৯০ এর গণআন্দোলনের তিনদশক, ছাত্রঐক্যের ১০ দফা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

মঞ্জুরে খোদা টরিক

৯০ এর গণআন্দোলনের তিনদশক, ছাত্রঐক্যের ১০ দফা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

তারুণ্যের একটা ভাষা আছে। কিন্তু সেই ভাষা ও মাত্রাও সব তারুণ্য ধারন করে না। আমাকে-আমাদের করেছিল। সেই তারুণ্য সন্ধি ও আত্মসমর্পনের ছিল না, ছিল আপোষহীন ও বেপরোয়া। ছিল দারুণ দূর্বার, তুমুল তুখোর! চোখে আগুন, বুকে বারুদ আর মুঠে ছিল প্রচন্ড ঘৃনা ও প্রতিবাদ। যে স্পর্দ্ধিত তারুণ্য লড়েছিল নিরস্ত্র, এক বিশ্ব ব্যহায়া সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে! সে এক রক্ত হিম করা গল্প! তিনদশক পার হলো যে গল্পের! সেকি কেবলি গল্প নাকি এক দুস্বপ্নের রুপকথা?

ভূমিকা
আজ থেকে ৩০ বছর আগে তৎকালীন স্বৈরাচারী সামরিকজান্তা এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সারে ৯ বছর আন্দোলনের পর তার পতন ও বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছিল। সেই গণআন্দোলনে প্রায় ৩৭০ জন মানুষ নিহত হয়েছিল, পঙ্গু ও গুম হয়েছিল অসংখ্য মানুষ। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায় মিলে হরতাল হলেছিল ৩২৮ দিন, প্রায় ১ বছর! অবরোধ হয়েছিল প্রায় ৭০ দিন। জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট ও আর্থিক ক্ষতিও হয়েছিল অনেক। যে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার উপরে। সেই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আমরা কি অর্জন করলাম? সব আন্দোলনের একটি চেতনা ও অঙ্গীকারের দিক থাকে। ৯০’র গণআন্দোলনেরও ছিল। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শাসনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র, ঘুষ-দূর্ণীতি বন্ধ, আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন ইত্যাদি। সে আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ১০ দফা, তিনজোটের রুপরেখা ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায় ও গণদাবীতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের ৬ ও ১১ দফার মতই বিষয়টি কাজ করে। সে আকাঙ্খার কতটুকু অর্জিত হলো, সে বিশ্লেষনই এ প্রবন্ধের মূল আলাপ।

ক্ষমতা দখলের খেলা
১৯৮২ সালের ২৪ শে মার্চ তৎকালীন সামরিক বাহিনীর প্রধান হোসাইন মোহাম্মাদ এরশাদ বন্দুকের নলে সে সময়ের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। ক্ষমতা দখল করেই সামরিক ফরমান “এমএলআর ৮২” জারি করেন। এতে যে কোন ভাবে সামরিক শাসনের বিরোধিতা করলে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়। আর এই তথাকথিত কালো আইনের অধীনে হাজার-হাজার নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষকে গ্রেফতার হয়। ক্ষমতা দখল করেই সামরিক শাসকরা যা বলে সুন্দর সুন্দর কথা, তিনিও তাই বলেছিলেন, কিন্তু তিনিও তার কথা রাখেননি। শুরু করেন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া। দল গঠন, নির্বাচন, প্রতিশ্রুতি আর উন্নয়নের ফুলঝুরির আড়ালে চলতে থাকে দূর্ণীতি, লুটপাট। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একে একে রাবার স্ট্যামে পরিণত করেন। এবং ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হত্যা-খুন-গুম-দমন-পীড়নের রাজনীতিতে নিজেকে বিশ্ববেহায়ায় পরিণত করেন।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের প্রক্রিয়া
এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সকল ছাত্রসংগঠন ও রাজনৈতিক দল তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষও এ সংগ্রামে যোগ দেয়। স্বৈরাচার মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বোঝাপড়া ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরী হয়। নানা প্রাক্রিয়ার বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে জোট-ঐক্য গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রধানত তিনটি জোটে ঐক্যবদ্ধ হয়। ৮ দল, ৭ দল ও ৫ দল। আন্দোলন-সংগ্রামকে করতে জোটগুলোর মধ্যে গতিশীল যোগাযোগ করতে তৈরী করা হয় ৩ জোটের লিয়াজো কমিটি। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও ২ টি জোট গড়ে ওঠে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও সংগ্রামী ছাত্র জোট এবং পরিবর্তিতে সংগ্রামকে আরও জোড়দার করতে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শহীদ জেহাদের লাশকে সামনে রেখে ২৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন করা হয়।

জোট-ঐক্যে বোঝাপড়ার ক্ষেত্র
আন্দোলন চলাকালে জনগন ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে থেকে চাপ আসতে থাকে যে, এরাশাদ পতনের মাধ্যমে আমরা কি অর্জন করতে চাই, সে প্রশ্নটির। দল ও জোটগুলোও আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সে তাগিদ উপলব্ধি করতে থাকে। ক্ষমতা দখল ও রক্ষার নেতিবাচক রাজনীতি কারণে মানুষ আস্থাহীনতায় ভূগছিল, কাউকে বিশ্বাস করছিল না। রাজনীতির কথা আসলেই মানুষ লঙ্কা ও রাবণের গল্প শুনিয়ে দিতো। কারন আন্দোলনের তোলপাড় করা অবস্থায় বাঘা-বাঘা রাজনীতিকের সকাল-বিকাল চরিত্র পরিবর্তনের ঘটনা মানুষের মধ্যে ব্যাপক অবিশ্বাসের জন্ম দিলেছিল। সেই পরিস্থিতিতে জনগনকে আস্থায় নেয়ার তাগিদেই ৩ জোটের রুপরেখা ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ১০ দফা রচিত হয়েছিল।

তিনজোটের রুপরেখা কি ও কেন
তিনজোটের রুপরেখা হচ্ছে স্বৈরাচার হটানো ও ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতি-প্রক্রিয়ার একটি দলিল। এই দলিলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় প্রথম পর্ব হচ্ছে এর মূল ঘোষণা এবং দ্বিতীয় পর্বে আচরণ বিধি। এটি ৪টি ধারা ও ৮টি উপধারার একটি ছোট দলিল। কিন্তু অল্প পরিসরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উত্তরণ ও ধারাবাহিকতার একটি পরিষ্কার নির্দেশনা এতে ছিল। যে ধারাবাহিকতা অনুসরন করলে বাংলাদেশের রাজনীতি, উন্নয়ন গনতন্ত্রের অনেক সমস্যার সমাধান হতো।
তিন জোটের রুপরেখা বিশ্লেষন করলে বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রধানত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 

লক্ষ্য করা যায়ঃ
এক। নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি, যে সরকার তিন মাসের মধ্যে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করবে, রুটিন দায়িত্ব পালন করবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করবে এবং সবার জন্য একটি সমতল ক্ষেত্র প্রস্তত করবে।

দুই। একট আচরণবিধি, যাতে অবাধ সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের লক্ষ্য দলগুলোর করণীয় অনেকগুলো অঙ্গীকার ছিল, যার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ছিল “এরশাদ স্বৈরাচারী সরকাররের চিহ্নিত ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের নিজেদের দলে স্থান না দেয়ার।

তিন। নির্বাচন পরবর্তি সরকারের কিছু করণীয়, যার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ছিল সংসদকে কার্যকর করে সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং জনগনের অধিকার হরণকারী সকল কালো আইন বাতিল করা। তিন জোটের রুপরেখার সবচেয়ে প্রনিধানযোগ্য অঙ্গীকার ছিল নির্বাচনে প্রদত্ত জনরায় মেনে চলা, অসাংবিধানিক পহ্নায় ক্ষমতা দখলের সকল প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করা এবং নির্বাচন ব্যতীত সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় তথা কোন।

আরও পড়ুন:


আপনার উদ্বেগের সঙ্গে সুর মেলাতে পারছি না

সিটিভির ফুটেজে ধরা পড়ল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সেই ঘটনা

ভারতের তৈরি টিকা নিয়ে করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!


news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা: সামিয়া রহমান

সামিয়া রহমান

যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা: সামিয়া রহমান

শুনলাম আমার এই প্রেস কনফারেন্সে চরম ক্ষুব্ধ, রাগান্বিত, এবং আমাকে একেবারে ধ্বংস করতে প্রতিশোধপরায়ন হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ ক্ষমতাধর নারী। যেহেতু তার নামটিও চলে এসেছে আমার বক্তব্যে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন ইন্টারভিউতে অথবা প্রেস কনফারেন্সে।

তিনি এখন ভয়াবহ প্রতিশোধপরায়ন হয়ে গতকাল সকল সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করার জন্য উসকাচ্ছেন। বলছেন যে কোনোভাবে সামিয়াকে ধ্বংস করে দিতে হবে। যে কোনো নিউজ দিয়ে, তা মিথ্যা হোক আর যাই হোক। সাংবাদিকদের কাছেই শুনলাম যাদের যাদের তিনি ফোন দিয়েছিলেন। 

বললেন মিথ্যা সত্যের ধার ধারিনা, যে কোনো মূল্যে সামিয়াকে শেষ করতে হবে। যে কোনো নিউজ করতে হবে সামিয়ার বিরুদ্ধে। প্রয়োজন হলে আমার সকল আর্টিকেলকে প্লেজারিজম বলে প্রমাণ করতে হবে। কারন পদ ক্ষমতা তার হাতে, তিনি যদি বলেন তবে এগুলো জনগণ মেনে নেবে। সাংবাদিকরা বললে জনগণ মেনে নেবে। যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা। সামিয়ার এতো বড় সাহস আমাদের বিরুদ্ধে প্রেস কনফারেন্স করে! এবার আমি তাকে শেষ মারটা দেব। 


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


উনার এতো ক্ষোভ কেন আমার বিরুদ্ধে? প্রথম থেকে উনি এবং উনার চামচারা কেন মিডিয়ার সামনে এতো সোচ্চার আমাকে নিয়ে? অ্যালেক্স মার্টিনের মিথ্যা চিঠির ষড়যন্ত্রের কি তিনিই তাহলে হোতা? প্রকাশ হয়ে যাবার ভয়ে আমাকে শেষ মার দেবার চেষ্টা? তার ষড়যন্ত্র প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে তাই আমাকে নিয়ে সাংবাদিকদের নতুন করে উসকানোর চেষ্টায় তিনি এখন অতি ব্যস্ত। 

আচ্ছা যার নিজের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের অভিযোগ আসে, তার ক্ষমতার ভয়ে ২/৩ টি বাদে আর কোনো মিডিয়া সাহস পায়না কাভারেজ দেবার, যিনি নিজে প্লেজারিজমের সাথে যুক্ত অন্তত ৫/৬ টি আর্টিকেলে, তিনি আবার কিভাবে অন্যকে নৈতিকথার কথা বলেন? বিচারক হবার যোগ্যতা তিনি আর রাখেন কি? 

ক্ষমতা পেয়ে কি তিনি এতোটাই করাপ্টেড হতে পারেন ? তিনি এতোই প্রবল প্রতাপশালী যে দিনকে রাত করেন, কোনো সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে লিখলে তার চাকরী চলে যায়, তার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখা ১ ঘন্টার মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে যায়। আমার ফেসবুক বন্ধুদের জানিয়ে রাখলাম, এই মহিলা আবার আমার বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছেন সাংবাদিকদের ফোন দিয়ে, ডেকে ডেকে। তবে আমি এখন প্রায় নিশ্চিত আমার বিরুদ্ধে শিকাগো জার্নালের মিথ্যা চিঠির, পুরো ষড়যন্ত্রের হোতা কে? তিনি ছাড়া আর কি কেউ হতে পারেন?

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই

জিয়াউল হক

সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই

জিয়াউল হক

করোনা বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিয়ত আমাদের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা নিচ্ছে। শরীরে  ভিটামিন সি এবং ডি ঠিক আছে কিনা, জিঙ্ক আছে কিনা ইত্যাদি মাথায় রাখতে হয়। মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে আছে ভীতি এবং শংকা। সর্দি, কাশি হলেই ভয়, জ্বর হল তো কথাই নেই। 

একবার আমার সর্দি, কাশি হলে আমার স্ত্রী বললেন, তুমি কোত্থেকে করোনা বাধিয়ে এসেছ, আল্লাহ মালুম; গতকাল থেকে আমারো কাশি শুরু হয়েছে। দু দিন পর আমার কাশি ভাল হয়ে গেল; তার ও হল। কিছুদিন পর তাঁর কাশি শুরু হল ভয়ানক ভাবে। আমার ও শুরু হল। 

আমি আর ভয়ে বলতেই পারলাম না তোমার কাছ থেকে আমার কাশি শুরু হয়ে গেছে যদিও বা দুজনেরই ছিল নরমাল কাশি। যাই হোক,  শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার পাশাপাশি করোনা অত্যন্ত মহা গুরুতপুর্ন আরেকটা পরীক্ষা নিয়েছে, সেটা হল দাম্পত্য পরীক্ষা। 

প্রথম আলোর রিপোর্ট ও বলছে করোনার সময়ে বিচ্ছেদ বেড়ে গেছে। যাদের বিয়ের বয়স এক বছর বা তার কম তারা বেশ ভাল সময় কাটিয়েছেন। যারা ঠিকে গছেন, তাদের দাম্পত্য নিয়ে ভবিষ্যতে কোন সমস্যা হবার সম্ভাবনা কম। 

দুজনেই ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন, তাদের ফাস্ট ইন কমান্ড কে আর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কে। বেড়াল যা মরার ইতিমধ্যে মরেছে। যাদের বিয়ের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে, তারাও মোটামুটি এই সময়ের মধ্যে লকডাউনে থেকে পারস্পরিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠেছেন। তারা বুঝেছেন ফাস্ট ইন কমান্ড যাই কিছু বলুক, নীরবে সয়ে যেতে হবে। 

যদি পুরুষ ফাস্ট ইন কমান্ড হয় (সম্ভাবনা ক্ষীন!) সেক্ষেত্রে অযৌক্তিক কিছু বললেও স্ত্রীকে মেনে নিতে হয়েছে কারণ বাপের বাড়ি যাওয়ার উপায় নেই; দরজা বন্ধ। আবার স্ত্রী যদি ফাস্ট ইন কমান্ড হয়, সে ক্ষেত্রে তিনি কিছু বললে পুরুষকে মেনে নিতে হয়েছে; রাগ দেখিয়ে বের হওয়ার উপায় নেই আর কষ্টেসৃষ্টে বের হলেও বাইরে হোটেল বন্ধ। 

যাদের বিয়ের বয়েস দশ বছরের বা বিশ বছরেরও বেশি তাদের পরীক্ষা ছিল সবচেয়ে কঠিন; যদিওবা কেউ কেউ বলেন, স্বামী-স্ত্রী বিশ বছর সংসার করলে তাদের সম্পর্ক টা অনেকটা ভাই বোনের মত হয়ে যায়। 

যাই হোক, তারা সত্যিকার অর্থে করোনার মধ্যে খুব কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন। নরমাল রুটিন হল, স্ত্রী মশারি টাঙ্গাবে বা স্বামী সারাদিন চাকরি করেন তাই স্ত্রী বাসায় রান্না করে। করোনার সময় দেখা গেল রুটিন পাল্টে গেল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামী বেচারা মশারি টাঙ্গিয়েছেন অথবা বাসায় রান্না করেছেন। এর বাইরে আরও কাজ আছে, যেমন ঘর ঝাড়ু দেয়া, ঘর মোছা ইত্যাদি। অর্থাৎ বহু দিনের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ভেঙ্গে গেল। 

আবার স্ত্রী কে কাটতে হয়েছে চুল। আমার কাছে মনে হয় এটা ছিল, স্বামীর বা স্ত্রীর অনেকটা মানোন্নয়ন পরীক্ষার মতো বা প্রমোশনের ইন্টারভিউ এর মত। প্রশ্নকর্তার খুব বেশি আগ্রহ নেই প্রশ্ন করার প্রতি আর উত্তর দাতার ও আগ্রহ কম উত্তর দেয়ার দিকে। বিশ বছরের দম্পতি রবীন্দ্রনাথ এর কথা কে ফলো করেছেন। 

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “লোকে ভুলে যায়, দাম্পত্যটা একটা আর্ট, প্রতিদিন ওকে নতুন করে সৃষ্টি করা চাই”। বিশ বছরের দম্পতি্র পক্ষে তো আর প্রতিদিন দাম্পত্য সৃষ্টি করা সম্ভব না; করলেও মহা সমস্যা হয়ে যাবে। একটা কৌতুক বলি। স্ত্রী স্বামীকে বলছে, 
“কাল থেকে তোমার অফিস খুলবে, তাই আমার খুব  মন খারাপ।“
স্বামী জিজ্ঞেস করল “কেন”? স্ত্রী বলল, “তোমার হাতের কাজ আমাদের বাসার বুয়ার চেয়ে বহুগুণ ভালো”।  

এসময় একটা জিনিসের দারুন চর্চা হয়েছে। সেটা হলো রান্না। যারা পারেন তারা তো করেছেন। যারা পারেন না, তারা  তাদের বেস্ট দিয়ে চেষ্টা করেছেন। রমজানের ইফতারির মধ্যে জিলাপি খুব প্রিয় একটা আইটেম। রমজানের মধ্যে ইফতারির জন্য জিলাপির বানানোর দারুন চর্চা হয়েছে। নতুন নতুন জিলাপি উদ্ভাবিত হয়েছে। 

আমরা  জানি, জিলাপি আড়াই প্যাঁচ দিয়ে হয়। কেউ কেউ আবার সাড়ে তিন প্যাঁচ দিয়ে  জিলাপি বানিয়েছে। তারা হয়তো ভেবেছে, প্যাঁচ তো লাগানোর জিনিস, আস্তে আস্তে লাগাতে হয় তাই একটু বেশি করে দিলেই ভালো। এরমধ্যে আবার এসেছে পুরুষ জিলাপি। পুরুষ জিলাপি বুঝলেন না তো? পুরুষ জিলাপি হলো একদম সোজা, কোন প্যাঁচ থাকবে না। 

এখানেও একটা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। যিনি রান্না পারেন না, তার বানানো জিলিপি বা অন্য কোন কিছু খেতে গেলেই যিনি খাবেন, তিনি বুঝতে পারবেন দুর্গতি টা কি! খাওয়ার সময় কিছুই বলা যাবে না; কোন বদনাম করা যাবেনা শুধু আলতো করে মুখে একটা মিষ্টি হাসি ধরে রেখে বলতে হবে, “তুমি কেমন করে গান কর হে গুনি, আমি অবাক হয়ে শুনি”!   

করোনার মধ্যে আবার সিনেমা বিশারদদের দেখলাম বেশ কদর রয়েছে। সিনেমা তো কমবেশি সবাই দেখি। কেউ ক্লাসিক পছন্দ করেন, কেউ একশন ধর্মী, কেউ আবার রোমান্টিক ঘরানার। অথবা কেউ পছন্দ করেন এডভেঞ্চারাস। ফেসবুকে দেখলাম, অনেককে সিনেমার লিস্ট জিজ্ঞেস করছে, কোন কোন সিনেমা দেখা দরকার। তখন সিনেমা বিশারদ যারা আছেন, তারা দেখলাম লিস্ট দিয়েছে। 

লিষ্টের মধ্যে আবার ভাগ আছে; আর্জেন্ট, সেমি  আর্জেন্ট, অডিনারি ইত্যাদি। লিস্ট এর মধ্যে সিনেমার নামের পাশে লেখা থাকে এটা কি রোমান্টিকধর্মী সিনেমা নাকি একশনধর্মী। রোমান্টিক সিনেমার ক্ষেত্রে আবার পাশে ডট ডট আছে। মানে, এই সিনেমাতে ডট ডট  আছে সুতরাং এটা একা একা দেখতে হবে। 


পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ বানানো হয়, প্রশ্ন আইজিপির

আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে: সামিয়া রহমান

বিমা খাতে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরও প্রচার প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

পোশাক খাতে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেললো বাংলাদেশ


তবে অনেকের কমেন্ট পড়ে এবং সিনেমার লিস্ট থেকে মনে হয়েছে, ডট ডট ঘরানার সিনেমা গুলো একটু বেশি জনপ্রিয়! একটা কৌতুক বলি। মাননীয় প্রেসিডেন্ট মহোদয়ের বক্তৃতা থেকে শুনেছি। তাঁর এক বন্ধু একবার সিনেমা হলে গিয়ে একটা ছবি ৪/৫ বার দেখেছেন। ওই সিনেমায় একটা দৃশ্য ছিল, নায়িকা গোসল করছে আর সেই সময় একটা মেইল ট্রেন চলে যায়। তাঁর বন্ধু সিনেমাটা দেখেছিলেন ৫/৬ বার এই আশায় যে যদি একবার মেইল ট্রেন একটু লেট করে আসে!!

পুনশ্চঃ করোনার সময় সবাই সবাইকে সাবধান করেছে, এখন করোনা, ঘর থেকে খবরদার বের হবে না; তবে বের না হয়ে আবার জনসংখ্যা বাডিয়োনা। আল্লাহর রহমতে এখন করোনা কিছুটা কমেছে, তাই উপদেশ দেয়ার মত কেউ নেই। সে সুযোগে যদি কেউ দারুন উৎসাহে কাজে নেমে পড়েন আর গাইতে থাকেন, " আজ খেলা ভাংগার খেলা, খেলবি আয়, আয়, আয় আজ......" তাহলেই বিপদ। সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের মতো আর কিছু নাই

রাখী নাহিদ, নিউইয়র্ক

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের মতো আর কিছু নাই

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের কাছে পৃথিবীর সকল আনন্দ নস্যি। এর মত মজা দুনিয়ায় আর কিছু নাই। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য আমাদের কোন কাজে লাগেনা তবুও আমরা আড়ি পেতে সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের কথা শুনতেও পছন্দ করি। 

আর আমি মনে করি মানুষকে আনন্দ দেয়ার মত পুণ্যের কাজ আর কিছু নাই। তাই আমার ব্যাপারে আজকে কিছু নতুন FAQ এর আন্সার। 
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- দুলাভাই কেমন আছে ? উনার অনুভূতি কি ? - দুলাভাই এর স্ত্রী বিদেশ। উনি সামান্য খারাপ থাকবেন এটাই স্বাভাবিক তবে উনার সাথে আমার দিনে ঊনচল্লিশ বার কথা হয়।

উনার সাথে আমার সামান্য টানাপোড়েন আছে যা পৃথিবীর তাবৎ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দাম্পত্যে থাকে। এটা খুব স্বাভাবিক। আর সুযোগ থাকলে টানাপোড়েন না বাড়িয়ে মানুষের উচিত সামান্য ভৌগলিক দূরত্ব বাড়ানো। কারন কখনো কখনো ফিজিক্যাল প্রেজেন্স মেন্টাল ডিস্ট্যান্স আরো বাড়িয়ে দেয় কিন্তু সাময়িক দূরত্ব মানুষকে আবার কাছে আনে।

তবে আমার এই অন্তর্ধান এর পেছনে দুলাভাই এর ভূমিকা সামান্যই। আমিই এর মূল কারন। আমি মনে করি দুলাভাই এর স্ত্রী এবং পুত্রদের মাতা হওয়া ছাড়াও আমার একটা পরিচয় আছে, স্বাতন্ত্র্য আছে। আমার একটা আমি আছে। সেই আমিটা যেমন সংসারী ঠিক তেমনই  বৈরাগী। 

সেই সংসারী আমি চোখ বেঁধে সংসার করেছি একুশ বছর। আমার জীবনের অর্ধেকের বেশী। তারপর বছর খানেক আগে হঠাত বৈরাগী আমি মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। 

সত্য কথা হল, সেই শিশু বয়সে বিয়ে, তারপর সন্তান, সংসার, বাজার, রান্না এই এক রুটিনে চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম।যে বয়সে মানুষ বন্ধুদের সাথে হই হুল্লোড় করে, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবে, সেই বয়সে আমি কোলে দুই কোলে দুই বাচ্চা নিয়ে নাক মুখ গুজে সংসার করেছি।১৮ বছরের পর থেকে আমার নিজের কোন জীবন নাই।


রাজধানীতে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ

সৌদি যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহবান জাতিসংঘের

ইরানের সঙ্গে আইএইএ’র সম্পর্ক নষ্টের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র

সুইপার থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক


কোন পার্থিব জিনিসের অভাব ছিল না। But some very important elements had been missing. সারাক্ষণ কি যেন নাই কি যেন নাই অনুভূতি।পরে খুঁজে বের করলাম আমার আসলে কাজ নাই। 

সারাক্ষণ মনে হত এই যে মহামূল্যবান জীবনটা আল্লাহ দিলেন এইটার তো কোন সদ্ব্যবহার করা হল না।সামান্য লেখালেখির অভ্যাস সেই ঘা এ কিছুটা মলমের কাজ করছিলো।কিন্তু তবুও আমি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। 

I was tired of the being secured , I was tired of being protected. I was tired of being so sure of everything around me. 
আমি সেই সোনার খাঁচার বাইরে বের হয়ে জগতটাকে দেখতে চাইলাম। নিজের এবিলিটি পরখ করতে চাইলাম। দেখতে চাইলাম সারাজীবন পুরুষের কাঁধে ভর দিয়ে চলা একজন নারী একা সারভাইব করতে পারে কি না।

তারপর আর কি? Veni, Vidi, Vici অর্থাৎ এলাম দেখলাম এবং জয় করলাম। শারীরিক কষ্টে অনভ্যস্ত আমি সাতদিন সাতদিন কাজ করি এখন। শরীরে হাতুড়ি পেটা টাইপ ব্যথা নিয়ে ঘরে ঢুকি, পরেরদিন আবার যাই। জানি একদিন এই কষ্ট সয়ে যাবে। সবারই যায়। 

এই ভিন দেশে এসে পিজা বেচবো, ট্র্যাভেল এজেন্সিতে টিকেট বুকিং দিবো এমনও কোন টার্গেট না। সাতদিন কষ্ট করতে হবে এরও কোন কারন নাই।প্রথমে কাজ পাচ্ছিলাম না এখন ছাড়তে পারছি না। 

আর স্বামী সন্তান রেখে আরেক দেশে এসে ডলার ইনকাম করে খুব মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলছি তাও না। কিন্তু মনে হয় আরেকবার সুযোগ পেলে আমি দারুণ কিছু করব, আরেকবার আমাকে বড় হতে দিলে আমি আমার সমস্ত মেধাকে কাজে লাগাবো, আরেকবার সুযোগ পেলে আমি সৃষ্টিকর্তাকে বলতে পারবো আমি আমার মহামূল্যবান জীবনের সৎ ব্যবহার করেছি।এমনি এমনি নষ্ট করি নি। 

আমি আবার আঠারো বছর বয়স থেকে শুরু করতে চাই, অনেক পড়তে চাই, অনেক কাজ করতে চাই, বিশ্বজয় করতে চাই। আমি সদ্য কিশোরীর মত চিৎকার করে বলতে চাই-
Give me some sunshine. Give me some rain. 
Give me another chance, I will grow up once again....

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে

শওগাত আলী সাগর

পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে

শওগাত আলী সাগর

১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অনেকেই আছেন, যাদের বক্তব্যে নতুন চিন্তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক কিছুকেই নতুন করে, নতুন অ্যাঙ্গেলে দেখার একটা  আগ্রহ তৈরি করে। এঁদের আমি মনোযোগের সাথে অনুসরণ করি, কখনো কখনো অনুকরণও করি। 

ভার্চুয়াল কিংবা রিয়েল, সবক্ষেত্রেই আমার মনোযোগ থাকে নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু শেখা।যার সঙ্গ আমাকে নতুন কিছু শেখায় না, নিদেনপক্ষে আনন্দ দেয় না- সেই সঙ্গ আমাকে বেশিক্ষণ টানতে পারে না।

২. ফেসবুক নিয়ে মুশফিক ওয়াদুদ একটা পোষ্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার একটা হাইপোথিসিস হচ্ছে, স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না। বরং উপকার করে। উপকার করে এ অর্থে  যে, মানুষের ক্ষোভের ভেন্টিলেশন হয় এবং তারপর এই ক্ষোভ কিছুদিন পর হারিয়ে যায়।”

তার পরপরই মুরাদুল ইসলাম তার নিজের একটি পোষ্টে লিখেছেন, যখন ফেসবুকে কেউ কোন বিষয়ে মত দেন, তার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা অনেকে এই বিষয়ে সেকন্ড থট দেন। এভাবে, মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মাণ হয়।কোন সমাজের ন্যারেটিভ বাজে হইলে বুঝতে হবে, এই সমাজে বাজে লোক বেশি এটাই না, এই সমাজে ন্যায় ন্যারেটিভে কথা বলার মত অল্প লোকও নাই “

মুশফিক এবং মুরাদুলকে আমি ফেসবুকে নিবিড়ভাবে ফলো করি। মুরাদুলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো বেশ কয়েক বছর আগে তার অণুগল্প পড়ে। মুশফিকের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার ফেসবুকের পোষ্ট  পড়ে। এদের দুজনের কেউই আমার চিন্তার শতভাগ সমর্থক কিংবা আমি তাদের চিন্তার সমর্থক- বিষয়টা এমন না। কিন্তু এদের চিন্তার স্টাইল এবং দেখার চোখটা আমার পছন্দ।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক নিয়ে সারা দুনিয়ায় এখন বড় বড় গবেষণা হচ্ছে। এসব নিয়ে পশ্চিমের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পন্ডিতদের লেখা বইয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর সেল্ফ ঠাসা। ফেসবুক এখন কেবল নিজের বক্তব্য দেয়ার প্লাটফরমই না,  ফেসবুক এখন পড়াশোনার, জ্ঞানার্জনের একটি সাবজেক্টও।


দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

বিরোধীতার রকমফের

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?


৪. মুশফিকের  ‘স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না’ এবং মুরাদুলের ‘মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মান হয়’- এই দুটি বক্তব্য নিয়েই আলোচনার সুযোগ আছে। আমি নিজে মনে করি, এগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকারও।

একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া আমরা আসলে কিভাবে ব্যবহার করছি- সেই আলোচনাও প্রয়োজনীয়। ব্যক্তিজীবনে আপনার বাড়ীঘর, বাড়ীর্ চারপাশ এবং আপনার মেলামেশা বা আত্মীয়তা করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, ভার্চুয়াল জগতকে সাজানোর ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার বলে আমার নিজের মনে হয়। 

৫. সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে মুশফিক এবং মুরাদুলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার নিজের কিছু বক্তব্য আছে। সেগুলো আলাদাভাবে কখনো বলা যাবে। আপাতত সাংবাদিকতায় আমার প্রথম সম্পাদক আলম রায়হানের একটা কথা এখানে উল্লেখ করি। 

সাংবাদিকতায় প্রথম কর্মস্থল ‘সাপ্তাহিক সুগন্ধা’র সম্পাদক ছিলেন আলম রায়হান। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন, ‘শুনেন, পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে। কারো লেখা যদি তার নিজের ভাবনার সাথে, চিন্তার সাথে মিলে যায়- তা হলে সেই লেখক, সাংবাদিককেও সে জ্ঞানী লোক মনে করে। নিজের চিন্তার বিপরীত হলে তাকে নানা উপাধীতে ভূষিত করে গালাগালি করে।’

আলম রায়হানের এই কথাটাই আজকাল সবচেয়ে সত্য বলে আমার কাছে মনে হয়।বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

আব্দুন নূর তুষার

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

আব্দুন নূর তুষার

বিসিএস দেশের সেরা মেধাবীদের বেছে নেয়ার পরীক্ষা। সেখানে কলাম্বিয়ার শহর Cartagena এর নাম বাংলায় লিখেছে কার্টাগেনা। ভাইরে এটার উচ্চারণ হবে কার্টাহেনা। 

কার্টাহেনা। Proper Noun যেভাবে উচ্চারিত হয় সেভাবেই লিখতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় অ্যালান গিন্সবার্গের কবিতার নাম লিখেছে September on The Jessore Road.

এই The আমদানী হলো কি করে? কবিতাটার নাম September on Jessore Road. 

ড. জিভাগো এর সঠিক বানান হলো Zhivago আর লেখকের নাম Pasternak. দুটো বানানই ভুল লেখা হয়েছে।

উপন্যাসকে নভেল বলার মধ্যে কি নভেলটি (Novelty) সেটা বুঝতে পারি নাই। মার্কিন তালিবান চুক্তির তারিখ কত এটা কি মনে রাখার জিনিষ? এটা কি পৃথিবীর ইতিহাসের কোন তাৎপর্যপূর্ণ তারিখ?

মোবাইল ফোনের বিল নিয়ে একটা অংক দিয়েছে। সবগুলি উত্তর ভুল। ৪২০ টাকার মোবাইল বিল বারোমাস/ একবছর পরে ১০% বাড়লে,১৩ তম মাসে এটা হবে । ৪২০ + ৪২ = ৪৬২ টাকা।

৬ মাস পরে এটা আরো ২০% বাড়লে এটা ১৮ মাস পরে কত হবে?


স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

রমজান মাসেও খুলা থাকবে স্কুল-কলেজ: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আগুন


৬ মাস পরে এটা যদি বাড়ে তবে বিল হবে ১৯ তম মাসে। তাই ৬ মাস পরে ২০% বাড়লেও বিল কিন্তু ১২+৬ =  ১৮ মাস শেষ হলে ৪৬২ টাকাই থাকবে। ১৯ তম মাসে এটা হবে ৪৬২+৪৬.২০  =  ৫০৮.২০

১৯ তম মাসে তো বিল কত জানতে চায় নাই। ১৮ মাস শেষ হবার পরে বিল ২০% বাড়বে। উত্তর হওয়া উচিত ৪৬২ টাকা। কিন্তু অপশন আছে ৪৬০.২০/৫৫৪.৪০/৬২০.৬০/৭৩০.৮০.

হয়তো এগুলোর মধ্যে একটা ঠিক। আমি অংকে খুবই কাঁচা। তাই এই উত্তরগুলির ব্যাখ্যা কি সেটা জানার বড় ইচ্ছা। এরকম আরো কিছু বিষয় আছে যা দেখে মনে হয়েছে বিসিএস এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে।

এই সব প্রশ্ন কেউ মডারেট বা তদারক করে কি?

আব্দুন নূর তুষার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর