিক্ষার্থীদের যদি খারাপ লাগে, তবে তারা বেরিয়ে যেতে পারে। 
আর এর জের ধরেই কয়েকদিন বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে। মৃত্যুর আগে প্যাটি বেশকটি প্রাণ সংহারের হুমকিও পেয়েছিলেন। ফ্রান্সে শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যাকারী আবদুলাখের সিরিয়ায় থাকা রুশভাষী এক জিহাদির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্যামুয়েল প্যাটিকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ সংশ্লিষ্ট আরো সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এই হামলার ঘটনাকে ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দেন। ওই ঘটনার পর থেকেই অন্তত ৫০টি মসজিদ ও মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় অভিযান চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ইসলামী মৌলবাদী সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো বলেন, ফ্যান্সে কার্টুন আঁকা বন্ধ হবে না। আর তার এই ঘোষণায় মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

ইসলামের প্রতি এমন মানসিকতার জন্য ম্যাক্রো মানসিক চিকিৎসা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। একইসঙ্গে সোমবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি তুরস্কের নাগরিকদের ফরাসী পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফ্রান্সে মুসলমানরা নিপীড়নের শিকার হলে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান এরদোয়ান।

এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোতে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাকে সাড়া দিয়ে এরইমধ্যে কাতার ও কুয়েতের বিভিন্ন মার্কেটে ফরাসি পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরফানের মতো সবার ক্ষেত্রেই ঘটুক আইনের এমন প্রয়োগ

অন্যদিকে এ বিষয়ে রোববার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফরাসি পণ্য বর্জন বন্ধের আহ্বান জানায় ফ্রান্স। উগ্র সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে এই বয়কট ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য