স্যার আবেদ বেঁচে থাকবেন কোটি মানুষের হৃদয়ে

শরিফুল হাসান

স্যার আবেদ বেঁচে থাকবেন কোটি মানুষের হৃদয়ে

স্যার ফজলে হাসান আবেদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি আজ আমার বক্তব্য শুরু করেছিলাম অভিবাসন নিয়ে বিএমইটি ও ব্র্যাক আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের একটা অনুষ্ঠানে। সেখানে বলেছিলাম আমাদের জন্য দিনটা শোকের। কিন্তু অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ স্যার সেই অনুষ্ঠানেই বললেন, স্যার আবেদদের মতো মানুষের কোন মৃত্যু নেই। কাজেই শোক নয় আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত এই মহামানবেরা পৃথিবীতে এসেছিলেন। 

কথাটা মনে ধরল। আসলেই তাই। মানুষের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে একজন মানুষ যে তার চারপাশ, তার দেশ, এমনকি পৃথিবীও বদলে দিতে পারেন সেটা স্যার ফজলে হাসান আবেদ দেখিয়েছেন। তার ভাবনাজুড়ে ছিল শুধু মানুষ। সে কারণেই তো মৃত্যুর আগে তিনি বলতে পারেন, ‘আমি তৃপ্ত যে আমার জীবন বৃথা যায়নি।’

স্যার আবেদ আমার কাছে একটা জাদুকাঠির নাম। ২০০২ থেকে ২০১৭, টানা ১৫ বছর সাংবাদিকদের সুবাদে এদেশের অনেক মানুষকে কাছ থেকে দেখা হয়েছে। দূর থেকে একজনকে যতটা বড় মনে হয়, কাছে গেলে অনেক সময়ই সেই বড়টা আর লাগে না। অথচ আবেদ ভাইয়ের কাছাকাছি গিয়ে আমার মনে হয়েছে, তিনি আমাদের জানার চেয়েও অনেক বড়। কিন্তু, ভীষণ বিনয়ী। মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে নানাজনের স্মৃতিকথায়ও সেগুলো উঠে এসেছে।

আমি সবসময় বলি, বাংলাদেশে অনেক বড় মাপের মানুষ আছেন। তারা অনেক বড় বড় কাজও করেছেন। কিন্তু, খুব কম মানুষই আছেন যিনি ব্যক্তিপরিচয় ছাপিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিয়েছেন! কিন্তু, শুরু থেকে ব্র্যাককে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করিয়েছেন স্যার আবেদ। নিজের গড়া প্রতিষ্ঠানেও অন্যদের মতো তিনিও বেতনভুক্তই ছিলেন। তিনি সব সময় বলতেন, ‘আমি ব্র্যাক থেকে বেতন নিই। কিন্তু, আমার নিজের কিছু নেই। নিজের বাড়ি নেই, ভাড়া করা ফ্ল্যাটে থাকি। যখন ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করি, তখনই নিজের জন্য কিছু করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ নিজের সম্পদ গোছানোর ব্যবসা করতে গেলে গরিবদের সাহায্য করতে পারব না।’

আপনারা অনেকেই জানেন, ব্র্যাকের জন্মের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফজলে হাসান আবেদ তখন শেল কোম্পানির বড় কর্মকর্তা। সেই চাকুরি ছেড়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য কাজ করেন। দেশ স্বাধীনের পর লন্ডনে নিজের ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে দিয়ে বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেন। সেই যে শুরু হলো, আজ সেই প্রতিষ্ঠানের বয়স ৪৯ বছর। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থা আজ ব্র্যাক।

আমি ব্র্যাকের অতীত ইতিহাস পড়ি আর মুগ্ধ হয়ে ভাবী- একটা প্রতিষ্ঠান কী করে এত কাজ শুরুর সাহস করল। ১৯৬৮ সালে খাবার স্যালাইন তৈরি হলেও দেশের মানুষ জানত না। ফলে ডায়রিয়ায় প্রচুর লোক মারা যেত। বাড়ি বাড়ি খাবার স্যালাইন নিয়ে গেল ব্র্যাক। সারা বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে একজন নারীকে লবণ-গুড়ের স্যালাইন বানানো শেখাতে ব্র্যাকের সময় লেগেছিল ১০ বছর। ফল ডায়রিয়ায় মানুষের মৃত্যু কমে এলো।

বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েদের মৃত্যু কমাতে এবং শিশুমৃত্যুর হার কমানোর জন্য টীকা প্রদানের যে কর্মসূচি তাতে মূল ভূমিকা রেখেিছলেন স্যার আবেদ। ১৯৮০ সালে স্যার আবেদ  সরকারকে টীকা কর্মসূচি শুরুর প্রস্তাব দিলেও সরকার ১৯৮৬ সালে পুরোদমে কাজটি শুরু করতে রাজি হলো। তবে শর্ত হলো বাংলাদেশের চার বিভাগের মধ্যে দুটিতে কাজ করবে ব্র্যাক। বাকি দুটিতে সরকার।

অবাক করা বিষয় হলো- যে দুই বিভাগে ব্র্যাক কাজ করেছিল, সেখানে ৮০ শতাংশ শিশুর টিকাদান সম্পন্ন হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃতি দিল ব্র্যাককে। দেশজুড়ে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে এই টীকা কার্যক্রমের ভূমিকা বিশাল।

ব্র্যাকের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর কাজটিও মুগ্ধকর।আড়ং থেকে শুরু করে ব্র্যাকের প্রতিটি কর্মসূচিই সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানে ব্র্যাকের নেতৃত্বদান সারা দুনিয়ায় প্রশংসিত।

বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ১১ দেশে কাজ করছে ব্র্যাক। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপে কার্যালয় আছে ব্র্যাকের। আফ্রিকার দেশগুলোতে যদি আপনি বাংলাদেশ বলেন তা হলে তারা বলবে শান্তি মিশন নাকি ব্র্যাক? ভাবতে দারুণ লাগে আফ্রিকার কোনো এক দেশে সড়কের নাম ব্র্যাক।


আরও পড়ুন: এতো ভ্যাকসিন ভারত কোত্থেকে নিচ্ছে?


আসলে মানুষের জীবন পরিবর্তনে যত কিছু লাগে, প্রত্যেক কাজে স্যার আবেদ শরিক হয়েছেন। শুধু কয়েকটা ছোটখাটো দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য নয়, সব মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে গেছেন এবং তিনি সফল হয়েছেন। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে ব্র্যাকের সঙ্গে জড়িত।

স্যার আবেদকে নিয়ে নানাজনের স্মৃতিকথা পড়ছিলাম। তামারা আবেদ আপা যেমনটা লিখেছেন, স্যার আবেদ অর্থ বৈভব, খ্যাতি বা ক্ষমতার পেছনে ছোটেননি। তিনি মানুষের জন্য কাজ করে তৃপ্তি পেয়েছেন। জীবনের সাধারণ আনন্দগুলো থেকে তিনি সুখ খুঁজে নিয়েছেন। সর্বোপরি জীবন ও মানুষের প্রতি আগ্রহ তাঁর প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করেছে। এটাই তাঁর জীবন থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
 
আমি বিশ্বাস করি স্যার আবেদ বেঁচে থাকবেন কোটি মানুষের হৃদয়ে। আর তাঁর রেখে যাওয়া মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, কৌশল বজায় রেখে নিশ্চয়েই আরও এগিয়ে যাবে  এই বাংলাদেশ।

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খেলা হবে

আনোয়ার সাদী

খেলা হবে

পশ্চিম বঙ্গের রাজনীতিতে এখন আলোচিত দুটি শব্দ হলো-খেলা হবে। ভোটের প্রচারণায় এই শব্দের বহুল ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। এই শব্দের ব্যবহার এতোটাই ব্যাপক যে, আনন্দবাজার পত্রিকায় এনিয়ে একটি প্রতিবেদন করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘আসুন, খেলা হয়ে যাক।’’ তাঁর অন্যতম সেনাপতি অনুব্রত মণ্ডলের হুঙ্কার, ‘‘ভয়ঙ্কর খেলা হবে।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পাল্টা দিচ্ছেন, ‘‘আমরাও বলছি খেলা হবে। তোমাদের (তৃণমূল) খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।’’ ‘খেলা হবে’-র বার্তা দিয়ে নবান্ন অভিযান করেছেন বাম ছাত্র-যুবরা। হুমকিতে, চ্যালেঞ্জে, গানে, প্যারোডিতে, পোস্টারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে— খেলা হবে, খেলা হবে!

বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে এই শব্দ ভারতে রপ্তানি হলো। সেই ক্রেডিট দিতে অবশ্য গড়িমসি করেনি আনন্দবাজার। তারা এর উদ্ভাবক শামীম ওসমানের বক্তব্য নিয়েছে। 

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এই বক্তব্য এর আগে বাংলাদেশে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই ইউটিউবে তার এই বক্তব্য শেয়ার করেছেন। এর ওপর নানারকম মন্তব্য করেছেন। এবার এর একটি আন্তর্জাতিক ভার্সন যুক্ত হলো। 

যহোক, রাজনীতিতে খেলা শব্দের ব্যাপক ব্যবহার হলেও রাজনীতি কোনোভাবেই ছেলে খেলা নয়।এর অনেক নিয়ম আছে, সৌন্দর্যী আছে, আছে মানুষের উপকার করার আকাঙ্ক্ষাও। ফলে, এই আকাঙ্ক্ষা কিছু ক্ষমতার জন্ম দেয়। অনেক সময় অনেকে রাজনীতি থেকে পাওয়া ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারে না। ফলে, অনেক কিছু ধংস হয়ে যায়। 

রাজনীতি মানুষের গন্তব্য ঠিক করে দেয়। রাজনীতিবিদরা ভবিষ্যতে মানুষের ভালো থাকা মন্দ থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। যে রাজনীতিবিদ দূরদর্শী তার চিন্তা মানুষের ভালো করে, যিনি অপরিণামদর্শী তিনি ক্ষতি করে দেন। ফলে, তাদের চিন্তা বা কাজ করার পদ্ধতিকে যদি খেলা নামে অভিহিত করা যায়, তাহলে সে খেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বলছিলাম রাজনীতি ছেলে খেলা নয়। খেলায় শেষ কথা হলো জয়। নির্ধারিত সময়ে এই জয় না এলে খেলার সময় বাড়ানো হয়। মীমাংসা না হলে টাইব্রেকার হয়। কোনো কোনো খেলায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে ড্র হয়। কিন্তু ফাইনাল খেলায় অবশ্যই একজনকে বা একটা দলকে হেরে যেতে হয়। রাজনীতিও অনেকটা এমনই। শেষ বিচারে কাউকে না কাউকে বিজয়ের মালা পরতে হয়। অন্য জন বা দলকে জানাতে হয় অভিনন্দন। তারপরো রাজনীতিতে বহুল প্রচলিত কথা হলো, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। তাহলে কী পুরো রাজনীতি একটা খেলা নয়। বরং রাজনীতিতে অবস্থান গড়ে নেওয়ার নাম খেলা? 


ছেলের প্রেমিকাকে রাত জেগে পাহারা দিলেন বাবা

পানি পানে আসা কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা ও মাটিচাপা

কালো পোশাকে নতুন এক জয়া

সৌদি যাত্রীর ছোট ব্যাগ থেকে মিলল ৫ কেজি স্বর্ণ


এর অনেক ব্যাখ্যা আছে। খেলার বিপরীতে খেলার হুমকী থাকতে পারে, তারও ব্যাখ্যা আসতে পারে।সবকিছু শেষে জনকল্যানই চাহিদা সাধারণ মানুষের।

যাহোক, সম্প্রতি খেলা বিষয়ে আরেকটি বাক্য ভাইরাল হয়েছে। এটি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে ছিটকে পড়া নাসির এর বউ তামিমা। তিনি বলেছেন, তিনি চান নাসির খেলুক, মাঠে হোক আর যেখানেই হোক, নাসির খেলুক। 

নাসির অবশ্য তার বিয়ে নিয়ে বেশ আলোচিত বলা ভালো সমালোচিত হয়েছেন। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যতন্ত। কিন্তু পুরো ঘটনায় আমার ট্রয় সিনেমা মনে পড়েছে বারবার। সেখানেও অন্যের বউকে নিয়ে আসার ঘটনা ছিল। ছিনতাই করে আনা হয়নি। ভালোবেসে ঘটনায় নায়ক নিয়ে আসেন হেলেনকে। 

এর ফলাফল রক্তক্ষয়, যুদ্ধ, সাম্রাজ্যের পতন। কারণ এই ভালোবাসার বিপরীতে ঘৃণা আর এর সঙ্গে রাজনীতি ও লোভ মিলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ট্রয় এর গল্পে তা মোটেও খেলা নয়। তেমনি খেলা নয় মানুষের মন ও জীবন। কথায় বলে না মানুষের মন নিয়ে খেলা করো না। তেমনি সম্পর্ক নিয়েও খেলা করা যায় না। ফলে, কোনো ঘটনা যদি একজনের জন্য প্রেম, অন্যের জন্য আইন অমান্য হয় তাহলে তা যথেষ্ট জটিল হয়ে যায়। এর মাঝে নাসির মাঠে খেলুক, নেতারা রাজনীতির মাঠে, আমরা শুধু চাইবো, শান্তি যেনো বজায় থাকে সবখানে। 

খেলা হবে- এই শব্দের অর্থ যেনো সব সময় হয় ইতিবাচক।

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সামিয়া রহমান

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সামিয়া রহমান

এখন প্রভাবশালী, ক্ষমতাধর, নাটের গুরুদের বক্তব্য-শিকাগো জার্নালের চিঠি মিথ্যা তো কি হয়েছে। অভিযোগ তো সত্য। প্লেজারিজম তো হয়েছে। তাদের চামচারাও সুর মিলিয়ে, তাল মিলিয়ে বলছেন, আরে হ্যাঁ তাইতো, অভিযোগ তো সত্য। চিঠিতে কি এসে যায়! ভুলে যাও চিঠির কথা।

ভাই এই মিথ্যা চিঠির ভিত্তিতেই তো তদন্ত শুরু হলো। চিঠিটা তৈরি করলেন কে তাহলে?  এখন এই কথা বলছেন কেন? পাছে চিঠি তৈরির পেছনের রহস্যে তাদের জড়িত থাকার যদি প্রমান মিলে যায়, তাই ?  ঘটনা তো অন্যদিকে ঘোরাতেই হবে।  

ঘটনা প্লেজারিজমে নিয়ে গেলে, জনগণ তাদের নোংরামি, তাদের ষড়যন্ত্র বুঝবে না, তাই আজ এই সুর! একটা জিনিষের শুরুটাই যখন মিথ্যা তখন বুঝতে হবে পুরোটাই ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা।  

ভাইরে প্লেজারিজমের অভিযোগও মিথ্যা। যে মিথ্যা চিঠি তৈরি করেছেন, অভিযোগ প্রমানীত না হওয়া সত্তেও, সেটাকে সত্যি বলে প্রচার করছেন- সেই চিঠির অস্তিত্ব যেমন মিথ্যা, তেমনি পুরো বিষয়ে আমার জড়িত থাকার প্রমাণও মিথ্যা। 

প্রেস কনফারেন্সে যথেষ্ট বলেছি, তারপরও যাদের মগজে ঢোকেনি, ক্রমাগত বলেই যাচ্ছেন ক্ষমতাধরদের তুষ্ট করতে, ফেসবুকে নোংরামি করতে-তাদের আবার বলছি-মারজান তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছিল লেখা সেই জমা দিয়েছিল, সেই রিভিউ করেছিল, এটা তার অনিচ্ছাকৃত ও অনভিজ্ঞতাবশত ভুল।  

এর জন্য সে দুঃখ প্রকাশও করেছিল। লেখা জমা দেয়া থেকে ছাপানো পর্যন্ত আমার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তদন্ত কমিটিও পায়নি (যে তদন্ত কমিটি শুরু থেকে নাটের গুরু হিসেবে প্রতিহিংসা বিলিয়েই যাচ্ছেন মিডিয়ার সামনে)। 

তদন্ত কমিটি বলেছে আমার জড়িত থাকার দালিলিক প্রমাণ অষ্পষ্ট।  আমার কাছ থেকে লেখা জমা নেবার যেমন কোনো প্রমাণ নেই, তেমনি রিভিউয়ারের কপিও আমার কাছে পৌছায়নি ট্রাইব্যুনালের সদস্য ড. জিনাত হুদাই বলছেন।  মারজানের নিজে জমা দেবার ও রিভিউ করার লিখিত স্বীকারোক্তির পরও কেমন করে তদন্ত কমিটি বলে দালিলিক প্রমান অষ্পষ্ট ? 

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে? চিঠি কি তবে তারাই তৈরি করেছেন?  ট্রাইব্যুনাল বলছে প্লেজারিজম হয়নি। দরকার হলে ট্রাইব্যুনালের সদস্য ড.জিনাত হুদাকে জিজ্ঞেস করুন। ট্রাইব্যুনালের আহবায়ক ড. রহমতউল্লাহ তো নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েই দিয়েছেন এটা প্লেজারিজম হয়নি। সিন্ডিকেট অন্যায় করেছে, তিনিই বলছেন।  


হুইল চেয়ারে বসেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রায় জাফরুল্লাহ

পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি তৃণমূল নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে: কাদের

দেশের থানাগুলোতে ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা চলমান

পুলিশ হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ


সিন্ডিকেট সকল প্রমাণ উপেক্ষা করে ক্ষমতার বলে গায়ের জোরে সিদ্ধান্ত চাপালে মূল ষড়যন্ত্রের সাথে কারা কারা জড়িত প্রমাণ কিন্তু মিলে যায়।

ড. আরেফিন স্যারকে জিজ্ঞেস করুন ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি তাকে আর্টিকেল দেখিয়ে পরামর্শ চেয়েছিলাম কিনা! তিনিই তো আমাকে বলেছিলেন ড. ফরিদউদ্দিনকে বলো বিষয়টি সিন্ডিকেটে তুলতে। ফরিদ স্যার তুললেন না কেন? 

কেন ঘটনাটি সবাই জানার সাত মাস আগে ৫ ফেব্রুয়ারি লেখা প্রত্যাহারের চিঠিতে ডিন ফরিদউদ্দিনের সাক্ষর থাকা সত্ত্বেও সেটি গ্রহণ করেনা তদন্ত কমিটি ও সিন্ডিকেট? কেন ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মারজানকে দেয়া আমার মেইলটিও ( যেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে মারজান সব জমা দিয়েছে, সে রিভিউ করেছে) সেটি তদন্ত কমিটি ও সিন্ডিকেট গ্রহণ করেনা। কেন তাদের এতো প্রতিহিংসা আক্রোশ আমার বিরুদ্ধে? 

আমি রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টে তিনবার অ্যাপিল করার পর বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়ে দেয় আমাকে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হবেনা। কেন? কোন আইন বলে? বিশ্ববিদ্যালয় কি কারো বাপের বাড়ি? নিজের সম্পত্তি? তাই মনে হয় এখন। আপনারা রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি চান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে, সেখানেই সব প্রমাণ দেখতে পাবেন। ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হবে বলেই কি আমাকে কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না?

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সেদিক থেকে আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

সেদিক থেকে আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ

এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আমার এখন কোনো দেশের তালিকায় থাকব তাতো পরিস্কার বুঝতে হবে।

বলা হচ্ছে আমরা এলডিসি (Least Developed Country বা সংক্ষেপে LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) হতে যাচ্ছি।  কথাটির মানে হয় না।

এটা সত্য, এবং একটা গৌরবের বিষয়ও যে আমরা এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসব।  কিন্তু আমরা সবসময়েই উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো, কারণ এলডিসি হলো উন্নয়নশীল দেশ (Developing country)-গুলোর মধ্যেই কিছু দেশের গ্রুপ (উপ-গ্রুপ বা sub-group) যারা বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে কিছু সুযোগ সুবিধা পাবার জন্য সুনির্দিষ্ট তিনটি সূচকের অনগ্রসরতা দিয়ে চিহ্নিত হয়; আমরা সেই সূচকের শর্তগুলো পূরণ করে উন্নয়নশীল দেশের সেই উপ-গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি, নতুন কিছু হতে যাচ্ছি না।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে উন্নত বনাম উন্নয়নশীল দেশের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে কোনো দেশ নিজেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দাবি করে কিছু সুযোগ চাইতে পারে, যদিও অন্য দেশগুলোর সেই দাবি মেনে নেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল না উন্নত দেশ তা নিয়ে এই মুহূর্তে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। কাজেই সেদিক থেকেও আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ এটা ঘোষণা দেবার কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না।

লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মন সুন্দর হওয়া জরুরি

আতিকা রহমান

মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মন সুন্দর হওয়া জরুরি

মানুষের গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নাই। কে ফর্সা আর কে কালো, গায়ের রং কালো বলে তাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলা কিংবা কঠাক্ষ করে কথা বলা আমার একদম পছন্দ না।

গায়ের রং নিয়ে এমন বর্ণবাদী আচরণ আমি খুব অপছন্দ করি।  আমি মনে এটা অত্যন্ত নিকৃষ্টতম কাজ। নোংরা মানসিকতার পরিচয়।

গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিবেচনা করি না কখনো।

তারপরও  কালো বলে খোঁচা মারা কথা শোনার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই আছে। আমার আব্বা আম্মা ফর্সা। তাই অনেকেই আমাকে বলতো, তুমি তো তোমার মায়ের মতো হওনি। মানে ইনডাইরেক্টলি, আমি কালো আমার মা ফর্সা। 
আমার মেয়েকে নিয়েও এরকম কথা শুনতে হয় আমাকে। অনেকেই বলে তোমার মেয়ে অনেক সুন্দর কিউট। আপনার মেয়ে তো একেবারে রাজকন্যা। রূপকথা তো আপনার মতো হয়নি। আপনার সাথে তো মিল নাই। কার মতো হইছে দেখতে?


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


একজন তো বলেই বসলেন,  আপনার মেয়ে এত ফর্সা আর  সুন্দর হলো কীভাবে??

আমি বললাম, আমি কালো বলে আমার মেয়ের ফর্সা হতে তো কোন বাধা নাই। 

অনেকেই ইনডাইরেক্টলি মেয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে আমার ার আমার মেয়ের গায়ের রং এর পার্থ্যক্য বুঝায় দেয়। 
আমার বিয়ের দুই/তিন বছর আগে। তখন বিয়ে করবো না বলে ডিটারমাইন্ড ছিলাম। কোন এক ঈদের পরে, একদিন এক ভদ্রমহিলা আর ভদ্রলোক এলো আমাদের বাসায়। তাদের ছেলের বউ দেখার উদ্দেশ্যে। তারা চাকরিজীবী মেয়ে চায়। 
তো আমাকে দেখে তারা হতাশ হলেন। আমি কালো জন্য ছেলের সাথে বিয়ে দেবেনা। তারা ফর্সা মেয়ে খুজতেছে। 
ভদ্র মহিলা এবং ভদ্রলোকের গায়ের রং কালো। আমাকে দেখে অপছন্দ ভাবটা বুঝলাম।  আমি ভদ্র মহিলাকে বললাম। আন্টি আপনার ছেলের ছবি দেখান।   মহিলা কেন জানি খুব অপ্রস্তুত বোধ করে ছবি দেখালো। আর বললো, আমার ছেলে একটু কালো। ছবিতে দেখলাম। একটু টা ছেলে টা বেশ কালো।

মহিলা আমতা আমতা করে হেসে বললো, আসলে আমার ছেলে অনেক কালো তো। তাই ফর্সা মেয়ে খুঁজতেছি। কারণ নাতি-নাতনি যাতে ফর্সা হয়।

আমি বললাম, দোয়া করি যেন ফর্সা একটা বউ পান। মহিলা আমার এরকম কথায় বেশ অবাক হলেন।

গত বছর আমার খুব ঘনিষ্ট একজন মেয়ের বিয়ের জন্য এক ভদ্রলোককে বললাম। মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত, সব রকম যোগ্যতা আছে সব কিছু ভালো। কিন্তু তারা রিজেক্ট করলেন কারন মেয়ে টা কালো।

কিছু লোকজন আবার সরাসরি কালো বলে না, সৌজন্য করে বলে একটু বেশি শ্যামলা, গায়ের রং টা একটু চাপা। 
এই হলো আমাদের দেশের মানুষের নোংরা মেন্টালিটি।

আমাদের দেশের ৯০ শতাংশ কালো মেয়েদের জন্ম থেকে কবর যাওয়া পর্যন্ত কথা শুনতে হয়।

আমার নিজের গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো মন খারাপ বা হীনমন্যতা নাই। আমি আমার মতো। আমি আমার মতো সুন্দর। আমার মন সুন্দর। এটা নিয়েই আমি গর্ববোধ করি। মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মনটা সুন্দর হওয়া জরুরি। 
যারা গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিচার করে তাদের আমি ঘৃণা করি।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা: সামিয়া রহমান

সামিয়া রহমান

যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা: সামিয়া রহমান

শুনলাম আমার এই প্রেস কনফারেন্সে চরম ক্ষুব্ধ, রাগান্বিত, এবং আমাকে একেবারে ধ্বংস করতে প্রতিশোধপরায়ন হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ ক্ষমতাধর নারী। যেহেতু তার নামটিও চলে এসেছে আমার বক্তব্যে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন ইন্টারভিউতে অথবা প্রেস কনফারেন্সে।

তিনি এখন ভয়াবহ প্রতিশোধপরায়ন হয়ে গতকাল সকল সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করার জন্য উসকাচ্ছেন। বলছেন যে কোনোভাবে সামিয়াকে ধ্বংস করে দিতে হবে। যে কোনো নিউজ দিয়ে, তা মিথ্যা হোক আর যাই হোক। সাংবাদিকদের কাছেই শুনলাম যাদের যাদের তিনি ফোন দিয়েছিলেন। 

বললেন মিথ্যা সত্যের ধার ধারিনা, যে কোনো মূল্যে সামিয়াকে শেষ করতে হবে। যে কোনো নিউজ করতে হবে সামিয়ার বিরুদ্ধে। প্রয়োজন হলে আমার সকল আর্টিকেলকে প্লেজারিজম বলে প্রমাণ করতে হবে। কারন পদ ক্ষমতা তার হাতে, তিনি যদি বলেন তবে এগুলো জনগণ মেনে নেবে। সাংবাদিকরা বললে জনগণ মেনে নেবে। যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা। সামিয়ার এতো বড় সাহস আমাদের বিরুদ্ধে প্রেস কনফারেন্স করে! এবার আমি তাকে শেষ মারটা দেব। 


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


উনার এতো ক্ষোভ কেন আমার বিরুদ্ধে? প্রথম থেকে উনি এবং উনার চামচারা কেন মিডিয়ার সামনে এতো সোচ্চার আমাকে নিয়ে? অ্যালেক্স মার্টিনের মিথ্যা চিঠির ষড়যন্ত্রের কি তিনিই তাহলে হোতা? প্রকাশ হয়ে যাবার ভয়ে আমাকে শেষ মার দেবার চেষ্টা? তার ষড়যন্ত্র প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে তাই আমাকে নিয়ে সাংবাদিকদের নতুন করে উসকানোর চেষ্টায় তিনি এখন অতি ব্যস্ত। 

আচ্ছা যার নিজের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের অভিযোগ আসে, তার ক্ষমতার ভয়ে ২/৩ টি বাদে আর কোনো মিডিয়া সাহস পায়না কাভারেজ দেবার, যিনি নিজে প্লেজারিজমের সাথে যুক্ত অন্তত ৫/৬ টি আর্টিকেলে, তিনি আবার কিভাবে অন্যকে নৈতিকথার কথা বলেন? বিচারক হবার যোগ্যতা তিনি আর রাখেন কি? 

ক্ষমতা পেয়ে কি তিনি এতোটাই করাপ্টেড হতে পারেন ? তিনি এতোই প্রবল প্রতাপশালী যে দিনকে রাত করেন, কোনো সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে লিখলে তার চাকরী চলে যায়, তার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখা ১ ঘন্টার মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে যায়। আমার ফেসবুক বন্ধুদের জানিয়ে রাখলাম, এই মহিলা আবার আমার বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছেন সাংবাদিকদের ফোন দিয়ে, ডেকে ডেকে। তবে আমি এখন প্রায় নিশ্চিত আমার বিরুদ্ধে শিকাগো জার্নালের মিথ্যা চিঠির, পুরো ষড়যন্ত্রের হোতা কে? তিনি ছাড়া আর কি কেউ হতে পারেন?

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর