শেখ কামালের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলীর শেষ আকুতি!

শাকিলা ইসলাম জুঁই সাতক্ষীরা :

শেখ কামালের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলীর শেষ আকুতি!

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জেষ্টপুত্র শেখ কামালের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আরশাদ আলীর আকুতি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করতে চান। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরের আওতায় নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন পাকহানাদার বাহিনীর সাথে। 

এ সময় শেখ কামালের সাথে ট্রেনিং করেছেন ভারতের বিহারে। তিনি শেখ কামালকে ভাই বলে ডাকতেন। শেখ কামালের সাথে যুদ্ধকালিন সময়ের অনেক স্মৃতি আজও তার হৃদয়ে ঝলমলিয়ে উঠে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জাতীর শ্রেষ্ট সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার আকুল ইচ্ছা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আরশাদ আলীর।  

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত জয়নুদ্দিন মোড়লের ছেলে আরশাদ আলী। তিনি ৩৩ বছর বয়সে নিজ ভিটা মাটি ছেড়ে দেশের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সার্টিফিকেট ও দালিলিক কিছু কাগজ পত্র তুলে ধরেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের কাছে। এ সময় তিনি ইতিহাসের গৌরব গাঁথা কিছু কাহিনীও তুলে ধরেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলী জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি গোপালগঞ্জ সাবডিবিশন উড়াকান্দি গ্রামের ঠাকুরবাড়ী থেকে শেখ কামালকে সাথে নিয়ে অনেক বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসেন এবং দেবহাটায় রাত্রি যাপন করেন। পরদিন সকালে ভারতের কলকাতা পাকসার্কাস বাংলাদেশ মিশন হয়ে বিহারে গিয়ে ট্রেনিং করেন।

সেখানে ৩ মাসের জন্য ট্রেনিং অংশ নেয় শেখ কামাল। আর মাত্র ১৪ দিনের ট্রেনিং নিয়ে ভারতের টাকি হয়ে দেশে ফিরে ৯ নম্বর সেক্টরের অধিনে যুদ্ধ করেন। এ সময় তার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল। তিনি ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা, লেফটেন্যান্ট শচিন সহ আরও অনেক কমান্ডারের সাথে দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনিতে বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্থান সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন। নিজ চোখের সামনে অনেক সহযোদ্ধাকে প্রাণ হারাতে দেখেন মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলী। 

এদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা সেইসব ইতিহাস বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি নিজ বাড়ীর পাশ্বে অবস্থিত একটি অরক্ষিত বধ্যভূমির চিত্র দেখান। যেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময় ১৪ জনকে ধরে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। সেই অরক্ষিত বধ্যভূমিটি সংরক্ষনের দাবিও জানান প্রবীণ এই মুক্তিযোদ্ধা। 

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ভূলতে পারেননি প্রিয় সহযোদ্ধা, দেশ নায়কের উত্তরসুরি শেখ কামালের কথা। তাইত তিনি জীবনের অন্তিম বেলায় একটি বার হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা, শেখ কামালের বোন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে কথা বলে মনের অক্ষেপ মেটাতে চান। এর আগে মুক্তিযোদ্ধা মো. আরশাদ আলী তিন তিন বার চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধুর উত্তরসুরি সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

মন্তব্য