ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈচিত্রপূর্ণ দেখতে চায় ভারত

বৈশ্বিক জিডিপির ৬০ শতাংই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের: শ্রিংলা

লাকমিনা জেসমিন সোমা

বৈশ্বিক জিডিপির ৬০ শতাংই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের: শ্রিংলা

করোনা পরবর্তী বিশ্বে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সম্মৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল ঘিরে সব দেশের অংশগ্রহণ চায় ভারত। সম্প্রতি লন্ডনে ‘পলিসি এক্সেঞ্জ’ গবেষণা কেন্দ্রে দেয়া এক বক্তব্যে ভারতের এমন অবস্থান তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে নিজেদের লক্ষ উদ্দেশ্য ও বিস্তর পরিকল্পনা তুলে ধরেন।  

ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু বছর আগেই ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ শব্দটি জায়গা করে নিয়েছে। লিখিত বক্তব্যে শ্রিংলা বলেন, একজন ভারতীয় সমুদ্র গবেষক প্রথম নব্বইয়ের দশকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর ধারনাটির সূচনা করেন যেটি সাম্প্রতিককালে ভৌগলিক অভিধানে ‘ইন্দো প্যাসিফিক’ টার্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এটি মূলত শেষ এক দশকে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেছে। 

ভারত তার একাধিক অংশীদার দেশগুলোর সাথে যৌথ বিবৃতিতে এই ‘টার্ম’ বা ধারনাটি ব্যবহার করেছে। শ্রিংলা বলেন, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সীমাবদ্ধ না রেখে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, জাপান এবং অবশ্যই যুক্তরাজ্যকে এর সাথে সম্পৃক্ত করেছে ভারত। তিনি বলেন, এই অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়েই আমাদের মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি ইন্দো-প্যাসিফিক বিভাগ এবং সমুদ্র বিভাগ খোলা হয়েছে।

শ্রিংলা বলেন, ভারত কেবল ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারনাকে মূলধারায় নিয়ে আসেনি। আরো সুনিদ্দিষ্ট করে বলতে গেলে, এটি অন্যদেরকে এই অঞ্চল সম্পর্কে সম্পর্ণভাবে বোঝার জন্য উৎসাহিত করেছে। ভারতের কাছে, ইন্দো-প্রশান্ত মহসাগর এমন এক বিশাল সমুদ্রসীমা যা উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে আফ্রিকার পূর্ব উপকূল পর্যন্ত প্রসারিত। তিনি বলেন, আজ আমাদের সাথে আরও অনেক অনেক দেশ এই ইন্দো-প্যাসিফিক ধারনার সাথে যুক্ত হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের সময় ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছিলে। নানা রকম ধ্যান ধারনা ও সামরিক ব্লকে সজ্জিত করা হয়েছিল এবং এই ‘ব্লক’ চিন্তার অধীনস্থ করা হয়েছিল। ভারতবর্ষ এটি তখন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলো না।

তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের মতোই ভারতের বিখ্যাত ধর্মীয়-ঐতিহ্যগুলো ইন্দো-প্রশান্ত মহসাগর দিয়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে গেছে। প্রাচীন-চিত্তাকর্ষক অনেক হিন্দু মন্দির-ই ভিয়াতনামে দেখা যায়।   

এক হাজার বছর আগে সুমাত্রা, পূর্ব চীন, আব্বাসী সম্রাজ্য(বর্তমান ইরাক)সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে ভারতীয় উপকূল থেকে বাণিজ্য জাহাজ প্রেরণের ইতিহাস তুলে ধরেন শ্রিংলা। বলেন, এই অভিজ্ঞতাগুলোই আমাদের অতীত, আমাদের ভবিষ্যত; এই অভিজ্ঞতাগুলোই ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পর্কে আমাদের ধারণা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ঘনিষ্ট দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য নিশ্চয়ই আমাদের প্রশংসা করবে।

বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের সাবেক এই হাই কমিশনার বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের আন্তঃসংযুক্ততা পুরোপুরি কাজ করতে চলেছে। এর পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও এই অঞ্চলের সার্বিক কল্যাণ।

শ্রিংলা বলেন, মোট বিশ্ব বানিজ্যের আনুমানিক ৬৫ শতাংশ-ই গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর ঘিরে। সে হিসেবে বৈশ্বিক জিডিপির ৬০ শতাংশ অবদান রাখছে এই অঞ্চল। তিনি আরো বলেন, ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ হয় পানি পথে। আমাদের মতোই অন্য অনেকেরই আটলান্টিক থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথটি অত্যন্ত কার্যকরী। তাছাড়া চীনের উত্থান এবং সেই সাথে বৈশ্বিক ভারসাম্যতা পুনরুদ্ধারের আবশ্যিকতা এই অঞ্চলের কৌশলের সাথে যুক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে ‘সাগর’ মতবাদ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি এই মতবাদকে সংক্ষেপে এই অঞ্চলের সবার জন্য ‘সুরক্ষা ও প্রবৃদ্ধি’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এটি মূলত পুরো অঞ্চলের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করা, একক কোন দেশের উপর একচেটিয়া নির্ভরতা না এবং সংশ্লিষ্ট সব দেশগুলোর সম্মৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

ভিারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, ২০১৯ সালে ব্যাংককে ইস্ট-এশয়ান সামিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘সাগর’ মতবাদকে আরো খানিকটা এগিয়ে নেন এবং ‘ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় উদ্যোগ’ ঘোষণা করেন। উদ্যোগ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত একটি বিধি-ভিত্তিক আঞ্চলিক স্থাপত্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে যেদি মূলত সাতটি স্তম্ভের উপর নির্মিত হবে।

আর সেগুলো হলো- সমুদ্রসীমা সুরক্ষা; সমুদ্র পরিবেশ; সমুদ্র সম্পদ; সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ভাগাভাগি; দুর্যোগ ঝূঁকি কমানো ও মোকাবিলা; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা; বাণিজ্য কানেক্টিভিটি এবং সমুদ্রপথে পরিবহন।

তিনি বলেন, ভারত এই মৌলিক নীতিগুলো ধরে কাজ করেছে। জাহাজ চলাচলে স্বাধীনতা ও সুরক্ষা আরো শক্তিশালি করার চেষ্টা করেছে। যেমন- এডেন উপসাগরে পাইরেসি বিরোধী অভিযান বা শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, যতটা পারা যায় এই অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আমরা প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপাদান সরবরাহ করছি। গত ছয় বছরে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মায়ানমার, মরিশাস এবং সিশেলস-এ উপকূল নজরদারির জন্য রাডার সিস্টেম সরবরাহ করেছে ভারত। এই দেশগুলো ছাড়াও মোজাম্বিক এবং তানজানিয়া ভারতীয় টহল নৌকা ব্যবহার করে।

শ্রিংলা বলেন, আমদের প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচীও বেড়েছে। এগারোটি দেশে পাঠানো হয়েছে ভ্রাম্মমাণ প্রশিক্ষক দল। ভিয়েতনাম থেকে সাউথ আফ্রিকা এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও শ্রিংলংকায় কাজ করেছে তারা।    ‘মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরন’ (এইচএডিআর) ক্ষেত্রেও শুধু সক্ষমতা তৈরি করেনি ভারত, নিজেকে সহজাত এবং স্বভাবজাত বন্ধু হিসবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, এ বছর শুরুতে যখন কোভিড-১৯ হানা দিলো, তখন ভারত তার বন্ধুদেশগুলোকে যতখানি সম্ভব সাহায্য করেছে। কুয়েত, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের অনুরোধে দ্রুত ও তাঃক্ষণিক মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। লকডাউনের মধ্যেও মরিশাস, সিশেলস, মাদাগাস্কার এবং কমোরাসের মতো দ্বীপরাষ্ট্র গুলোর জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রেখেছে ভারত সরকার।

দীর্ঘ বক্তব্যে শিংলা উল্লেখ করেন, ভারত এই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধি এবং সরবরাহ প্রক্রিয়ার উন্নয়নে কাজ করেছে। সব সময় প্রাধান্য দিয়েছে এই অঞ্চলেরর মানুষের প্রয়োজনীয়তা, ন্যায়বিচার, টেকশই পরিবেশ ও সামাজিক বাস্তবতাকে।

তিনি বলেন, আমাদের কোনভাবেই ভুলে যাওয়া উচিৎ না যে এই ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশ উপনিবেশিকতাবাদে ভুগেছে। আমাদের মাঝে তার কিছু দাগ এখনো থেকে গেছে যেটি মুছে ফেলা দরকার। আমরা যখন এগুলো নিয়ে কাজ করছি তখন আমারা এমন কিছু করবা যেটের মাধ্যমে নিজেদের উপর অন্যের নির্ভরশীলতা বা অপরিহার্যতা বা জিম্মি অবস্থা তৈরি না হয়। 

আমাদের এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর হওয়া দরকার। বিশেষ করে এই উদ্বেগগুলো এখন আরো প্রাসঙ্গিক; কারন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল করোনা দুর্যোগকালে বা পরবর্তীতে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক বা স্থিতিশীল এবং বৈচিত্রপূর্ণ রাখতে চায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- জাপান ও অস্ট্রেলিয়ান বন্ধুদের সাথে যেভাবে এই অঞ্চল ‘সাপ্লাই চেইন রেজিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভ’ নিয়ে কাজ করছে।

শ্রিংলা বলেন, ভারত সব অংশীদার দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব তৈরি করেছে। এটি একটি বিস্তৃত সংস্কার, যেটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিম ভারত মহাসাগর হয়ে আফ্রিকার পূর্ব উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত।

ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে তৈরি ‘কোয়াড’ এর মতো বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর নেটওয়ার্কের কার্যকর ভুমিকা তুলে ধরেন শ্রিংলা।

লিখিত বক্তব্যে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সবশেষে বলেন, আশা করি, আমাদের তালিকায় পরবর্তী দেশ হবে যুক্তরাজ্য এবং শিগগির তারা তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল চূড়ান্ত করবে। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি, বৈশিষ্ট এবং ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা দিয়ে তৈরি কৌশল ভারতের নিজস্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী ইন্দো-প্যাসিফিক লক্ষের মতোই হবে।

news24bd.tv কামরুল

পরবর্তী খবর

চরম জনদূর্ভোগেই শুরু হলো রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা

সজল দাস

চরম জনদূর্ভোগেই শুরু হলো করোনার উর্ধ্ব সংক্রমন প্রেক্ষাপটে রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা। বুধবার সকাল থেকেই যানবাহন স্বল্পতাই শত ভোগান্তি সহ্য করে বাড়তি ভাড়া গুণে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন হাজারো যাত্রী। 

গণপরিবহন না পেয়ে কেউ ট্রাকে, কেউ মটর সাইকেলে আবার কেউ ইজিবাইকে চড়েই পাড়ি জমিয়েছেন দীর্ঘ পথ। সেই সাথে সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি, যোগ করে বাড়তি ভোগান্তি।

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকা। গণপরিবহন না পেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষায় হাজারও মানুষ। থেকে থেমে বৃষ্টি যোগ করে বাড়তে থাকে ভোগান্তি।

অফিসগামী মানুষেরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। দূরপাল্লার গণপরিবহনের দেখা না মিললেও মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারের বাড়তি উপস্থিতি ছিল মহাসড়কে।

গণপরিবহন সল্পতার কারণে বাড়তি ভাড়া গুণেই গন্তব্যে যান যাত্রীরা।

একই অবস্থা ছিল গাবতলী, আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর সব প্রবেশমুখগুলোতে। চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনী।

রাজধানীতে দূরপাল্লার গণপরিবহন প্রবেশ বন্ধ থাকলেও চলেছে বাকি সব যানবাহন। বন্ধ ছিল না করোনা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ও।

আরও পড়ুন:


সারাদেশে লকডাউনের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত

বেতন-ভাতা বাড়ানোর আবেদন সরকারি কর্মচারীদের

চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণ, অতঃপর যেভাবে উদ্ধার

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই অশান্তিতে ছিল আবু ত্ব-হা!


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে চট্টগ্রামে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম হ্রদ

ফাতেমা জান্নাত মুমু:

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম হ্রদ। প্রতিদিন সেই হ্রদ থেকে ইস্পাত কারখানা ও স্থানীয় মানুষের পানির চাহিদা মিটছে। কৃত্রিম হ্রদটি তৈরি করেছে ইস্পাত উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ। পরিবেশবিদরা বলছেন, পরিবেশ বাঁচাতে এমন উদ্যোগ বাড়াতে হবে। 

চট্টগ্রামের পাহাড়ি উপজেলা সীতাকুণ্ডে ৫৫ একরের এই হৃদ দু বছর আগে তৈরি করা হয় পাহাড়ের মাঝে বাঁধ দিয়ে। দুবছর ধরে এখানে জমা করা হচ্ছে বৃষ্টির পানি। এর উদ্যোক্তা জিপিএইস ইস্পাত লিমিটেড। কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের স্বউদ্যোগে লেক তৈরির এমন নজির খুব একটা নেই এদেশে।

লেকের পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে ট্যাঙ্কে সংগ্রহ করে পরে শোধন করা হয়। পরিশোধিত পানি থেকে প্রতিদিন ৪০ লাখ লিটার ব্যবহার হয় কারখানার উৎপাদন কাজে।

ভূগর্ভের পানির ওপর চাপ কমিয়ে, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠান ড়তেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান কোম্পানির সিনিয়র ডিজিএম।

পরিবেশবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বলছেন, পরিবেশ বাঁচাতে সব শিল্প উদ্যোক্তাদেরই এগিয়ে আসা উচিত।

সীতাকুণ্ডে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের এই লেক-এর ধারণ ক্ষমতা দেড় মিলিয়ন কিউবিক লিটার। কারখানার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির মানুষও এই লেক থেকে পানি ব্যবহার করে।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ে মরিচের বাম্পার ফলন, দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা

সরকার হায়দার

 

চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ে মরিচের আশানুরূপ উৎপাদন হয়েছে । কৃষকরা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছে না । এ কারণে মরিচের নায্যমূল্যও পাচ্ছে না তারা । এ অবস্থায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে দিশেহারা তারা।

চলতি মৌসূমে বিভিন্ন জাতের মরিচের চাষ করেছেন পঞ্চগড়ের কৃষকরা । গেল বছর নানা রোগের কারণে মরিচের উৎপাদন অর্ধেক হলেও এ বছর ফলন ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন:


বিপদটা এখানেই

ফ্রান্সের কাছে জার্মানির হার

ওমানের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ


কৃষকরা জানান, গেল বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এ বছর বেশি জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন তারা । তবে করোনার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা না আসায় মরিচের বাজারে ধ্বস নেমেছে। এ অবস্থায় লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা তারা ।

সংশ্লিস্টরা বলছেন, আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় মরিচের আশানুরূপ ফলন হয়েছে । এবছর প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদন হবে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবছর পঞ্চগড়ে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

দেশে ফিরলেও পাচার হওয়া নারীরা শিকার হন নানা বঞ্চনার

মাসুদা লাবনী

কপালের জোরে দেশে ফিরতে পারলেও পাচার হওয়া নারীরা ঘরে ফিরে, সন্মুখিন হন বিচিত্র যন্ত্রণার। অনেকেরই জীবন আর স্বাভাবিক হয় না। তবে, তাদের সবচেয়ে ব্যাথা, বিচার না পাওয়া। তবে আইনমন্ত্রী বলেন, নারী পাচার প্রতিরোধে গঠন করা হয়েছে ট্রাইব্যুনাল, এই আইনে পাচারকারীদের জামিন পাওয়া কঠিন। নারী পাচার নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের শেষ পর্বে বিস্তারিত।

দরিদ্র পরিবারের বড় মেয়ে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে সংসারের হাল ধরতে, সামান্য টাকায় পাড়ি জমান বিদেশে।  কিন্ত তাকে বিক্রি করে দেয়, দালালরা।

সেখানে নিযাতন-নিপীড়ন আর মারধরের শিকার হওয়া ছাড়াও বাধ্য করা হয় পতিতাবৃত্তিতে। দুই বছর নির্মম জীবন যাপনের পর, পালাতে গিয়ে ধরা পড়েন, পুলিশের কাছে। দুইমাস জেল খাটার পর, সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ফেরেন, দেশে। তখন তিনি অন্তসত্ত্বা।

জন্ম দেন সন্তানের, বড় হচ্ছে ছোট্ট শিশুটি। বিয়ে করা আর হয়নি, পাননি বিচারও। সংসারে সচ্ছলতা আনতে যে স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভিনদেশে, এখন সবই শুধু দু:স্বপ্ন।

এমন আরেক নারী অভাব অনটনের সংসারে, উপার্জনের জন্য সৌদি আরব যান, দালালের মাধ্যমে। বিক্রি করা হয় তাকেও। পরে, তার স্বামী ভিটে মাটি বিক্রি করে, ফিরিয়ে আনেন দেশে। সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন তার দু:সহ জীবন যাপন।

পাচার হওয়া এমন নারীর করুণ গল্প রয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তাদের ফিরিয়ে আনার পর কোন কোন সংস্থা দাঁড়িয়েছে, পাশে।

বেশিরভাগ নিম্নবৃত্ত পরিবারের নারীরা বিদেশে পাড়ি জমিয়ে, সব হারিয়ে শূণ্য হাতে ফিরে, সমাজের কাছে নিগ্রহের শিকার ছাড়াও, অনেকেই পান না, বিচার।

আইনমন্ত্রী মুঠোফোনে বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা যেনো, সঠিক বিচার পান, সে ব্যবস্থা করেছে সরকার।

বিভিন্ন পথে….বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া এই নারীদের চাওয়া, আর কেউ যেনো, পাচারের শিকার না হন। আর ভুক্তভোগীরা যেন পান, ন্যায় বিচার।

আরও পড়ুন


অভিনব কায়দায় ব্যাংকে চুরি করতে গিয়ে আটক

নারীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করে কবিরাজ, অতঃপর

পাকিস্তানের সংসদে বাজেট অধিবেশনের সময় মারামারি (ভিডিও)

চলমান ‘বিধি নিষেধ’ আরও এক মাস বাড়ল


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

খরচের চেয়ে লাভের পরিমাণ প্রায় ৫ গুণ এই লেবু চাষে

সৈয়দ নোমান

বীজ বিহীন লেবু চাষ বাংলাদেশে নতুন নয়। এতোদিন চায়না সিডলেস লেবু একমাত্র ভরসা হলেও এখন বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিনা-এক জাতের লেবু স্বপ্ন দেখাচ্ছে। খরচের চেয়ে লাভের পরিমাণ প্রায় ৫ গুণ এই লেবুতে। তাই অন্য জাতের চেয়ে দ্রুত এটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে বলে বিশ্বাস গবেষকদের।

পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কাশিয়ারচরে এই বাগানের অবস্থান। পাঁচ একরের লিজ নেয়া এই জমির পুরোটাই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিনা উদ্ভাবিত বিনা-১ জাতের লেবু চাষের ক্ষেত্র। পরীক্ষামূলক এই বাগানে খুটিনাটি বিষয়ে গবেষণা করছেন বিনার গবেষকরা।

আরও পড়ুন:


মোংলা হাসপাতালে ১৫টি বেডসহ করোনা সুরক্ষা সামগ্রী দিল ভারতীয় কোম্পানি

লোকালয়ে হাঁস খেতে গিয়ে ধরা ৮ ফুট অজগর

মাত্র ৫ হাজার টাকা পেয়েই হত্যার মিশনে নামে খুনিরা

ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত ২


বেশ কয়েক বছর গবেষণার পর ২০১৮ সালের শেষে বিনা লেবু-এক জাত চাষাবাদের জন্য নিবন্ধনের অনুমতি দেয় জাতীয় বীজ বোর্ড। লাভ কিছুটা কম হওয়ায় কৃষক পর্যায়ে এতোদিন জনপ্রিয়তা পায়নি নতুন জাত। তবে এখন ভরা মৌসুমে গাছ প্রতি ৩শ লেবু উৎপাদনে সফল হয়েছে বিজ্ঞানীরা।
ময়মনসিংহসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় কৃষক পর্যায়ে চাষ হচ্ছে বিনালেবু। বর্তমান ফলনে কেউ কেউ লাভের মুখও দেখেছেন।

বিনা মহাপরিচালকের দাবি, নতুন জাতে খরচের কয়েকগুণ লাভ হবে চাষিদের। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির চেষ্টা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গবেষণা সংশ্লিষ্টরা জানান, বিনালেবু রোপনের ১০ থেকে ১১ মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। একটি গাছ গড়ে ১৫ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে পারে।

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর