নাটোরের ব্যতিক্রমী গ্রাম: মা-বাবা অধিকার রক্ষায় একাট্টা গ্রামবাসী

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের ব্যতিক্রমী গ্রাম: মা-বাবা অধিকার রক্ষায় একাট্টা গ্রামবাসী

নাটোরের বনপাড়া পৌরসভার পশ্চিমে কালিকাপুর পশ্চিমপাড়া গ্রাম। অনেকটা নির্মল পরিবেশ গ্রামটি ঘিরে। চারিদিকে সবুজের হাতছানি। এই গ্রামের মাঝখানে রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী পুকুর। পুকুরটিকে গ্রামবাসীর সবাই ব্রিঞ্চির পুকুর নামেই চেনে। ব্রিটিশ শাসন আমলের প্রায় আট বিঘা আয়তনের পুকুরটির পানি যেমনটা স্বচ্ছ, তেমনি গ্রামের চারিদিকেও অনেকটা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। অথচ এই গ্রামটিতেই দুই মাস আগেও মাদকের উৎপাতে অতিষ্ঠ ছিলেন গ্রামবাসী।

মাদকসেবী সন্তানদের অত্যাচারে অনেক পরিবার এখন প্রায় নিঃশ্ব। মাদকসেবী সন্তানরা কখনো কখনো টাকার জন্য বাবা-মায়ের গায়েও হাত তুলতেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন মাদকের সর্বনাশে গ্রাস হবে সবুজেঘেরা এই কালিকাপুর-এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে খেতে থাকে গ্রামবাসীর মাঝে।শেষে সকলে মিলে সিদ্ধান্ত বৈঠকে বসলেন। গঠন করলেন মাদক প্রতিরোধ কমিটি। শুধু কমিটিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হলো না। গ্রামের যুবকদের প্রতিদিন রাতজেগে পাহারা বাসানোরও দায়িত্ব দেওয়া হলো। 

পাশাপাশি পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের দায়িত্ব ও কতর্বগুলো ব্যানার, ফেস্টুনে লিখে গোটা গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হলো। সেই সঙ্গে প্রতিটি বাড়িতে মাদকবিরোধী প্রচারণামূলক পোস্টার সাটিয়ে দেওয়া হলো। সেই থেকে গ্রামের মা-বাবা’র অধিকার রক্ষায় এবং মাদকের বিরুদ্ধে যেন যুদ্ধে নেমে পড়েছেন গ্রামবাসী।

গ্রামটিতে সরজেমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়ির সামনে টাঙ্গানো বা ঝুলানো আছে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের কি কি দায়িত্ব পালন করতে হবে, সেসব নির্দেশনা সংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন।সেসবে লিখা রয়েছে, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সমাজে নিমোক্ত সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং প্রত্যেক নাগরিককে তা অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে কোনো আপোষ নয়।

এগুলো হলো-পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করতে হবে। শিশুকালে পিতা-মাতা যেমনভাবে আদর-যত্ন করেছে ঠক তেমন। পিতা-মাতার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সন্তানকে বহন করতে হবে। পিতা-মাতার সাথে কোনোরুপ বাজে আচরণ বা গায়ে হাত তোলা যাবে না (পিতা-মাতা যতই খারাপ আচরণ করুক না কেন)। পিতা-মাতা বিচার প্রাথী হোক বা নাই হোক তাৎক্ষণিক ওই সন্তানের সর্বোচ্চ বিচার গ্রামের প্রধানরা করবেন।

সন্তানদের প্রতিও পিতা-মাতার কিছু দায়িত্ব তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রচারণা সামগ্রীতে। এর মধ্যে রয়েছে-পিতা-মাতার ওয়ারিশ বা সম্পদ বন্টনে কোনো প্রকার অনিয়ম কেউ করতে পারবে না। কোরআন, সুন্নাহ তথা পারায়েজ মোতাবেক হতে হবে। এর কোনো ব্যতয় হতে দেওয়া হবে না। এসব কাজের ব্যতয় হলে সামাজিকভাবে সাজা নিমোক্ত হতে পারে- সেগুলো হলো সমাজে তার সদস্য পদ স্থগিত বা বাতিল করা, সমাজ থেকে বহিস্কার করা, সামাজিক গোরস্থানে তার জানাযা না দেওয়া, ওই পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখা।

বাসিন্দা একই এলাকার নারী আছমা খাতুন বলেন, ‘কিছুদিন আগেও গ্রামে চরম অস্থিরতা ছিল। মাদক প্রতিরোধে গ্রামের যুবকরা রাতজেগে পাহারা বসায়। ফলে রাতেও কেউ মাদক বিক্রি করার সাহস পাচ্ছে না। এখন অনেক শান্তিতে বাস করছি আমরা। সবাই মিলে-মিশে একই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। খুব ভালো লাগছে।

মামুন অর রশিদ বলেন, মাস দুয়েক আগেও আমরা গ্রামবাসী মাদক সমস্যা নিয়ে জর্জরিত ছিলাম। মাদককে কেন্দ্র করে বাড়ি বাড়ি না দ্বন্দ্ব ফেসাত লেগেই থাকত। কখনো কখনো মাদকসেবী সন্তানরা ধরে বাবা-মাকেও নির্যাতন করত। আবার জমিজমা নিয়েও প্রায় বিরোধ লেগেই থাকত। এসবের সমস্যা রোধে আমরা সবাই একজোট হয়ে গ্রামের সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। এখন গ্রামে কেউ আর প্রক্যাশে মাদক সেবন করে মাতলামি করার সাহস পায় না। কেউ মাদক বিক্রি করছে খবর পেলেই তার বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তারা এসে সেই মাদকসেবী বা বিক্রেতাকে ধরে নিয়ে যায়। এভাবে গত দুই মাসে অন্তত ৯ জনকে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নান্নু সরকার বলেন, মাদকের কারণে অনেক পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। আবার মাদকসেবী সন্তানরা কখনো কখনো বাবা-মাকেও ধরে নির্যাতন করেছেন। এসব নিয়ে অতিষ্ঠ ছিলাম আমরা। কিন্তু এখন আমরা সবাই এই মাদকের বিরুদ্ধে এবং বাবা-মায়ের অধিকার আদায়ে একজোট হয়ে গেছি। কেউ আর এসব অপরাধ করে পার পেতে পারবে না। আমরা নিজেরাই প্রয়োজনে বিচার করে গ্রামছাড়া বা প্রশাসনের হাতে তুলে দিচ্ছি। কোনো অবাধ্য সন্তানকে গ্রামে থাকতে দেওয়া হবে না। যতক্ষণ না সে সংশোধন না হয়ে গ্রামে ফিরবে।’

মাদক প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও বড়াইগ্রাম উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান তারেক বলেন, বাবা-মায়ের অধিকার আদায় এবং মাদক রোধে আমরা এখন সবাই একযোগে কাজ করে যাচ্ছি। গ্রামের মানুষও শান্তিতে আছেন। কেউ কোনো বিপদে-আপদে পড়লেও আমরা সবাই গিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। একটি আদর্শ গ্রাম প্রতিষ্টায় আমরা এ কাজ করে যাচ্ছি। প্রশাসনও আমাদের সহযোগিতা করছে।

জানতে চাইলে বড়াইগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহিম বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। এতে করে সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। গ্রামবাসী মাদক প্রতিরোধে যে যে উদ্যোগ নিবে আমরা সেসব উদ্যোগে সার্পোট দিব।

আরও পড়ুন:


‘সালমান শাহ’ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২

'জীবনে অনেক ভুল করে দেউলিয়া হয়েছি'

স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মা-মেয়ের বিয়ে এক সঙ্গে!

৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা: ৮ জনের ফাঁসি


news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রার্থীর ভোট বর্জন

অনলাইন ডেস্ক

পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রার্থীর ভোট বর্জন

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম ভোট বর্জন করেছেন।

আজ রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা মোড় এলাকার জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন এবং পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের দাবি করেন।

সিদ্দিকুল আলমের অভিযোগ, এখানে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এলেও তাদের ভোট দিতে দিচ্ছে না। জাতীয় পার্টি সরকারের একটি অংশ। অথচ লাঙলের এজেন্টকে ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ক্রিকেটে ফিরতে চান শাহাদাত

প্রেমিকের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক, বিয়ের দাবিতে অনশন!


তিনি বলেন, পুলিশ সদস্য লাঙলের সমর্থকদের হুমকি দিয়ে বের দেয়। এ অবস্থায় আমার ভোট বর্জন করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। তারা আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দপুর জাতীয় পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মহেশপুর পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ:

মহেশপুর পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর ভোট বর্জন

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম চুন্নু নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার দুপুরে তিনি মহেশপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জন করেন। এ সময় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে তার এজেন্টদের রেব করে দেওয়া হয়েছে। তার ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাঁধা দিয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকজন। তাছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র ও তার আশে-পাশে দলীয় লোকজন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। বিএনপির সমর্থিত কাউকে আসতে দেখলেই তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পায় প্রতিটি বুথের ভিতরে নিয়োজিত ব্যক্তি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি। যে কারণে অবাধ, নিরপেক্ষ সুষ্টু নির্বাচন হচ্ছে না। যার ফলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। 


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ক্রিকেটে ফিরতে চান শাহাদাত

প্রেমিকের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক, বিয়ের দাবিতে অনশন!


উল্লেখ্য, মহেশপুর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুর রশিদ খাাঁন, বিএনপির এ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম চুন্নু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তাফা কিরণ প্রতিন্দ›দ্বীতা করেন। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী দুপরে নানা অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করলেন।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পৌর নির্বাচনে ভুয়া সাংবাদিককে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা

মাদারীপুর প্রতিনিধি

পৌর নির্বাচনে ভুয়া সাংবাদিককে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা

মাদারীপুর পৌর নির্বাচন চলাকালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সাইদুর রহমান নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। অনাদায়ে ৭দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১দিকে মাদারীপুর পৌরসভার চরমুগরিয়া মার্চেন্টস্ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাংবাদিক পরিচয় প্রভাব বিস্তার করছিল সাইদুর রহমান নামে এক যুবক। 


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ক্রিকেটে ফিরতে চান শাহাদাত

প্রেমিকের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক, বিয়ের দাবিতে অনশন!


বিষয়টি স্থানীয়রা দায়িত্বরত ভ্রাম্যমান আদালতকে অবহিত করলে তৎক্ষনাত ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তাকে ২ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়। অনাদায়ে ৭দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। পরে দুই হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করে অভিযুক্ত সাইদুর রহমান।

মাদারীপুর জেলা প্রাশসক কার্যালয়ের তথ্যপ্রদানকারী কর্মকর্তা এনডিসি মো. সেলিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার কাছে নির্বাচন কমিশন ইস্যুকৃত কোন কার্ড ছিল না। প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে একজনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অনাদায়ে তাকে ৭দিন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মহেশপুর পৌরসভা নির্বাচন

সাংবাদিকদের সঙ্গে বিজিবি কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

সাংবাদিকদের সঙ্গে বিজিবি কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণ

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভা নির্বাচনে পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক কামরুল আহসানের বিরুদ্ধে।

আজ রোববার সকালে বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, সকালে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোর’র ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শেখ রুহুল আমিন লাইভ সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। 

পাশে দাঁড়িয়ে ছিল চ্যানেল টুয়েন্টিফোর’র জেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন ও সময় সংবাদের জেলা প্রতিনিধি লোটাস রহমান সোহাগ। এ সময় ৫৮ বিজিরি সিও কামরুল আহসান সেখানে এতে সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেয়। তিনি সাংবাদিকদের কেন্দ্র থেকে বাইরে চলে যেতে বলে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ক্রিকেটে ফিরতে চান শাহাদাত

প্রেমিকের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক, বিয়ের দাবিতে অনশন!


সংবাদকর্মীরা বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের মোবাইল কেড়ে নেয় এক বিজিবি সদস্য। পরে মোবাইল দিয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। বিষয়টির নিন্দা জানিয়েছেন জেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা।

চ্যানেল টুয়েন্টিফোর’র প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা ভোটকেন্দ্রের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ করেই ওই কর্মকর্তা এসে আমাদের কাজে বাঁধা দেয়। মোবাইল কেড়ে নেয়। তার আচরণ মারমুখো ছিল। আমরা এটা আশা করিনি।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান বলেন, পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনের সময় বিজিবির একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার এমন অসদাচারণ মোটেও কাম্য নয়। তিনি পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনের বাঁধা দিয়েছে এটা নিন্দনীয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মাত্র ১১ দিনে শিশু নুপূর হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক


মাত্র ১১ দিনে শিশু নুপূর হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

কার্টুন দেখতে মোবাইল চাওয়ায় নিজের আট বছরের মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করেন তার বাবা। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে লাশটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। ১০ মাস আগে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

মাত্র ১১ দিনের তদন্তে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার রংপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানায়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, নীলফামারীর সৈয়দপুরের রসুলপুর রেল কোয়ার্টারে পাঁচ–ছয় বছর থেকে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন নুর মোহাম্মদ। ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল জুমার নামাজ শেষে স্ত্রী ও দুই সন্তান নূপুর (৮) ও আবু সোহানকে (৭) নিয়ে বাড়িতে টিভি দেখছিলেন নূর মোহাম্মদ। দুই সন্তানের ঝগড়ার একপর্যায়ে বড় মেয়ে নূপুর কার্টুন দেখতে বাবার মোবাইলটি বারবার চাইলে তা না দেওয়ায় বাবাকে গালি দেয় মেয়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের মেয়ের গলা চেপে ধরেন নূর মোহাম্মদ। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে নূপুর মারা যায়। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় ওই দিন সৈয়দপুর থানা-পুলিশ অপমৃত্যু মামলা করে ও লাশের ময়নাতদন্ত করে।


কারওয়ান বাজারের হাসিনা মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

দিনেদুপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ

মৌমিতাকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে


পরে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় রংপুর পিবিআই। পিবিআই পুলিশ সুপার জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেন। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নূর মোহাম্মদকে আটক করেন। নীলফামারীর সৈয়দপুর আমলি আদালত-২ এ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন তিনি। পরে নূর মোহাম্মদকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নীলফামারী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রংপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার ১০ মাস পর মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলে মাত্র ১১ দিনের মাথায় আমরা মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে সক্ষম হয়েছি।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর