ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়বেন

দিন ও রাত্রির সৃষ্টি আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের এক বড় নিদর্শন এবং সকল মাখলুকের জন্য মহা নিয়ামত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতে অগণিত অসংখ্য মাখলুক সৃষ্টি করে প্রত্যেককে তার পরিধিতে সংসার জীবন প্রতিপালনে ব্যস্ত করে রেখেছেন এবং এ সকল কাজে সকল মাখলুকের মাঝে ক্লান্তি আসে; আবার তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন ঘুমের মাধ্যমে।

আল্লাহ বলেন, `তোমাদের ঘুম বা নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী হিসেবে। রাত্রিকে করেছি আবরণ। দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়।` (সুরা আন-নাবা; আয়াত -৯, ১০ ও ১১)

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

ঘুমের মাধ্যমে মানুষের প্রশান্তি লাভের পর ঘুম থেকে উঠার সময় মানুষকে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করার কথা বলেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে, আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর। (সহিহ বুখারী)

হযরত হুযাইফা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তিনি জাগ্রত হতেন তখন বলতেন, সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর জন্য। যিনি আমাদেরকে মারার পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। (সহিহ বুখারী, রিয়াদুস সালেহীন-৮১৭)।

অতঃপর কালিমাতুশ শাহাদাত পড়বে-
আশহাদুআল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু।

তথ্যসূত্র : সহিহ বুখারী, রিয়াদুস সালেহীন।

নিউজ টোয়েন্টিফোর বিডি / কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে ৭টি কাজ ছেড়ে দিতে বলেছেন রাসুল (সা.)

অনলাইন ডেস্ক

যে ৭টি কাজ ছেড়ে দিতে বলেছেন রাসুল (সা.)

মানুষের কিছু অপরাধ তাকে ধ্বংস করে দেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সাতটি কাজ ছেড়ে দিতে বলেছেন। যে কাজগুলো মানুষ নিশ্চিত ধ্বংস হবে। জাহান্নামই হবে তার স্থান। হাদিসে পাকে এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ ছেড়ে দাও। সাহাবাগণ জানতে চাইলেন, সেগুলো কী? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-

*আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কাউকে শরিক করা।
*জাদু করা।
*অন্যায়ভাবে কোনো প্রাণ সংহার (কাউকে হত্যা) করা।
*সুদ খাওয়া।
*ইয়াতিমের সম্পদ গ্রাস করা।
*যুদ্ধ থেকে পলায়ন করা।
*মুমিনা নারীর প্রতি অপবাদ দেয়া।' (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রিয় উম্মতদের বরাবরই এই সাত ধরণের অপরাধ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করতেন। আজ আমরা জানব এমন সাতটি ধ্বংসকারী বস্তু সম্পর্কে। যেগুলোর ব্যাপারে রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে সতর্ক করেছিলেন। হাদিসে ঘোষিত এ বিষয়গুলো কুরআনুল কারিমের একাধিক স্থানে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। তাহলো-

শিরক
শিরক অনেক বড় অপরাধ। হজরত লোকমান তার ছেলেকে শিরক না করতে নিষেধ করেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেন-
‘যখন লোকমান উপদেশ স্বরূপ তার ছেলেকে বলল, হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে শরিক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা মহা অন্যায়।’ (সুরা লোকমান : আয়াত ১৩)

জাদু করা
ইসলামে জাদু মারাত্মক অপরাধ। যারা জাদু করে আখেরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। মহান আল্লাহ কুরআনুল কারিমে তা সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘তারা ভালোভাবেই জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্মবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১০২)

অন্যায়ভাবে হত্যা করা
হত্যা ইসলামে জঘন্য অপরাধ। আর মানুষ হত্যা মানবতা হত্যার শামিল। গুম খুন হত্যা এত মারাত্মক অপরাধ যে, হত্যাকারীর ওপর থেকে আল্লাহ তাআলার রহমতের ছায়া সরে যায়। যাতে মানুষ মানবতা হত্যার মতো মহা অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে সে জন্য কেসাসের বিধান দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘স্বাধীন ব্যক্তি হত্যার বদলায় স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা কর; দাসের বদলায় দাস, নারীর বদলায় নারীকে হত্যা করা।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৭৮)

হাদিসে এসেছে, ‘কেয়ামতের দিন মানুষের মাঝে সর্বপ্রথমে যে বিষয়ে ফয়সালা হবে; তাহলো রক্তপাত বা হত্যা।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)


‘চুম্বন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যয়নের আগে একান্তে সময় কাটাই’

শেবাগ-শচিনের জুটিই হারিয়ে দিল বাংলাদেশকে

মন্ত্রী ও বিধায়ককে বাদ দিয়ে প্রার্থী চূড়ান্তে মমতার চমক!

শনিবার ঢাকার যে এলাকায় যাবেন না


সুদ খাওয়া

সুদের আদান-প্রদান ইসলামে মারাত্মক অপরাধ। সুদের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে মানুষ জাহান্নামি হবে। সুদের কার্যক্রম পরিহার না করাকে ইসলামের সঙ্গে যুদ্ধ করার শামির বলে ঘোষণা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। কুরআনে এসেছে-
‘যারা সুদ খায়, তারা কেয়ামতে দাঁড়াবে, যেভাবে দাঁড়াবে ঐ ব্যক্তি; যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে, ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই! অথচ আল্লাহ তাআলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন আর সুদ হারাম করেছেন। অতপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে (সুদ) বিরত হয়েছে, আগে যা হয়েগেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোজখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭৫)

ইয়াতিমের সম্পদ দখল করা
সমাজের সবচেয়ে অসহায় হলো ইয়াতিম। তাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করা মারাত্মক অন্যায়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ইয়াতিমদের প্রতি উত্তম আচরণ ও তাদের সম্পদ হেফাজত করার কথা বলেছেন। এর ব্যতিক্রম হলে ভোগ করতে হবে কঠিন পরিণতি। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘যারা ইয়াতিমদের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে (দখল করে) খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করেছে এবং অতিদ্রুত তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১০)

যুদ্ধের ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া
ইসলামে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজ। ইসলামে বিশ্বাসঘাতকতা হারাম বা কবিরাহ গোনাহ। কুরআনুল কারিমে এ কাজের শাস্তি জাহান্নাম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখি হবে, তখন পশ্চাৎপসরণ (পলায়ন) করবে না। আর যে লোক সেদিন তাদের থেকে পশ্চাৎপসরণ করবে (পালিয় যাবে), অবশ্য যে লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তনকল্পে কিংবা যে নিজ সৈন্যদের কাছে আশ্রয় নিতে আসে, সে ব্যতীত অন্যরা আল্লাহর গজব সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। বস্তুত সেটা হলো নিকৃষ্ট অবস্থান। (সুরা আনফাল : আয়াত ১৫-১৬)

মুমিনা নারীর প্রতি অপবাদ দেয়া
সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া ইসলামে হারাম বা কবিরা গোনাহ। দুনিয়াতে অপবাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে রয়েছে কঠিন শাস্তির ঘোষণা। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি। 

আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতপর স্বপক্ষে চারজন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও (কোনো বিষয়ে) তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই নাফারমান। কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।’ (সুরা নুর : আয়াত ৪-৫)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নায় ঘোষিত উল্লেখিত সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যেসব আমলে গোনাহ মাফ হয়

অনলাইন ডেস্ক

যেসব আমলে গোনাহ মাফ হয়

গোনাহ এমন একটি বিষয়, যা একের পর এক করতে থাকলে মুমিন নারী-পুরুষের ঈমানি নূর নিভে যেতে থাকে। যা এক সময় তাকে জাহান্নামের পথে পরিচালিত করে। পাপের অশুভ পরিণতি ও তার বহুবিধ ক্ষতিকর দিক রয়েছে। পাপের কারণে দ্বীনের ইলম পাপীর হৃদয়ে প্রবেশ করে না, পাপে জড়িত থাকলে আল্লাহর আনুগত্য করা সম্ভব হয় না, আল্লাহর অনুগ্রহ পূর্ণরূপে তার প্রতি থাকে না, পাপী দুনিয়াতেই লাঞ্ছনার স্বীকার হয় (এছাড়া আখেরাতে অবমাননাকর শাস্তি তো আছেই), লজ্জা-শরম দূর হয়ে যায়, গোনাহের পরিণতি জাহান্নাম, পাপের কারণে মানুষ হিংস্র ও পশু স্বভাবের হয়ে ওঠে, বরকত চলে যায় ও হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা শরীয়তে এমন কতিপয় আমল বাতলে দিয়েছেন যা সম্পাদন করলে গোনাহসমূহ মাফ হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) পাপের ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেন,إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّهُنَّ يَجْتَمِعْنَ عَلَى الرَّجُلِ حَتَّى يُهْلِكْنَهُ  ‘তোমরা তুচ্ছ-নগণ্য পাপ থেকেও বেঁচে থাক। কেননা তা যার মধ্যে একত্রিত হ’তে থাকবে তা তাকে ধ্বংস করে ছাড়বে’। (মুসনাদে আহমাদ; সহিহুল জামে‘ হা/২৬৮৭)।

এখানে কোরআন-হাদিসের আলোকে এরকম কিছু আমল তুলে ধরা হলো-

গোনাহ মোচনকারী আমল সমূহ

মানব জীবনে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঈমান আনয়ন করা। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (সা.) এর আনুগত্য করা। অর্থাৎ আমলে সালেহ সম্পাদন করা। ইসলামী শরী‘আতে এমন অনেক আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে বান্দার গোনাহ মাফ হয়ে যায়। আলোচ্য নিবন্ধে পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এরকম কিছু আমল তুলে ধরা হলো-

পরিপূর্ণভাবে ওজু করা ও মসজিদে গমন করা

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ. قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ-

‘আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজের কথা জানাব না, যা করলে আল্লাহ বান্দার গোনাহ ক্ষমা করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি বলুন। তিনি বললেন, কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণাঙ্গরূপে ওজু করা, সালাতের জন্য অধিক পদক্ষেপে মসজিদে যাওয়া এবং এক সালাতের পর আরেক সালাতের জন্য অপেক্ষায় থাকা। আর এ কাজগুলোই হলো প্রস্তুতি (রিবাত)’।  (মুসলিম হা/৬০১; আহমাদ হা/৪৭৬; তিরমিযী হা/৫১; ইবনু মাজাহ হা/৪২৮)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন,

مَنْ تَوَضَّأَ هَكَذَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَكَانَتْ صَلاَتُهُ وَمَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ نَافِلَةً

‘যে ব্যক্তি এভাবে (উত্তমরূপে) ওজু করে, তার পূর্বেকার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। ফলে তার সালাত ও মসজিদে যাওয়া অতিরিক্ত আমল বলে গণ্য হয়’। (মুসলিম হা/৫৬৬; ইবনু মাজাহ হা/২৮২)। তিনি আরো বলেন,

إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيْئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ، فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيْئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ، فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيْئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلاَهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ.

‘কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা ওজুর সময় যখন মুখমন্ডল ধুয়ে ফেলে তখন তার মুখমন্ডলের গোনাহ পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন তার দুই হাতের স্পর্শের মাধ্যমে অর্জিত সব গোনাহ পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে বের হয়ে যায়। অতঃপর যখন সে তার পা দু’খানা ধৌত করে তখন তার দুই পা দিয়ে হাঁটার মাধ্যমে অর্জিত গোনাহ পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে ঝরে যায়। এভাবে সে যাবতীয় গোনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়’। (মুসলিম হা/২৪৪; আহমাদ হা/৮০২০)।


কেয়ামতের যত আলামত দৃশ্যমান

সূরা কাহাফ তিলাওয়াতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার কৌশল


 

ওজুর পর সালাত আদায় করা
ওসমান বিন আফফান (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) পূর্ণাঙ্গরূপে ওজু করার পর বলেন,

مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِى هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، لاَ يُحَدِّثُ فِيْهِمَا نَفْسَهُ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

‘যে ব্যক্তি আমার এ ওজুর ন্যায় ওজু করার পর একাগ্রচিত্তে দু’রাকা‘আত সালাত আদায় করবে এবং এ সময় অন্য কোনো ধারণা তার অন্তরে উদয় হবে না। তাহলে তার পূর্বেকার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’।  (বুখারি হা/১৫৯, ১৬৪; মুসলিম হা/২২৬; আহমাদ হা/৪১৮)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,

لاَ يَتَوَضَّأُ رَجُلٌ مُسْلِمٌ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ فَيُصَلِّى صَلاَةً إِلاَّ غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلاَةِ الَّتِى تَلِيْهَا-

‘কোনো মুসলিম উত্তম রূপে ওজু করে সালাত আদায় করলে পরবর্তী ওয়াক্তের সালাত পর্যন্ত তার সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়’। (মুসলিম হা/২২৭)।

তিনি আরো বলেন,

مَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاَةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلاَّ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ

‘যখন কোনো মুসলিমের নিকটে ফরজ সালাতের সময় উপস্থিত হয়, তখন যদি উত্তমরূপে ওজু করে এবং একান্ত বিনীতভাবে সালাতের রুকূ, সিজদাহ ইত্যাদি আদায় করে তাহলে সে পুনরায় কবীরা গোনাহে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার পূর্বেকার সমস্ত গোনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। আর এরূপ সারা বছরই হতে থাকে’। (মুসলিম হা/১৩৮; মিশকাত হা/২৮৬)।

আরাফার দিন ও আশূরার সিয়াম পালন করা
রাসূলুল্লাহ (সা) এরশাদ করেন,

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّى أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ وَالَّتِى بَعْدَهُ.

‘আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট আরাফার দিনের সিয়াম সম্পর্কে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গোনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন’। (তিরমিযী, হা/৭৪৯, সহিহ ইবনু মাজাহ হা/১৭৩০; মিশকাত হা/২০৪৪)।

আশূরার সিয়াম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,

وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ

‘আশূরা বা ১০ই মুহাররমের সিয়াম আমি আশা করি আল্লাহর নিকটে বান্দার বিগত এক বছরের (সগীরা) গোনাহের কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে’। (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৪৪)।

খুশূ-খুযূ বা বিনয় ও একাগ্রতার সঙ্গে সালাত আদায় করা 
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,

خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللهُ تَعَالَى مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلاَّهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوعَهُنَّ وَخُشُوعَهُنَّ كَانَ لَهُ عَلَى اللهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ لَهُ عَلَى اللهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ.

‘আল্লাহ তায়ালা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি উত্তম রূপে ওজু করবে, সঠিক সময়ে সালাত আদায় করবে এবং সালাতের রুকূ-সিজদাহ ও খুশূ-খুযূকে পরিপূর্ণ করবে, তার জন্য আল্লাহর উপর প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, তিনি তাকে ক্ষমা করবেন। আর যে এরূপ করবে না, তার জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছে করলে ক্ষমা করবেন অথবা শাস্তি দেবেন’। (আবু দাউদ হা/৪২৫; সহিহ আত-তারগীব হা/৫৭২; মিশকাত হা/৫৭০, সনদ সহিহ)।  

তওবা করা
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা নয়, যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহ পরিবর্তন করে দিবেন নেকি দ্বারা। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

উপরোক্ত আমলসমূহ যথাযথভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে আমরা পাপ মোচনের জন্য চেষ্টা করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেক মুমিন নারী-পুরুষের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন। অধিক হারে নেকি অর্জনের তাওফিক দিন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসের পথ সহজ করে দিন। আমিন!

 news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ফজিলতপূর্ণ যেসব ছোট দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

ফজিলতপূর্ণ যেসব ছোট দোয়া পড়বেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো কঠিন সমস্যা বা বিপদের সম্মুখীন হতেন, তখনই আল্লাহর কাছে একান্তভাবে প্রার্থনা করতেন। বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, এমন অনেক দোয়া পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। দোয়াগুলো ছোট, সহজে মুখস্থও করা যায়। দেহ সজীব ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য যেমন খাবার বা আহারের প্রয়োজন, তেমনি কলব বা রুহকে জীবিত রাখার জন্যও খাবারের প্রয়োজন হয়। আর রুহ বা কলবের সেই খাবার হলো আল্লাহর জিকির করা। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হোয়ো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫২)।

 (১) ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺗَﻘَﺒَّﻞْ ﻣِﻨَّﺎ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟﻌَﻠِﻴﻢُ (রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম) অর্থঃ হে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! আমাদের প্রচেষ্টাকে কবুল কর। নিশ্চয় তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী!

(২) ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻣُﺴْﻠِﻤَﻴْﻦِ ﻟَﻚَ ﻭَﻣِﻦ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻨَﺎ ﺃُﻣَّﺔً ﻣُّﺴْﻠِﻤَﺔً ﻟَّﻚَ ﻭَﺃَﺭِﻧَﺎ ﻣَﻨَﺎﺳِﻜَﻨَﺎ ﻭَﺗُﺐْ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺂ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ (রাব্বানা ওয়াজআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন যুররিইয়াতিনা উম্মাতাম মুসলিমা তাল্লাকা ওয়া আরিনা মানা ছিকানা ওয়া তুবআলাইনা ইন্নাকা আনতাত্তাওয়াবুর রাহিম।) অর্থঃহে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! আমাদেরকে আত্মসমর্পনকারী বানাও এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি আত্মসমর্পনকারী উম্মত সৃষ্টি করো। আমাদেরকে তোমার ইবাদতের পদ্ধতি শিক্ষা দাও এবং আমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করো। কারণ তুমিই পুনঃ পুনঃ সদয় দৃষ্টিপাতকারী, পরম দয়াময়।

(৩) ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺁﺗِﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻭَﻓِﻲ ﺍﻵﺧِﺮَﺓِ ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻭَﻗِﻨَﺎ ﻋَﺬَﺍﺏَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ (রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান্নার) অর্থঃহে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বোত্তম কল্যাণ দান করো এবং আগুনের আযাব হতে আমাদের রক্ষা করো।


কেয়ামতের যত আলামত দৃশ্যমান

সূরা কাহাফ তিলাওয়াতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার কৌশল


(৪) ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻻَ ﺗُﺆَﺍﺧِﺬْﻧَﺎ ﺇِﻥ ﻧَّﺴِﻴﻨَﺎ ﺃَﻭْ ﺃَﺧْﻄَﺄْﻧَﺎ (রাব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাছিনা আও আখতানা) অর্থঃহে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাকড়াও করোনা যদি আমরা ভুলে যাই ও ভুলবশত ত্রুটিবিচ্যুতি করে বসি। (৫) ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻻَ ﺗَﺤْﻤِﻞْ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﺇِﺻْﺮًﺍ ﻛَﻤَﺎ ﺣَﻤَﻠْﺘَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒْﻠِﻨَﺎ (রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আ’লাল্লাযিনা মিন ক্বাবলিনা) অর্থঃহে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! তুমি আমাদের ওপর এরুপ দায়িত্বভার অর্পন করোনা যেরুপ দায়িত্বভার অর্পন করেছিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর!

(৬) ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻻَ ﺗُﺤَﻤِّﻠْﻨَﺎ ﻣَﺎ ﻻَ ﻃَﺎﻗَﺔَ ﻟَﻨَﺎ ﺑِﻪِ ﻭَﺍﻋْﻒُ ﻋَﻨَّﺎ ﻭَﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨَﺎ ﺃَﻧﺖَ ﻣَﻮْﻻَﻧَﺎ ﻓَﺎﻧﺼُﺮْﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِﻳﻦَ (রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাকাতা লানা বিহি। ওয়া’ফুআন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলানা ফানছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন।) অর্থঃহে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! তুমি আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিওনা যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। তুমি আমাদের মার্জনা করো, আমাদের ওপর ক্ষমা করো, আমাদের প্রতি রহম করো। (কারণ) তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং, কাফেরদের বিরুদ্ধে তুমি আমাদের সাহায্য করো।

নবী করিম (সা.) বলেছেন, সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। আরও পড়তে পারেন সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার।

আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করার আগে প্রথমে দরুদ পড়া এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ উভয় দরুদ কবুল করেন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজের ভেতরে-বাইরে ১৩ ফরজ

অনলাইন ডেস্ক

নামাজের ভেতরে-বাইরে ১৩ ফরজ

নামাজ আল্লাহর নির্দেশ। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও দ্বিতীয় রুকন। যা প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম পুরুষ ও মহিলার জন্য আদায় করা ফরজ।

নামাজের ভেতরে ও বাইরে মোট ১৩টি ফরজ (অবশ্য পালনীয়) কাজ রয়েছে। ফরজগুলো তুলে ধরা হলো-

নামাজের ভেতরে সাতটি ফরজ:

১. তাকবিরে তাহরিমা : আল্লাহর মহত্ত্ব প্রকাশ পায় এমন শব্দ দ্বারা নামাজ আরম্ভ করা ফরজ। আর তা হচ্ছে তাকবিরে তাহরিমা তথা আল্লাহু আকবার। যা দ্বারা নামাজের বাহিরের সব ধরণের কাজকে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন- তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। (সুরা মুদদাসসির : আয়াত ৩)

২. কিয়াম করা : নামাজের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়ানো। আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াবে। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ২৩৮)

৩. কিরাত পড়া : সুরা ফাতিহার পর সুরা মিলানো। ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাআতে এবং ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল নামাজের সব রাকাআতে সুরা মিলানোই ফরজ। আল্লাহ বলেন- তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয়, ততটুকু পড়। (সুরা মুযযাম্মিল : আয়াত ২০)

৪. রুকু করা : প্রত্যেক রাকাআতে একবার রুকু করা ফরজ। রুকু হচ্ছে- দাঁড়ানো থেকে অর্ধনমিত হওয়া, যেন দু`হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌছে যায়। মাথা এবং পিঠ এক সমান্তরালে চলে আসে। আর বসে নামাজ পড়ার সময়ও ঝুঁকতে হবে, যেন কপাল হাঁটু বরাবর গিয়ে পৌঁছে। আল্লাহ বলেন-তোমরা রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু কর। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ৪৩)

৫. সিজদা করা : প্রতি রাকাআতে দু`টি সিজদা করা ফরজ। সিজদার সময় নাক ও কপাল মাটিতে রাখা। আল্লাহ বলেন- হে ঈমানদারগণ! তোমরা রুকু কর এবং সিজদা কর। (সুরা হজ : আয়াত ৭৭)

৬. শেষ বৈঠকে বসা : নামাজের শেষ রাকাআতে সিজদার পর তাশাহহুদ পড়তে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু পরিমাণ সময় বসা (অবস্থান করা) ফরজ। তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, দরূদ ও দোয়া পড়া সুন্নাত।

৭. সালাম ফিরানো : সালামের মাধ্যমে নামাজ সমাপ্ত করা ফরজ।


আমি সত্যের পক্ষে থাকব, সত্যেও কথা বলব: এমপি একরাম

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার রক্ষা; সাহসী উদ্যোগ বৈশাখী টিভির

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ: হানিফ

যে কারণে বুড়ো সাজলেন রনবীর


নামাজের বাইরে ছয়টি ফরজ:

(১) শরীর পাক হওয়া। (সুরা মায়িদাঃ ৬)

(২) কাপড় পাক হওয়া। (সুরা মুদাছছিরঃ ৪)

(৩) নামাজের জায়গা পাক হওয়া। (সুরা বাকারাঃ ১২৫)

(৪) সতর ঢাকা। (অর্থাৎ পুরুষগণের নাভী হতে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং মহিলাদের চেহারা, কব্জি পর্যন্ত দুইহাত এবং পায়ের পাতা ব্যাতিরেকে সমস্হ শরীর ঢেকে রাখা)। (সুরা বাকারাঃ ১৪৪)

(৫) কিবলামুখী হওয়া। (সুরা বাকারাঃ ১৪৪)

(৬) ওয়াক্ত মত নামাজ পড়া। (সুরা আন’নিসাঃ ১০৩)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কেয়ামতের যত আলামত দৃশ্যমান

অনলাইন ডেস্ক

কেয়ামতের যত আলামত দৃশ্যমান

কোরআনের অসংখ্য আয়াতে ও হাদিসে কেয়ামত ও কেয়ামতের নিদর্শনবলী বর্ণিত হয়েছে। এই নিদর্শনাবলী পাঠে রয়েছে বহুবীধ কল্যান। প্রথমত, হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যৎবাণীগুলো সত্য হতে দেখলে ঈমান দৃঢ় হয়, এবং মন আমলের প্রতি উৎসাহী হয়। দ্বিতীয়ত, ফিতনাকে চেনা সহজ হয় এবং আগত নতুন ফিতনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

কেয়ামতের আলামতগুলো দু’প্রকার। ক্ষুদ্রতম আলামত ও বৃহত্তম আলামত। ক্ষুদ্রতম আলামতের সংখ্যা অসংখ্য। এর মধ্যে কিছু আলামত ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে, যেমন- রাসূল (সাঃ)- এর আবির্ভাব, চন্দ্র বিদারণ, বিভিন্ন ভণ্ড নবী দাবীদারদের আগমন ইত্যাদি। আর বাকি আলামত প্রকাশ হচ্ছে এবং সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা বান্দার সতর্কতা জন্য দেড় হাজার বছর আছে কুরআনুল কারিমে সব বলে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘একমাত্র আপনার মহিমায় এবং মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া পৃথিবীর সবকিছুই ধ্বংসশীল।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ২৬-২৭)

তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া হাদিসে পাকে কেয়ামতের আগে সংঘটিত অনেকগুলো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। যার অনেক কিছুই সমাজে দেখা যাচ্ছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী বুঝা যাচ্ছে যে, কেয়ামত খুবই সন্নিকটে। মানুষ চরম বাড়াবাড়িতে লিপ্ত। তাই কেয়ামত সম্পর্কে সজাগ থাকতে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত আলামতগুলো তুলে ধরা হলো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

*মানুষ যখন অবৈধভাবে সম্পদ উপার্জনে প্রতিযোগিতা করবে;

*গচ্ছিত সম্পদের তথা আমানতে খেয়ানত করবে;

*জাকাত দেয়াকে জরিমানা মনে করবে;

*ধর্মীয় শিক্ষা বাদ দিয়ে (জাগতিক) বিদ্যা অর্জন করবে;

*পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে;

*মায়ের সঙ্গে (সন্তান) খারাপ আচরণ করবে;

*বাবাকে বাদ দিয়ে (সন্তান তার) বন্ধুকে আপন করে নেবে;

*মসজিদে শোরগোল (বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি) করবে;

*জাতির দূর্বল ব্যক্তি সমাজের নেতৃত্ব দেবে;

*নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হবে;

*খারাপ কাজে সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন করবে এবং এ খারাপ কাজের ভয়ে ঐ ব্যক্তিকে সম্মান করা হবে;


অভাব দুর হবে, বাড়বে ধন-সম্পদ যে আমলে

সূরা কাহাফ তিলাওয়াতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার কৌশল


*বাদ্যযন্ত্র ও নারী শিল্পীর অবাধ বিচরণ বেড়ে যাবে;

 মদ পান করা হবে 
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, অবশ্যই আমার উম্মতের একদল মদ্যপানে লিপ্ত হবে। (ব্যবসার সুবিধার্থে) মদের নামকে তারা পরিবর্তন করে দেবে। তাদের মাথার উপর গান-বাজনা এবং নর্তকীদের নৃত্যানুষ্ঠান শোভা পাবে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেবেন। কতিপয়কে বানর-শুকরে পরিবর্তন করে দেবেন।
আরেক হাদিসে রয়েছে, অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা মেয়েদের সাথে অবাধ মেলামেশা, রেশমী কাপড় পরিধান, মদ্য পান এবং গান-বাজনাকে হালাল মনে করবে। (বুখারি-৫২৬৮, ইবনে মাজা-৪০২০)

*বংশের শেষ প্রজন্মের লোকজন আগের প্রজন্মকে অভিশাপ দেবে।

সে সময়ে তীব্র বাতাস প্রবাহিত হবে, যার ফলশ্রুতিতে একটি ভূমিকম্প ভূমিকে তলিয়ে দেবে। (তিরমিজি)

যখনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। সে সময় কী ঘটবে? কুরআনের কারিমে তাও বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের আগে ভূমিকে এমনভাবে প্রকম্পিত করবেন যে, জমিন তার গর্ভে ধারণ করা সব বস্তুকে বের করে দেবেন। কুরআনুল কারিমে এ কথা এভাবে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন-

‌‘যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে। যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।' (সুরা যিলযাল : আয়াত ১-২)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে জীবনের শেষ মুহূর্তভেবে উল্লেখিত কাজগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কেয়ামতের সব আলামত ও তার ভয়াবহতা থেকে হেফাজত করুন। ঈমান ও নেক আমলের ওপর জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর