স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

শেরপুর প্রতিনিধি

স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

শেরপুরের শ্রীবরদীতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে রাশেদ আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

আজ সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুন একমাত্র আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রাশেদ আলী শ্রীবরদী উপজেলার দিয়ারচর গ্রামের মৃত বাইন উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, প্রায় ১৭/১৮ বছর পূর্বে শ্রীবরদী উপজেলার কলাকান্দা গ্রামের ফজল হকের মেয়ে গোলেছা বেগমের বিয়ে হয় দিয়ারচর গ্রামের রিক্সাচালক রাশেদ আলীর সাথে। দাম্পত্যজীবনে ৩ ছেলে জন্ম নেয় তাদের সংসারে।

ঘটনার ৩/৪ মাস আগে থেকে রাশেদ আলী কাজকর্ম না করায় অভাবের কারণে সংসারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে গৃহবধূ গোলেছা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী রাশেদ আলী। 

এ ঘটনায় ওইদিনই শ্রীবরদী থানায় রাশেদ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন পিতা ফজল হক। পরদিনই অভিযান চালিয়ে রাশেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালতে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় রাশেদ।

মামলার তদন্ত শেষে রাশেদকে একমাত্র আসামি করে একই বছরের ২৪ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এসআই আক্তারুজ্জামান। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বাদী, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসকসহ ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রাশেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রদান করে আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি এবং আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মেরাজ উদ্দিন চৌধুরী।

আরও পড়ুন: 


পদ্মা সেতু পারাপারে সম্ভাব্য টোল নির্ধারণ

কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে চিকিৎসকের কিছু পরামর্শ

শিশুটিকে লাথি ও পাথর দিয়ে মাথা তেতলে হত্যা করে নেশাগ্রস্ত যুবক

নিষেধাজ্ঞার পরও পদ্মাসেতুর পিলারে লেখালেখি, আঁকিবুকি

ঐক্যফ্রন্ট এক সঙ্গে কাজ করছে না : ডা. জাফরুল্লাহ

উপকার হয় ও বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এমন কিছু দোয়া


news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন

শাকিলা ইসলাম জুঁই, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন

সাতক্ষীরায় চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলায় মেহেরুনন্নেছা নামে এক গৃহবধুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

আজ (২৮ফেব্রুয়ারি) রোববার সাতক্ষীরা বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষনা করেন।

মামলার একমাত্র আসামি আশাশুনি উপজেলার সরাপপুর গ্রামের নিহত জাকির হোসেন ওরফে ছোট বাবুর স্ত্রী মেহেরুনন্নেছাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের স্বশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে জামিনে থাকা আসামি মেহেরুনন্নেছা পালিয়ে যান।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার মোল্যার মেয়ের সাথে একই উপজেলার  শরাফপুর গ্রামের জহির উদ্দিন সরদারের ছেলে জাকির হোসেন ওরছে ছোট বাবুর বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী মেহেরুনন্নেছার পরকিয়ার কারনে স্বামী জাকির হোসেনের সাথে বিরোধ চলচ্ছিল। হঠাৎ ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর মেহেরুনন্নেছা তার স্বামী জাকির হোসেনকে কুড়াল দিয়ে স্বামীর বাড়ীতেই কুপিয়ে হত্যা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় রক্তমাখা অবস্থায় গ্রামবাসী আটক কওে আশাশুনি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।


গুলি ছুড়ে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি

জানা গেল আসল রহস্য, ১৩-১৪ বছরের দুই বোনের সঙ্গেই শরীরিক মেলামেশা ছিল তার

আবাহনীকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল বসুন্ধরা কিংস

৬৬ নারীকে ধর্ষণ


এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আজহারুল সরদার বাদী মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মনজিত কুমার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় ২২ জন স্বাক্ষীরা মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

সরকার পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন জেলা ও দায়রা জজ কোটের পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ধর্ষণের পর গলায় ও যৌনাঙ্গের চারপাশে ১০ কোপ, আসামির যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক

ধর্ষণের পর গলায় ও যৌনাঙ্গের চারপাশে ১০ কোপ, আসামির যাবজ্জীবন

বরগুনায় ২১ বছরের এক তরুণীকে  ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এই রায় দেন। আসামির নাম শাহিন (২৫)। বরগুনা পৌর শহরের উকিল পট্টির বাসিন্দা মৃত সফিজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে শাহিন।

আসামিকে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড , অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০৭ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আমরা এই রায়ে সন্তষ্ট হয়েছি।


গুলি ছুড়ে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি

জানা গেল আসল রহস্য, ১৩-১৪ বছরের দুই বোনের সঙ্গেই শরীরিক মেলামেশা ছিল তার

আবাহনীকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল বসুন্ধরা কিংস

৬৬ নারীকে ধর্ষণ


আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি শাহিনের সঙ্গে বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া এলাকার এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিষয়টি পরিবার জানতে পরে ওই তরণীকে শাহিনের সঙ্গে মেলামেশা করতে নিষেধ করেন। এই ঘটনার পর তরুণী প্রথমে তার এক স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যান এবং পরে সেখান থেকে কুয়াকাটায় যান। পরের দিন সেখান থেকে ফিরে বরগুনা শহরের টাউনহল এলাকায় শাহিনের সঙ্গে দেখা হয়। সেখানে অনেকক্ষণ কাথাবার্তা শেষে শাহীন তাকে নিয়ে ঢাকা যেতে চাইলে তরুণী রাজি হন। পরে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহীন একটি বটিসহ মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন।

শাহীন ওই তরুণীকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের পশ্চিম ধুপতি এলাকার ইটভাটায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ শেষে সঙ্গে থাকা বঁটি দিয়ে তরুণীর গলার ডানপাশে দুইটি কোপ দেন। এছাড়া যৌনাঙ্গের চারপাশে ৮টি কোপ দেন। তরুণী মারা গেছে ভেবে নদীর পাড়ে ফেলে চলে যান শাহীন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঘটনার পরের দিন সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তরুণীর বাবা বাদী হয়ে ২০০৮ সালে বরগুনা সদর থানায় শাহিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

এ ব্যাপারে আসামিপক্ষের আইনজীবীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রীর যাবজ্জীবন

শাকিলা ইসলাম জুঁই, সাতক্ষীরা

স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এই রায় দেন।

মামলার একমাত্র আসামি আশাশুনি উপজেলার সরাপপুর গ্রামের নিহত জাকির হোসেনের স্ত্রী মেহেরুননেসাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের  কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে জামিনে থাকা আসামি মেহেরুননেসা পালিয়ে যান।


গুলি ছুড়ে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি

জানা গেল আসল রহস্য, ১৩-১৪ বছরের দুই বোনের সঙ্গেই শরীরিক মেলামেশা ছিল তার

আবাহনীকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল বসুন্ধরা কিংস

৬৬ নারীকে ধর্ষণ


আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর মেহেরেুননেসা তার স্বামী জাকির হোসেনকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আশাশুনি থানা-পুলিশ মেহেরুননেসাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

সরকার পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ। আসামে পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দিক।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

চলন্তবাস থেকে লাফিয়ে চালক-হেলপারের শ্লীলতাহানি থেকে রক্ষা

অনলাইন ডেস্ক

চলন্তবাস থেকে লাফিয়ে চালক-হেলপারের শ্লীলতাহানি থেকে রক্ষা

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় বাসচালক ও হেলপার কে আটক করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডে বাসসহ ওই চালক ও হেলপারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয় বলে নিশ্চিত করেন নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ।

ওসি জানান, চালকের নাম রিয়াদ মিয়া (৪৫) ও হেলপার ইব্রাহিম খলিল রুবেল (৩৫)। রিয়াদ মিয়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর গ্রামের মজিদ মিয়ার ছেলে ও হেলপার ইব্রাহিম খলিল রুবেল নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ইসাখালি গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার তিমিরপুর গ্রামে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অনার্স প্রথমম বর্ষের ছাত্রী কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়কের তিমিরপুর এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং-হবিগঞ্জ-ঢাকা সড়কে যাতায়াতকারী ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লাকী পরিবহনের বাস তিমিরপুর দাঁড় করিয়ে ওই ছাত্রীকে গাড়িতে উঠায়।


গুলি ছুড়ে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি

জানা গেল আসল রহস্য, ১৩-১৪ বছরের দুই বোনের সঙ্গেই শরীরিক মেলামেশা ছিল তার

আবাহনীকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল বসুন্ধরা কিংস

৬৬ নারীকে ধর্ষণ


পথিমধ্যে ছাত্রীকে অশ্লীল ভঙ্গিতে নানা ধরনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। বার বার গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার কথা বললেও বাস চালক ও হেলপার বাস না থামিয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। একপর্যায়ে নিজেকে রক্ষা করতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন ওই শিক্ষার্থী। পরে বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবগত করেন।

রোববার দুপুরে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডের আরজু হোটেলের সামনে স্থানীয় জনসাধারণ লাকী পরিবহনের ওই বাসসহ বাস চালক রিয়াদ ও হেলপার রুবেলকে আটক করে।

পরে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে বাস চালক ও হেলপারকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ফতুল্লায় ৪ শ্রমিক হত্যা

২ জনের ফাঁসি, ৯ জনের যাবজ্জীবন

দিলীপ কুমার মন্ডল, নারায়ণগঞ্জ

২ জনের ফাঁসি, ৯ জনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে চার বাল্কহেড শ্রমিককে হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। 

আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৭ আদালতের বিচারক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন সাত আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাল্কহেডের দুই ফিডারম্যান (ইঞ্জিনমিস্ত্রী) তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিন। মামলায় বারো আসামির মধ্যে চারজন এখনো পলাতক রয়েছেন এবং একজন ইতিপূর্বে মারা গেছেন। রায় ঘোষণার পর আদালতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আসামিদের স্বজনরা। রায়ের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। 

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জানান, ২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ নামের বাল্কহেড সিলেট থেকে পাথর বোঝাই করে মুন্সীগঞ্জে একটি সিমেন্ট কারখানায় যায়। সেখানে পাথর খালাস করে ২১ সেপ্টেম্বর বাল্কহেডটি ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে থেমে যায়। 

পরে বাল্কহেডটি মেরামত করার জন্য এর চালক দুই ফিডারম্যান তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিনকে ফোন করে ডেকে আনেন। মেরামত শেষে বাল্কহেডটি সচল হলে দুই ফিডারম্যান সেটি পরীক্ষা করার কথা বলে রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডাকাতদের যোগসাজশে বক্তাবলীর চরে নিয়ে থামিয়ে দেয়। 

ওইদিন রাতের কোন এক সময় দুই ফিডারম্যান সহযোগিদের সাথে নিয়ে চালক নাসির মিয়া, কর্মচারি মংগল, ফয়সাল ও হান্নানকে হাত পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। পরে মেঘনা নদী থেকে হাত পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় নাসির এবং মঙ্গলের লাশ উদ্ধার হলেও ফয়সাল ও হান্নান নামের অপর দুই শ্রমিক নিখোঁজ থাকেন। পরে বাল্কহেডটি বক্তাবলীর চর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশ জব্দ করে।  


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ক্রিকেটে ফিরতে চান শাহাদাত

প্রেমিকের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক, বিয়ের দাবিতে অনশন!


এ ঘটনার পরদিন ২০০৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বাল্কহেডটির মালিক এরশাদ মিয়া ফতুল্লা থানায় বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুই ফিডারম্যান তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিনসহ সাত আসামীকে গ্রেফতার করে। পরে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে ও দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক বদরুল আলম আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ ১২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত যুক্তিতর্ক ও ১৮ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় দেন।

এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কার্তিক চন্দ্র দাশ জানান, ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর