আচ্ছা, মানুষগুলো কী সত্যি'ই এতো সুখি

আমিনুল ইসলাম

আচ্ছা, মানুষগুলো কী সত্যি'ই এতো সুখি

আমিনুল ইসলাম

মোবাইল ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙেছে। এতো রাতে তো কারো ফোন করার কথা না। ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি এলিসের ফোন। রাশিয়ান এই মেয়েটার সাথে বছর আটেক আগে পরিচয়। ও তখন আমার এপার্টমেন্টের পাশে'ই থাকতো। কিন্তু হঠাৎ এতো রাতে ফোন!

-হ্যাঁলো।
-আমিনুল, তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছ?
-তাইতো মনে হচ্ছে।
-ধ্যাত, তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না। দরজা'টা খুলে বাইরে বের হও একটু।
-কি বলছ কিছু'ই তো বুঝতে পারছি না। এই মাঝ রাতে দরজা খুলে বের হবো কেন?
-একটু বের হও না।

বেশ কিছু দিন হয় মেয়েটা শহরের অন্য প্রান্তে চলে গিয়েছে। অনেক দিন সেই অর্থে দেখা হয় না। সে বছর যখন প্রথম পরিচয় হয়; তখন বছরের ঠিক এই সময়'ই ছিল বোধকরি।

ক্রিসমাসের সময়। এই সময়টা'য় এইসব দেশের মানুষজন সাধারণত যে যার দাদা-নানা বাড়ি কিংবা বাবা-মায়ের বাসায় চলে যায়। এক সাথে পরিবারের মানুষজনের সাথে কাটায়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম
- তুমি যাবে না?
মেয়েটা আমার দিকে খানিক তাকিয়ে থেকে বলেছিল
- আমার আসলে কোথাও যাবার জায়গা নেই।
- দুঃখিত, আমি বুঝতে পারিনি।

সেই রাতে আমরা এক সঙ্গে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। বালটিক সমুদ্রের ধারে হাঁটছিলাম; তখন মেয়েটা বলছিল
- আমার বাবা-মায়ের মাঝে ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে। মা এখন তার নতুন সঙ্গী'র সাথে ইংল্যান্ডে থাকে। বাবা অনেক আগে থেকেই অন্য একজনের সাথে থাকছে। আমার অবশ্য একটা ভাই আছে। ওর একটা গার্লফ্রেন্ড আছে। ওরা ভিয়েনা'তে এক সঙ্গে থাকছে। বছরের এই সময়টায় তাই খুব একাকী মনে হয়।

আমি মেয়েটার কথা শুনছিলাম আর ভাবছিলাম- আহা, মানুষের জীবনে কতো রকম কষ্ট'ই না আছে। শেষমেশ তাকে বলছিলাম
- তোমার যখন'ই খারাপ লাগবে, আমার কাছে চলে এসো। দুজনে মিলে আড্ডা দেয়া যাবে।

এরপর আমরা অনেক সময় এক সঙ্গে কাটিয়েছি। চমৎকার বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। ও বাসা পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় চলে যাওয়াতে আজকাল আর সেই অর্থে খুব একটা যোগাযোগ হচ্ছিলো না।

আমি বিছানা ছেড়ে দরজা খুলে দেখি এলিস দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা গাঢ় লিপস্টিক দিয়েছে। কানে বিশাল একটা দুল পড়েছে। চোখেও মনে হচ্ছে কিছু লাগিয়েছে। হাত দুটো পেছনে।
-হ্যাপি বার্থডে আমিনুল।  এই দিনে রাত ১২ টার মাঝে কেউ ঘুমিয়ে পড়ে? তোমাকে দিয়ে কিছু'ই হবে না!
মেয়েটা পেছন থেকে হাত বের করে ফুল দিয়েছে আমাকে। আমি খুব অবাক হয়েছি! কারন আমি ভুলেই গিয়েছিলাম আজ আমার জন্মদিন! তবে, এমন একটা ভাব করলাম- এ আর এমন কি!
- তুমি এতো রাতে এমন সেজে গুজে কোথায় বের হয়েছ?
-কেন, তোমাকে শুভেচ্ছা জানাতে বের হয়েছি। কোন সমস্যা? এবার চল বাইরে হেঁটে বেড়াই, সেই সঙ্গে তোমার জন্মদিনের প্রথম প্রহর উদযাপন করি।

আমি ওভার কোট'টা পড়ে ওর সাথে বের হয়েছি। শহর'টা পুরো ঘুমিয়ে আছে। তাপমাত্রা হিমাংকের নিচে মাইনাস ৫। বেশ বাতাস বইছে। সেই সঙ্গে বড় দিন উপলক্ষে লাল-নীল বাতি। কোথাও কোন মানুষজন নেই। 
সামনের রাস্তা পার হয়ে মূল রাস্তায় উঠার সঙ্গে সঙ্গে পাশের আইরিশ পাব থেকে নানান বয়েসি মানুষজনের শব্দ ভেসে আসছে। 
-চলো আইরিশ পাবে যাই। আজ তোমার জন্মদিন। একটু আনন্দ করা যাক। 
-ঠিক আছে চলো 

আলো-আধারি আইরিশ পাব'টা মনে হচ্ছে আজ খুব বেশি জমে উঠেছে। চারদিকে কেবল'ই হাসি'র শব্দ। বাম দিকের একদম কোনার টেবিলটায় মাঝ বয়েসি দুই নারী-পুরুষ এমন ভাবে শব্দ করে হেসে কথা বলছে; দেখে মনে হচ্ছে তাদের মনে হয় যাপিত জীবনে কোন দুঃখ নেই। 

মাঝের টেবিলে কম বয়েসি তরুণ-তরুণী একটু পর পর বসছে আর দাঁড়াচ্ছে। যখন'ই দাঁড়াচ্ছে; চেষ্টা করছে একজন আরেকজন'কে চুম্বন করার। করেই বিশাল শব্দ করে হাসছে। এরপর বসে পড়ছে! 
আমি আর এলিস ডান দিকের টেবিলটায় বসে কথা বলছি। 

-আমিনুল, গত আট বছরে তোমার কোন জন্মদিনে আমি রাত ১২টার সময় হাজির হইনি এমন কী হয়েছে? 
আমি খানিকটা চমকে গিয়েছি ওর কোথায়। আমার সত্যি'ই মনে ছিল না, মেয়াটা প্রতিটা জন্মদিনে রাত ১২টায় হাজির হয়েছে।

-আমিনুল, আট বছর আগে তুমি যখন আমাকে বলেছিলে- তোমার যখন'ই একা মনে হবে; চলে এসো। এরপর আমি তোমাকে অনেক ভাবে বিরক্ত করেছি। কখনো মাঝ রাতে হাজির হয়েছি। কখনো ভোর বেলায়। কখনো হঠাৎ করে ফোন করে বিরক্ত করেছি। কিন্তু তুমি কোন দিন বিরক্ত হওনি। সব সময় প্রাণ খুলে হাসি মুখে'ই আমার বিরক্তি গুলো সহ্য করেছ।

আমি খুব কঠিন সময় পার করছিলাম তখন। সেই সময়  গুলো আমি অতিক্রম করেছি। আমার এখন সঙ্গী আছে। আশপাশে মানুষ আছে। আমি জানি একাকীত্বে'র কষ্ট। আমার মতো একজন মানুষের প্রতি যে মায়া তুমি দেখিয়েছ; সেটা ফেরত দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। অন্তত তোমার জন্মদিনে যেন কখনো একাকীত্ব এসে ভর না করে; তাই অনেক বছর আগে'ই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যত দিন পারি, তোমার জন্মদিনের প্রথম প্রহরে তোমাকে শুভেচ্ছা জানাবো। 


ফাইজারের টিকা অনুমোদন দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বছরের দীর্ঘতম রাত

সিলেটে চলছে তিনদিনের পরিবহন ধর্মঘট

ভারতে ১১টি গ্রেনেড ফেললো পাকিস্তান


মেয়েটার কথায় আমি সত্যি'ই অবাক হয়েছি। হিসেব করে দেখলাম সত্যি'ই সত্যি'ই মেয়েটা আমাকে গত আট বছরে এভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে যাচ্ছে! পাব থেকে বের হয়ে মেয়েটার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এপার্টমেন্টে ফিরছি; হঠাৎ মনে হলো- জীবনে কতো মানুষের জন্য কতো কিছু করেছি। কই, তারা তো কোন দিন খোঁজ নিয়েও দেখেনি। আর এই রাশিয়ান মেয়েটা; যার জন্য সেই অর্থে কিছু'ই করেনি; কেবল মাঝে মাঝে ওর খারাপ লাগার সময় টুকু'তে ওকে সঙ্গ দিয়েছি; সেই মেয়েটা কিনা প্রতি বছর ঠিক ঠিক হাজির হচ্ছে শুভেচ্ছা জানাতে। 

মাঝ রাত পার হয়ে প্রায় ভোর হবার সময় হয়ে এসছে। আমি মূল রাস্তায় চলে এসছি। দূর থেকে এখনও নানান বয়েসি মানুষের হাসির শব্দ ভেসে আসছে আইরিশ পাব থেকে। হঠাৎ মনে হলো- আচ্ছা, মানুষ গুলো কী সত্যি'ই এতো সুখি। নাকি এক রাতের জন্য স্রেফ সুখি হবার চেষ্টা করে যাচ্ছে? 

ভোর হতে শুরু করেছে। আশপাশে দুই একটা গাড়ি'র শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সূর্যে'র আলো অবশ্য বছরের এই সময়টায় কখনোই উঠে না। ভোর হয় কিন্তু সূর্যের আলো'র দেখা পাওয়া যায় না। ছয়মাস এমন'ই থাকে।  হঠাৎ মনে হলো- কিছু মানুষের জীবনটাও মনে হয় এমন। রাত পার হয়ে ভোর হয় কিন্তু আলো এসে আর দেখা দেয় না। হাজারো মানুষ এসে আশপাশে ভিড় করে। আবার সেই হাজারো মানুষের ভিড়েও একাকীত্বের শূন্যতা এসে ভর করে। 

আমি দ্রুত পায়ে নিজের এপার্টমেন্টের দিকে ফিরছি। বৃষ্টি পড়া শুরু হয়ছে। বছরের এই সময় তো তুষার পড়ার কথা,  বৃষ্টি পড়ছে কেন? তাও আবার রীতিমত ঝড়ের বেগে বৃষ্টি। আশপাশের পরিবেশও মনে হয় জানান দিচ্ছে, সব কিছু নিয়ম মনে চলে না। হঠাৎ মনে হলো- আচ্ছা, এলিস যে প্রতি জন্মদিনে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যাচ্ছে; সেটা কেন আমার মনে থাকলো না?

বৃষ্টি'র গতি বাড়ছে। আমি দ্রুত পায়ে এপার্টমেন্টের দিকে ফিরছি। আচ্ছা, আজ না ফিরলে কেমন হয়? সব কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে; এমন তো নয়! 

কাঁক ভেজা হয়ে যখন বাসায় ফিরছি, তখন মনে হলো- অনিয়মেরও নিয়ম থাকে। জন্মদিন প্রতি বছর ঠিক'ই এসে হাজির হয়। স্রেফ আশপাশের মানুষ গুলো বদলাতে থাকে। যে'ই মা প্রতিবছর সবার আগে রাত ১২টায় শুভেচ্ছা জানাত; সেই মা এখন পৃথিবীতেই নেই।

আমিনুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, অস্ট্রিয়া। (ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নাসিরের স্ত্রীকে ‘জাতীয় ভাবী’ আখ্যা দিয়ে সুবাহ'র স্ট্যাটাস

অনলাইন ডেস্ক

নাসিরের স্ত্রীকে ‘জাতীয় ভাবী’ আখ্যা দিয়ে সুবাহ'র স্ট্যাটাস

নাসিরের স্ত্রী তামিমা তাম্মী (সুবাহ'র ফেসবুক থেকে নেয়া)

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন। এরপর থেকেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে আগের স্বামী রাকিবকে ডিভোর্স না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা তাম্মি।

বিয়ের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নাসিরকে একহাত নেন তার সাবেক প্রেমিকা হুমায়রা সুবাহ। এবার নাসিরের স্ত্রীকে একহাত নিলেন সুবাহ।

শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। 

সেখানে নাসিরের স্ত্রীকে জাতীয় ভাবী আখ্যায়িত করেন তিনি। 

তার স্ট্যাটাসটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। 

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মুশতাকের মৃত্যুতে কোন শোকগাঁথা লিখিনি

অনলাইন ডেস্ক

মুশতাকের মৃত্যুতে কোন শোকগাঁথা লিখিনি

মুশতাকের মৃত্যুতে কোন শোকগাঁথা লিখিনি। অন্যেদের লেখা পড়ছি, মনটা বেদনায় ভারাক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝে ভীষণ মজাও পাচ্ছি। চিড়িয়ারখানার বান্দর দেখে বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা যেমন আনন্দ পায় তেমন আনন্দ। বলবেন, কেন!

উত্তরটা হচ্ছে, যে আইনে মোসতাকের জীবনবাতি নিভে গেল, সে আইনটা যখন খসড়ার স্তরে, তখন টিভিতে টিভিতে এ আইনের পক্ষে, এমন আইনের অপরিহার্যতা তুলে ধরে পালাগান গাওয়া সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই এখন মোসতাকের জন্য বেদনাতুর মর্শিয়া গাইছেন, লিখছেন। এরা নিখাদ খচ্চর, বদ বান্দর।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আমি আমরা সবাই চুপ থাকি বলেই লেখক মুশতাক আহমেদরা মারা যান

শরীফুল হাসান

আমি আমরা সবাই চুপ থাকি বলেই লেখক মুশতাক আহমেদরা মারা যান

আড়াইবছর আগে যখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হয় বারবার এই কথাগুলো লিখেছিলাম। বলেছিলাম, শুধু বাংলাদেশ নয় সারা পৃথিবীর মধ্যে প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে জঘন্য হবে ডিজিটাল এই নিরাপত্তা আইন।

লিখেছিলাম, এটি কালা আইন। মুক্তমত প্রকাশে বিশ্বাসী এই আমি তীব্র ঘৃণাভরে এই আইন প্রত্যাখান করলাম। আফসোস সেদিন বহু মানুষ চুপ ছিল। আর উন্নয়নের গল্প বলনেওয়ালারা সেদিনও উন্নয়নের গল্প বলছিলো। উন্নয়নের এই ফেরিওয়ালাদের হয়তো বোধোদয় হয়নি কিন্তু গত আড়াই বছরে এই জাতির আশা করি বোধোদয় হয়েছে। কাজেই চলুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলি।


বাইডেনের নির্দেশে সিরিয়ায় বিমান হামলা

বস্তিবাসীকে না জানিয়েই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল

‘তুমি’ বলায় মারামারি, প্রাণ গেল একজনের

৭ সন্তান নিতে স্বেচ্ছায় দেড় লাখ ডলার জরিমানা গুনলেন চীনা দম্পতি


মনে রাখবেন এই যে আমি আমি আমরা সবাই চুপ থাকি তার কারণেই লেখক মোশতাক আহমেদরা মারা যান, কিশোররা জেলে থাকে। আমি আপনি কেউই এই দায় অস্বীকার করতে পারব না।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বয়স যখন ষাট!

জসিম মল্লিক

বয়স যখন ষাট!

আমি ষাটের দ্বারপ্রান্তে প্রায় পৌঁছে গেছি! আর কয়দিন পরই ষাট পূর্ণ হবে। ভাবতেই একটা আনন্দের অনুভূতি হচ্ছে! আবার একটু টেনশনও হচ্ছে! ষাট বছর! অনেকদিনইতো। এতো বছর ধরে বেঁচে আছি! মাই গড! আবার ষাট এমন কোনো বয়সই না। এখনকার হিসাব অনুযায়ী ষাট মাত্র মধ্যবয়স। সেটা ভেবেই আনন্দের অনুভূতি। আর টেনশন হচ্ছে আমার বয়সী অনেকেই হুট হাট করে চলে যাচ্ছে যে!

আমার বয়স নিয়ে আমার ছেলে মেয়ে দু’জনের দুই রকম মনোভাব। অর্ক বলবে বাবা তোমার এখন একটু সবধানে সবকিছু করতে হবে। বয়স বাড়ছে না! সময় মতো খাবা, নিয়মিত জীম করবা, সাড়ে ছয়টায় ডিনার এবং এগারেটার মধ্যে বেডে যাবা। রাত জেগে লিখবা না। সকালে লিখবা। জাঙ্ক একদম খাবানা। এই কথাগুলো অরিত্রিও এবং সবসময় হেলথি খাবার খেতে বলবে। কিন্তু বয়স যে হচ্ছে এটা অরিত্রি একদম মানতে চায় না। আজকেই জেসমিনকে বলল, মা, তুমি এমন এ্যাক্ট করছ যেনো বাবার বয়স সত্তুর। বাবা, স্টিল ইয়ং। শুনেই মনটা ভাল হয়ে গেলো!

টরন্টো ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১


ভূতের আছর থেকে বাঁচতে পৈশাচিক কান্ড

হৃদরোগে মৃত্যুর পরও ফাঁসিতে ঝুলানো হল নিথর দেহ

৭ সন্তান নিতে স্বেচ্ছায় দেড় লাখ ডলার জরিমানা গুনলেন চীনা দম্পতি

১৯ বছর পর অস্ত্রোপচার করে যমজ বোনে পরিণত হলেন যমজ দুই ভাই


news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তাদের উপস্থিতি প্রয়োজনীয় ছিলো

শফিকুর রহমান

তাদের উপস্থিতি প্রয়োজনীয় ছিলো

মাত্র দশ থেকে বারো ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশ দুই জন সুসন্তানকে হারলো, যারা আর কয়েক বৎসর বেঁচে থাকলে দেশ তথা দেশের জনগণ অন্তত সঠিক ও ন্যায়নিষ্ঠ পথের দিশা পেতে পারতো।

মহান আল্লাহর হিসাব আমরাতো জানি না, তিনি নিশ্চয়ই হিসাব করেই তাঁদেরকে এই পৃথিবী থেকে তুলে নিয়েছেন। এদের একজন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও অপরজন সৈয়দ আবুল মকসুদ।

একজন ব্যাংকিং পেশাজীবী হিসাবে সরাসরি খালেদ স্যারের অধীনে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তখন আমি দেশের সর্ব বৃহৎ বানিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যম সারির একজন নির্বাহী আর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ স্যার ওই ব্যাংকেরই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী।

তিনি সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন, কিন্তু নিয়ম-নীতি, আইন-কানুন ও তুখোড় পেশাদারিত্বের মেলবন্ধন ঘটিয়ে কিভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি উর্ধমুখি রাখা যায় তা দেখেছি খালেদ  স্যারের মধ্যে। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার সৎসাহস দেখেছি তাঁর মধ্যে। তিনি ছিলেন ঋণ খেলাপিদের জন্য ত্রাস! তাঁর সময়কালে ঋণ খেলাপিদের দাপট একেবারেই ছিল না বললেই চলে, খেলাপি ঋণ ছিল কিন্তু প্রভাবশালী খেলাপিদের দেখেছি তাঁর কাছে অসহায়। কিন্তু সৌভাগ্য নাকি বেশীদিন থাকে না, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বানিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে পদোন্নতি(?) দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর করে তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

নষ্ট পরিবেশে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা-সীমাবদ্ধতা সত্বেও তাঁকে দেখেছি তাঁর বিশ্বাসে অটল থাকতে।

আরেকজন সৈয়দ আবুল মকসুদ-সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কলামিস্ট পরিচয় ছাপিয়ে একজন মানবতাবাদী, পরিবেশবিদ হিসাবে অধিকতর গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি হিসাবে সুনাম কুড়িয়েছেন।

তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন সংযোগ না থাকলেও প্রথম আলোর ‘সহজিয়া কড়চা’ ও ‘মিঠে কড়া সংলাপ’ এর মাধ্যমে তিনিও ছিলেন আমার শিক্ষকতূল্য।


ভূতের আছর থেকে বাঁচতে পৈশাচিক কান্ড

হৃদরোগে মৃত্যুর পরও ফাঁসিতে ঝুলানো হল নিথর দেহ

৭ সন্তান নিতে স্বেচ্ছায় দেড় লাখ ডলার জরিমানা গুনলেন চীনা দম্পতি

১৯ বছর পর অস্ত্রোপচার করে যমজ বোনে পরিণত হলেন যমজ দুই ভাই


নগর জীবন হোক বা সামাজিক সমস্যা অথবা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক যে কোন সমস্যায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে তিনি সেলাই ছাড়া দুই টুকরা সাদা কাপড় ব্যবহার শুরু করে আমৃত্যু এই পোষাক পরিধান করেছেন এবং দেশে-বিদেশে সভা সমিতির কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করেছেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন তাঁদের উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল ঠিক তখনি তাঁদের চলে যেতে হল অনন্তলোকে।

তাঁদের শূন্যস্থান সহজে পূরণ হবে না। আমরা এই দুই মহৎপ্রাণ ব্যক্তির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

শফিকুর রহমান, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসআইবিএল ব্যাংক

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর