শিক্ষিকাকে ধর্ষণের পর হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করে শিক্ষক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শিক্ষিকাকে ধর্ষণের পর হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করে শিক্ষক

নোয়াখালীতে এক স্কুলের সহকারী শিক্ষিকার দায়ের করা ধর্ষণ মামলার আসামি প্রধান শিক্ষক জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদীনিকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি-দমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নির্যাতিতা বৃহস্পতিবার একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার কিসমত আবদুল্লাহপুর গ্রামের মো. রুস্তম আলীর ছেলে ও উপজেলার জমিদার হাট রেডিয়ান্ট রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান। তিনি ২সন্তানের জনক। এ প্রধান শিক্ষক একই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রমিজা খাতুনকে স্কুলের ৪ তলায় তার বাসায় কথা আছে বলে ডেকে নেয়। রমিজা সহজ সরল মনে তার বাসায় যায়। সেখানে যাওয়ার পর সেখানে প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে রমিজা বিষয়টি অন্য শিক্ষকদের কাছে প্রকাশ করবে বললে শিক্ষক আবুল হাসান তার হাত-পা ধরে তাকে বিয়ে করার অশ্বাস দেন। একইভাবে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে রমিজা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: ৫-৬ জন মিলে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

এরপর রমিজা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে কিন্তু আবুল হাসান কৌশলে তার গর্ভপাত ঘটান। এরই মাঝে হাসান একই স্কুলের রহিমা আক্তার রুমি নামে এক অভিভাবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাকে বিয়ে করার জন্য তার স্ত্রী ২ সন্তানের জননী জাহানারা বেগমকে নোয়াখালী নোটারী

পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দেয়। পরে রহিমা আক্তার রুমিকে বিয়ে করেন।

এদিকে প্রতারণার শিকার সহকারী শিক্ষকা রমিজা খাতুন নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালে আবুল হাসানের
বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় গত ৩ আগস্ট বেগমগঞ্জ থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠায়।পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

ভুক্তভোগী ওই স্কুল শিক্ষিকা জানান, জামিনে মুক্তি পেয়ে গত ১৫ নভেম্বর উপজেলায় বৈঠক শেষে বাড়ি যাওয়ার সময় চৌমুহনী মোরশেদ আলম কমপ্লেক্সর সামনে আসামি আবুল হাসান তাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি ধমকি দেয়। গত ১০ নভেম্বর আবুল হাসানের ভগ্নিপতি আনোয়ার হোসেন স্থানীয় কাজির হাট বাজারে ভিকটিমকে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

আরও পড়ুন: ধানক্ষেতে ‌শিশু ‘ধর্ষককে’ বিবস্ত্র অবস্থায় ধরল জনতা

এ ব্যাপারে ভিকটিম বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

এদিকে উক্ত প্রতিষ্ঠান শিক্ষিকার প্রায় দুই লাখ টাকা বেতন প্রাপ্য প্ররিশোধ করছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ।

পিতৃহারা ওই শিক্ষিকার একমাত্র আয় রোজগারে পরিবার ভরণ পোষণ চলে আসছে। বর্তমানে ওই শিক্ষিকা ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর নামে স্থাপিত ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে অপসারণের দাবি

কেন লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিল স্কুল শিক্ষিকা?

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য