নারীদের এগুতে দিন
নারীদের এগুতে দিন

বাকী উল্লাহ খান

নারীদের এগুতে দিন

বাকী উল্লাহ খান

প্রথম ছবিটার খবর আজকের।

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের আকন্দপাড়ার বাসিন্দা জুঁই, বয়স মাত্র ১০। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবাকে সহায়তায় মেয়ে হয়েও ভ্যান চালায় সে।

জুঁই এর কোমল হাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের হ্যান্ডেল নিয়ন্ত্রণেই চলছে তাদের বেঁচে থাকার লড়াই।

জুঁই চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার হয়, তা দিয়ে চলে তাদের ৫ সদস্যের সংসারের খরচ।  জুইয়ের বাবা জন্ম থেকে চোখে অল্প অল্প দেখতো আর বনের পাতা কুড়িয়ে সংসার চলতো। ৩ বছর ধরে চোখে আর কিছু দেখতে পায় না। জুঁই মনির বাবা জিয়াউল হক (৪২) স্বাভাবিক চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

news24bd.tv

একটা মেয়ে শিশুর গল্প শুরু হয়েছে শেষ কোথায় হবে জানিনা কারণ এমন সব খবরে দেখা যায় মেয়েটিকে সহযোগীতা দিতে এগিয়ে আসেন অনেকে। বিশেষ করে প্রবাসীদের অনেকে। দুএকজন ভ্যান চালিকা সুন্দরী নারীকে বিয়ে করেছেন প্রবাসীদের অনেকে এমন উদাহরনও আছে।

একজনকে জানি যিনি সৌদি প্রবাসীকে অনলাইনে বিয়ের পরে আর তিনি ভ্যান চালান না এখন গৃহবধু। বিদেশী টাকায় তার সংসার চলে। ছোট বোন এবং ভাইকে ও পড়াশুনা করায়। মাকেও দেখে। এ সব খরচ প্রবাসী ঐ দরদী ভাই দিয়ে মহান দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ দেখা গেছে গৃহবধু প্রাক্তন ভ্যানচালক ঐ কিশোরী এখন বোরকা পরিধান করে চলাফেরা করে। ওটা তার স্বামীর নির্দেশ। ভ্যান চালক নারী, যিনি ঐ এলাকায় সবার পরিচিত মুখ ছিলেন তার মুখটি আর ভবিষ্যতে কেউ দেখতে পাবে না। তাকে বাঁচতে আর ভ্যান চালানোর মতো ঐ ধরনের কায়েক পরিশ্রম করতে হবে না।

নারী ভ্যান চালাচ্ছেন তো আমরা অবাক হই। নারী সাইকেল চালাচ্ছেনতো আমরা আশ্চর্য হই। নারী গাড়ী চালাচ্ছেন তো আমরা বিস্মিত হই। কেন?

news24bd.tv

এবার ২য় ছবিটিতে আসা যাক। ঢাবির টিএসসির সামনের রোড়ের। ওখানে এক কিশোরী সিএনজি চালানো শিখছে। শিখাচ্ছেন অন্য একজন নারী। এই দৃশ্য দেখেও আমরা অবাক হই, বিস্মিত হই। খবর ছাপাই আহা কি কষ্ট!! কি জেন হয়ে গেছে। আমাদের বদ্ধমূল ধারণা ঐ টা মোটেই নারীর কাজ নয়।

দেশে নারী যখন ইট ভাংগে, ইটের খোয়া ভর্তি খুপরী মাথায় নিয়ে দুহাতে মাথার উপরে খুপরী ধরে বুক উঁচু করে নির্মার্ন কাজ করে তখন আমরা মোটেই বিস্মিত হই না। নারী যখন হাঁটুসমান কাদা পানিতে ধান রোপন করে সে দৃশ্য দেখেও আমরা অবাক হই না। ও সব কখনো খবরও হয় না। খবর হয় রিক্সা চালাতে গেলে, ভ্যান চালাতে গেলে, গাড়ী চালাতে গেলে।

তখন যদি ঐ নারীর চেহারা সুরত একটু সুন্দর হয় তবে দরদীদের আর অভাব হয় না। বিয়ে করে ঘরে আটকে মহান দরদী হয়ে যাই। এবং এই দরদীদের বেশীর ভাগের রয়েছে আবার একাধিক সংসার।

news24bd.tv

অবশ্যই যে কোন দূর্গত মানুষের সহযোগীতা করাটা একটা মহত কাজ। ওটা করতে ও হবে। আর দেশে দর্গত মানুষের ও অভাব নেই। তবে সহযোগীতার নামে যেন তাকে তার পেশা থেকে সরিয়ে না দেয়া হয়। বরং যিনি ভ্যান চালানো শিখে গেছে তাকে সিএনজি চালানোর সুযোগ করে দিতে হবে। পারলে ট্যাক্সি চালানোর সুযোগ করে দিতে হবে। তাকে অর্থনৈতিক ভাবে উৎপাদনশীল করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ সে নারী পারে। তার যোগ্যতা আছে। সৎ সাহস আছে। সুযোগ পেলেই সে আরো ভাল কিছু করতে পারবে।

বিদেশী টাকা পয়সা দিয়ে প্রথমে সাহায্য করে,তাঁরপর নিজের স্ত্রী বানিয়ে তাকে ঘরে বসিয়ে দিয়ে পরনির্ভরশীল করাটা নিশ্চয় কোন প্রগতিশীল বা ইতিবাচক কাজ নয়।  বরং ঐ কিশোরী নারীকে  পেশায় চালক হিসাবে উন্নত করতে পারলে তার পরিবার, সমাজ এবং দেশ উপকৃত বেশী হবে। একজন পেশাদার নারী কর্মী দেশের উত্পাদনে যুক্ত হবে।  

স্বামীর বিদেশী টাকা প্রতি মাসে খরচ করে সংসার চালানোর মধ্যে থেকে যায় পরনির্ভরশীলতা এবং ভিন্ন রকমের একটা চাপ। গহনা আর  চুড়ি হাতে পরিধান করে ঘরে অকর্মন্য হয়ে বসে থাকার চেয়ে একটু পরিশ্রমি কাজ তথা ভ্যান চালানো আরো বেশী উত্তম  কাজ। অন্যর টাকা দিয়ে বাজার করবার মধ্যে সুখ কখনো থাকেনা। থাকে নির্ভরশীল এক সম্পর্ক।

এবার আসি বাস্তব বিষয় যে জন্য এ লেখার অবতারনা।
প্রশ্ন, নারি কি চালকের পেশায় বেমানান?
নিশ্চয় নয়।

news24bd.tv

উন্নত দেশের নারীদের ৮০ ভাগই গাড়ী চালান। শতভাগই সাইকেল চালান। সাইকেলে ভ্যানের মতো আলাদা অংশ যুক্ত করে বাজার ঘাট করেন। নিজের সন্তানদের বহন করেন।

ব্যক্তিগত গাড়ী চালানোর সাথে সাথে পেশাদার হিসাবে ৩৫ ভাগ নারী ট্যাক্সি, ট্রাক, ট্রাম, ট্রেন এবং বাস  ইত্যাদি পেশায় সম্মানের সাথে তাদের চাকুরী করে থাকেন। অনেক নারী ট্রাক নয় লরি পর্যন্ত ড্রাইভ করেন। ক্রেন চালান। রং মিস্ক্রীর ৭০ ভাগ পেশা নারীদের দখলে।

নারীরা এমন করেই নিজেদের শক্তি সামার্থ আর যোগ্যতা দিয়ে সমাজে পুরুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটা দেশকে উন্নত করতে পেরেছেন।  আর এটাই হলো প্রগতির রাস্তা।  

নারীকে সে পথে চলবার সুযোগ করে দিতে হবে। নারী এ পথে সহজেই নিজের জায়গা দখল করে নিতে পারবে।

নারী অবশ্যই খুপরীর ভিতর আটকে রাখবার কোন বস্তু আর এখন নাই।  নারী সাংবাদিকতা করবে তাই গুলি করে মেরে ফেলতে হবে সেটা কোন সভ্যতার মধ্যে পরে না।

দান দক্ষিনা করে অসহায় নারীকে তিন চার নম্বর স্ত্রী বানানো টা কোন সভ্যতার মধ্যে পরে না।

এগুলো হলো নিছক ভোগের বিষয়! লোক দেখানো দরদী সাজা ব্যাতিত কিছুই নয়।  তাই দরদী যদি সাঁজতে চান, অন্তর দিয়ে সাহায্য  করে তাকে আত্মনির্ভর করে দিন।  ভ্যান চালাতে পারেন তাকে একটা সিএনজির ব্যবস্থা করে দিন।
তাকে আর আপনার উপর নির্ভর করতে হবে না।  নির্ভরশীল করে বিয়ে না করে ভালবেসে নির্ভরশীল হউন। দেখবেন সমাজটা বদলে যাবে দ্রুত।

৩য় এবং পরের দুটো ছবি উন্নত দেশের ট্রাম এবং ট্রেন চালক নারীর। নারীরা পারেন সেটা আমরা উন্নত দেশে সবাই দেখছি তবে নিজেরা নিজেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগে যাব না।  ঐ শিক্ষাটা গ্রহন করতে আমাদের রয়েছে অন্য শিক্ষায় বাঁধা । অন্য শিক্ষা দিয়ে আমরা নারীকে খুব সহজেই নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিতে পারি।

এবার আসি  ভিডিও ফুটেজটুকুতে। কদিন পূর্বে এক মধ্য রাতে করা। একটা বিশেষ পরিবহন সাইকেলের সামনের খোলে আমি বসে আছি। পুরো ব্রিজের উচুতে ও  সাইকেল থেকে না নেমে এক নারী তার প্যাটেল মেরে ছুটে চলছে আমাকে সাইকেলের খোলে বসিয়ে আমার বাসার পথে। গভীর রাত। মজা করতে করতেই এমন কাজটি সে করছিল। আমি হেটে হেটে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরবো।
 
কিছুটা পথ গল্প শেষে ওকে বিদায় দিলাম। কিছু দূর গিয়ে সাইকেল নিয়ে ফিরে এসে বললো, বাকি তুমি সাইকেলে উঠে বস,তোমাকে আমি বাসায় পৌছে দেই। আমি দেখবার জন্যই ভয়ে ভয়ে উঠে বসলাম  সাইকেলে করা রিক্সার মতো সিটে।
ও পিছনে বসে সাইকেল চালাচ্ছে আর আমি সামনে বসা। আমি বিস্মিত হলাম, ঐ নারীর সাইকেল চালানো দেখে।

বাংলাদেশে নারীর হাতে ভ্যান বা সাইকেল দেখে যারা বিস্মিত হন আর আমার এ বিস্মিত হওয়ার ফারাকটা একদমই উল্টো।
আমি ঐ নারীর স্টামিনা, ফিটনেস এবং  লড়াইয়ে টিকে থাকবার সাহস দেখে বিস্মিত হয়েছি।
সাইকেল রিক্সা চালালে নারীর ইজ্জত যাবে, সাইকেল ভ্যান চালানো নারীর জন্য বেমান তা ভেবে আমি বিস্মিত হয়নি ।

ভাববেন না যেন আমার সাইকেল চালক তিনি একজন যেনতেন নারী!! বরং  তিনি একজন আইন কর্মকর্তা। আইন বিষয়ে আইন স্টাইনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। তিনি একজন পরিবেশবাদী রাজনীতিবিদ এবং নেত্রী স্থানীয় নারী অধিকার কর্মী।

দেশটাকে বিশ্বের অন্য দেশের মতো করে উন্নত করতে চাইছেন? তো, নারীকে মর্যাদা দিয়ে সকল পেশাতে পারদর্শী করে তুলতে হবে। পেশাদার করে তুলতে হবে।  দেখুন শুধু পোষাক শিল্পে!

নারী বিপ্লব এনেছে। নারীকে আর এতটুকু সুযোগ দিলে সে সমাজটা পুরোপুরি বদলে দিবে।  বরং সিএনজির সকল চালক আমাদের নারীর হাতে দিয়ে পুরুষদের যাওয়া উচিত আরো ভারী কাজে। ক্ষেত খামারের কৃষি উত্পাদনে। এক সমীক্ষায় বলছে, নারীদের হাতে সড়ক বেশী নিরাপদ। নারীরা ড্রাইভার হিসাবে উগ্র হয় না। বেপড়োয়া  হয় না। নারীর হাতে রাস্তা বরং বেশী নিরাপদ।

সেক্ষেত্রে বরং নারীকে ড্রাইভার হিসাবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষন কেন্ত্র খোলা উচিত। স্কুলে ট্রেড খুলে নারীকে চালকের পেশায় নিয়ে আসা উচিত।  নারী চালক দেখে যাদের চোখ কুঁচকে উপরে উঠে যায় তাদের ভ্রান্ত দৃষ্টি ভংগী বদলাতে হবে। মানতে হবে নারীও পারে। নারীও মানুষ এবং সে অধিকার রাখে।


ভিডিও'তে যা দেখলাম, চোখ কপালে উঠার জোগাড়!

‌‘জ্বর নয়, ইনফেকশনের চিকিৎসা হোক’

মৌলবাদ বিরোধী সমাবেশ

রিয়াদে বাংলাদেশ থিয়েটারের কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত

তুষার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর পূর্বাঞ্চল


যারা মানবীক ভাবে সহযোগীতা করতে চাইছেন তারা ঐ নারীকে স্বাভলম্বী করুন। বিয়ে করে পংগু করবেন না।

বিদেশী টাকায় আমরা অনেকে ফুটানী করে, বাহাদুরী করে, টাকা পাঠিয়ে নিজের স্ত্রীকে শুধু নয়, নিজেদের ভাইবোনদেরকে পংগু করে দিয়েছি।

অনেকের স্ত্রী দেশে কর্মের সাথে যুক্ত ছিল, বিদেশে এসে তিনি আর তাকে চাকুরী করতে দেন নি। অনেকে চাকুরী ও ছাড়িয়েছেন এবং সময় মতো আবার নিজের বয়সী স্ত্রীকে ও ছেড়ে দিয়ে কচি নারী বিয়ে করে নতুন সংসার করেছেন। ঐ নারীর নিজের চাকুরীও এক সময় গেছে, সংসার ও গেছে। অথচ পূর্বের চাকুরী থাকলে তার কষ্টটা আর অত হতো না।
এমন উদাহরন রয়েছে প্রচুর।

অনেকের ভাই বোন বিদেশী টাকা পেয়ে পড়া শুনা না করে ফুঁটানি করেছেন। অনেকে ছোট ভাইকে মটর সাইকেল কিনে দিয়ে প্রতিমাসে তেলের খরচ দিয়ে গেছেন। নিজে পারেন নাই তাই ছোট ভাইকে দিয়ে শখ মিটিয়েছেন।

একসময় নিজের সংসার হয়েছে। ছোট ভাইকে সাইকেলের তেলতো দুরের কথা তার সংসারের খরচও দিয়েও  আর সহযোগীতা করতে পারেন নি। ফুটানি ওয়ালা ভাইয়ের পক্ষেও আর ভাল কোন চাকুরী করা সম্ভব হয়নি। বিদেশীর ভাই তাই যে কোন কাজ করতেও তার ইজ্জতে বাঁধা পরে।

এমন করে লাখ ছোট ভাই অমানুষ হয়েছে। আত্ম নির্ভরশীল হতে পারে নি। আমাদের দরকার সবাইকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। বিদেশে আয় করা কষ্টের টাকা দিয়ে পরিবারের সবাইকে পেশাদার আর দক্ষ করে গড়ে তোলা। তবেই দেশটা সমানতালে উন্নত হবে। হউক সে পুরুষ অথবা নারী।

news24bd.tv নাজিম