‘বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলবেন আমরা কি আপনাদের চুমো দেব?’

অনলাইন ডেস্ক

প্রিন্ট করুন printer
‘বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলবেন আমরা কি আপনাদের চুমো দেব?’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা উচ্ছেদের হুমকির প্রতিবাদে  ‘মহাসমাবেশ’ করেছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ’৭১।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শ্যামপুরের ধোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিলেন শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ ( বাংলাদেশ শাখা)।

এত প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী  আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এম.পি, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক।

আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল রোজারিও, আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক  আফজালুর রহমান বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল প্রমুখ।

গৌরব ৭১ এর সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীনের সঞ্চালনায় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী  আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধীতা কখনো সহ্য করা হবে না। বঙ্গবন্ধুর দেশে তার ভাস্কর্য হবেই, এতে কোনো সন্দেহ নাই।

‘এ উপমহাদেশে আলেমধারী কিছু ভণ্ড আছে। যারা একসময় ইংরেজি ভাষাকে হারাম বলে মুসলমানদের পিছিয়ে দিলেন। একাত্তরেও কিছু ভাড়াটিয়া আলেম ফতোয়া দিল পাকিস্তান ভাঙলে ইসলাম ভেঙে যাবে। আজকে আবার ফতোয়া দেওয়া হলো, ভাস্কর্য নাজায়েয।’

তিনি বলেন, ‘আমি বাবুনগরীদের কাছে বিনয়ের সাথে প্রশ্ন রাখতে রাখতে চাই, আপনারা আগের ফতোয়াবাজধারীদের মতো। আমার ধারণা আপনারা তাদেরই উত্তরসূরী। আপনারা ধর্মকে সামাজিক কাজের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চান। ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রাম্ত করতে চান।’

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা একাত্তরে অস্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ট্রেনিং জমা দেয় নাই।

আপনারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলবেন আমরা কি আপনাদের চুমো দেব?

‘আরে ভাস্কর্য তো আপনাদের শানের পাকিস্তানেও আছে। অধিকাংশ মুসলিম দেশে ভাস্কর্য আছে। আমি হালাল-হারামের কথায় বাদই দিলাম। আমার প্রশ্ন, সব মুসলিম দেশে যদি ভাস্কর্য থেকে থাকে তাহলে বাংলাদেশে থাকতে দোষ কী?’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, এদেশে থাকতে হলে বঙ্গবন্ধুকে মেনে থাকতে হবে। তার ভাস্কর্য এদেশের মোড়ে মোড়ে হবে। এটা তোমাদের মেনে নিতে হবে।

তিনি বলেন, তোমরা বলেছো বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য  বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিবা। কিন্তু সে কাজ করতে আসলে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ তোমাদের বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক  আফজালুর রহমান বাবু বলেন, শকুনরা আবার জেগে উঠেছে। তারা আবার জাতীয় পতাকাকে আঘাত করতে চায়। আর বসে থাকার সময় নাই। এখনই প্রতিবাদের ঝড় বইয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন,বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে জাতীয় পতাকা। কাজেই বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না।

তিনি আরো বলেন, মামুনুল হককে সারাদেশের কোথাও নামতে দেবো না। যেখানে পাবো সেখানে তাকে প্রতিহত করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, একাত্তরের বিরোধিতাকারীরা, পঁচাত্তরের ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীতা করছে।  এ প্রেক্ষিতে গৌরব’ ৭১ প্রতিবাদী এই মহাসমাবেশ আয়োজন করেছে। আমরা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এতে সংহতি প্রকাশ করছি। একইসাথে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে তার ভাস্কর্য হবেই,হবে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে একত্রিত হয়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে প্রতিহত হবে।

ব্যরিষ্টার তুরিন আফরোজ বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে আপোষ হবে না। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের পতাকা। ইসলাম, কুরআন মৌলবাদীদের  পৈতৃক সম্পত্তি  নয়। আমরা ও ইসলাম জানি,কুরআন আমরাও পড়ি। শরীয়তের প্রশ্ন তুলবেন না, শরীয়ত আমরাও জানি। যারা স্বপ্ন দেখছেন বঙ্গবন্ধুর দেশে ইসলামি শাসন কায়েম করবেন, তাদের আশায় গুড়েবালি। ধর্ম নিরপেক্ষতা পরিবর্তন সম্ভব না। বঙ্গবন্ধুর দেশে তার ভাস্কর্যে হাত দিলে হাত ভেঙে দেয়া হবে হুঁশিয়ার দেন তিনি।

অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম বলেন, ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে আজকে যারা বিরোধিতা করেছে তারা একাত্তরেও এদেশের বিরোধিতা করেছে। তারা কখনো এদেশকে মেনে নিতে পারেনি। কারো বিরোধিতায় কিচ্ছু হবে না। বঙ্গবন্ধুর দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবেই, হবে ইনশাআল্লাহ। যারা বঙ্গবন্ধুকে করাক্ষ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, যারা একাত্তরে বাংলাদেশ চায়নি, সেই জামায়াত-বিএনপি আজকেও এদেশকে নিয়ে চক্রান্ত করছে। পাকিস্তানর দোসররা এদেশকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতা করবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। বাংলাদেশের মাটিতে কোন অপশক্তি থাকতে দেবো না।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে থেকে যারা পাকিস্তানি চিন্তা করেন, তারাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীতা করছেন। অসাম্প্রদায়িক এদেশে তাদের প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হবে।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য