এদের অনেকেই গণবিচ্ছিন্ন ও কাপুরুষ

ড. সেলিম মাহমুদ

এদের অনেকেই গণবিচ্ছিন্ন ও কাপুরুষ

ড. সেলিম মাহমুদ

সুশীল সমাজের ব্যানারে কিছু ব্যক্তি  সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়ে যে পত্র লিখেছেন, এ সম্পর্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি এক-এগারোর কিছু সুবিধাভোগী ও কুশীলব অতি সম্প্রতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়ে একটি পত্র লিখেছে। এই পত্রটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবী গত নয় মাস ধরে ভয়াবহ করোনা মহামারিতে আক্রান্ত। জাতির তথা বিশ্ববাসীর এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের এই তথাকথিত সুশীলদের কোন ভূমিকা আমরা দেখলাম না। 

লকডাউনের সময় কিংবা পরবর্তী সময়ে তারা মানুষের পাশে একবারের জন্যও দাঁড়ায়নি। এই লোকগুলো এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিলো। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব, দক্ষতা, সাহস, কঠিন মনোবল আর দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি যখন অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসলো, ঠিক তখনই ঐ সকল ব্যক্তি  আবার পুরোনো অবয়বে ফিরে আসলো। 

দেশের মানুষের সার্বিক অবস্থা কী, করোনা মহামারীর পরিস্থিতি এখন কোন পর্যায়ে - সময়ের এই সকল জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠলো। দুই চারজন ব্যক্তি বাদে এদের সকলেই জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। 

তাদের অধিকাংশই কখনোই  মানবতার পাশে দাঁড়ায় নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার আহ্বানে সারা দিয়ে আওয়ামী লীগের বহু নেতা কর্মী মানুষের পাশে দাঁড়াতে দিয়ে জীবন দিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের অনেকেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এখনোও হচ্ছেন। এই জনবিচ্ছিন্ন লোকগুলো তখন নিরাপদ অবস্থানে ছিল।

এই তথাকথিত সুশীলগণ দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করার লক্ষ্যেই এই ধরণের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এরা মুখে গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের কথা বললেও আসলে এদেশে একটি অসাংবিধানিক ব্যবস্থা দেখতে চায়। এদের অনেকেই এক এগারোর সমর্থক হিসেবে দেশে বিদেশে পরিচিত। তারাই অসাংবিধানিক সরকার এক এগারোকে দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলো। এরা বরাবরই ব্যক্তি স্বার্থ কেন্দ্রিক ও কাপুরুষ। এদেশের সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে তারা বিদেশিদের স্বার্থেই, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের স্বঘোষিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। মুলত এরা উচ্ছিষ্টভোগী।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে বিদেশে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সারা বিশ্বে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রসংশিত হয়েছে।  আর্থ-সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সরকার বিশ্বের সকল প্রভাবশালী রাষ্ট্রসহ সকলের প্রশংসা পেয়েছে। 

নির্বাচনের দুই বছর পর আবার তারা এই নির্বাচন নিয়ে নানা আজগুবি কথা বলছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অব্যবহিত পর নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে তারা কিছু উদ্ভট কথা বলেছিলো। তারাই বলেছিলো, নির্বাচনের পর এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে তারা পঞ্চাশটি আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে  গবেষণা সম্পন্ন করেছিল। মাত্র সাত দিনে এই ধরণের গবেষণা অসম্ভব ও অবাস্তব। তাদের এই মিথ্যাচার দেশে বিদেশে কেও ই গ্রহণ করেনি।

আমাদের কাছে মনে হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কে নিয়ে যে সকল দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র হয়েছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। তাদের এই কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এটি তাদের পছন্দ হচ্ছে না। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে তারা নিজেদেরকে সংক্ষুব্দ মনে করছে। তাদের আচরণে এটি মনে হচ্ছে, তারা ঢিল ছুড়ে মেরে রাষ্ট্রের পথ চলাকে ব্যাহত করতে চায়। তারা হয়তো জানে না, ঢিল ছুড়ে রাষ্ট্রকে বাধাগ্রস্ত করা যায় না। এটি সম্ভব নয়।

তারা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করার কথা বলছেন। তাদের জানা উচিত, সংবিধানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান বাতিল সংক্রান্ত বিষয়টি এখন সাব জুডিস বিষয়। কারণ এ বিষয়টি বর্তমানে আপীল বিভাগে রিভিউ পর্যায়ে বিচারাধীন। তাই এখন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান কার্যকর করার আইনগত কোন সুযোগ নেই।


সরকারের দুঃশাসন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে: ফখরুল

করোনার টিকা নিতে হলে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই মেজর (অব.) হাফিজকে শোকজ: রিজভী

করোনায় দেশে মৃত্যু বাড়লো


যারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতিকে এই পত্র দিয়েছেন, তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধ সহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাদের একজন বেআইনি কর্মকান্ডের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকুরিচ্যুত হয়েছিলেন। একই ব্যক্তি পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্দালয়ে তার চাকুরীচ্যুতির বিষয়টি গোপন রেখে ১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্দালয়ের আরেকটি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আবেদন করেছিলেন। বিশ্ববিদ্দালয়ের সিন্ডিকেট নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধের কারণে সিলেকশন কমিটি কর্তৃক তার নিয়োগের সুপারিশ বাতিল করেছিল। 

ঐ একই ব্যক্তি বিলিয়ায় (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ) পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক দুর্নীতি আর অনিয়মের সাথে যুক্ত ছিল। সেখানে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে লন্ডন থেকে পাঠানো যুদ্ধাপরাধীদের  টাকায় বিলিয়া থেকে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছিল যার শিরোনাম The Death Penalty Regime in Bangladesh - Exploring Perspectives of Former Judges।  

মূলত যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই যুদ্ধাপরাধীদের টাকায় তথাকথিত এই গবেষণামূলক বই বিলিয়া থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেটি বিলিয়ার পরিচালনা পর্ষদ পরবর্তীতে বাজেয়াপ্ত করেছিল। এই গণবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিবর্গের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড দেখে আইন বিজ্ঞানের একটি বিখ্যাত নীতির কথা মনে পড়ছে যেটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। "He who comes to equity, must come with clean hands."

#ইসির দুর্নীতি তদন্তে রাষ্ট্রপতির কাছে ৪২ নাগরিকের চিঠি

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ফেমিনিষ্ট রিকভারি কিংবা শি (She)কভারি

শওগাত আলী সাগর

ফেমিনিষ্ট রিকভারি কিংবা শি (She)কভারি

দিন শেষে অবাক বিস্ময়ে ভাবছিলাম- এবারই কি প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে কানাডার পারস্পেক্টিভ থেকে দেখার চেষ্টা করলাম! আর কানাডার প্রেক্ষিত থেকে দেখতে গিয়ে নতুন কিছু ভাবনার সুযোগ হলো, বলা চলে নতুন কিছু শেখাও হলো।

বৈশ্বিক কোনো কোনো বিষয়েও সম্ভবত বিভিন্ন দেশকে নিজেদের মতো করে ভাবতে হয়, সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সর্বজনীন দৃষ্টিতে দেখলে চলে না। এই যে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হলো- জাতিসংঘ এর প্রতিপাদ্য করেছে- কোভিড-১৯ এর বিশ্বে ভবিষ্যতের সাম্য গড়তে নারী নেতৃত্ব। বাংলাদেশও ঠিক একই সুরে মূল প্রতিপাদ্য করেছে- "করোনাকালে নারী নেতৃত্ব/ গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব"।

এই জায়গাটায় কানাডা নিজেদের মতো করে ভেবেছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কানাডার মূল প্রতিপাদ্য ছিলো- ‘ফেমিনিষ্ট রিকভারি’। কোভিডের পর অর্থনীতির পূণরুদ্ধারের দিকে কানাডার নজর, আর সেই পূণরুদ্ধারটা হতে হবে ফেমিনিষ্ট, নারীকে কেন্দ্র করে।


আরও পড়ুনঃ


সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

পাবনায় থাকছেন শাকিব খান

সাধ্যের মধ্যে ৮ জিবি র‍্যামের রেডমি ফোন

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


মজার ব্যাপার হচ্ছে, কানাডার মিডিয়ার ফোকাসটাও ছিলো ঠিক একই জায়গায়- অর্থনীতির পূণরুদ্ধার এবং নারীকে মুলকেন্দ্রে রেখে অর্থনীতির পূণরুদ্ধার। সংবাদে, পর্যালোচনায়, টেলিভিশনের টক শোতে একই সুর, একই আলোচনা- ফেমিনিষ্ট রিকভারি ‘টরন্টো স্টার’ অবশ্য তাদের সম্পাদকীয়তে পরামর্শ দিয়ে বলেছে- সরকারের এখন নজর দেয়া দরকার ‘শি (She)কভারি‘র দিকে। ঘুরে ফিরে তো সেই একই কথা- ফেমিনিষ্ট রিকভারি কিংবা শি (She)কভারি।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিদেশি শত্রু দমনে ১৭৯৮ সালে 'এক্ম-ওয়াই-জেড' ফর্মুলার জন্ম!

সোহেল সানি

বিদেশি শত্রু দমনে ১৭৯৮ সালে 'এক্ম-ওয়াই-জেড' ফর্মুলার জন্ম!

'এক্ম', 'ওয়াই', 'জেড'। ইংরেজী বর্ণমালার শেষ তিনটি অক্ষর। কিন্তু এর অত্যধিক ব্যবহার সর্বপরিসরে পৃথিবীব্যাপী। আমরা কতজন জানি শব্দগতভাবে 'ত্রি' বর্ণের প্রয়োগ বৃটিশ-ফ্রান্স যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। কুটনৈতিকভাবে এ ফর্মূলা অনেকটা কুটকৌশলগত, যা সর্বব্যাপী ব্যবহারিক একটি কৌশল মাত্র। 

একটি স্বীকৃত ব্যাপারও বটে। কিন্তু ফর্মুলাটির জনক কে? কবে, কোন দেশে, কি উদ্দেশ্য প্রথম এর প্রয়োগ হয়? তেমনি প্রশ্ন এর ফলাফল বা কি ছিলো? 

আজ থেকে দুই শতাব্দীকালেরও আগে অর্থাৎ ১৭৯৮ সালে এ ফর্মুলাটির আবিস্কার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস। জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে আমেরিকা স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক বছরের মধ্যে। 

উল্লেখ্য, ১৭৭৬  সালের ১৭ মার্চ বৃটিশ বাহিনীকে আমেরিকা ত্যাগে বাধ্য করা হলেও ১৭৮১ সালে বৃটিশ বাহিনী প্রধান সেনাপতি কর্ণওয়ালিশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করানোর মাধ্যমে আমেরিকা স্বাধীনতা অর্জিত হয়। জর্জ ওয়াশিংটন ১৭৮৭ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেও শাসনতন্ত্রের অধীনে হন ১৭৮৯ সালের ৪ মার্চ। 

৩০ এপ্রিল শপথ নিয়ে জর্জ ওয়াশিংটনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন জন অ্যাডামস। ফেডারেলস্টিরা তৃতীয় দফাও প্রেসিডেন্ট করতে চাইলে ওয়াশিংটন অপরাগতা জানান এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামসের কাছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব অর্পণ করেন। আগেই বলেছি, ১৭৯৭ সালের ৩ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে কুটনৈতিক পর্যায়ে জন অ্যাডামস এ ত্রি-শব্দের ব্যবহার করলেও এখন তার ব্যবহারিক চরিত্র 'ক্ষেত্র বিশেষ' নয়। 


যে কারণে অভিনয় ছেড়েছিলেন প্রয়াত নায়ক শাহীন আলম

কলকাতায় বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯

নামাজে মুস্তাহাব কাজগুলো কী জেনে নিন

কেয়ামতের দিন যে সূরা বান্দার হয়ে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে


বিশেষ গন্ডী পেরিয়ে তা পৃথিবীর সর্বত্র রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিমন্ডলও ছুঁয়েছে। বিষয়ভিত্তিক কুট-কৌশলী ফর্মুলারূপে ব্যবহৃত হচ্ছে। জনপ্রিয় এ শব্দ কথন যত্রতত্র হলেও এর আবিস্কারক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস করেছিলেন একটি উদ্দেশ্য নিয়ে। কুটনৈতিক পরিচয়ের নিরাপত্তামুলক কৌশল হিসাবে ফ্রান্সে নিযুক্ত মার্কিন কুটনৈতিক হিসাবে হটেনগুয়ারকে -'এক্ম', বেলামীকে 'ওয়াই' ও হটেভালকে 'জেড' নামে চিহ্নিত করা হয়েছিলো। 

ফ্রান্স ও বৃটিশ যুদ্ধে আমেরিকার ভুমিকা কী হবে, সেনিয়ে মার্কিন কংগ্রেস পক্ষে বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলো। আমেরিকান জাতির পিতা জর্জ ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালেই ফ্রান্স ও বৃটিশ যুদ্ধের দাবানল বেজে ওঠে। ওয়াশিংটন নিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করতে চাইলেও তার প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী  প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আলেকজান্ডার হ্যামিলটন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী টমাস জেফারসন পক্ষে - বিপক্ষে অবস্থানগ্রহণ করেন।

হ্যামিলটন ওয়াশিংটনের পক্ষ নিলে রিপাবলিকান পন্থী নেতা টমাস জেফারসন এর তীব্র বিরোধী হয়ে ওঠেন। যদিও দল বলতে তখনও ফেডারেলিস্ট। তা ভেঙ্গে রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্রেট পার্টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শাসনতন্ত্র তখন স্বাধীনতার পতাকাবহনকারী ফেডারেলিস্ট পার্টি সরকারের ভিতকে শক্ত করতে পারেনি। বরং কোন্দল দেখা দেয়। 

ওয়াশিংটন  কংগ্রেসে প্রদত্ত প্রেসিডেন্ট অ্যাডামসের যুদ্ধের নীতিকৌশলসুলভ বানীকে " পাগলামী' বলে ঠাট্টা করলে অনেক গোপনীয় বিষয় উঠে আসে। ফ্রান্স ও বৃটিশের যুদ্ধে আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রশ্মে জাতিকে রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট অ্যাডামস মার্কিন কংগ্রেসে স্পর্শকাতর বিষয়ে অস্পষ্ট উচ্চারণ অব্যাহত রেখে এই তিনটি বর্ণের একত্রীকরণ রূপ ও এর ব্যবহারিক দিকটি প্রথম প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কুটনীতিকের চিঠি চালাচালিও 'এক্ম-ওয়াই-জেড' মর্মে হওয়ার বিষয়টি কংগ্রেসে তোলেন এমন একটা দিন যেদিন ১৭৯৮ সালের ৪ মার্চ ফেডারেলিস্ট পন্থী প্রেসিডেন্ট হিসাবে অ্যাডামসের কেবল এক বছর পূর্ণ হয়। 

উল্লেখ্য জেফারসন ছিলেন ফরাসী সমর্থক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এ্যাডামসের পরে সেই টমাস জেফারসনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। 

সোহেল সানি, লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আশা করি জীবদ্দশায় নারীপ্রগতির উল্লম্ফন দেখে যেতে পারবো

মিল্লাত হোসেন

আশা করি জীবদ্দশায় নারীপ্রগতির উল্লম্ফন দেখে যেতে পারবো

পার্পল পোশাকে নারীদের বেশ লাগে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এসব পরিধানের সাথে সাথে বছরের বাকি ৩৬৪/৩৬৫ দিনে ৩ টি কাজ গুরুত্বের সাথে করে দেখতে পারেন-

১. শৈশব থেকেই ছেলেশিশুদের হেঁশেলের কাজে মানে রান্না-বান্না, বাটনা-কুটনা অর্থাৎ খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের কাজে অভ্যস্ত করে তুলবেন; 

২. তার সাথে সাথে শিশু লালনপালনের কাজেও ছেলেদের অংশগ্রহণ করতে দেবেন। এসব শুধু মেয়েলি কাজ, এই ধারণা ঝেড়ে ফেলুন। 

৩. নিজের রক্তসম্পর্কীয়া (মা, বোন, মেয়ে, খালা, দাদী, নানী)-কে  প্রতি সকলেই; কানুনিসম্পর্কীয়া বা in law's (স্ত্রী, শাশুড়িসহ তাদের সাথে সম্পর্কীয় সকল নারী)-কে কমবেশি সবাই; মনঃসম্পর্কীয়া বান্ধবী, ফ্যান-ফলোয়ার; প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কীয়া (সহকর্মী, সহপাঠিনী, ছাত্রী, মুরিদান)দের অনেকেই শ্রদ্ধা-সম্মান করে, ভালবাসে। এটাই স্বাভাবিক। 

কিন্তু, অন্যের রক্তীয়া, আত্মীয়া বা সম্পর্কীয়াদেরও, ভালবাসা না হলেও সমান সম্মান প্রাপ্য। সেই পাওনা মেটাতে সন্তানদের শেখানো হচ্ছে কী না- সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিশ্বাস, এগুলো পালন করা গেলে নারী-পুরুষ বৈষম্য কমবে আর নারীকে সম্মান করার হার বাড়বে। 

আর সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরেকটা কাজ করা দরকার বলে আমার মনে হয়। সেটা হলো- নারী ও পুরুষের স্বাতন্ত্র্যকে মেনে নেয়া। জীববিজ্ঞানের বিচারে নারী ও পুরুষ আমরা উভয়েই Homo গোত্রের sapiens প্রজাতি; বড়জোর এপিঠ-ওপিঠ বলা যায়। 

কিন্তু অবৈজ্ঞানিক হলেও সত্য যে, চোখ আর মনন এটা বিশ্বাস করতে চায় না- নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই! অনেক পার্থক্য খালি চোখেই দেখা যায়। যেমন- বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ শারিরীক গঠনে নারী-পুরুষের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আছে। পিরিয়ড ও সন্তানধারণের ক্ষমতা এখনব্দি কেবল নারীদেরই আছে। 


চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া হলো প্রতিবন্ধী নারীকে

অর্থনীতির নতুন পথ সন্ধানের এখনই সময়

৫ বছরে লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন ৪৮৭ নারী শ্রমিক

সন্তানদের নিয়ে রাজনীতি করবেন না : শ্রীলেখা


আরেকটা উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হবে। বাংলাদেশ সরকার ৬ মাস পূর্ণবেতনে মাতৃত্বকালীন ছুটি দেন নারীদের। পুরুষদের দেন না। কোনো কোনো দেশে কিঞ্চিৎ পিতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হচ্ছে অবশ্য; তবে অত লম্বা সময়ের এবং একই উদ্দেশ্যে নয়। এটা নারীর প্রতি অনুগ্রহ বা উপহার নয়; এটা তাদের অধিকার। কেনো, তার কারণ ব্যাখ্যার বোধয় আর দরকার নেই। 

আশা করি, আমার জীবদ্দশায় নারীপ্রগতির উল্লম্ফন দেখে যেতে পারবো। জগতের সকল (মৃত ও জীবিত) নারীকে সেলাম ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

মিল্লাত হোসেন, বিচারক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অর্থনীতির নতুন পথ সন্ধানের এখনই সময়

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

অর্থনীতির নতুন পথ সন্ধানের এখনই সময়

করোনাভাইরাস মহামারি পৃথিবী জন্য এক নজিরবিহীন সংকট সৃষ্টি করেছে। এই সংকট আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার ব্যর্থতাগুলোর পাশাপাশি আমাদের চিন্তা প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাও দিন দিন উন্মোচিত করে তুলছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের অবস্থান একনজরে দেখতে পাই। আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা যেসব সমস্যা তৈরি করেছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোকে তার একটি তালিকা হিসেবে দেখা যায়। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই সমস্যাগুলোর সমাধান নিশ্চিত করতে এগুলোকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে মূলত আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য।

জাতিসংঘ এই সমস্যাগুলো তুলে ধরার আগেও আমরা এগুলো সম্বন্ধে সম্যক অবহিত ছিলাম এবং এগুলোর সমাধানের তাগিদও অনুভব করে আসছিলাম। তবু আমরা সমস্যাগুলো উপেক্ষা করে গিয়েছি এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে দিয়েছি। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সম্পদ কেন্দ্রীকরণের বিপদ সম্বন্ধে আমরা ভালোভাবেই জানতাম। একইভাবে দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার-বৈষম্য ও অন্যান্য বিষয়ে সমস্যাগুলো সম্বন্ধেও আমরা জানতাম। এগুলোর সমাধানও আমাদের জানা ছিল।

কিন্তু, সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কোনো উদ্যোগ নিইনি। মানুষ ইচ্ছা করলে যেকেনো কিছুই অর্জন করতে পারে, তার অসাধ্য কিছুই নেই। কিন্তু, এরপরও আমরা সমস্যাগুলো উপেক্ষা করে গেছি। কিন্তু কেন? এর একটি ব্যাখা হতে পারে এই যে, আমরা আমাদের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছি যে এর থেকে বের হয়ে আসার কোনো চিন্তাই আমরা করতে পারছি না। এই ব্যবস্থা যেসব সমস্যা সৃষ্টি করছে সেগুলোর সমাধানে কোনো ইচ্ছাকেই আমরা মনে স্থান দিতে পারছি না। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো বিভিন্ন দেশের সরকার ও তাদের জনগণকে এগুলোর সমাধান করার চিন্তা মাথায় জাগিয়ে দেওয়ার একটি প্রয়াস।

কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির চাকা অচল করে দিয়েছে। পৃথিবীর সব জাতি তাদের অর্থনীতির চাকা আবারও সচল করতে এবং মহামারি-পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

প্রশ্ন হলো— আমরা কেন এক বছর আগে পৃথিবীকে যেখানে রেখে এসেছিলাম, আবারও সেখানটাতেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে যাচ্ছি? আমরা তখন যেপথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলাম, সেটা কি আমাদেরকে কোনো শুভ গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে, এটা বিশ্বাস করছিলাম? আমরা তো পরিষ্কার জানি আমাদের সেই যাত্রাপথ আমাদেরকে এই পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বের শেষ প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছিল; সেই যাত্রাপথ মানবজাতিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতিগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। এটা কি আমাদের বুঝতে কষ্ট হওয়ার বিষয় যে আমাদের পথ হতে হবে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী? আমার নিশ্চিত বিশ্বাস আমাদের পথ হওয়া উচিত এর বিপরীত। পুরনো পথে আর নয়। পূর্বের সেই আত্মাহুতির পথে ফিরে যাওয়া পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়।

আমরা এখন মহামারিকে ধন্যবাদ জানাতে পারি যে, মহামারি আমাদের পুরনো যাত্রাপথ রুদ্ধ করে দিয়ে আমাদেরকে নতুন পথে চলার একটি সুযোগ করে দিয়েছে। এখন ঘুরে দাঁড়ানোটা আমাদের জন্য সহজ হবে। আগামী অনেকগুলো প্রজন্ম ধরে অপেক্ষা করলেও এমন একটি সুযোগ আমাদের জন্য আর নাও আসতে পারে। এই সুযোগ হাতছাড়া করা আমাদের জন্য একেবারেই ঠিক হবে না।

পুরনো পথে ফিরে যাওয়া মানে তো সেই পুরনো ব্যবস্থা, পুরনো অবকাঠামো, পুরনো ধ্যান-ধারণা, পুরনো ব্যবসায়িক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা, যেগুলো আরও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, আরও সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি সৃষ্টি করবে, যা পৃথিবীকে মানুষের জন্য একেবারে বসবাস-অযোগ্য করে দেবে।

ভাগ্যক্রমে, আমরা কিন্তু জানি নতুন পথে যেতে হলে কীভাবে বর্তমান ব্যবস্থাটির পুনর্বিন্যাস করতে হবে। এটা করতে হবে মানুষকে বিকল্প পথে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে। বর্তমান ব্যবস্থাটি ব্যক্তির জন্য কোনো বিকল্প রাখেনি, প্রত্যেক মানুষকে পূর্বনির্ধারিত পথে চলতে বাধ্য করেছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু এক ধরনের ব্যবসা, মুনাফা সর্বোচ্চকরণের ব্যবসা। পেশা হিসেবে একটাই পেশা। চাকরি করা।

আমরা এমন একটি ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারি যেখানে মৌলিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে প্রত্যেক মানুষের জন্য বিকল্প উন্মুক্ত থাকবে। আর তাদের সম্মিলিত এই সিদ্ধান্তগুলো অর্থনীতির বৈশ্বিক গতিধারা নির্ধারণ করে দেবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই বিকল্পগুলো মানুষের মধ্যে পরিচিত করা যেতে পারে, যা প্রত্যেক তরুণকে যার যার পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় তরুণদের সামনে কোনো বিকল্প দেওয়া থাকে না, বাছাই করার কোনো সুযোগ থাকে না।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদেরকে এটি বলা যে, পৃথিবীতে মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই, যদি তারা সম্মিলিতভাবে তা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। তরুণদেরকে এটা বুঝিয়ে দেওয়া উচিত যে, তারা তাদের পছন্দমতো করে একটা পৃথিবী তৈরি করে নিতে পারে। তারা এই পৃথিবী নামক মহাকাশযানের ‘যাত্রী’ নয়, তারা এর চালক। তারা এটাকে নিত্য নতুনভাবে তৈরি করে নিতে পারে এবং যেখানে যেতে চায় সেখানে নিয়ে যেতে পারে। এটা ভুল পথে গেলে এর জন্য কাউকে দায়ী করার কোনো উপায় নেই। প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব তারা পৃথিবীকে যেভাবে পেয়েছে তার চেয়ে নিরাপদ ও ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং যে গন্তব্যে পৌঁছাতে চায় সে গন্তব্যে মসৃণভাবে নিয়ে যাওয়া।

নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করতে হলে ব্যবসা সম্বন্ধে আমাদের সনাতন ধ্যান-ধারণা বদলে ফেলতে হবে। আমাদের এখন শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, ব্যবসার লক্ষ্য একটাই, আর তা হচ্ছে ব্যক্তিগত মুনাফা সর্বোচ্চ করা। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদেরকে শিখিয়ে দিতে হবে যে, তাদের কাছে দু’টি বিকল্প আছে, আর তা হচ্ছে— প্রথমত, সর্বোচ্চ মুনাফার ব্যবসা; আর দ্বিতীয়ত, মুনাফাবিহীন সামাজিক ব্যবসা।

মানুষ শুধু ব্যক্তিস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়, শিক্ষার্থীদের শুধু এটা না শিখিয়ে আমাদের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের এই শিক্ষা দেবে যে, মানুষ দুই ধরনের স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সমষ্টিগত স্বার্থ। এবং প্রত্যেক মানুষ বেছে নেবে সে কোন স্বার্থ পূরণে ব্যবসা করবে। এরকম পছন্দ করার সুযোগটা মানুষের সামনে দিলে এটাই ব্যবসার জগতে একটি মৌলিক পরিবর্তন এনে দেবে। সমষ্টিগত স্বার্থ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের (অর্থাৎ ব্যক্তিগত মুনাফার) মধ্যে একটি পরিষ্কার বিরোধ রয়েছে। এই দু’টির মধ্যে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে প্রত্যেক মানুষের কাছে। এর সঙ্গে অবশ্য আরও একটি বিকল্প এসে যাবে। একজনের সামনে বিকল্প থাকবে এটা করা বা অন্যটা করা, অথবা একইসঙ্গে এটা করা এবং অন্যটাও করা।


সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

পাবনায় থাকছেন শাকিব খান

সাধ্যের মধ্যে ৮ জিবি র‍্যামের রেডমি ফোন

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


 

সমষ্টিগত স্বার্থ অর্জনের জন্য আমাদের প্রয়োজন সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি ব্যবসা। এমন এক ব্যবসা যেখানে বিনিয়োগকারীর ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো অভিপ্রায় থাকবে না, যেখানে ব্যবসার উদ্দেশ্য হবে সমাজের সমষ্টিগত কোনো সমস্যার সমাধান করা। আমরা এর নাম দিয়েছি ‘সামাজিক ব্যবসা’। মানুষের সমস্যার সমাধান করতে লভ্যাংশবিহীন ব্যবসা। আমরা প্রত্যেকে বেছে নিতে পারি আমরা কে কতটুকু ব্যক্তিগত মুনাফা-প্রত্যাশী ব্যবসা আর কতটুকু সমষ্টিগত স্বার্থ অর্জনকারী ব্যবসা সৃষ্টি করব। অবশ্য সেগুলোকে আলাদাভাবে করতে হবে। আমাদেরকে একথা মনে রাখতে হবে যে, ব্যক্তিগত মুনাফা-প্রত্যাশী ব্যবসাও সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টি করতে পারে এবং সামাজিক ব্যবসাও মুনাফা-প্রত্যাশী ব্যবসা সৃষ্টি করতে পারে।

আর এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূলে থাকবে, একজন ব্যক্তি কোন ধরনের পৃথিবী গড়ে তুলতে চান সেই মৌলিক লক্ষ্যটি। নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় বিষয় হতে হবে এই প্রশ্নটি। সকল পর্যায়ের ছাত্রদের জন্য প্রতি বছর প্রতি ক্লাসে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য একটি তুমুল পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখতে হবে যেখানে তারা একটি প্রশ্নের জবাব খুঁজবে— ‘আমরা কোন ধরনের পৃথিবী সৃষ্টি করতে চাই?’। আলোচনা শেষে তাদের এই সিদ্ধান্ত লিখে রাখা হবে, পরবর্তী বছর আবার সে বিষয়ে তাদের চিন্তাগুলোকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য।

প্রত্যেক তরুণকেই সে কোন জীবিকা বেছে নেবে তা বাছাইয়ের সুযোগ দিতে হবে। এখন তরুণদের সামনে বেছে নেওয়ার জন্য কোনো বিকল্প নেই। তাদেরকে এখন একটি লক্ষ্যেই প্রশিক্ষিত করা হয়, আর তা হলো লেখাপড়া শেষ করে চাকরি খুঁজে নেওয়া। আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই যেন ‘চাকরির জন্য সর্বোতভাবে প্রস্তুত’ এমন একটি তরুণ সমাজ তৈরি করতে ডিজাইন করা হয়েছে। নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রত্যেক ছাত্রই পরিষ্কারভাবে জানবে যে, প্রতিটি মানুষই উদ্যোক্তা হয়ে জন্মগ্রহণ করে। তার মধ্যে সৃজনশীলতার সীমাহীন সম্ভাবনা নিহিত আছে।

তাদের সামনে দু’টি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, তারা উদ্যোক্তা হতে পারে অথবা চাকরি করতে পারে। চাকরির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার সংঘর্ষের বিষয়টিও তাকে জ্ঞাত করা হবে। তার নিজেকে আবিষ্কারের পথে অপরের হুকুম মেনে চলা বাধার সৃষ্টি করতে পারে। উদ্যোক্তা হওয়ার মধ্যে কত রকম ঝুঁকি আছে, সেটাও তাকে বুঝিয়ে বলা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের শিক্ষার সুযোগ থাকবে। উদ্যোক্তা হওয়ার শিক্ষা এবং চাকরিজীবি হওয়ার শিক্ষা। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ঠিক করবে তারা কোন পথে যাবে। ‘চাকরিই জীবন’র ভিত্তিতে গড়ে তোলা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসতে হবে।

নতুন পৃথিবী গড়তে হলে আমাদেরকে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হলে প্রয়োজন হবে নতুন আইনের। সকল সম্পদকে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে গিয়ে সম্পদ কেন্দ্রীকরণের বর্তমান যে বিরামহীন প্রক্রিয়া তাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে, যাতে সম্পদ ও মানুষ একীভূত হতে পারে, পরস্পর থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে পরস্পরমুখী করে দিয়ে। তার জন্য সর্বপ্রথম দরকার একটি নতুন ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা। আমাদের বিদ্যমান ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পদ ও মানুষকে বিচ্ছিন্ন করার একটি হাতিয়ার মাত্র। আমাদের প্রয়োজন হবে নতুন ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা। যা আয়ের দিক থেকে নিচের অর্ধেক জনগণের সেবায় কাজ করবে, বিশেষ করে নারীদের জন্য। এবং এ ব্যবস্থা সবচেয়ে নিচের ১০ শতাংশ মানুষকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

পৃথিবীর সকল দেশে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষদের জন্য আমাদেরকে সামাজিক ব্যবসার ভিত্তিতে ‘নবীন উদ্যোক্তা ব্যাংক’ সৃষ্টি করতে হবে। একই ভিত্তিতে অর্থাৎ সামাজিক ব্যবসার ভিত্তিতে পুঁজি সরবরাহের জন্য ‘নবীন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড’ গঠন করতে হবে। তাদের দায়িত্ব হবে দেশের যেকোনো মানুষকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা এবং তার জন্য ঋণ ও পুঁজি সরবরাহ নিশ্চিত করা। তারা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের জানাবে যে তারা অপেক্ষায় আছে তাদের জন্য। যেকোনো সময়ে তারা যেকোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিতে চাইলে তারা সেজন্য ঋণ ও পুঁজি নিয়ে অপেক্ষা করছে। এই ব্যবস্থা সকল দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে, তা ধনী দেশই হোক বা দরিদ্র। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, অর্থায়নের অভাবে কোনো দেশে কাউকে যেন উদ্যোক্তা হওয়ার পথ ছেড়ে চাকরি খুঁজতে বের-হতে না হয়।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক ব্যবসার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই জরুরি। তা নইলে আবার এরাই মুনাফার সন্ধানে বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ ও পুঁজি সরবরাহের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে এবং ব্যাখ্যা দেবে যে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। এটা আর্থিকভাবে টেকসই হয় না। যে ব্যাখ্যা আমরা বরাবরই শুনে আসছি।

ক্রমাগতভাবে সম্পদ ও মানুষের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির প্রক্রিয়ার ফলে মানুষ ও সম্পদের মধ্যে একটি বিশাল দূরত্ব বিশালতর হয়ে চলেছে। মাত্র গুটিকয়েক মানুষের হাতে পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়েছে, আর পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ আয়স্তরের একেবারে নিচে ঠাসাঠাসি করে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে সম্পদ ও মানুষের মধ্যকার দূরত্ব শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর ফলে যেকোনো দশ শতাংশ মানুষের কাছে দশ শতাংশ সম্পদ থাকবে। সেই দশ শতাংশ মানুষ পৃথিবীর যে অঞ্চলেই বসবাস করুক না কেন। এটা মোটেই অসম্ভব কিছু নয়। পৃথিবীতে মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। এজন্য যা দরকার তা হলো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সিদ্ধান্ত।

আবার অর্থনীতির পুরনো পথে ফিরে যাওয়ার কথায় আসি।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না ‘পুরনো পথে ফিরে যাওয়া’র অর্থ কী। এর মানে সেই একই ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া, একই ব্যবসায়িক লক্ষ্য, সেই একই পদ্ধতিতে একই প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনের কাছে নিজেদের সোপর্দ করা, একই জিনিসগুলো করে যাওয়া যার অর্থ আরও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, মানুষ ও সম্পদের মধ্যে দূরত্ব ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে সম্পদকে মানুষের ধরাছোঁয়ার অনেক বাইরে নিয়ে যাওয়া, সেই সম্পদের মতিগতির সঙ্গে পৃথিবীর ও মানুষের ভবিষ্যতকে সঁপে দেওয়া, আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স কর্তৃক আরও বেশি মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়া।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নতুন কিছু নয়। এ বিষয়ে আমাদের যা জানা দরকার তার সবই আমরা জানি। এটি পৃথিবীর অস্তিত্বের জন্য একটি বিরাট হুমকি। আমরা এ বিষয়ে যতই জানছি আমাদের কাছে এটা ততই ভীতিকর মনে হচ্ছে। কিন্তু, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। আমরা এই ভেবে নিজেদের দায়মুক্ত রাখতে চাইছি যে, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। আমাদের সরকার কখনো আমাদেরকে এ বিষয়ে কিছু করতে বলেনি। তারা নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে কিছু করছে। অবস্থা এতই খারাপ হলে তারা অবশ্যই আমাদেরকে জানাত। আমার কাজ আমার নিজের জীবন নিয়ে ভাবা।’

কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, আমরা এটা জেনেও না জানার ভান করছি, সবাইকে বোঝাবার চেষ্টা করছি যে আমরা এ নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নই। আমরা সেই জ্বলন্ত গৃহেই বিরামহীন উৎসব পালনে ব্যস্ত। এই উৎসবই আবার ঘরে লাগা আগুনে ক্রমাগত ঘৃতাহুতি দিয়ে চলেছে। এটি একটি আত্ম-বিধ্বংসী চক্রে পরিণত হয়েছে। আর আমরা এই অজুহাতে নির্বিকার আছি যে, অবস্থা এতই খারাপ হলে সরকারই নিশ্চয়ই কিছু একটা করবে। ব্যাখ্যাগুলো পরিণত হয়েছে একে অপরের ওপর দায় চাপানোর খেলায়, আর এভাবেই সমস্যাগুলো উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।

আমরা অন্য প্রেক্ষাপট থেকে পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারি। যে ব্যবসাগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটাচ্ছে, সেগুলো আমাদেরই তৈরি, অন্য কোনো গ্রহ থেকে আসা আমাদের কোনো শত্রু এগুলো সৃষ্টি করেনি। এই ব্যবসাগুলো আমরা নিজেরাই পরিচালনা করছি। আর ভোক্তা হিসেবে তাদের উৎপাদিত পণ্য ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহার করে আমরা বরং এই ব্যবসাগুলোকে আরুও উৎসাহিত করছি, বড় করছি। আমরা বাংলাদেশ, ফান্স বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানেই থাকি না কেন, তাতে কিছু এসে-যায় না। আমাদের গৃহে আগুন লেগেছে আর আমরা এই গৃহেরই ভিন্ন ভিন্ন কক্ষে অবস্থান করছি। ঘরে আগুন লাগলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমরা যেভাবে পারি আগুন নেভাতে যেমন এগিয়ে আসি, এক্ষেত্রেও আমাদের তাই দায়িত্ব। সরকার আমাদেরকে এটা করতে বলুক বা না বলুক। আগুন নেভানোর জন্য আমাদের হাতে সময় খুবই কম এবং এরই মধ্যে আগুন না নেভালে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগই আমাদের হাতে আর থাকবে না।

আমাদের কিশোররা বড়দের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক ভালোভাবে উপলদ্ধি করতে পারছে। তারা প্রতি শুক্রবার রাস্তায় নেমে মিছিল করছে, তারা নিজেদের নাম দিয়েছে ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’। তারা কুণ্ঠাহীনভাবে তাদের বাবা-মা ও অন্যান্য মুরব্বিদের এই বলে অভিযুক্ত করছে যে, তাদের দায়িত্বহীন, স্বার্থপর আচরণ তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত ধ্বংস করছে। আমাদের কিশোররা বিপদ বুঝতে পারছে এবং তারা এ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে। তারা তাদের সরকার তাদেরকে কিছু বলার জন্য অপেক্ষা করছে না। আমাদের সময় হয়েছে তাদের কথা শোনার, সংকটের গুরুত্ব উপলদ্ধি করার এবং বিপদ মোকাবিলায় আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করার।

আমি কিশোর-কিশোরীদের সচেতনতার প্রশংসা করি, যেখানে বড়রা নির্ভর করছে প্যারিস চুক্তির সফলতার ওপর। প্যারিস চুক্তি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। এর লক্ষ্যগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতি নির্ধারণ এবং কর্মকাঠামো গড়ে তোলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মপন্থাগুলোও সুনির্দিষ্ট। কিন্তু, জনগণের ভূমিকা এখানে কী? সমস্যাগুলো মূলত জনগণই নানাভাবে তৈরি করেছে। আর এগুলোর সমাধানে প্রাথমিক দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। আমি মাদকাসক্ত, আমি অপেক্ষা করছি কেউ আমার হাত থেকে মাদকটা জোর করে কেড়ে নিয়ে আমাকে বাঁচাক। এই অপেক্ষা সমস্যাকে শুধু জটিলতর করবে। সমাধান হলো আমাকেই আমার আসক্তি থেকে মুক্ত করে আনতে হবে। আমার আসক্তিকে চিনে নিতে হবে। তার থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে।

তরুণরা সমস্যাগুলো বুঝতে পারছে। তারা বড়দের জাগ্রত করতে এগিয়ে এসেছে। এতে আমি উৎসাহিত বোধ করছি। মানব সভ্যতার ইতিহাসে তরুণদের বর্তমান প্রজন্মই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম। এর কারণ এই নয় যে, তারা বেশি বুদ্ধিমান। এর কারণ এই যে, তাদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি, এমনকি গ্রামের দরিদ্র মেয়েটির কাছেও, যা মাত্র কয়েক বছর আগেও পৃথিবীর কারো কাছে ছিল না। প্রতিটি তরুণের কাছে এখন পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই এখন আলাদিনের চেরাগের দৈত্যের মতো অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী। নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের মধ্যে এই বোধ জাগ্রত করতে হবে যে, তারা আগের প্রজন্মগুলোর চেয়ে শুধু আলাদাই নয়, চিন্তা ও প্রযুক্তির শক্তিতে বহুগুণে শক্তিশালীও। তরুণদেরকে তাদের শক্তি অনুধাবন করার ক্ষমতা দেওয়া এবং শিক্ষাকালীন সময়ে সে ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করাও নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শক্তির বিন্দুমাত্র অংশ যেন তারা ব্যবহার না করে অপচয় করে ফেলে।

তরুণদেরকে অবশ্যই বড় কাজ করার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হতে হবে। তাদের নিশ্চিতভাবে বুঝতে হবে যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তাদেরকে সাহসী হতে, বিনা প্রশ্নে যেকোনো কিছু মেনে না নিতে এবং পুরনো আপ্তবাক্য বিনা পরীক্ষায় গ্রহণ না করতে এবং প্রয়োজনে বড়দের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যে ধরনের পৃথিবী তারা দেখতে চায়, তা তৈরির কাজ শুরু করে দিতে হবে এবং তা করতে হবে এখনই। একথা বলে দেরি করা যাবে না যে, বড় হয়ে করব। তাদেরকে সবকিছু এখনই শুরু করার জন্য তৈরি হতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে তারা যা পেয়েছে, তার সবকিছুই তাদেরকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কোনো কিছুই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। তাদেরকে বলতে হবে যে, পুরনো পথ তাদেরকে কেবল পুরনো গন্তব্যেই নিয়ে যাবে। নতুন পথ তাদেরকেই তৈরি করে এগোতে হবে। তাদের বিশ্বাস করতে হবে যে, তারা সে কাজ করতে পারবে।

কল্পনার শক্তিতে তাদের বিশ্বাস করতে হবে। তাদেরকে সীমাহীন কল্পনায় অভ্যস্ত হতে হবে। তাদের মনে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতে হবে যে, তারা কল্পনা করলেই একদিন তা বাস্তবে রূপ নেবে। তাদেরকে নিশ্চিত হতে হবে যে, তাদের কল্পনা কল্পনাবিলাসীর কল্পনা হবে না। এই কল্পনা হবে কল্পনাতাড়িত তরুণের নতুন পৃথিবী রচনার কল্পনা। তাদেরকে বুঝতে হবে যে জিনিস কোনোদিন কল্পনা করা হয়নি, সে জিনিস কখনো বাস্তবে সৃষ্টি হয় না।

সাইন্স ফিকশন যেমন বিজ্ঞানের শক্তি জোগায়, তেমনি তাদেরকে সোশ্যাল ফিকশন রচনা করে সমাজ পরিবর্তনের শক্তি সংগ্রহ করতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, যে-মানুষ কিছুদিনের মধ্যে অসাধ্যকে সাধ্য করবে, সে এখন তার শিক্ষাব্যবস্থার আওতাতেই বেড়ে উঠছে। শিক্ষা ব্যবস্থা কি তার জন্য সহায়ক পরিবেশ দিচ্ছে, নাকি তাকে দমিয়ে দেওয়ার, এমনকি তার স্বপ্ন ভণ্ডুল করার কাজে নিয়োজিত আছে। তাকে তার মতো করে প্রস্তুতি নেওয়ার সকল সুযোগ দিতে হবে।

লেখক প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ফেসবুক থেকে নেওয়া।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার

লাভা মাহমুদা

প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার

গত বছর নারী দিবসে লেখাটি লিখেছিলাম। এই এক বছরে তাৎপর্যগত দিক থেকে সংস্কারের ভাবনার একটুও হেরফের হয়নি। বরং বলা যায় বেড়েছে। তাই সঙ্গত কারণে লেখাটি আবার দিলাম। শৃঙ্খল ভাঙার গান গেয়েই যাব মৃত্যু অবধি। 

'প্রজন্ম হোক সমতার,
সকল নারীর অধিকার'

কথাগুলো শুনতে বেশ ভালো লাগে, কেমন যেন নান্দনিকতার ছোঁয়া আছে। কিন্তু সমতাটা কোথায়? আবার সমতার অধিকার? তাও আবার সকল নারীর? 

নারীতে পুরুষে, মানুষে মানুষে সমতা হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কোথাও কি সমতা আছে? স্বামীর অনুমতি না নিয়ে বাইরে যাওয়া, বাচ্চাদের প্রতি যত্নশীল না হওয়া, স্বামীর সঙ্গে তর্ক করা, যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানানো, খাবার পুড়িয়ে ফেলার মতো অতি তুচ্ছ যে কোন অন্তত একটি কারণে পুরুষের কাছে মার খায় নারী এবং এই মার খাওয়াকেও যৌক্তিক মনে করে এ দেশের ২৫.৪ শতাংশ নারী।

যাদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে এবং যারা বিবাহিত । হিসেবটি সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)। পুরুষেরা মার দিচ্ছে এবং নারীরা তাতে সমর্থন দিচ্ছে। কী ভয়াবহ অবস্থা !!

এই যে সমর্থন দেওয়া নারীরা আসলে কারা? নিশ্চিতভাবে এরা পুরুষতন্ত্রের প্রতিভূ। এদের সমর্থনের কারণে পুরুষেরা অনায়াসেই সেই অপকর্মটি করে পার পেয়ে যায়। এদেশের নারীদের মানসিকতার যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, তাতে বোঝা যায়, নারীরা নিজেরাই তাদের অধিকার এবং মর্যাদার বিষয়ে সচেতন নয়। 

এমন মানসিকতা যে দেশের নারীদের, সে দেশে পুরুষ ওৎ পেতে থাকবেই। তাই জন্ম থেকে শুরু হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত নারীর আর মানুষ হওয়া হয় না। এখনও ভূমিষ্ট হওয়ার পর সন্তানটি ছেলে হলে পরিবারে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। কন্যা হলে এমনটি দেখা যায় না। তখন পরিবারের অনেকেই ব্যর্থ ফিকে হাসি দিয়ে বলে, " সমস্যা নাই, পরেরবার নিশ্চয়ই ছেলে হবে'। 


বিশ্ব নারী দিবস আজ

নারীর কর্মসংস্থান হলেও বেড়েছে নির্যাতন নিপীড়ন

অস্তিত্ব রক্ষায় এখনো সংগ্রামী নারী, তবে আজো ন্যয্যতা আর নিরাপত্তা বঞ্চিত

সাইবার অপরাধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী নারীরা


এই যে সংরক্ষিত অধিকার নিয়ে কন্যা সন্তানটি পৃথিবীর মুখ দেখলো, মৃত্যু অবধি তার আর পরিবর্তন ঘটলো না। দুঃখের বিষয়, নারী বুঝতেই পারে না বা তাকে বুঝতে দেওয়া হয় না, যে সে তীব্র বৈষম্যের শিকার। 

পিতার সম্পতিতে সে ভাইয়ের সমান হলো না, স্বামীর সংসারেও সে অপাংক্তেয়ই থেকে গেল। 'নারীর পূর্ণতা মার্তৃত্বে'..... জাতীয় বাক্যে প্রবোধ দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। সেই পূর্ণতাও আবার পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্যে নিহিত।

সাফল্যের চূড়ায় বসে থাকা অল্প কয়েকজন নারী গোটা সমাজের প্রতিনিধি নয়। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীর অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থানের সূচকই নারীর বাস্তবতা। আর গোটা কয় নারীর সামনে এগিয়ে যাওয়ার পেছনের কাহিনীটাও কম কষ্টসাধ্য নয়। নারীদের শিক্ষিত এবং সচেতন হওয়ার আনুপাতিক হার বাড়ার কারণে পরিবর্তিত হচ্ছে নারীকে শৃঙ্খলিত করার ধরন ও প্রকৃতিও। 

নারী মাত্রই জানে প্রতিনিয়ত কতটা অবহেলা, অসম্মান আর আত্মগ্লানির ভেতর দিয়ে যেতে হয় । কত নারী বুক সমান হতাশা, দীর্ঘশ্বাস, অবহেলা, আক্ষেপ নিয়ে নির্ঘুম রাত পার করে, সে হিসেবটা শুধু নারীরাই জানে। যে দেশে, সমাজে, পরিবারে আজও মেয়েদের মানুষ ভাবতেই শেখেনি, তার ইচ্ছা–অনিচ্ছার মূল্যায়ন করতে জানে না, সেখানে মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাববার সময় কই ! 

এতো মানুষের ভিড়ে একাকিত্ব আর তীব্র দহনে নারীদের দীর্ঘশ্বাস শুধু চার দেয়ালের ভেতরেই ঘুরপাক খায়। যাইহোক, অধিকার কেউ দেবে না, আদায় করতে হবে। কিভাবে? যোগ্য হয়ে। কার কাছে যোগ্য হতে হবে? নিজের কাছে। 

তীব্র ঘাত প্রতিঘাত উপেক্ষা করে অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে, নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তার আগে নারীকে বুঝতে হবে পুরুষশাসিত সমাজ কিছু সস্তা অজুহাতে শৃঙ্খল পড়িয়েছে নারীকে, নিজের স্বার্থে। সে অধিকার বঞ্চিত, উপেক্ষিত, অবহেলিত।
 
সংস্কারের পলেস্তারা খসাতে হবে নারীকেই। শিরদাঁড়া সোজা করে তাকাতে হবে সামনের পানে। হার ভাঙা খাটুনি দিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে প্রতিদিন যুদ্ধ তো করতেই হয়। এবার যুদ্ধটা হোক নিজের সাথে, জীবন জয়ের যুদ্ধ।

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর