সাংবাদিকতার নামে ভণ্ডামি ছাড়ুন

শাহাজাদা এমরান

সাংবাদিকতার নামে ভণ্ডামি ছাড়ুন

পক্ষকালের ব্যবধানে আমাদের কুমিল্লার দুইজন এমপি মহোদয় পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শুনেছি বাহার ভাইয়ের (হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার, সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৬) সংবাদ সম্মেলনে ২৪৮ জন আর সীমা আপার (আঞ্জুম সুলতানা সীমা, সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা আসন) সংবাদ সম্মেলনে ১৫০ জনের মতো সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। 

আমাদের জানামতে, এর মধ্যে টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইনসহ সর্বোচ্চ প্রায় ২০টি মিডিয়ায় (কিছুটা কম বেশি হতে পারে) নিউজ এসেছে বা ওই সমপরিমাণ সাংবাদিক নিউজ লিখেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক (ফটোসাংবাদিক ব্যতীত) সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে চেয়ার দখল করে রাখে, যাদের দাপটে সিনিয়র সাংবাদিকরা চেয়ারও পায় না, তারা কারা? যারা নিউজ লিখতে পারে না কিংবা নিউজ ছাপানোর মতো মিডিয়া যাদের নেই তাদের আমন্ত্রণ দেয় কারা এবং তারাইবা কেন যায়?
 
আরেকটি গুরুতর অপরাধ করছে তথাকথিত কিছু সম্পাদক নামধারী ব্যক্তি। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যে সকল দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক নিয়মিত পত্রিকা বের না করে নিজকে ওই সকল পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেয় তারা নষ্ট, ভ্রষ্ট, শঠ ও প্রতারক। আবার কেউ কেউ পত্রিকা প্রকাশ না করে অনলাইন ভার্সন করে দৈনিক পত্রিকার নাম জাহির করে, এরাও একই অপরাধী। 

আবার বিভিন্ন সরকারি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, যাদের পত্রিকা মাসের ত্রিশ দিনের মধ্যে পনের দিনও বের হয় না, তাদের পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিল বেশি জমা হয়েছে। যারা বিজ্ঞাপন পেলে ছাপে কিংবা সপ্তাহে কয়েকদিন ছাপে। দুঃখ লাগে তখন, যখন দেখি শত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে যারা খেয়ে না খেয়ে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে নিয়মিত পত্রিকা বের করে তাদের সাথে ওই তথাকথিতদের একইভাবে মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আবার ওরা নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশের মুরদ না থাকলেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সামনে বসা কিংবা অপনেতৃত্ব দেয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। 
 
আমাদের পরিস্কার কথা, আরে ভাই, তুমি সামনে না, সম্ভব হলে এমপি মহোদয়ের সাথে গিয়ে বস কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তুমি যে পরিচয় দাও, আমি অমুক পত্রিকার সম্পাদক কিংবা সাংবাদিক, তোমার সেই কথিত পত্রিকাটি সপ্তাহে কিংবা মাসে কয়টা বের কর, এটা একবারের জন্য হলেও নিজের বিবেককে প্রশ্ন করে দেখেছ ? আর তুমি যদি পত্রিকা প্রকাশ না করে শুধু অনলাইন বের করতে চাও কর, কোন অসুবিধা নেই। সবাইকে বল, আমার পত্রিকা দৈনিক বের হয় না। আমি শুধু অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করি। এতে তো লজ্জার কিছু নেই। বরং এই সত্য স্বীকারে রয়েছে গৌরব এবং অহংকার। কারণ এতে পাঠকের কাছে কিংবা সমাজের কাছে ভণ্ডামি প্রকাশ পায় না, পেশাগতভাবে নিজ বিবেকের কাছে পরিস্কার থাকা যায়।

আর একটি বিষয়ে কুমিল্লার মূলধারার সাংবাদিকগণ আগেও কথা বলেছেন, এখনো বলছেন। সেটি হলো, কুমিল্লার কতিপয় পত্রিকা আছে , এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে সাংবাদিকতার কার্ড বিক্রি করে। এটা অবশ্য সারা দেশেই হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে কার্ডে লিখে দেয় ‘বিশেষ প্রতিনিধি’। ওই পত্রিকার কর্তৃপক্ষকে যদি আপনি প্রশ্ন করেন, স্টাফ রিপোর্টার আর বিশেষ প্রতিনিধির মধ্যে পার্থক্য কি? আমরা নিশ্চিত যে উত্তর দিতে গিয়ে তাদের দাঁত ভেঙে যাবে, তারপরও বলতে পারবে না। 

প্রতিনিয়ত এই সমস্ত পত্রিকাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাই। আরে ভাই! কে বলেছে, আপনাকে সাংবাদিকতায় আসতে,পত্রিকা চালাতে। আপনার যদি পত্রিকা চালানোর সক্ষমতা না থাকে তাহলে কেন এসেছেন এই পেশায়। অন্য পেশায় যান। শুধু শুধু কেন সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাটিকে কলঙ্কিত করছেন। আপনাদের জন্য আমরা কেন মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়ব। মনে রাখবেন, আপনি যখন যে পেশায় কাজ করবেন তার প্রতি শতভাগ সৎ থাকার চেষ্টা করবেন। 

নিয়মিত পত্রিকা ছাপাবেন না, সরকারি বিজ্ঞাপনে রাজত্ব করবেন, মন চাইলে কালেভাদ্রে ছাপাবেন, দৈনিক পত্রিকার পরিচয় দিয়ে বেড়াবেন,পত্রিকার নামে কার্ড বিক্রি করবেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যেখানে সেখানে হুমকি দিবেন এগুলো ভণ্ডামি। দয়া করে এগুলো ছাড়ুন। নিয়মিত মিডিয়া না থাকলে নিয়মিত মাতাব্বরিও কইরেন না। আমাদের পবিত্র এই সাংবাদিকতার পেশাটিকে কলঙ্কিত কইরেন না। অনেক হয়েছে, এবার একটু থামুন। আমাদের সম্মান নিয়ে বাঁচতে দিন। দয়া করে দাওয়াত না দিলে কোন অনুষ্ঠানে যাইয়েন না, আবার কেন দাওয়াত দিল না এটা বলেও আয়োজকদের হুমকি দিয়েন না। 

আর রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিকহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের বিনীত অনুরোধ করব, আপনারা প্রকৃত সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করুন, সম্মান দিন। কেউ যদি কোন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক কিংবা সাংবাদিক বলে আপনাদের কাছে পরিচয় দেয়, দয়া করে জানতে চান ভাই, আপনার পত্রিকাটা আজ ছাপা হয়েছে কি না বা আপনি জাতীয় যে পত্রিকায় কাজ করেন সেটা কুমিল্লার স্টলগুলোতে পাওয়া যায় কিনা। 

এভাবে কথা বললে যারা সম্পাদক কিংবা সাংবাদিকতার নামে ভণ্ডামি করে বেড়ায় তারা বিব্রত হবে। তখন হয় তারা সঠিক পথে ফিরিয়ে আসবে নতুবা অন্য পথে চলে যাবে। এতে আপনারা, আমরা কুমিল্লা তথা গোটা দেশ ও জাতি উপকৃত হবো। বিকশিত হবে আমাদের রাষ্ট্রের এই চতুর্থ স্তম্ভটুকুও।

আমাদের,আপনাদের সবার বিবেক জাতির সেবায় নিয়োজিত হোক। এবারের মহান বিজয় দিবসে এটাই হোক আজকে আমাদের অঙ্গীকার।

লেখক: কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি- দৈনিক মানবকণ্ঠ, দি বাংলাদেশ টুডে ও ডেইলি বাংলাদেশ। 
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : দৈনিক আমাদের কুমিল্লা, সম্পাদক : কুমিল্লার জমিন।
সাধারণ সম্পাদক :বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা জেলা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক।  

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বৃদ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী

আসিফ নজরুল

বৃদ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী

মিটুনের (আনিসুল হক) কিছু জিনিষ ভালো লাগে না। সে যথেষ্ঠ প্রতিবাদী না, উপন্যাসিক হিসেবে একটু ওভাররেটেড, নিজের পত্রিকাগুলোয় তার প্রচারণা বেশী। এগুলো হলো ঈর্ষা বা হয়তো আমার ছোটলোকী থেকে ভাবা। 

কিন্তু আসল কথা হলো আমি তাকে শ্রদ্ধা করি, সমীহ করি এবং তার প্রতিভায় মুগ্ধ হই। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ে মিটুনের পড়াশোনা ও লেখার ক্ষমতা অসাধারন, মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা অপরিসীম, দেশপ্রেম নিখাদ এবং আশাবাদী থাকার ক্ষমতা অতুলনীয়। মেধায় সে জিনিয়াস পর্যায়ের।  


জামালপুরে নারীর সঙ্গে ভিডিও ফাঁস হওয়া সেই ডিসির বেতন কমল

‘পরমাণু সমঝোতার একমাত্র পথ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’

এইচ টি ইমামের জানাজা ও দাফনের সময়

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর শোক


মিটুনকে বোধহয় আমি ভালোওবাসি। করোনার সময় তার একটা ষ্ট্যাটাস পড়ে সাথে সাথে দোয়া পড়তে শুরু করেছিলাম। মিঠুন যথন তার মৃত্যু-প্রেম বা প্রস্তুতি নিয়ে লিখে, আমার সমস্ত অন্তরাত্মা প্রতিবাদ করে ওঠে। মনে হয়, এমন বাজে সংবাদ কখনো যেন পেতে না হয় আমাদের।  

তিনদশক আগে একটা অন্যায় করেছিলাম তার সাথে। পরে অনেকবার ভেবেছি ক্ষমা চাই। তারপর মনে হতো এতো অনুভূতিপ্রবণ মানুষ, নিশ্চয়ই বুঝতে পারেন এজন্য কতোটা লজ্জিত আমি। এসব তার বোঝার কথা। কিন্তু এটা হয়তো বুঝতে পারেন না আমিও তাকে কতোটা ভালোবাসি এখন। বৃ্দ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী। শুভ জন্মদিন মিটুন।

আসিফ নজরুল, শিক্ষক, ঢাবি। 

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রঙ, সৌন্দর্য ও অবচেতন

হারুন আল নাসিফ

রঙ, সৌন্দর্য ও অবচেতন

ফর্সা বা সাদা আর সুন্দর কখনোই এক নয়। সৌন্দর্য মূলত বর্ণনিরপেক্ষ। রঙের মধ্যে সৌন্দর্য খোঁজার কারণ কুসংস্কার ও অশিক্ষা। বিশেষ কোনো রঙকে সুন্দর ভাবা এক ধরণের বর্ণবাদিতা তো বটেই। সাধারণ শিক্ষা এই বর্ণবাদিতা অপনোদন করতে পারে না। কখনো বরং আরো পোক্ত করে।

আধুনিক শিক্ষিত মানুষের চেতনা বা মনের গহীনে তাই এই বর্ণবাদিতা বিদ্যমান থাকে বা খাকতে পারে। কারো জ্ঞাতে, কারো বা অজ্ঞাতে। সাধারণভাবে এটা ধরা পড়ে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে তা ঠিকই বেরিয়ে আসে। মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েডের ভাষায় এটা হলো সাব-কনশাস। অনেকে বাংলায় এটাকে অবচেতন বলেন। এটি যে সবসময় ব্যষ্টিক হয়, তা নয়, এটি সামষ্টিকও হতে পারে।

‘কালো, তবু সুন্দর’-এই ধরনের বাক্যে মনের গভীরে ওঁত পেতে থাকা ‘কালো সাধারণত সুন্দর হয় না‘ এই কুসংস্কার ‘মুখ বা কলম ফস্কে’ বেরিয়ে আসে। এই বেরিয়ে আসাটা স্বাভাবিক। ভেতরে আছে বলেই বাইরে বের হয়। প্রমাণিত হয়, বর্ণ-কুসংস্কার আছে। যদিও অধিকাংশ লোক থাকা উচিত নয় বলে মনে করে। উচিত-অনুচিত এক, বাস্তবতা আরেক। কিন্তু এই বেরিয়ে আসাটা ভালো। ফলে আমরা অনুচিতের বিপক্ষে কথা বলার সুযোগ পাই।

এই প্রসঙ্গ বা আলাপ থেকে আরো একটা জিনিস প্রমাণিত হয়, তা হলো মনে যা-ই থাক, সমাজ প্রকাশ্যে কালোকে অসুন্দর বলা সমর্থন করে না। কালোর বিপক্ষে বলাটা সমাজের বিপক্ষে যাওয়ার সামিল। তাই যারা কালোকে সুন্দর মনে করে না, তারা তা প্রকাশ্যে বলার সাহস করে না বা বলে বিরোধিতার মুখে পড়ার কিংবা বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। ফলে তাদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেদের মত বা বিশ্বাসকে চেপে রাখতে হয়। 

ফ্রয়েডের ভাষায় এটা অবদমন। এই অবদমিত ‘বিষয়’ অবচেতনে লুকিয়ে থেকে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ খোঁজে। অসাবধানতা বশত বা অবদমনের দুয়ার আলগা পেলে তা স্ববভাবতই বেরিয়ে আসে। আসবেই।


কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সৌদি আরবের উট-সংস্কৃতি ও উটের ভাস্কর্যের বিশ্ব রেকর্ড

কিউবিস্ট ভাস্কর্য: অদৃশ্য কলাকার


কুসংস্কার মন থেকে দূর না হলে তা ‘মুখ বা কলম ফস্কে’ বেরিয়ে এসে নিজেকে বা সমাজকে বিব্রত করতেই পারে। বিশেষ রঙকে অসুন্দর বা সুন্দর মনে করার সংস্কার মানুষের বা সমাজের মনের গভীরে প্রোথিত। পশ্চিমা ধর্মবিশ্বাস ও ইতিহাস এক্ষেত্রে অনেকটা উসকানি হিসেবে কাজ করে থাকে। এই কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব না হলেও একেবারে সহজ নয়, অদূর ভবিষ্যতে তো নয়ই।

ফলে আমাদের দেশে বিশেষ করে কালো-বিদ্বেষের কুৎসিত চেহারা মাঝে-মধ্যে এভাবে বেরিয়ে এসে যে আমাদের বিব্রত করবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এই বিব্রত হওয়াটা কিন্তু ইতিবাচক। বিব্রত না হতে চাওয়াটা যতো আন্তরিক ও সুদৃঢ় হবে, বর্ণ-কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও ততো বাড়বে।

হারুন আল নাসিফ: কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মাসুদা ভাট্রি

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

এ বছরও পৃথিবী স্বাভাবিক হবে না, নতুন রূপে মহামারী ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে— এই ভয়ের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে। কোনো দেশই খুলছে না নিজেদের, ভেতরে ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে নিজেদের মতো করে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, এখানেও যতটা সম্ভব জীবন-জীবিকা বাঁচানোর তাগিদ ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবনে লক্ষ্যমান।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখনও কেবল তরতাজা যুক্তরাষ্ট্রের নয়া সরকারের কায়কারবার আর মধ্যপ্রাচ্য। ইওরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার কোনো খবর নেই। আর দক্ষিণ এশিয়ায়ও ভারতই কেবল শিরোনামে।


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


বাংলাদেশকে নিয়ে চেষ্টা হচ্ছে প্রবল কিন্তু করোনা-রাজনীতি বা করোনা-পরিণাম কোনোটিই বাংলাদেশকে ঠিক ‌‘বাটে’ ফেলতে পারছে না। এর কারণ নিশ্চয়ই একেকজনের কাছে একেক রকম, আমি ভাবছি এই যে বিচ্ছিন্ন পৃথিবী আবার পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মানুষে মানুষে যদি যোগাযোগই না থাকে তবে কীসের বেঁচে থাকা কীসের কী বিশ্বায়ন? তৃতীয় মাসে পা দিল ২০২১, কেউ কি বুঝতে পারছেন ২০২০-এর চেয়ে আজকের দিনটি ভিন্ন?

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম

নাজনীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ

নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম

গতকাল সময় পাইনি তাই আজকে লিখলাম। সপ্তাহ পেরুলেই যখন নারী দিবস, যখন নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে, নারীর অগ্রগতির চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে চুলচেরা আলোচনা করব আমরা, ঠিক তখনই জাতীয় কোনো বড় দৈনিকে যখন পুরো একটি ক্রোড়পত্রের শিরোনাম হয় "কালো তবু সুন্দর", তখন প্রশ্ন জাগে, কোন ঢাল তলোয়ার নিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা লড়াই করছি আমরা?


কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন তুরস্কের, ভারতের ক্ষোভ

আবারও ইকো ট্রেন চলবে ইরান-তুরস্ক-পাকিস্তানে

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিজিবির অভিযান, বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার

দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে কি না?


হয়তো ওই রিপোর্ট এর উদ্দেশ্য ছিল নারীর চলার পথের সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে পর্যালোচনা। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যে শিরোনাম ব্যবহৃত হলো তার মধ্যেই প্রোত্থিত আছে নারীর অবমাননা। নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম । তাই এক্ষেত্রে যারা অগ্রবর্তী এবং শক্তিশালী তাদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীলতা আশা করি।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা কবিতার মতো রোমান্টিক!

জসিম মল্লিক

এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা কবিতার মতো রোমান্টিক!

আমার যখন ২৮ বছর বয়স তখন আমার একটা বড় ধরণের সার্জারি হয়েছিল। সেটা ১৯৯১ সাল। সার্জারি করতে হলে যে এনেসথেসিয়া দিতে হয় বিষয়টা আমার ভাল জানা ছিল না। এনেসথেসিয়া মানে যে চেতনাহীন করা তাও জানা ছিল না। এমনকি চেতনা যে ফিরে নাও আসতে সে তথ্যও আমার জানা ছিল না। এসব বিষয় আমি অনেক পরে জেনেছি। সেটা ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। 

আমার ডাক্তার একদিন বললেন, জসিম তোমার লাম্বার ওয়ান এবং টুর মধ্যে সমস্যা আছে। ফ্লুইড জমেছে। তাই তোমার পেইন হচ্ছে। অপারেশন লাগবে। তুমি কি অপারেশন করতে চাও? 

আমি প্রফেসর রশীদ উদ্দীনকে বললাম, স্যার একশবার করতে চাই। হাজার বার করতে চাই। তিনি পাগলা কিসিমের হলেও দেশের শ্রেষ্ঠ নিউরোলোজিষ্ট তখন। যথেষ্ট গুরুগম্ভীর মানুষ হলেও তিনি হেসে বললেন,  একবার করলেই তুমি ভাল হবা। যাও হাসপাতালে ভর্তি হও।

আমি তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি হলাম। আমার কেবিনে অন্য একজন বয়ষ্ক রোগি ছিলেন। তার আ্ত্মীয় স্বজন আসে তাকে দেখতে। আমি তাদের সুযোগ দিতে তেমন একটা কেবিনে থাকি না। হাজিরা দিয়েই অফিসে চলে যাই। কবে অপারেশনের ডেট পাব জানি না। কারন ডাক্তার সাব গেছেন ইরান টেনিস দলের সাথে। 

তিনি তখন টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি। ফিরতে একমাস। চেষ্টা তদবির করে যেমন হাসপাতালে কেবিন পেয়েছিলাম তেমনি একদিন একই পদ্ধতিতে অপারেশনের ডেট পেলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীও তদবির করেছিলেন। তিনি তখন পিজি হাসাপাতালে প্রিজন সেলে ছিলেন। আমি একদিন দেখা করে এসেছি। তিনি জেনেছেন যে আমি অপারেশনের ডেটের জন্য অপেক্ষা করছি। আমি বিচিত্রার মানুষ জেনেই তিনি আমাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

৩০ জুন সকাল দশটা। আজকে অপারেশন। সবাই হাসপাতালে উপস্থিত। সবাই বলতে আমার স্ত্রী আর শাশুড়ি। অপরেশন থিয়েটার সম্ভবতঃ আট তলায়। এখন আর মনে নেই। বহুবছর আগের কথা। আমি ছিলাম তিল তলায় কেবিনে। আমি হাসিমুখে অপারেশন থিয়েটারেৱ দিকে হেঁটে যাচ্ছি। মনের মধ্যে গভীর আনন্দ। 


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


আহা কি দারুণ ব্যপার। অপারেশনের পরই আমি ভাল হয়ে যাব। আমার আর ব্যাকপেইন থাকবে না। এই আনন্দে আমি পারিপার্শ্ব ভুলে গেলাম। একবার যদি পিছনে তাকাতাম তাহলে হয়ত দেখতাম ওড়নার আঁচলে মুখ চাপা দিয়ে আছে আমার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী। আমার চলে যাওয়া দেখছে। হয়ত ভাবছে আর কি ফিরবে! 

আমি একদল ডাক্তার আর নার্সদের সামনে দিব্যি বেডে শুয়ে পরলাম। তারপর আমার নাকে মুখে এনেথেসিয়ার পাইপ লাগানো হলো। মাত্র তিন কি চার সেকেন্ডের ব্যাপার। কিন্তু ওই সময়টুকুই ছিল আমার কাছে দারুণ সুখকর। গভীর এক ঘুমের রাজ্যে আমি তলিয়ে যাচ্ছি, যাচ্ছি, যাচ্ছি। এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা যে এতো রোমান্টিক কে জানত! কবিতার মতো।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিল যখন এনেসথেসিয়া থেকে ফিরে আসতে শুরু করলাম তখন। রোমান্টিকতা আর থাকল না। চেতনা ফিরে আসতেই গলা কাটা গরুর মতো তীব্র এক যন্ত্রণায় ঝটফট করতে লাগলাম। এমনকি জেসমিনকেও চিনতে পারছিলাম না। আজকাল ব্যাপারটা অনেক আরমাদায়ক হয়ে গেছে। কানাডায় একবার আমি ফুল, দুইবার হাফ(লোকাল) এনেসথেসিয়া করেছি। তেমন কিছুই টের পাইনি।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর