মানুষের জীবনকে ওষুধ কোম্পানির মুনাফার উপরে স্থান দিতে হবে: ড. ইউনূস

অনলাইন ডেস্ক

মানুষের জীবনকে ওষুধ কোম্পানির মুনাফার উপরে স্থান দিতে হবে: ড. ইউনূস

মানুষের ইতিহাস মূলত সম্মিলিত স্বার্থে পরিচালিত হবার ইতিহাস, ব্যক্তি স্বার্থে নয়। অর্থনীতিবিদরা আমাদেরকে এটা বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছেন যে, আমরা কেবল ব্যক্তিস্বার্থেই পরিচালিত হই, আর এজন্য ব্যক্তিগত মুনাফা সর্বোচ্চ করতে কাজ করি। এখন সময় হয়েছে ব্যবসাকে পুরোপুরি সমাজের চাহিদা পূরণের কাজে নিয়োজিত করে সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে আমাদের মূল পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা; মুনাফা কখনোই মানুষের মঙ্গল ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হতে পারে না। এটা আরও বেশি সত্য আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে- যাকে ১৯৪৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংবিধানে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আমি তখন মাত্র ৬ বছরের শিশু।

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ঔষধ শিল্প- যা কোভিড-১৯ এর এই সময়ে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির জন্য সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে- করদাতাদের অর্থে অর্জিত উদ্ভাবনের ফসল নিয়ে গোপন একচেটিয়া চুক্তি করেছে, যেখানে কি-না তাদের উচিত ছিল এই ভ্যাকসিনের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্বাধিকার ও প্রযুক্তি মানবতার পরবর্তী মহৎ কর্মে স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করে দেওয়া। এই ভ্যাকসিনকে পৃথিবীর সকল জায়গায়, সকলের কাছে সম্ভাব্য সবচেয়ে কম খরচ ও সময়ে পৌঁছে দেওয়া।

এখানে ভুল বুঝাবুঝির কোনও সুযোগ নেই। আমরা যদি একযোগে, সম্মিলিতভাবে এই কাজ করতে ব্যর্থ হই তাহলে এর ফলাফল হবে ভয়ানক ও দীর্ঘস্থায়ী। এরই মধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার ধনী দেশগুলো এই ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় সবটাই তাদের জনগণের স্বার্থে তাদের নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে এবং এর ফলে নিম্ন আয়ের দেশগুলো ভ্যাকসিন পাবার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। আমরা যখন ২০২১ সালের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত, তখন এই মহামারীর একটি ভ্যাকসিন-চালিত পরিসমাপ্তির সম্ভাবনার পরিবর্তে বরং এক বিরাট নতুন সামাজিক বিভাজন দক্ষিণ গোলার্ধের অনেকের মধ্যেই ভীতি ও ক্রোধের সৃষ্টি করতে যাচ্ছে, যাদের ভ্যাকসিন আছে ও যাদের নেই- এই বিভাজন।
এই মহামারী যত বিস্তৃত হবে তত বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করতে থাকবে এবং এই ভাইরাসও তত বেশি পরিবৃত্তির ও ভ্যাকসিন-প্রতিরোধী হবার সুযোগ পাবে। এর ফল হবে সর্বত্র ভাইরাসটির নতুন নতুন প্রবাহের ঝুঁকি। 

অপরদিকে কোভ্যাক্স (COVAX) এর মতো প্রশংসনীয় বর্তমান পদ্ধতি সত্ত্বেও ২০২১ সালের শেষে পৃথিবীর সর্বত্র এই ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত ডোজ নিশ্চিত করা যাবে না। উত্তর গোলার্ধ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস এর এই জরুরি সতর্কবার্তা শুনতেই চাচ্ছে না যে, “সকলকে নিরাপদ না করা পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়।” আগামী দীর্ঘ একটি বছরে সকল দেশকে জরুরিভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সামগ্রীসমূহ সংগ্রহ করতে হবে, সর্বনিম্ন খরচে সকলের জন্য কার্যকর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণদের- যেমন স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্ক মানুষদেরকে যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন দিতে হবে।

আর এ কারণে প্রায় ১০০টি দেশ সকল কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ও এর চিকিৎসা প্রযুক্তির প্যাটেন্ট ও বুদ্ধিবৃত্তিক মালিকানার ওপর একটি ব্যাপক-ভিত্তিক সাধারণ স্বত্বত্যাগ জারি করতে এ মাসে WTO-তে একটি প্রস্তাবে সমর্থন দিচ্ছে। এই প্রস্তাবের নেতৃস্থানীয় কো-স্পন্সর দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে HIV/AIDS মহামারীতে এরই মধ্যে বিপুল মানুষের নিরর্থক প্রাণহানির মর্মান্তিক ইতিহাস রয়েছে।

এই ভ্যাকসিনকে প্যাটেন্ট-মুক্ত করার সাধারণ একটি ঘোষণার মধ্য দিয়েই পরিস্থিতির নাটকীয় উন্নতি সম্ভব। কিন্তু দুঃখজনক যে, মানুষের জীবন রক্ষার- বিশেষ করে জনবহুল দেশগুলোতে- এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পৃথিবীতে বরং একটি উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো ধনী দেশগুলো এখনও এই রেজ্যুলেশনের বিরুদ্ধাচরণ করে আসছে- যে রেজ্যুলেশন স্বল্প আয়ের দেশগুলো কর্তৃক তাদের নিজেদের জনগণের জন্য স্বল্পতম খরচে, বুদ্ধিবৃত্তিক অধিকারস্বত্ব ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হবার ভয়ে ভীত না হয়ে, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা প্রযুক্তি পাবার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। এটা সম্ভবত আরও দুঃখজনক যে, ব্রাজিল তার দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে সেসব দেশের সাথে হাত মিলিয়েছে যারা এই ভ্যাকসিনের প্যাটেন্ট-মুক্ত উৎপাদনের বিরোধিতা করে আসছে।

বিশ্ব নেতাদের এখন সময় এসেছে এটা প্রমাণ করা যে, কাউকে পেছনে ফেলে না রাখতে “চেষ্টার কোনও ত্রুটি না করার” তাদের যে ঘোষণা তার প্রতি তারা আসলেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের এখন বিশ্ববাসীকে দেখাতে হবে যে, তাদের কথার চেয়ে কাজের জোর বেশি।

চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন সম্মেলনের পূর্বে ইউরোপের সরকার প্রধানদের এখনই ঠিক করতে হবে, তারা তাদের ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থের দিকে চেয়ে তাদের দৃষ্টি নিজ নিজ দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখবেন, নাকি ভ্যাকসিন পুঁজিবাদকে পরিত্যাগ করে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বল মানুষগুলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করবেন। ইউরোপ যদি দক্ষিণ গোলার্ধের সাথে মিলিত হয়ে মানুষকে প্যাটেন্টের উপরে স্থান দেয় ও অধিকারস্বত্ব ত্যাগে দেশগুলোকে সহায়তা করে, তাহলে WTO -তে উত্থাপিত রেজ্যুলেশন অনায়াসে তিন-চতুর্থাংশ ভোটে পাশ হয়ে যাবে।

পরিবেশ সংকট এরই মধ্যে পৃথিবীতে মানবজাতিকে সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতিতে পরিণত করেছে। এখন মহামারী দক্ষিণ গোলার্ধকে ভ্যাকসিনবিহীন এবং আরও খারাপ ও নকল ভ্যাকসিনে সয়লাব করে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে ধাবিত করতে যাচ্ছে। এই ভ্যাকসিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধিবৃত্তিক অধিকারস্বত্ব বাতিলের একটি সরল সিদ্ধান্ত বিপুল সংখ্যক মানুষকে রক্ষা করতে পারে- যেমনটি পোলিও ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

পৃথিবীর সকল প্রান্তে সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ে ও খরচে একটি নিরাপদ ও কার্যকর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়ে আমরা মানবজাতি পৃথিবীর বুকে একত্রে টিকে থাকার সক্ষমতায় আমাদের পুনর্জীবিত আস্থার মধ্য দিয়ে একটি নতুন যুগের ভিত্তি রচনা করতে পারি এবং আমাদের এই বিশ্বাসকে দৃঢ়তর করতে পারি যে, আমরা মানবকুল পৃথিবীর “সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতি” থেকে আমাদের অবস্থানকে “উদ্ধারকারী প্রজাতি”তে পরিবর্তিত করতে সক্ষম। আশা করছি ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ এই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে একটি “সর্বসাধারণের সামগ্রী” ঘোষণার লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করেছেন যেখানে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ২৪ জন নোবেল লরিয়েট এবং আরও শতাধিক খ্যাতনামা বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রযুক্তিগুলো পৃথিবীর সর্বত্র সহজলভ্য করার জন্য এগুলোর বুদ্ধিবৃত্তিক মালিকানা ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বাধা-নিষেধ দূর করতে তার এই আহ্বানে এ পর্যন্ত পৃথিবীর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ যোগ দিয়েছেন।

অনুবাদ: কাজী নজরুল হক

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কারাগার থেকে নিখোঁজ কয়েদি রুবেলের খোঁজ মেলেনি এখনও

নয়ন বড়ুয়া জয়, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রাম কারাগার থেকে নিখোঁজ কয়েদি রুবেলের খোঁজ মেলেনি ২৪ ঘন্টায়ও। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে জেলার ও ডেপুটি জেলারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে দুই কারারক্ষিকেও। এক কারারক্ষির বিরুদ্ধে করা হয়েছে বিভাগীয় মামলা। ঘটনা তদন্ত করবে জেলা প্রশাসন।

৬ মার্চ শনিবার সকাল থেকে বন্দি রোবেলের কোন খোঁজ না পেয়ে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে কারা কর্তৃপক্ষ। সকালে নিয়মিত বন্দি গণনাকালে ওই বন্দির অনুপস্থিতির বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে সিনিয়র জেল সুপার এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানায় নিখোঁজ ডায়রি করার পর সকালে মামলা করেন জেল সুপার। 


পশ্চিমবঙ্গের কাছে পর্যাপ্ত পানি থাকবে তখন তিস্তা চুক্তি: মমতা

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা


এদিকে কারাবন্দি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে চট্টগ্রাম জেলার মো. রফিকুল ইসলাম এবং ডেপুটি জেলারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে দুই কারারক্ষিকেও। প্রধান কারারক্ষির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে বলে জানান ডিআইজি প্রিজন। ফজলুল হক, ডিআইজি প্রিজন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারাগার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েদির নিরাপদ স্থান কারাগার। আর সেই কারাগার থেকে আসামি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার দায় নিতে হবে কারা কতৃপক্ষকে। মেজর ( অব ) এমদাদুল ইসলাম, নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

নিখোঁজ হাজতি রুবেল সদরঘাট থানার একটি হত্যা মামলার গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন রুবেল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগে ফরহাদ হোসেন রুবেল গ্রেপ্তার হয়।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যাত্রীর রেখে যাওয়া ২০ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিল দোয়েল পরিবহন

অনলাইন ডেস্ক

যাত্রীর রেখে যাওয়া ২০ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিল দোয়েল পরিবহন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা থেকে গুলিস্তান রুটে চলাচল করে দোয়েল পরিবহনটি। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্পাঞ্চলে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল পরিবহনে উঠেন এক যাত্রী। তার নাম গনি আমিন। তিনি জমি বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা নিয়ে মেঘনা যাচ্ছিলেন।

যাত্রীর গন্তব্য মেঘনা কাউন্টারে আসলে তিনি টাকার ব্যাগ রেখে চলে যান। পরে কাউন্টারের সুপার ভাইজার, চালক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতায় ৭ মার্চ রোববার বিকেলে যাত্রীর পুরো টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন দোয়েল কর্তৃপক্ষ। 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ছেঙ্গারচর পৌরসভার গনি আমিন বলেন, ২০ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ রেখে নামার পরপরই ব্যাগের কথা মনে পরে ততক্ষণে দোয়েল পরিবহনের গাড়িটি চলে যায়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে মেঘনা কাউন্টারে গিয়ে সুপারভাইজারকে টাকা খোয়ানোর বিষয় বলি। গাড়ির নম্বর না জানায় কখন গাড়িটি গুলিস্তান থেকে ছেড়ে আসে তা জানাতেই আমাদের চা-নাস্তার ব্যবস্থা করে তারা গাড়িতে তল্লাশি করে টাকার ব্যাগের সন্ধান পায়। 


পশ্চিমবঙ্গের কাছে পর্যাপ্ত পানি থাকবে তখন তিস্তা চুক্তি: মমতা

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা


পরে আমি আমার পৌরসভার মেয়র, কমিশনারের মাধ্যমে টাকার মালিকানাসত্ত্বেও প্রমাণ দিলে তারা আমাকে সসম্মানে তা ফিরিয়ে দেয়। এ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে আমাদের পুরো পরিবারকে মারাত্মক ক্ষতি থোকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। টাকা পেয়ে আমি আনন্দে কেঁদে ফেলি। এর বিনিময়ে তাদের এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়াতে পারি নাই। উল্টো তারাই আমাদের খাওয়া-দাওয়া ও গাড়িভাড়া পর্যন্ত দিয়েছে। 

দোয়েল পরিবহনের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার প্রধান ও এমডি গোলজার ভূইয়া জানান, যাত্রীর ফেলে যাওয়া আমানত ফেরত দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। এর আগেও অনেক যাত্রীর টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র পেয়ে যাত্রীর হাতে তুলে দিয়েছি। 

তারা বলেন, আমাদের দোয়েল পরিবারের জন্য আপনারা মন খুলে দোয়া করবেন আমরা যেন সততার সঙ্গে যাত্রীসেবা দিতে পারি।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

খুলনা মহানগরীর পাওয়ার হাউজমোড়-ময়লাপোতা মোড়সহ বিভিন্ন সড়কে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে সড়ক ও জনপথ বিভাগে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি আহবান করেছেন স্থানীয়রা। একই সাথে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত ও সড়ক ও জনপথ বিভাগে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

 জানা যায়, নগরীর পাওয়ার হাউজমোড়-ময়লাপোতা মোড় সড়কটি আরসিসি ঢালাই দিয়ে নির্মানে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। যা’ ৫০ বছরের বেশি টেকসই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণ কাজের দুই সপ্তাহের মধ্যে সড়কে ঢালাইয়ের ওপরের অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। 

এরই মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তবে নিম্নমানের কাজ ধামাচাপা দিকে ২৬ ফেব্রুয়ারি সড়কটিতে বিটুমিন দিয়ে নতুনভাবে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 


যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা

সালমান খানের তোয়ালে পরা ছবি ভাইরাল

রণবীরের সঙ্গে ক্যাটরিনার খোলামেলা ছবি বিশ্বাস হয়নি সালমানের


এছাড়া বটিয়াঘাটা শোলমারী ব্রিজ নির্মাণ কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে রোববার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছে ভূক্তভোগীরা। একই সাথে সড়কে নিম্নমানের কাজে সাথে জড়িত থাকায় খুলনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাপসী দাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা এসএম শহিদুল ইসলাম বাবু, মো. টিপু, আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

 
জানা যায়, ২০১২ সালে বটিয়াঘাটার শোলমারী ব্রিজ নির্মাণে গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্লাব বসে গেলে তাপসী দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে তাকে পদায়ন দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী করা হয়। বর্তমানে তিনি তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার বিভাগীয় পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, সওজ কর্মকর্তা তাপসী দাসের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা

সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁও রুহিয়া থানায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবসে অথিতিরা রাগে ক্ষোভে অনুষ্ঠানস্থল থেকে এক এক করে বেড়িয়ে যান। রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও রুহিয়া থানায় এ আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে দিবসটি পালনের জন্য রুহিয়া থানা একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেন। সেই সভায় থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অথিতিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু অতিথিরা সঠিক সময় (দুপুর ২ টায়) উপস্থিত হয় । কিন্তু বিকাল সাড়ে ৫টা বাজলেও অনুষ্ঠান শুরু না হয়ায় অথিতিরা থানা চত্বরে তুমুল হৈ চৈ শুরু করেন। এক পর্যায়ে বলেন এদের প্রোগ্রাম এরাই করুক, আমরা চলে যাচ্ছি।

ইসমাইল, জাহাঙ্গীর, আমিনুলসহ আরও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ''আমাদের দুপুর ২ টার কথা বলা হয়েছে। আমরা সঠিক সময় এসেছি। কিন্তু এখন বাজে সাড়ে ৫ টা এখনো অনুষ্ঠান কোন শুরু হয়নি। আমরা আর কতক্ষন এখানে বসে থাকব।''

এ ব্যাপারে রুহিয়া থানার ওসি চিত্ররঞ্জন কুমার রায়ের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।


সালমান খানের তোয়ালে পরা ছবি ভাইরাল

দেব-মিমি-নুসরাত যে কারণে প্রার্থীদের তালিকায় নেই

চুম্বনের দৃশ্যের আগে ফালতু কথা বলতো ইমরান : বিদ্যা

রণবীরের সঙ্গে ক্যাটরিনার খোলামেলা ছবি বিশ্বাস হয়নি সালমানের


news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়। ছবি ফেসবুক

হঠাৎ করেই কয়েকদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা সমালোচনায় একজন ব্যক্তি। জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলির সংবাদের মন্তব্যর ঘরে দেখা যাচ্ছে তাকে মন্তব্য করতে । যে মন্তব্যতে আবার পড়ছে হাজার হাজার লাইক। এই নিয়ে করা হচ্ছে ট্রল। ফেসবুকের সব জায়গায় কমেন্টকারি এই কবীর চৌধুরী তন্ময় যদিও এসব ট্রল বা তাকে নিয়ে করা বিভিন্ন ধরণের মন্তব্যের কোনও উওর এখনও দেননি। তবে কমেন্ট ইস্যুতে চলমান আলোচনা-সমালোচনার ব্যাখা দিয়েছেন নিউজ২৪ কে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে এ ব্যাপারে  জানতে চাইলে তন্ময় নিউজ২৪ কে জানান,  বিষয়টাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি। আর এটি আমাদের কাজের কিংবা ক্যাম্পেইনের সফলতাও।

বিষয়টি নিয়ে পরিস্কার করে বললে, আমরা দেশের এবং দেশের বাইরের যেমন-ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, কানাডা, রাশিয়ার সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের ফেসবুক পেজে আমারদের ক্যাম্পেইন শুরু করি। মন্তব্য করি, বাংলাদেশকে সেখানে তুলে ধরার চেষ্টা করি। পেজে আপলোড করা ছবি, ভিডিও এবং স্ট্যাটাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মন্তব্য অর্থাৎ আমার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে মন্তব্য দিয়ে সেদেশের কিংবা উক্ত পেজের সাথে যুক্ত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মনোজগতের বিষয়টা জানার চেষ্টা করি। এমনি করে পাকিস্তানের বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রশ্ন করি, তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কি জানে, গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া বিষয় নিয়েও তাদের মতামত জানতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কয়েকটা ফেসবুক পেজে আমরা মন্তব্য করা শুরু করি। আমাদের টার্গেট ছিল আমরা ১০ দিন আমাদের সকল গণমাধ্যমের বিশেষ করে জনপ্রিয় সাইটগুলোতে আমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সামাজিক সচেতনতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং আদালত দ্বারা প্রমাণীত মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে প্রশ্ন করবো এবং উত্তর জানার চেষ্টা করবো।

আর শুরুটা অন্য ফেসবুক থেকে করা হলে তেমনটা সাড়া পাওয়া যায়নি। বলা চলে, কেউ ওই মন্তব্যগুলোতে গুরুত্ব দেয়নি। তখনই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে আমাদের ক্যাম্পেইন অর্থাৎ মন্তব্য করা শুরু করি।

 কবীর চৌধুরী তন্ময়  বলেন, সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, আমাদের ক্যাম্পেইন ১০ দিন করা লাগেনি। মাত্র দুইদিনেই যেসকল আলোচনা, সমালোচনা, ব্যক্তিগত আক্রমন, চরিত্রহনন করার চেষ্টা আমরা অবলোকন করেছি-ওইসব তথ্য প্রমাণগুলো যেমন, ব্যক্তির বয়স, পেশা, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক সচেতনতার অবস্থানগুলো নিয়ে এখন আমরা স্টাডি করার চেষ্টা করছি। ভাইরালকৃত ছবি, প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য সুত্রগুলো আমাদের যাচাইবাচাই চলছে।


অভাব দুর হবে, বাড়বে ধন-সম্পদ যে আমলে

সংবাদ উপস্থাপনায় ও নাটকে রূপান্তরিত দুই নারী

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্ট হিসাবে বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি নিউজ২৪ কে জানান, একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট কিংবা বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) সভাপতি হিসাবে আমি এটাকে অভিজ্ঞতার দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়েছি। কারণ, ডিজিটাল প্লাটফর্ম নিরাপদ রাখতে হলে, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মনোজগতের বিষয়, দায়িত্বজ্ঞান আর সচেতনতার দিকগুলো জানা আমাদের জন্য খুব জরুরী। একদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের আন্দোলন, আরেকদিকে এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কতিপয় মানুষ কি ধরণের অপপ্রচার আর ব্যক্তিগত আক্রমন করতে পারে-এটা আশাকরি আমাদের গণমাধ্যমসহ দেশবাসী অবগত হয়েছে।

কবীর চৌধুরী তন্ময় 
২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের প্রগতিশীল ও জাতি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পক্ষে একঝাঁক ব্লগার, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্টদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।  বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রগতিশীল বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে-ময়দানে দেখা যায়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি নিয়মিত কলাম লিখছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। লিখেছেন বেশ কয়েকটি বইও।

তার বাবা এম এ খালেক চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন। বড় কাকা সুজত আলী চৌধুরী স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন, যাঁর মরদেহ তিনি ও তার পরিবার আজও খুঁজে পায়নি।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর