রোহিঙ্গা ও ভাসানচর প্রসঙ্গ:

আপনার উদ্বেগের সঙ্গে সুর মেলাতে পারছি না

মোজ্জাম্মেল হোসেন মঞ্জু

আপনার উদ্বেগের সঙ্গে সুর মেলাতে পারছি না

বন্ধুবর সাংবাদিক-কলামিস্ট কামাল আহমেদ রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মহলের উষ্মা প্রসঙ্গে একটি পোস্ট দিয়েছেন। শুরুতে লিখেছেন, “উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যতটা প্রশংসা কুড়ালো, তা এত অল্পতেই জলাঞ্জলি দেওয়ার ঘটনায় কি বাহবা দেওয়া উচিত? না নিন্দা?...” (লিঙ্ক প্রথম মন্তব্যের ঘরে) রিপ্লাই অপশনে লিখতে গিয়ে দেখি অল্প শব্দে বলতে পারছি না। একটু আলোচনা প্রয়োজন। তাই তাঁর রেফারেন্সে পৃথক পোস্ট দিলাম। 

আমার জবাব: কামাল ভাই, আপনার উদ্বেগের সঙ্গে সুর মেলাতে পারছি না। 

১. আন্তর্জাতিক মহলের প্রশংসায় আমাদের পেট ভরবে না। রোহিঙ্গারা কোথায় থাকবে, কী খাবে, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোথায় হাগবে সে দুশ্চিন্তা না করে তাদের উচিত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সাহায্য করা অর্থাৎ চাপ দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কার্যকর এনগেজমেন্টে থাকা। হ্যাঁ, মানবিক সাহায্য আমরা নেব এবং নিতেই হবে। তবে সংবাদমাধ্যম তদন্ত করে আমাদের জানাক যে, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার কত ডলার ব্যয় করেছে, আর শরণার্থী বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মহল কত দিয়েছে। কক্সবাজারের বন উজাড়সহ পরিবেশ ক্ষয়ের আর্থিক মূল্যও যোগ করতে পারেন।

২. দশ লাখ ও এক লাখ সম্পর্কে বলতে হয়, বালতি যখন ভর্তি হয়ে উপচে পড়ছে তখন এক ঘটি পানি সরানোরও দরকার আছে। কক্সবাজারের স্থানীয় নাগরিকদের চেয়েও শরণার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। এই প্রকল্প সফল হলে আরও অন্য জায়গায় কিছু কিছু শরণার্থী সরানো যাবে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো গেলে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয়ের অবকাঠামো কাজে লাগবে না? দ্বীপটা তো জনশূন্য থাকবে না। দেশে কত ভূমিহীন নিঃস্ব মানুষ আছে যাদের পুনর্বাসন করা যাবে। শরণার্থী ব্যবস্থাপনার ব্যয় দীর্ঘস্থায়ী লাভের বাণিজ্যিক প্রকল্পের মতো নিশ্চয়ই দেখা হয় না।

৩. জাতিসংঘের গোস্বা ভাসানচর প্রকল্পে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। তারা যদি প্রথম থেকে নেতিবাচক থাকে তাহলে সম্পৃক্ত না-ও হতে পারে। তাদের রাজি করাতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমরা জাতিসংঘের অংশ, জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করতেই চাই। তবে বাংলাদেশ যদি বিশ্বব্যাঙ্ককে ছাড়া পদ্মাসেতু করতে পারে তবে জাতিসংঘকে ছাড়া ভাসানচরও করতে পারে-- একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতির সেটা দেখানো ভালো। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা ভাসানচর দেখতে চাইলে সরকার নিশ্চয়ই আপত্তি করবে না। দেখে আসুন।

৪. আমাদের মিডিয়ার খবর ও ছবির সঙ্গে বিদেশী মিডিয়ার খবর-ছবির মিল নেই বলছেন। খবর পরিবেশনে অ্যাঙ্গেল বা দৃষ্টিকোণের পার্থক্য তো থাকেই। তবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে চাইলে তা পাওয়া যায়। সন্দেহ হলে যেয়ে দেখে আসাই সমাধান।
কামাল ভাই, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে আপনার-আমার নীতিনিষ্ঠতার ভবিষ্যৎ কী জানি না। সংবাদমাধ্যম বিষয়ক যাবতীয় জ্ঞান ও স্বাধীনতা চর্চার অন্যতম সেরা দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কী শুরু হয়েছে, ‘ফেক নিউজ’ কে বলে আর কে কতভাবে করে, ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সের তেলেসমাতি তো সে-দেশের প্রেসিডেন্টের মদদেই হচ্ছে। পশ্চিমা সভ্যতাকে আদর্শ জ্ঞান করার দিন চলে যাচ্ছে।

৫. প্রশ্ন তুলেছেন, ভাসানচর প্রকল্পে আসলে কারা লাভবান হচ্ছে? ইঙ্গিত স্পষ্ট। চেটেপুটে খাওয়ার উদ্দেশ্যমূলক প্রকল্পের নজির তো আছে। তবে উড়ো সন্দেহের কথা না বলে মিডিয়া অনুসন্ধান করা ভালো। কারণ ফেসবুকের যুগে ঐ কথা ধরে রাজনৈতিক উড়ো মন্তব্য চলতে থাকে।

৬. আপনি পশ্চিমা মিডিয়ার ‘আইল্যান্ড প্রিজন’ শব্দটা উল্লেখ করেছেন। এ যুগে কোনো দ্বীপ বিচ্ছিন্ন থাকে? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে, তাদের আমন্ত্রণ করে যে প্রকল্প হচ্ছে তাকে দ্বীপ-কারাগার বলা কি শোভন? আমরা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অস্ট্রেলিয়ার নউরু দ্বীপে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের অমানবিক পরিবেশে ফেলে রাখা নিয়ে আন্তর্জাতিক হৈ-চৈয়ের কথা জানি। ভাসানচর নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আপত্তি বেশি। সমুদ্র ঝাপিয়ে আসা উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের কোনো কোনো দেশ কী আচরণ করেছে? রোহিঙ্গারা কি সে-রকম আচরণ পেয়েছে? অবশেষে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অবশ্য কম-বেশি শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে।

৭. দেশে দেশে শরণার্থী ও মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনাগুলোয় কূটনৈতিক দিক বাদে মানবিক বিষয়ে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিদ্ধান্ত নেয় মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কর্মর্তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে। জাতিসংঘের আমলাতন্ত্র সম্পর্কে অনেক কথা আছে। এই কর্মকর্তারা সাধারণত দুর্গম জায়গায় কষ্ট করে না গিয়ে সুবিধায় থেকে কাজ সারতে চান। আন্তর্জাতিক আমলা ও কিছু এনজিও কর্মকর্তাও চাইবেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচতারা মানের হোটেলে থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে কাজ তদারক করে আসতে। স্বেচ্ছাসেবকদের যাতায়াতেরও প্রশ্ন আছে। তাই তাঁরা ভাসানচর পছন্দ করবেন না।

৮. কামালভাই আপনি আরেকটি পোস্টে এই প্রশ্ন তুলেছেন যে, কারিতাস ও গণস্বাস্থ্য ছাড়া কোনো পরিচিত নামের এনজিও ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের কাজে যুক্ত হয়নি, অথচ ২০টির মতো অজ্ঞাত-অখ্যাত এনজিও কাজ করছে। আপনি ‘রাতের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হওয়া’র রাজনৈতিকভাবে তুলনাও টেনেছেন। আমার প্রশ্ন, মাত্র এক লক্ষ রোহিঙ্গার জন্য বড় এনজিওগুলোর যাওয়ার দরকার কি, যেখানে স্পর্শকাতর বিধায় সরকার নৌ-বাহিনী দিয়ে যথেষ্ট যত্নের সঙ্গে কাজ চালাচ্ছে? অজ্ঞাত-অখ্যাত এনজিও কি কাজ করবে না? বড় যে দেশি এনজিওগুলো উখিয়া-টেকনাফ-কুতুপালং-কক্সবাজারে কাজ করছে তারা ভাসানচরের বিরোধিতা করেনি। জাতিসংঘ এজেন্সি, অ্যামনেস্টি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং থাইল্যান্ডের ফর্টিফাই রাইটসের মতো বিদেশি এনজিও বিরোধিতা করেছে। এই সংগঠনগুলো এবং বার্তা সংস্থা রয়টারের তোলা দ্বীপের বাসযোগ্যতা, নিরাপত্তা, জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা প্রভৃতি প্রশ্নগুলোর সমাধান করা হয়েছে বলে আমরা খবরে দেখতে পাচ্ছি। প্রথম দফায় যারা গেছে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করেও নেওয়া হয়নি। এখন আপত্তি কেন? আন্তর্জাতিক মহলের পিঠ চাপড়ানি প্রশংসার দিকে তাকিয়ে আমরা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট মোকাবেলা করতে পারবো না। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কঠিন সমস্যাসহ আমাদের ছোট কাঁধে বিশাল বোঝার বাস্তবতা আন্তর্জাতিক মহলকে উপলব্ধি করতে হবে।

আরও পড়ুন:


সিটিভির ফুটেজে ধরা পড়ল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সেই ঘটনা

ভারতের তৈরি টিকা নিয়ে করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!


news24bd.tv কামরুল

 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের মতো আর কিছু নাই

রাখী নাহিদ, নিউইয়র্ক

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের মতো আর কিছু নাই

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের কাছে পৃথিবীর সকল আনন্দ নস্যি। এর মত মজা দুনিয়ায় আর কিছু নাই। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য আমাদের কোন কাজে লাগেনা তবুও আমরা আড়ি পেতে সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের কথা শুনতেও পছন্দ করি। 

আর আমি মনে করি মানুষকে আনন্দ দেয়ার মত পুণ্যের কাজ আর কিছু নাই। তাই আমার ব্যাপারে আজকে কিছু নতুন FAQ এর আন্সার। 
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- দুলাভাই কেমন আছে ? উনার অনুভূতি কি ? - দুলাভাই এর স্ত্রী বিদেশ। উনি সামান্য খারাপ থাকবেন এটাই স্বাভাবিক তবে উনার সাথে আমার দিনে ঊনচল্লিশ বার কথা হয়।

উনার সাথে আমার সামান্য টানাপোড়েন আছে যা পৃথিবীর তাবৎ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দাম্পত্যে থাকে। এটা খুব স্বাভাবিক। আর সুযোগ থাকলে টানাপোড়েন না বাড়িয়ে মানুষের উচিত সামান্য ভৌগলিক দূরত্ব বাড়ানো। কারন কখনো কখনো ফিজিক্যাল প্রেজেন্স মেন্টাল ডিস্ট্যান্স আরো বাড়িয়ে দেয় কিন্তু সাময়িক দূরত্ব মানুষকে আবার কাছে আনে।

তবে আমার এই অন্তর্ধান এর পেছনে দুলাভাই এর ভূমিকা সামান্যই। আমিই এর মূল কারন। আমি মনে করি দুলাভাই এর স্ত্রী এবং পুত্রদের মাতা হওয়া ছাড়াও আমার একটা পরিচয় আছে, স্বাতন্ত্র্য আছে। আমার একটা আমি আছে। সেই আমিটা যেমন সংসারী ঠিক তেমনই  বৈরাগী। 

সেই সংসারী আমি চোখ বেঁধে সংসার করেছি একুশ বছর। আমার জীবনের অর্ধেকের বেশী। তারপর বছর খানেক আগে হঠাত বৈরাগী আমি মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। 

সত্য কথা হল, সেই শিশু বয়সে বিয়ে, তারপর সন্তান, সংসার, বাজার, রান্না এই এক রুটিনে চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম।যে বয়সে মানুষ বন্ধুদের সাথে হই হুল্লোড় করে, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবে, সেই বয়সে আমি কোলে দুই কোলে দুই বাচ্চা নিয়ে নাক মুখ গুজে সংসার করেছি।১৮ বছরের পর থেকে আমার নিজের কোন জীবন নাই।


রাজধানীতে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ

সৌদি যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহবান জাতিসংঘের

ইরানের সঙ্গে আইএইএ’র সম্পর্ক নষ্টের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র

সুইপার থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক


কোন পার্থিব জিনিসের অভাব ছিল না। But some very important elements had been missing. সারাক্ষণ কি যেন নাই কি যেন নাই অনুভূতি।পরে খুঁজে বের করলাম আমার আসলে কাজ নাই। 

সারাক্ষণ মনে হত এই যে মহামূল্যবান জীবনটা আল্লাহ দিলেন এইটার তো কোন সদ্ব্যবহার করা হল না।সামান্য লেখালেখির অভ্যাস সেই ঘা এ কিছুটা মলমের কাজ করছিলো।কিন্তু তবুও আমি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। 

I was tired of the being secured , I was tired of being protected. I was tired of being so sure of everything around me. 
আমি সেই সোনার খাঁচার বাইরে বের হয়ে জগতটাকে দেখতে চাইলাম। নিজের এবিলিটি পরখ করতে চাইলাম। দেখতে চাইলাম সারাজীবন পুরুষের কাঁধে ভর দিয়ে চলা একজন নারী একা সারভাইব করতে পারে কি না।

তারপর আর কি? Veni, Vidi, Vici অর্থাৎ এলাম দেখলাম এবং জয় করলাম। শারীরিক কষ্টে অনভ্যস্ত আমি সাতদিন সাতদিন কাজ করি এখন। শরীরে হাতুড়ি পেটা টাইপ ব্যথা নিয়ে ঘরে ঢুকি, পরেরদিন আবার যাই। জানি একদিন এই কষ্ট সয়ে যাবে। সবারই যায়। 

এই ভিন দেশে এসে পিজা বেচবো, ট্র্যাভেল এজেন্সিতে টিকেট বুকিং দিবো এমনও কোন টার্গেট না। সাতদিন কষ্ট করতে হবে এরও কোন কারন নাই।প্রথমে কাজ পাচ্ছিলাম না এখন ছাড়তে পারছি না। 

আর স্বামী সন্তান রেখে আরেক দেশে এসে ডলার ইনকাম করে খুব মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলছি তাও না। কিন্তু মনে হয় আরেকবার সুযোগ পেলে আমি দারুণ কিছু করব, আরেকবার আমাকে বড় হতে দিলে আমি আমার সমস্ত মেধাকে কাজে লাগাবো, আরেকবার সুযোগ পেলে আমি সৃষ্টিকর্তাকে বলতে পারবো আমি আমার মহামূল্যবান জীবনের সৎ ব্যবহার করেছি।এমনি এমনি নষ্ট করি নি। 

আমি আবার আঠারো বছর বয়স থেকে শুরু করতে চাই, অনেক পড়তে চাই, অনেক কাজ করতে চাই, বিশ্বজয় করতে চাই। আমি সদ্য কিশোরীর মত চিৎকার করে বলতে চাই-
Give me some sunshine. Give me some rain. 
Give me another chance, I will grow up once again....

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে

শওগাত আলী সাগর

পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে

শওগাত আলী সাগর

১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অনেকেই আছেন, যাদের বক্তব্যে নতুন চিন্তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক কিছুকেই নতুন করে, নতুন অ্যাঙ্গেলে দেখার একটা  আগ্রহ তৈরি করে। এঁদের আমি মনোযোগের সাথে অনুসরণ করি, কখনো কখনো অনুকরণও করি। 

ভার্চুয়াল কিংবা রিয়েল, সবক্ষেত্রেই আমার মনোযোগ থাকে নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু শেখা।যার সঙ্গ আমাকে নতুন কিছু শেখায় না, নিদেনপক্ষে আনন্দ দেয় না- সেই সঙ্গ আমাকে বেশিক্ষণ টানতে পারে না।

২. ফেসবুক নিয়ে মুশফিক ওয়াদুদ একটা পোষ্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার একটা হাইপোথিসিস হচ্ছে, স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না। বরং উপকার করে। উপকার করে এ অর্থে  যে, মানুষের ক্ষোভের ভেন্টিলেশন হয় এবং তারপর এই ক্ষোভ কিছুদিন পর হারিয়ে যায়।”

তার পরপরই মুরাদুল ইসলাম তার নিজের একটি পোষ্টে লিখেছেন, যখন ফেসবুকে কেউ কোন বিষয়ে মত দেন, তার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা অনেকে এই বিষয়ে সেকন্ড থট দেন। এভাবে, মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মাণ হয়।কোন সমাজের ন্যারেটিভ বাজে হইলে বুঝতে হবে, এই সমাজে বাজে লোক বেশি এটাই না, এই সমাজে ন্যায় ন্যারেটিভে কথা বলার মত অল্প লোকও নাই “

মুশফিক এবং মুরাদুলকে আমি ফেসবুকে নিবিড়ভাবে ফলো করি। মুরাদুলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো বেশ কয়েক বছর আগে তার অণুগল্প পড়ে। মুশফিকের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার ফেসবুকের পোষ্ট  পড়ে। এদের দুজনের কেউই আমার চিন্তার শতভাগ সমর্থক কিংবা আমি তাদের চিন্তার সমর্থক- বিষয়টা এমন না। কিন্তু এদের চিন্তার স্টাইল এবং দেখার চোখটা আমার পছন্দ।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক নিয়ে সারা দুনিয়ায় এখন বড় বড় গবেষণা হচ্ছে। এসব নিয়ে পশ্চিমের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পন্ডিতদের লেখা বইয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর সেল্ফ ঠাসা। ফেসবুক এখন কেবল নিজের বক্তব্য দেয়ার প্লাটফরমই না,  ফেসবুক এখন পড়াশোনার, জ্ঞানার্জনের একটি সাবজেক্টও।


দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

বিরোধীতার রকমফের

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?


৪. মুশফিকের  ‘স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না’ এবং মুরাদুলের ‘মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মান হয়’- এই দুটি বক্তব্য নিয়েই আলোচনার সুযোগ আছে। আমি নিজে মনে করি, এগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকারও।

একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া আমরা আসলে কিভাবে ব্যবহার করছি- সেই আলোচনাও প্রয়োজনীয়। ব্যক্তিজীবনে আপনার বাড়ীঘর, বাড়ীর্ চারপাশ এবং আপনার মেলামেশা বা আত্মীয়তা করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, ভার্চুয়াল জগতকে সাজানোর ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার বলে আমার নিজের মনে হয়। 

৫. সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে মুশফিক এবং মুরাদুলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার নিজের কিছু বক্তব্য আছে। সেগুলো আলাদাভাবে কখনো বলা যাবে। আপাতত সাংবাদিকতায় আমার প্রথম সম্পাদক আলম রায়হানের একটা কথা এখানে উল্লেখ করি। 

সাংবাদিকতায় প্রথম কর্মস্থল ‘সাপ্তাহিক সুগন্ধা’র সম্পাদক ছিলেন আলম রায়হান। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন, ‘শুনেন, পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে। কারো লেখা যদি তার নিজের ভাবনার সাথে, চিন্তার সাথে মিলে যায়- তা হলে সেই লেখক, সাংবাদিককেও সে জ্ঞানী লোক মনে করে। নিজের চিন্তার বিপরীত হলে তাকে নানা উপাধীতে ভূষিত করে গালাগালি করে।’

আলম রায়হানের এই কথাটাই আজকাল সবচেয়ে সত্য বলে আমার কাছে মনে হয়।বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

আব্দুন নূর তুষার

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

আব্দুন নূর তুষার

বিসিএস দেশের সেরা মেধাবীদের বেছে নেয়ার পরীক্ষা। সেখানে কলাম্বিয়ার শহর Cartagena এর নাম বাংলায় লিখেছে কার্টাগেনা। ভাইরে এটার উচ্চারণ হবে কার্টাহেনা। 

কার্টাহেনা। Proper Noun যেভাবে উচ্চারিত হয় সেভাবেই লিখতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় অ্যালান গিন্সবার্গের কবিতার নাম লিখেছে September on The Jessore Road.

এই The আমদানী হলো কি করে? কবিতাটার নাম September on Jessore Road. 

ড. জিভাগো এর সঠিক বানান হলো Zhivago আর লেখকের নাম Pasternak. দুটো বানানই ভুল লেখা হয়েছে।

উপন্যাসকে নভেল বলার মধ্যে কি নভেলটি (Novelty) সেটা বুঝতে পারি নাই। মার্কিন তালিবান চুক্তির তারিখ কত এটা কি মনে রাখার জিনিষ? এটা কি পৃথিবীর ইতিহাসের কোন তাৎপর্যপূর্ণ তারিখ?

মোবাইল ফোনের বিল নিয়ে একটা অংক দিয়েছে। সবগুলি উত্তর ভুল। ৪২০ টাকার মোবাইল বিল বারোমাস/ একবছর পরে ১০% বাড়লে,১৩ তম মাসে এটা হবে । ৪২০ + ৪২ = ৪৬২ টাকা।

৬ মাস পরে এটা আরো ২০% বাড়লে এটা ১৮ মাস পরে কত হবে?


স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

রমজান মাসেও খুলা থাকবে স্কুল-কলেজ: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আগুন


৬ মাস পরে এটা যদি বাড়ে তবে বিল হবে ১৯ তম মাসে। তাই ৬ মাস পরে ২০% বাড়লেও বিল কিন্তু ১২+৬ =  ১৮ মাস শেষ হলে ৪৬২ টাকাই থাকবে। ১৯ তম মাসে এটা হবে ৪৬২+৪৬.২০  =  ৫০৮.২০

১৯ তম মাসে তো বিল কত জানতে চায় নাই। ১৮ মাস শেষ হবার পরে বিল ২০% বাড়বে। উত্তর হওয়া উচিত ৪৬২ টাকা। কিন্তু অপশন আছে ৪৬০.২০/৫৫৪.৪০/৬২০.৬০/৭৩০.৮০.

হয়তো এগুলোর মধ্যে একটা ঠিক। আমি অংকে খুবই কাঁচা। তাই এই উত্তরগুলির ব্যাখ্যা কি সেটা জানার বড় ইচ্ছা। এরকম আরো কিছু বিষয় আছে যা দেখে মনে হয়েছে বিসিএস এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে।

এই সব প্রশ্ন কেউ মডারেট বা তদারক করে কি?

আব্দুন নূর তুষার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিরোধীতার রকমফের

আশরাফুল আলম খোকন

বিরোধীতার রকমফের

কেউ যদি এজেন্ডা নিয়ে কারো বিরোধিতা করে তার সাথে যুদ্ধটা নৈতিকতার মানদন্ডে বিচার করা যাবে না। এই এজেন্ডাবাজরা রাষ্ট্র ও সমাজের শত্রু। তারা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে দেশ বিরোধী অপকর্মে লিপ্ত হয়। এটাই তাদের পেশা, রুটি রুজির পথ। কিন্তু কেউ যদি আদর্শগত কারণে বিরোধিতা করেন তার সাথে যুদ্ধটা আদর্শিকই হওয়া উচিত। আদর্শিক যুদ্ধের মধ্যে দিয়েই রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে। সমাজ আরও বেশি শিক্ষিত হবে। 

আবার আরেকগ্ৰুপ আছেন, যারা “সবসময় সব সরকার”এর দোষত্রুটি তুলে ধরেন। তাদের অবস্থা দেখলে মনে হবে তারা বিরোধী পক্ষের চেয়েও কট্টর। খুব শক্তভাবে কথা বলেন কারণ তাদের নৈতিকতার ভিত্তিটা অনেক শক্ত। তারা বিরোধিতা করেন আবার সরকারের ভালো কাজের পক্ষেও কথা বলেন। যা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেউ বিপথে গেলে তারা সেখানে একটা ঝাকুনি দিয়ে সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করেন। তাদেরকে রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই দরকার। 

দেশের সবাই আপনার আমার পক্ষের হবে না। কারণ সবাই একই আদর্শের মানুষ না। বিপক্ষ গ্ৰুপ থাকবেই। এখন কে কোন কারণে বিরোধীতা করেন তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সবার ক্ষেত্রে একরকমের প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত নয়।


স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

রমজান মাসেও খুলা থাকবে স্কুল-কলেজ: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আগুন


লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খুঁজে বের করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মজার বিষয় হচ্ছে, যারা জেল খানায় জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের সমর্থনে কথা বলেন এবং হত্যাকারীদের আদর্শকে লালন করেন তারাও এখন সোচ্চার।

(ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

শরিফুল হাসান

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন ২৪ মে খুলবে? 

ছোট বাচ্চাদের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের বোধ কী কম? আর উচ্চমাধ্যমিক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম-দ্বিতীয় বর্ষের ছেলেমেয়েদের বয়সের পার্থক্য তো ১-২ বছর। কলেজ খুললে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে সমস্যা কোথায়?


চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

চুয়াডাঙ্গায় নারীর রহস্যজন মৃত্যু, শাশুড়ি আটক

অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ট্রাকের চাপে বেইলী ব্রিজ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ, স্ত্রীকে খুন


কাজেই স্কুল-কলেজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ৩০ মার্চ খোলার দাবি জানাচ্ছি। অন্তত হলগুলো খোলা যেতে পারে। ক্লাস দরকার হলে পরে খোলা হোক। আমার বিশ্বাস ক্লাস ১৭ মে থেকে যদি হয়, হল যদি এর আগেও খুলে দেয়া হয় অধিকাংশ ছেলেমেয়ে হলে আসবে না, গাদাগাদিও হবে না হলে। কিন্তু যাদের থাকার কোন জায়গা নেই, ঢাকায় টিউশনি করে চলতে হয়, হল খুলে দিলে তাদের অন্তত থাকার জায়গাটা হবে। এই বিবেচনাতেও হল খুলে দেয়া উচিত।

(ফেসবুক থেকে)

লেখক: শরিফুল হাসান, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর