৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছেন ডিউক, নেপথ্যে তারেক!

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছেন ডিউক, নেপথ্যে তারেক!

(বাঁ-দিক থেকে) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ডিউক

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে হাতে লেখা পাসপোর্টের বদলে ২০১০ সালে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় প্রবর্তিত হয় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)। কিন্তু এমআরপিতেও জালিয়াতি করা হচ্ছে বলে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল, সহজতর, সময়-সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিশ্বের ১১৮টি দেশ ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট প্রদান করেছে। এর ফলে বিশ্বে ১১৯তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করছে বাংলাদেশ। তবে থেমে নেই জালিয়াত চক্রের তৎপরতা।

ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ই-পাসপোর্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এমন তথ্য-প্রমাণ দেশের একটি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে যতই সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন, ততই সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় বিএনপি-জামায়াতের অনুচর সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সক্রিয় রয়েছে। 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার শিষ্য রফিকুল ইসলাম ডিউককে দিয়ে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। হাতিয়ে নেওয়া এসব তথ্যকে নানাভাবে ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা করছেন অনেকে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অনেক হিসাব নিকাশ পাল্টে দিতে পারে ডিউকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এসব পাসপোর্ট তথ্য। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সুপরিকল্পিতভাবে পাসপোর্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষরা। সংঘবদ্ধ একটি চক্র সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে নানা নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলেও জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে।

আওয়ামী লীগের লেবাসধারী দুবাইয়ে পলাতক ফ্লোরা টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউক ছিলেন একসময় তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পালিয়ে রয়েছেন দুবাইয়ে। তার নানা অপকর্মের খতিয়ান মিলছে এই অনুসন্ধানে।

কে এই মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউক?

নিজেকে আইটি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য ডিউক যুক্তরাষ্ট্র থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি এবং এমএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর জিই ক্যাপিট্যাল ক্যালিফোর্নিয়া এবং কম্পিউটারল্যান্ডে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশে তিনি আইটি ইনফ্রাকস্ট্রাচার এবং সফটওয়্যার কম্পানি ফ্লোরা টেলিকম ও ফ্লোরা সিস্টেমস পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ মিলেছে, দেশের কৃষি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসিবিএল, ট্রাস্ট ব্যাংকসহ মোট ৮টি ব্যাংকের ১০০ এরও বেশি ব্র্যাঞ্চে নিম্নমানের কোর ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশন সফটওয়্যার দিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বিএনপির আমলে একচেটিয়া ব্যবসা করেন তিনি। নানা অনিময়ের মাধ্যমে অর্থপাচার করেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমশিন থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কাজও শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালক পদ ব্যবহার করে সরকারের অনেক প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেয় ডিউক। তার মধ্যে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ই-পাসপোর্টের কাজও বাগিয়ে নিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান। সরকারের নানান প্রকল্পের কাজ করলেও তিনি বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে বিএনপির বড় অর্থ যোগানদাতা হিসেবে আলোচিত ছিলেন। বিএনপির গিয়াস উদ্দিন আল মামুন তার ঘনিষ্ট বন্ধু। তারেক রহমানের সাথে তার একাধিক ছবি রয়েছে। এছাড়া এক সময়ের ক্ষমতাধর আর বর্তমানে পলাতক বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর ডান হাত হিসাবে বিপুল সরকারি অর্থ লুটপাটে জড়িত ছিলেন ডিউক, এমন তথ্যও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। এমনকি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকেও ডিউক নানা সময়ে অনৈতিক পন্থায় আয় করা অর্থের ভাগ ও অন্যান্য অবৈধ সুবিধা দিতেন বলেও জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র।

ডিউকের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রফিকুল ইসলাম ডিউক নামের এমন একজনকে চিনি যে নিজেকে বড় আইটি ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। এমনকি বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তাকে তারেক রহমান নিজেই কয়েকবার হাওয়া ভবনে ডেকেছেন। এখন এই ডিউক যখন নিজেকে আওয়ামী লীগার দাবি করে তখন আমাদের হাসি পাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। নিজ দলের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, বিএনপি আসলে এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নেই, এটা সত্যিকারের একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেখানে তারেক রহমানকে গোপনে বা প্রকাশ্যে খুশি রাখতে না পারলে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। এমনকি এই তারেক রহমানের পরামর্শেই ডিউকের মতো লোকজন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে নিচ্ছে এবং ব্যবসা করে লন্ডনে নিয়মিত টাকা পাঠাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় ঢাকা টেলিফোন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। যে কম্পানিটির ব্যবসায়িক পার্টনার হিসাবে মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের সাথে আরো ছিলেন, তারেক রহমানের অর্থযোগানদাতা এ টি এম হায়াতুজ্জামান খান। এছাড়া বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও ছিলেন ওই কম্পানির পরিচালক। তৎকালীন বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমানকেও ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে তখনকার সময়ে রফিকুল ইসলাম ডিউক বিভিন্ন রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ব্যবসা বাগিয়ে নেয়। সেখান থেকে নানা অনিময় দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেন তিনি। এমনকি বনানীতে অফিস নিয়ে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসাও করেছেন দীর্ঘদিন। অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসার টাকার ভাগ আওয়ামী লীগের অনেক নেতার পকেটেও ঢুকেছে বলে জানিয়েছে ফ্লোরা টেলিকমের নির্ভরযোগ্য সূত্র।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে উন্নয়ন আর সাফল্যেও স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ যখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ঠিক তখনই অত্যন্ত সুকৌশলে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ই-পাসপোর্টের কাজটি জার্মান কম্পানির প্রতিনিধি হিসাবে দীপন গ্রুপের মাধ্যমে বাগিয়ে নিয়েছে ডিউক। দীপন গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদও বিএনপি-জামায়াতপন্থী। তারাও তারেক রহমানের অর্থযোগানদাতা বলে দাবি করেছেন দীপন গ্রুপেরই একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

২০১৮ সালে সোয়া তিন হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশকে ই-পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ পায় জার্মান কম্পানি ভ্যারিডোস জিএমবিএইচ। দেশীয় কম্পানি হিসাবে ফ্লোরা টেলিকমের এই কাজটি পেতে সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের কিছু এজেন্ট অনেক অর্থ বিনিয়োগ করেছিল বলে জানা যায়। বিতর্কিত ব্যবসায়ী ডিউককেই যেন কাজটি দেওয়া হয়, সেজন্য সরকারের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদকে ঘুষ হিসাবে রাজধানীর অভিজাত একটি গাড়ির শো-রুম থেকে ৪টি বিএমডাব্লিউ গাড়ি উপহারও দেওয়া হয়েছিল।


সিলেটে চলছে তিনদিনের পরিবহন ধর্মঘট

ভারতে ১১টি গ্রেনেড ফেললো পাকিস্তান

চিন্তার কারণ নেই, ভালো আছি: টিকা নিয়ে বাইডেন

উত্তেজনার মাঝে ভূমধ্যসাগরে নৌ মহড়া চালালো তুরস্ক


তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, বিএনপির এজেন্ট হিসাবে রফিকুল ইসলাম ডিউক কাজটি নিয়েছিল শুধুমাত্র তারেক রহমানের কাছে তথ্য পাচার করার জন্য। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার পিএসপি বলেন, 'পাসপোর্ট একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, স্পর্শকাতর অনুষঙ্গ এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়। পাসপোর্টে জাতীয় পরিচয়ের সকল তথ্যই থাকে। এই তথ্য পাচার হলে অবশ্যই রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা আমরা আগেও দেখেছি, রোহিঙ্গারা পর্যন্ত এ দেশের পাসপোর্ট বহন করেছে। রফিকুল ইসলাম ডিউকের মতো একজন আদর্শচ্যুত মানুষ কিভাবে এই কাজটি বাগিয়ে নিয়েছে সেটি আগে খতিয়ে দেখতে হবে। আমি ডিউককে দোষ দেওয়ার আগে বলতে চাই, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিতরে অনেকেই আছেন যারা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, যারা মনেপ্রাণে এখনো বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়, তারা সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে। তারাই ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষককে এই কাজ দিয়েছে। এখনো সময় আছে, মাত্র ২ হাজার ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। যা আগামী মাসেই বাংলাদেশে চলে আসবে বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালে রফিকুল ইসলাম ডিউককে কে বা কারা এই কাজটি পাইয়ে দিয়েছে, তাদের অতীত সামনে আনতে হবে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে সরকার। এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ইস্যুতে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।'

আলী শিকদার বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের সময়ও আমরা আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখেছি, এখনো বাংলাদেশে পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা সক্রিয় রয়েছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে যেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে না বসানো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্যও সরকারের প্রতি অনুরোধ করব। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার কাজটির সাথে যারা জড়িত ছিলেন, তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনে রফিকুল ইসলাম ডিউকের ফ্লোরা কম্পানির নামে বরাদ্দকৃত কাজটি বাতিল করে নতুন করে টেন্ডারও আহ্বান করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'আমরা ২০১৮ সালে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের অনুরোধে বাংলাদেশ জার্মান কম্পানি  ভ্যারিডোস জিএমবিএই’র সাথে চুক্তি করি। চুক্তি অনুযায়ী ‘টার্ন কি’ পদ্ধতিতে এটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভেরিডোসের সঙ্গে ‘ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের চুক্তি সই করে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এরপর জার্মান কম্পানি দেশীয় ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড নামের একটি কম্পানিকে কাজ দিয়েছে। এটা তো আমাদের বিষয় নয়। এটা জার্মান কম্পানি ভ্যারিডোসের বিষয়।

বিতর্কিত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ডিউক কিভাবে এমন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ই-পাসপোর্টের কাজটি পেলেন সে বিষয়ে জানতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধূরীকে (এসজিপি, পিবিজিএমএস, এনডিসি, পিএসসি) ফোন করা হলে তার সরকারি ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি পাসপোর্ট অধিদফতরের ওয়েবসাইটিও বন্ধ দেখাচ্ছে।

এদিকে, ফ্লোরা টেলিকমের কর্ণধার মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউককে কয়েকবার ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তারই অফিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ডিউক স্যার দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তদন্ত শুরু হওয়ার পরই দেশ ছেড়েছেন। কবে দেশে ফিরবেন, সেটাও আমরা বলতে পারছি না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই রফিকুল ইসলাম ডিউক বছরের অধিকাংশ সময়েই যুক্তরাজ্যে থাকেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে তার বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে। ব্রেনলি ব্রান্ডের দামি গাড়িও কিনেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দুবাইয়ে অভিজাত নৌ-তরী, হোটেলসহ অবৈধ অনেক সম্পদের হিসাবও পেয়েছে দুদক। ‘ইয়াবা সুন্দরী’ নিকিতাকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করিয়ে ইয়াবা সম্রাটের উপাধিও বাগিয়েছেন এই রফিকুল ইসলাম ডিউক।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

‘অর্জন ধরে রাখতে নারীর লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া জরুরি’

অনলাইন ডেস্ক

‘অর্জন ধরে রাখতে নারীর লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া জরুরি’

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

গ্রামীণ অবকাঠামোতে যেমন নারীর অবদান আছে তেমনি শহরেও পুরুষের সমানতালে তারা সবক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। বিদেশে গিয়ে নারীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। সব ক্ষেত্রে নারীরা কাজ করছেন। নারীদের আরও সামনে এগিয়ে নিতে নারীবান্ধব মানসিকতা ও নারীবান্ধব নীতি প্রণয়ন করতে হবে। কারণ নারীরা এগিয়ে গেলে সমাজও এগিয়ে যাবে। নারীর অবস্থা পরিবর্তনের লড়াই জন্ম থেকে জন্মান্তরের লড়াই। নারীর পরিবর্তনের লড়াইয়ের লক্ষ্য পূরণ হলেও এ লড়াই অব্যহত রাখতে হবে। কারণ অর্জন ধরে রাখতে নারীর লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া জরুরি।   

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে 'পরিবর্তনের লড়াইয়ে নারী' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।  আজ সোমবার বিকেলে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোর। নিউজ টোয়েন্টিফোরের চিফ নিউজ এডিটর শাহনাজ মুন্নীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বে নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ রোল মডেল। করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। নারীর আরও বেশি করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি।


সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

পাবনায় থাকছেন শাকিব খান

সাধ্যের মধ্যে ৮ জিবি র‍্যামের রেডমি ফোন

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিইও নঈম নিজাম। বৈঠকে নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে লড়াই ও অনগ্রসর নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরজাহান মুক্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়্যারম্যান ড. খন্দকার ফারজানা রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু, শিক্ষক ও গবেষক আরিফা রহমান রুমা, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহিমা আক্তার লাকী, নারী অধিকার কর্মী মাহফুজা মালা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অ.) নাসির উদ্দিন আহমদ, ইউনাইটেড হাসপাতালের কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ডা. শাগুফা আনোয়ার, ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী নাফিসা কামাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক ও সঙ্গীতশিল্পী অনিমা রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া মামুন সিমরান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব নেটওয়ার্ক এক্সপেনশনের সেলিনা আলম ও অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস। অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী বক্তৃতা দেন কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন।  

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্লাস্টিক শিল্পে সরকারের বিশেষ নজর

অনলাইন ডেস্ক

প্লাস্টিক শিল্পে সরকারের বিশেষ নজর

ইউরোপ, আমেরিকা, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ। এ জন্য তৈরি পোশাকের মতো এই খাতটিতেও নজর দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে এই পল্লীর জন্য ৫০ একরের জমি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এখানে গড়ে তোলা হবে পরিকল্পিত প্লাস্টিক পল্লী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ৫ হাজারের বেশি ছোট বড় প্লাস্টিক কারখানা আছে। যেখানে  কর্মসংস্থান হয় প্রায় ১২ লাখ মানুষের। এ খাত থেকে সরকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে।

পণ্য বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে এই খাতের ওপর সরকারের বিশেষ নজর সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পণ্য বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে প্লাস্টিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সবরকম সহায়তা করতে সরকার প্রস্তুত।’


আরও পড়ুনঃ


সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

পাবনায় থাকছেন শাকিব খান

সাধ্যের মধ্যে ৮ জিবি র‍্যামের রেডমি ফোন

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


তবে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়লে পরিবেশের ক্ষতির যে আশঙ্কা রয়েছে, তা ঠেকানোর ব্যাপারেও চিন্তা করতে হবে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের ৮ জন রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক

পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের ৮ জন রিমান্ডে

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় করা শাহবাগ থানায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সভাপতি রফিকুল আলম মজনুসহ আট জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার (৮ মার্চ) ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রিমান্ডে নেয়া অপর আসামিরা হলেন খালেক টিপু, রাসেল, দিল গনি, শহিদুল ইসলাম, মোশাররফ, আবুল কাশেম ও ওয়াহিদ।

সংঘর্ষের ঘটনায় গত রোববার শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক পলাশ শাহা বাদী হয়ে ৪৮ আসামির নাম উল্লেখসহ ২০০/২৫০ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সোমবার মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ প্রত্যেক আসামির দশ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।


আরও পড়ুনঃ


সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

পাবনায় থাকছেন শাকিব খান

সাধ্যের মধ্যে ৮ জিবি র‍্যামের রেডমি ফোন

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৫ মার্চ মজনুসহ আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রাস্তায় ময়লা ফেললে সেই ময়লা বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে : মেয়র আতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাস্তায় ময়লা ফেললে সেই ময়লা বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে : মেয়র আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, রাস্তায় যে ময়লা ফেলবে, সেই ময়লা তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিস্তারিত আসছে...


পশ্চিমবঙ্গের কাছে পর্যাপ্ত পানি থাকবে তখন তিস্তা চুক্তি: মমতা

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা


news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দিল্লীতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক

দিল্লীতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস পালিত

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণ দিবস পালন করেছে নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন। এ উপলক্ষে রোববার (৭ মার্চ) সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোহাম্মদ ইমরান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। 

তারপর তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং আগত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে দূতাবাসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে হাই কমিশনার তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ১৮ মিনিটের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করেন এবং ইউনেস্কো কর্তৃক ২০১৭ সালে ভাষণটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতির প্রশংসা করেন।


পশ্চিমবঙ্গের কাছে পর্যাপ্ত পানি থাকবে তখন তিস্তা চুক্তি: মমতা

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা


তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণটি ছিল একটি পরাধীন জাতির মুক্তির দিক নির্দেশনামূলক, অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তব্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের নির্দেশনা থেকেই মুক্তিপাগল বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন এবং চূড়ান্তভাবে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে, বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও তার আদর্শের উত্তরাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালন করতে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করা হয়।

৭ মার্চ উপলক্ষে দূতাবাসে সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা এ সময়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রর্দশন করেন। 

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর