প্রসঙ্গ পদ্ম সেতু, নিন্দুকেরা কেমন আছেন!

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

প্রসঙ্গ পদ্ম সেতু, নিন্দুকেরা কেমন আছেন!

শেষ পর্যন্ত আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়েছে। তাই বলে কি সকল নিন্দুকের মুখের নেতিবাচক অশ্লীল ভাষা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হয়নি, এখনও বিরুদ্ধবাদীরা নেতিবাচক কথাবার্তা বলে চলছে। যেন কুস্তিতে নিচে পড়ে হেরে, বলছে আকাশতো আমিই দেখেছি। এই পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা কম ষড়যন্ত্র করেনি। কখনো অপবাদ ছড়িয়েছে আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে। ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি। দেশের মানুষের আখাংকার প্রতিফলন ঘটেছে পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে। দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক সকল ষড়যন্ত্রের দুর্ভেদ্য জাল ছিন্ন করে বর্তমান সরকার কল্পনার পদ্মা সেতুকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। ষড়যন্ত্রকারীরা কখনো গুজব ছড়িয়েছে পথে ঘাটে বাজারে বন্দরে। বলা যায় পথে ঘাটে বাজারে বন্দরে জনকোলাহল মুখরিত জায়গায় বিরুদ্ধবাদীরা যত রকম ভাবে পারা যায়, তত রকম ভাবেই গুজব ছড়িয়েছে। সুখের কথা হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি। আসল সত্য হচ্ছে, শুভ কাজকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য বিরুদ্ধবাদীদের দ্বারা যত রকম ষড়যন্ত্রই করা হউক না কেন, বাস্তবে দেখা যায় বিরুদ্ধবাদীদের জনবিরোধী ষড়যন্ত্র কখনো সফলতার মুখ দেখে না। বিরুদ্ধবাদীরা পদ্মা সেতুর কাজ বাধাগ্রস্থ করার জন্য গুজব ছড়িয়ে নিরীহ সাধারণ মানুষকে চরম বিপদে ফেলেছে। এমনকি অসহায় মানুষ গুজবে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে।  যারা চায়নি আমাদের পদ্মা সেতু হউক, তারা এমন সব বিবেকহীন কথাবার্তা জনসমাবেশে কিংবা বলা যায় দেশের মানুষের মনের মধ্যে ছড়িয়েছে, যার জন্য সাধারণ মানুষকে চরম এক আতঙ্ক নিয়ে বাড়ী থেকে তার কাজকর্মের জন্য বের হতে হয়েছে। বিরুদ্ধবাদীরা মানুষের মাঝে গুজব ছড়িয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য কচি শিশুদের মাথা প্রয়োজন। তাই পথে ঘাটে বাজারে বন্দরে স্কুলে পার্কে ছেলে ধরা বের হয়েছে ছোট ছোট বাচ্চাদের তুলে নেওয়ার জন্য। গুজব রটনাকারী ব্যক্তিরা গুজব ছড়িয়ে মানুষের মনকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে, নিরীহ মানুষের দল সকল সময় আতঙ্কিত হয়ে থাকত। মানুষ ভাবত কখন কোথায় বিপদ আসে। তাই আতঙ্কিত সাধারণ সচেতন মানুষ বাড়ী থেকে কোন প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ছাড়া বের হত না এই ভয়ে যে, যদি এলাকার বাইরে অচেনা অজানা জায়গায় গিয়ে বিপদে পড়তে হয় কিংবা যদি গণপিটুনীর শিকার হতে হয়। বিরুদ্ধবাদীরা দূর থেকে মানুষের দুর্দশা দেখে হাসত। যেন তাদের আনন্দের সীমা নেই। হয়ত মনে মনে বলত, এই তো কাজের কাজ শুরু হয়েছে। বানাও দেখি তোমাদের স্বাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বিরুদ্ধবাদীরা হয়ত এমন কথাও মনে মনে বলত, দাঁড়াও দেখি কি করে বানাও তোমাদের আকাশ কুসুম চিন্তার ফসল পদ্মা সেতু। কিন্তু বিরুদ্ধবাদীরা কখনও ভাবেনি সৎকর্ম কোনদিন কোথাও থেমে থাকে না। বিরুদ্ধবাদীরা হয়ত একথা ভাবত না, শুকুনের অভিশাপে কখনও গৃহস্থের গরু মরে যায় না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধবাদীদের সকল ষড়যন্ত্রের দুর্ভেদ্য জাল ছিন্ন করেছেন। তিনি আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদের দেশের অর্থায়নের মাধ্যমে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সামনের দিকে এগোতে থাকেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধবাদী ষড়যন্ত্রকারীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শণ করে যখন পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করলেন, তখন বিরুদ্ধবাদীরা মনের দুঃখে উল্টাপাল্টা কথা বলতে শুরু করলেন। অনেকেই বলে থাকেন বিরুদ্ধবাদীদের কথাবার্তা অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের মত। তাই তাদের কথা ধরে ইতিবাচক ব্যক্তিদের সময় নষ্ট করার কোন প্রয়োজন নেই। যখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাংক আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে মিথ্যা অপবাদ তুলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা হতাশাবাদীদের মত হতাশ না হয়ে, জনগণের সাহসের ওপর বিশ্বাস রেখে নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষনা দিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনের ব্যপারে সামনের দিন গুলির পথচলার দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। যখন আমাদের পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হল, তখনি দেখা যায় বিরুদ্ধবাদীরা যত ধরনের ষড়যন্ত্র করা যায় তার সবই করতে থাকে। বিরুদ্ধবাদীদের ছড়ানো গুজবের বলি হতে হয় অনেক নিরীহ মানুষকে। এক মহিলা স্কুলে তাঁর শিশুকে ভর্তি করার ব্যপারে গেলে তাকে ছেলে ধরা আখ্যায়িত করে কতগুলো অসভ্য বর্বর মানুষ গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে। তিনি যতই বলতে থাকেন আমি ছেলে ধরা নই, ততই অসভ্য বর্বর মানুষগুলো আরও মারমুখী হয়ে ওঠে এবং তাঁর কথা না শুনে তাঁকে অর্থাৎ মহিলাটিকে গণপিটুনি দিয়ে প্রাণেই মেরে ফেলে। তারপরেও কিন্তু মানুষের মধ্যে বোধোদয় ঘটেনি। একশ্রেণীর মানুষ আজও সত্য মিথ্যার বিচার না করে গুজবের পিছনে দৌঁড়ে অঘটন গুলো ঘটিয়ে ফেলে। ষড়যন্ত্রকারীদের হাজার ষড়যন্ত্রের পরও আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণের কাজ ষড়যন্ত্রকারীরা বন্ধ করতে পারেনি। মানুষের সাহসের ওপর ভর করে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ থেকে পিছু হটেননি। বরং শত বাধার মধ্যেও পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন এবং স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে বাস্তবে রূপ দেন। সকল ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূল অবস্থার জাল ছিন্নভিন্ন করে আমাদের দেশের জনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে। শত বাধা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ায় একটা বিষয় প্রমাণ হয়েছে, আর তা হল সৎকাজে কোন সময় কোন ষড়যন্ত্র বাধা  হয়ে দাঁড়াতে পাড়ে না। জনগণও বুঝে নিয়েছে যখন রাষ্ট্রের প্রধান জনগণের আখাংকা নিয়ে জনগণের উন্নতির জন্য কিংবা জনগণের সুবিধার জন্য কোন কাজ করেন, তখন ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সৎকর্মকে সাময়িক বাধাগ্রস্থ করতে পারলেও এক সময় ষড়যন্ত্রকারীরা হেরে যায় এবং সৎকর্ম বাস্তবতার মুখ দেখে সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে। অথচ ষড়যন্ত্রকারীরা এসব বুঝেও বুঝতে চায় না। তা যদি ষড়যন্ত্রকারীরা বুঝত তাহালে কোনদিন সৎকর্মে বাধা প্রদান করে নিজেদের মুখে কালি মাখাত না। তারপরও একথা বলা যায়, ষড়যন্ত্রকারীদের কাজই হল সৎকর্মে বাধা প্রদান করে মানুষের সুন্দর স্বপ্নকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দিয়ে নিজেদের লাভ-লোকসানের হিসাব করা। 

আমদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবতার মুখ দেখায় দেশের একুশটি জেলাকে কতটা সুখে-আনন্দে রাখবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষের মন অবশ্যই হয়ে উঠবে শরতের রোদ ঝলমল করা দিনের মত সুন্দর। সংবাদ ভাষ্যমতে পদ্মা সেতু হওয়ায়  পদ্মার চর অঞ্চলে অলিম্পিক ভিলিজ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সিটি, হাইটেক পার্ক, বিমান বন্দরসহ উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতু সংলগ্ন জাজিরার নাওডোবা এলাকায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা তাঁত শিল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে আধুনিক আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে। ঢাকার বাইরে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রসারের জন্য পদ্মা সেতুর আশেপাশের এলাকায় শিল্প-প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে বছরে বিনিয়োগ ঊনিষ শতাংশ উঠে আসবে। অনেকেই মনে করেন আমাদের কৃষি ও শিল্প বাণিজ্য ব্যবস্থায় আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু বিরাট ভূমিকা রাখবে। এছাড়া কাজকর্মের সুযোগ সুবিধা পেয়ে মানুষের জীবনকেও সুখ ও আনন্দে ভরিয়ে তুলবে। অর্থনীতিতে সামগ্রীক উৎপাদন, সেবা, পর্যটন, শিল্প-বাণিজ্যের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গতি বৃদ্ধির ব্যাপারে আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু বিরাট ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞজনরা আরও বলছেন প্রথম বছরে তার আর্থিক মুল্য বৃদ্ধি দাঁড়াবে জিডিপির এক দশমিক দুই শতাংশ। যা টাকার অংকে দাঁড়াবে তেতত্রিশ হাজার পাঁচশত ছাপ্পান কোটি তেপান্ন লাখ ষাট হাজার টাকা। সংবাদ ভাষ্যের হিসাব মতে, জিডিপির হিসাবের টাকার অংকে যে আর্থিক মুল্য বৃদ্ধির হিসাব দেখানো হয়েছে,  তা আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয়ের চেয়ে বেশী হবে। আমাদের দেশের অনেক অর্থনীতিবিদরাই বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দারিদ্রতা কমে পাঁচ ভাগে নেমে আসবে। এছাড়া আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেশের একুশটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তুলবে।

এখন প্রশ্ন হলো আমাদের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নেতিবাচক চিন্তাধারা থেকে এখনো অনেক কথাবার্তা বলছেন। একজন নেতা বলেছেন পদ্মা সেতু কারো বাপের সম্পত্তি নয়। তার উত্তরে আবার আরেকজন বলেছেন, দেশের জনগণের বাপের সম্পত্তি আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ঊনাদের বাপের সম্পত্তি নয়। আমরা দেশবাসী যদি দায়িত্বশীল নেতাদের মুখ থেকে দায়িত্বশীল কথাবার্তা না শুনি তাহলে আমাদের চিন্তা চেতনাকে বিষাদে আচ্ছন্ন করে ফেলে।  আর নেতাদের কথাবার্তায় দেশের মানুষের মন যদি বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে যায়, তাহলে পাওয়ার আনন্দ আর মনের মধ্যে থাকে না। আনন্দ তখন মাটি হয়ে যায়। 

তাই বলছিলাম, আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমাদের সবার জীবনেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। মানুষের অর্থাৎ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। এই উন্নতির ছোঁয়া থেকে কোন পক্ষই বাদ পড়বেন না। তাই আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে অযথা রাজনীতি না করে কিংবা নেতিবাচক কথাবার্তা না বলে, প্রত্যেক পক্ষেরই উচিত আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমাদের জীবনে কেমন ইতিবাচক আনন্দ নিয়ে আসবে, তা নিয়ে সবাইকে চিন্তা ভাবনা করা।

লেখক: শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল আইনজীবি, কবি ও গল্পকার, হবিগঞ্জ।       

নিউজ টোয়েন্টিফোর / কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সাত মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল যে কারণে

সোহেল সানি

সাত মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল যে কারণে

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ যখন জাতিসংঘ কর্তৃক "বিশ্বের ভাষণ" বলে সুমহান মর্যাদার অভিষিক্ত। কিন্তু সেই ভাষণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল কিভাবে, ঘরে-বাইরে কি কি ঘটেছিল এবং যেসব বিষয় মনস্তাত্ত্বিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে প্রস্তুত করে তুলেছিল, সেসবের অনেক অজানা-অপ্রকাশিত ঘটনাই চমকপ্রদ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে সেসব খন্ড খন্ড চিত্রের দেখা না মিললেও তা সামগ্রিক ইতিহাসেরই উপাদান। সেসব তথ্য-উপাত্ত ইতিহাসকে সমৃদ্ধি করতে পারে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিকৃত ইতিহাস রোধে অবিস্ফোরিত অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখতে পারে। পহেলা মার্চ থেকে টানা সপ্তাহব্যাপী রাজনীতির অন্দরমহলে ঘটে যাওয়া সেসবের ঘটনার বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করছি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আসা এ ঘোষণাকে জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ্যদলের নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাগত জানালেও সংখ্যালঘু দলের নেতা পিপলস পার্টি প্রধান জুলফিকার আলি ভুট্টো বেঁকে বসেন। তিনি পেশোয়ারে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, "মুজিব ৬ দফার পক্ষে আপোষ না করলে তার দল অধিবেশনে যোগদান করবে না।"

১৮ ফেব্রুয়ারি বললেন, "ঢাকা পশ্চিম পাকিস্তানি সদস্যদের জন্য কসাইখানা হবে।" প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহবান জানান অধিবেশন স্থগিত করতে। এসময় প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর সঙ্গে শলাপরামর্শ করতে গোপনে সিন্ধু প্রদেশের লারকানায় পাখী শিকারে গেছেন মর্মে খবর রটে যায়। অধিবেশনের দুদিন আগে পহেলা মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে অধিবেশন বাতিল ঘোষণা করেন। ওই মূহুর্তে বঙ্গবন্ধু হোটেল পূর্বাণীতে শাসনতন্ত্রের খসড়া তৈরিতে সহকর্মীদের সঙ্গে সকাল নয়টা থেকে বৈঠক করছিলেন। সেই নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এএইচএম কামরুজ্জামান, খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও ডঃ কামাল হোসেন। 

পহেলা মার্চ দুপুর বারোটার দিকে তাঁরা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিলের খবরটি পান। প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার বিরুদ্ধে হাজার হাজার ছাত্রজনতা রাস্তায় নেমে পড়েন। বঙ্গবন্ধু হোটেল পূর্বাণীর সামনে ছাত্রজনতার সম্মুখে হাজির হয়ে বলেন, অধিবেশন বাতিল করার ঘোষণা গভীর ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতি। বাঙালিরা এই ষড়যন্ত্রকে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করবে। ২ মার্চ ঢাকায়, ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল এবং ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে ছাত্র-জনতাকে আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

৩ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এডমিরাল আহসানকে পদচ্যুত করে তার স্থলে জেনারেল ইয়াকুব খানকে ভারপ্রাপ্ত করেন। ৪ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত একনাগাড়ে দেশব্যাপী স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। ৪ মার্চ ইয়াহিয়া খান জেনারেল টিক্কা খানকে গভর্নর করেন। ৫ মার্চ টিক্কা খান ঢাকায় পৌঁছেন। ৬ মার্চ শপথ নেয়ার কথা থাকলেও জনরোষের মুখে  হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বি এ সিদ্দিক তাকে শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। ৬ মার্চ বিকেল পাঁচটায় প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন এমন বার্তা ঘোষণা করা হয় ৫ মার্চ।

স্বভাবতই গোটা দেশবাসীর দৃষ্টি তখন ভাষণের দিকে। বঙ্গবন্ধু ওদিন তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এটা ৫ মার্চের কথা। হঠাৎ ঢাকাস্থ পূর্বাঞ্চলীয়  সামরিক প্রশাসক জেনারেল ইয়াকুবের ফোন আসে। বঙ্গবন্ধুর জামাতা ডঃ এম এ ওয়াজেদ মিয়া ফোন রিসিভ করলে ওপাশ থেকে বলা হয় শেখ সাহেবের সঙ্গে মাননীয়  প্রেসিডেন্ট কথা বলবেন। বঙ্গবন্ধু "কিছু শুনতে পাচ্ছি না, কিছু শুনতে পাচ্ছি না" বলে প্রেসিডেন্টকে বলেন। একটু পরে জেনারেল রাও ফরমান আলীর ফোন।

বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্টের কন্ঠ শুনে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে পরিস্থিতি অবহিতপূর্বক তদন্ত কমিশন গঠন ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের কথা বলেন। ৬ মার্চ বিকেলে প্রেসিডেন্টের ভাষণ শোনার জন্য বঙ্গবন্ধু একটি ট্রানজিস্টার নিয়ে তাঁর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে বলেন ভাষণটি টেপ করে রাখার জন্য। প্রেসিডেন্ট বলেন, আওয়ামী লীগের একগুয়েমির জন্য ৩ মার্চের অধিবেশন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। ১০ মার্চ ঢাকায় গোলটেবিল সম্মেলন ডেকে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের প্রশ্নে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠানের কথাও বলেন তিনি।

ইয়াহিয়া ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবানের কথাও ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু ভাষণ শেষ হওয়ার পর দরজা খুলে ব্যক্তিগত সহকারি মোহাম্মদ হানিফকে শীর্ষ ছয় নেতাকে ডেকে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘন্টাব্যাপী আলোচনা শেষে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর পর পরই বঙ্গবন্ধুর মুখোমুখি হন শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ভাষণের জবাব দিতে ইংরেজিতে একটি ইশতেহার তৈরি করেন তাজউদ্দীন আহমদ ও ডঃ কামাল হোসেন। যাতে বলা হয় "শহীদের রক্তে রঞ্জিত রাস্তার রক্ত এখনো শুকোয়নি। পবিত্র রক্তের ওপর পা রেখে ১০ মার্চ গোল টেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগ যোগদান করতে পারেনা।" ৭ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে লোকে লোকারণ্য। 

বঙ্গবন্ধু প্রথমেই সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান, মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক ও ডঃ কামালের সঙ্গে লাইব্রেরি রুমে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর বৈঠকে মিলিত হন যুব-ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে। এরা হলেন শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, নূরে আলম সিদ্দিকী, আসম আব্দুর রব, শাজাহান সিরাজ ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন। দুপুরে এসব বৈঠকে বঙ্গবন্ধুকে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার পক্ষে মত দেন। বঙ্গবন্ধু এরপর সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে শুধু বলেন, আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। ছাত্রজনতার দাবি অনুযায়ী চার দফা দাবির প্রতি সমর্থনের কথাও বলেন বঙ্গবন্ধু।

দুপুরে আহারের জন্য নেতারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। বঙ্গবন্ধু আহার শেষে বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এমন সময় ডঃ কামাল প্রস্তাবিত ঘোষণাপত্রের খসড়াটি বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন। একান্ত সহকারি মোহাম্মদ হানিফকে টাইপ করতে দিয়ে ডঃ কামাল তাঁর বাসায় চলে যান। বিকেল  তিনটায় আসেন খন্দকার মোশতাক। পরক্ষণেই ডঃ কামাল।

বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে যাওয়ার আগে চারদফা ঘোষণাপত্রটি জনসভাস্থলে বিতরণ করার নির্দেশ দেন ছাত্র নেতাদের। দফাগুলো হলো এক, সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, দুই যাদেরকে হত্যা করা হয় তা তদন্ত করতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিশন গঠন, তিন, সামরিক আইন প্রত্যাহার ও চার, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার কাছে রাষ্ট্রের ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

এরপর বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দান অভিমুখে একটা ট্রাকে করে রওয়ানা হন। ওই ট্রাকে ছিলেন গাজী গোলাম মোস্তফা, শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রউফ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন প্রমুখ।

পেছনের ট্রাকে ছিলেন আসম আব্দুর রব, শাজাহান সিরাজ, মোস্তফা মোহসীন মন্টু, কামরুল আলম খান খসরু ও মহিউদ্দিন আহমেদ। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে পৌঁছার আগেই সেখানে হাজির হয়ে যান বঙ্গবন্ধুর জামাতা এম এ ওয়াজেদ মিয়া, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, শেখ জেলি (শেখ হাসিনার খালাতো বোন) ও এটিএম সৈয়দ হোসেনের বড় মেয়ে শেলি।

সেদিনের রেসকোর্স ময়দানে নৌকা আকৃতির সভামঞ্চটি স্থাপন করা হয়েছিল বর্তমান শিশুপার্কের দক্ষিণ -পূর্ব অংশে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচারিত হবে রেডিও বারবার এমন ঘোষণা হচ্ছিল। শেখ হাসিনা এ কারণে একটি রেডিও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে রেডিও নিস্তব্ধ হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর সেই জ্বালাময়ী ভাষণে "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম.. উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখো লাখো জনতার জনসমুদ্র থেকে জয় বাংলা শ্লোগান ভেসে আসে। বঙ্গবন্ধুও প্রত্যুত্তরে জয়বাংলা বললে এর ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে আকাশবাতাসকে অনুরণিত করে তোলে।

বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দান থেকে বাড়িতে ফেরেন। রাত আটটার দিকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন জনপ্রিয় বাংলা সংবাদ পাঠক ইকবাল বাহার চৌধুরীর নেতৃত্বে পাকিস্তান রেডিও ঢাকাস্থ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। তারা জানান, সেনাবাহিনীর হাইকমান্ডের নির্দেশে তারা ভাষণ সম্প্রচার করতে পারেনি। এখন ভাষণ সম্প্রচারের অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করার কথা বলেন তারা। ফলে সকল অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ৮ মার্চ সকাল আটটায় হঠাৎ পাকিস্তান রেডিও ঘোষণা করে যে, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ নয়টায় প্রচার করা হবে।

বঙ্গবন্ধু রাতে সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে-মেয়ে শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেলের উপস্থিতিতে বলেন, " আমার যা বলার তা প্রকাশ্যে বলে ফেলেছি -সরকার এখন আমাকে যেকোনো মূহুর্তে হয় গ্রেফতার নয়তো হত্যা করবে। আজ থেকে প্রতিদিন আমার সঙ্গে খাবে। ২৪ মার্চ পর্যন্ত সবাই এক সঙ্গে খেয়েছেন। কিন্তু ২৫ মার্চ ব্যতিক্রম ঘটে। বঙ্গবন্ধু রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়ির নীচতলায় আওয়ামী লীগ,ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করেন। ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। কার্যত বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের শাসনভার গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:


চাকরি দেবে এসিআই লিমিটেড

ইরানের রেলপথ যাবে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : ইন্দিরা থেকে শেখ হাসিনা

নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সমূহ


৯ মার্চ পল্টন ময়দানে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেন, "প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে বলি, অনেক হয়েছে আর নয়। তিক্ততা বাড়াইয়া আর লাভ নাই। লা কুম দ্বিনুকুম ওয়ালইয়া দ্বিন(তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার) - এর নিয়মে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করিয়া লও। মুজিবের নির্দেশমত আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে কোন কিছু করা না হইলে আমি শেখ মুজিবুর রহমানের সহিত হাত মিলাইয়া ১৯৫২ সালের ন্যায় তুমুল আন্দোলন শুরু করিব। খামাকা কেহ মুজিবকে অবিশ্বাস করিবেন না, মুজিবকে আমি ভালো করিয়া চিনি। ১৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় আসেন। ১৬ ও ১৭ মার্চ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাউসে (বর্তমান সুগন্ধা)  ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠক হলো। ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ছাত্রজনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। কারফিউ জারি করা হয়। ২০ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ও ইয়াহিয়ার পরামর্শদাতাদের মধ্যে পৃথক বৈঠক হয়। ইতিমধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের ৩৫ জন জাতীয় পরিষদ সদস্য অধিবেশনে যোগদান করতে ঢাকায় এসে পৌঁছেন।

বঙ্গবন্ধু বাড়ি আক্রমণের আশঙ্কা করে ডঃ ওয়াজেদকে বাসা নিতে বলেন। সাত মসজিদ রোডের ওপর ধানমন্ডির (পুরাতন) ১৫ নম্বর রোডস্থ (নতুন ৮/এ-১৭৭ নম্বর) নীচতলাটি মাসিক ৯ শত টাকায় ভাড়া নেয়া হয়। ২১ মার্চ জুলফিকার আলি ভুট্টো ঢাকায় এসে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ওঠেন। ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে তিনি গোপন শলাপরামর্শ করেন। ২২ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেন, " লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এদিন মুজিব-ভুট্টো বৈঠক হয়। একই দিন ইয়াহিয়া-মুজিব-ভুট্টো বৈঠক হলে আবারও সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বলা হয় ২৫ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বিস্তৃত আলোচনার জন্য বাতিল করা হলো।

বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ থেকে অবরোধ আন্দোলন শুরু করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান। ২৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের জনসভায় "আমার সোনার বাংলা" গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে বাজিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। নূরে আলম সিদ্দিকী, আসম আব্দুর রব, শাজাহান সিরাজ ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন ছিলেন ছাত্রলীগের প্রধান নেতা। গাঢ় সবুজ কাপড়ের মাঝখানে লাল গোলাকার বলয়ের ভেতর সোনালী রং-এ অঙ্কিত বাংলাদেশের মানচিত্রসহ তৈরি করা পতাকাটি বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন তাঁর বাড়িতে এসে। সামরিক কায়দায় একটি বিশেষ দল বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জানায়। ওদিন সচিবালয়, হাইকোর্ট ভবনসহ সর্বত্র বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের পক্ষে ২ মার্চ ডাকসুর ভিপি আসম আব্দুর রব প্রথম পতাকাটি উত্তোলন করেন। ৩ মার্চ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করেন।

২৫ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু নিজ বাড়িতে  নেতাদের সঙ্গে কাটান। সবার চোখে মুখে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে চলে যেতেন বলেন। বিকেল তিনটায় শেখ মনি বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষে ছিলেন। রাত আটটার আবার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান। রাত ১১ টার  দিকে সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে সিরাজুল আলম খান, আসম আব্দুর রব ও শাজাহান সিরাজের সঙ্গে কথা বলেন।

লন্ডন আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া চৌধুরীর ভাই পরিচয় দিয়ে ঝন্টু নামের এক ব্যক্তি মহিউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর মুখোমুখি হন। সে জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। আপনাকে হত্যা করার জন্য তারা আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে  বলে তোমরা চলে যাও।আমার অন্যত্র  চলে যাওয়ার উপায় নেই। তারা মারতে চাইলে আমাকে এ বাড়িতেই মরতে হবে । কামাল চলে গেছে। জামাল ওর মাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। মুখে একথা শুনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। একদিকে গণহত্যার তান্ডবলীলা, আরেকদিকে বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতারের ইতিহাস। গ্রেফতারের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক বার্তা আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী ঠিকই দক্ষ মানুষ চিনেছিলেন

আশরাফুল আলম খোকন

প্রধানমন্ত্রী ঠিকই দক্ষ মানুষ চিনেছিলেন

এইচটি ইমাম

লিখতে একটু সময় লাগে। দেখে বুঝে লিখতে হয়। কাজের চাপে সময় করে উঠতে পারিনি। দায়িত্ব,কর্তব্য পালন করার জন্য শুধু লিখে দিলেই হয় না। আর বিষয় যদি হোন হোসেন তৌফিক ঈমাম অর্থাৎ এইচটি ইমাম স্যার, তাহলে অবশ্যই লেখাটা দায়সারা গোছের হওয়া উচিত না।

২০১৩ সালের ১৮ই আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগদান করার আগে পর্যন্ত স্যার এর নামে ভালো খুব কম শুনেছি। আরও ছিলাম দেশের বাইরে,বিপক্ষেই বেশি শুনেছি। বলতে সংকোচ নেই,কিছু সময় হয়তো আমিও বিপক্ষবাদীদের কথায় হুজুগে তাল মিলিয়েছি। যার জন্য এখনো নিজে নিজেই লজ্জা পাই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যোগদান করার পরও ওনার সম্পর্কে কিছুটা নেতিবাচক মানসিকতা ছিল আমার। সেই সবই তাঁর সম্পর্কে না জানা না বুঝা’র ফল।

স্যার এর সাথে স্মৃতিচারণ করতে গেলে শেষ হবে না। সরাসরি আসল কথায় আসি। ওনার নির্দেশনায় অনেক কাজ করেছি। অনেক কাজে ওনার পরামর্শ নিয়েছি। অনেক কাজে আটকে গিয়ে তাঁর উপদেশ নিয়ে কঠিন কাজ’টা সহজেই করেছি।

আপাদমস্তক একজন কাজের মানুষ বলতে যা বুঝায় তিনি ছিলেন তাই। যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই ৮০/৮২ বছর বয়সেও তিনি ছিলেন অনেক তরুনের চেয়ে আধুনিক চিন্তাভাবনার মানুষ। বিশেষ করে দল ও সরকারের প্রচারের বিষয়ে তাঁর আইডিয়া ছিল অন্যমাত্রার। আর যেকোনো কাজ বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত।


মশা মারতে গিয়ে পুড়ে গেলেন মা ও দুই মেয়ে

ভাসানচর পুরোপুরি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এক দ্বীপ

মশা মারতে গিয়ে পুড়ে গেলেন মা ও দুই মেয়ে

আস্থা ভোটে জিতলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

চিকিৎসাপত্র ছাড়াই ওষুধ কিনছেন ক্রেতারা, রোগী দেখছেন ফার্মেসি মালিকরা


তাঁর কাজ করার যোগ্যতা ও দক্ষতা দেখেই বুঝেছি, “যে গাছে ফল হয় মানুষজন সেই গাছেই ঢিল ছোড়ে। ফলহীন গাছে কেউ ঢিল ছোড়েনা।” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠিকই দক্ষ মানুষ চিনেছিলেন। আমরা অনেকেই কান দিলেও, বিএনপি জামাত ছাগু গোষ্ঠীর অপপ্রচারে কান দেননি। এই বিএনপি জামাতও জানে সরকারের কাকে নিয়ে অপপ্রচার করতে হবে। মৃত্যুর পরও কিছু অমানুষ অপপ্রচার চালিয়েছে।

ওপারে ভালো থাকবেন স্যার...

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকৃতি যা শেখায় মানুষ তা পারে না

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

প্রকৃতি যা শেখায় মানুষ তা পারে না

পৃথিবীতে কিছু কিছু বিষয় থাকে যেখান থেকে মানুষ অনেক কিছু শিখতে পারে। মানুষ যদি একটি বিষয় হয়। তবে অনেকসময় মানুষের থেকেও অনেক বেশি সে বিষয়গুলো মানুষকে শেখাতে পারে। একটা উদ্ভিদ, হয়তো অনেকের কাছে মূল্যহীন। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বস যদি না বলতেন উদ্ভিদের জীবন আছে। কিংবা উদ্ভিদের যে জীবন আছে তা প্রমান করে না দেখাতেন, তবে হয়তো সবাই উদ্ভিদকে জড় পদার্থ বলেই উপহাস করত। উদ্ভিদের ভাগ্য ভালো, বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসের মতো উদার চিন্তার মানুষ উদ্ভিদের ভিতরটাকে প্রাণ দিয়ে দেখার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তাই আজ উদ্ভিদ জড়ের জড়তার প্রাচীর ভেঙে জীবের মর্যাদা ও অধিকার অর্জন করেছে। উদ্ভিদকে কেউ ডাকে বৃক্ষ বলে, কেউ ডাকে গাছ বলে কিংবা অন্যকিছু। সবগুলোই সমার্থক ও একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। একটি বৃক্ষ বা গাছের ভিত্তি হলো তার মূল বা শেকড়। শেকড় কেবল মাত্র গাছটিকে মাটির উপর শক্ত করে শুধু দাড় করিয়েই রাখে না, সঠিক খাদ্য দ্রব্য, খনিজ সরবরাহ করে তার পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ করে দেয়। উদ্ভিদ নিজের শেকড়কে চিনে ও শেকড়কে আপন সত্তার অবিচ্ছেদ্দ্য অংশ বলে মেনে নেয় হয়তোবা আমরা মানুষ কি কখনো আমাদের শেকড়কে খুঁজি।

সে শেকড়কে খোঁজার মতো মন কি আমাদের আছে। হয়তো নেই। তাই হয়তো মানুষের মানবিক দেওয়ালগুলোতে অদৃশ্য ফাটল ধরেছে। মানবিক মূল্যবোধে পচনটা মানুষ থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয়েছে। ব্যক্তিত্ব ধসে পড়েছে বাস্তবতার চিলেকোঠায়। ফলটা যা হবার তাই হয়েছে। মানুষ এখন মন্দের দাসত্ব স্বীকার করেছে। সব অন্ধকার জেঁকে বসেছে মানুষের ঘাড়ের ওপর। সে অন্ধকার মানুষকে তার হাতের অদৃশ্য সুতোর পুতুল বানিয়ে খেলছে নিজের মতো করে। মানুষ আছে তবে সে মানুষের মৌলিক সত্তার অস্তিত্ব নেই। সব যেন রঙ্গমঞ্চ, মানুষ যা না তা হয়ে রীতিমতো অভিনেতা হয়ে উঠছে। সুবিধাবাদী হয়ে উঠেছে। মুখটা এখন আর মানুষের নেই, মুখটা হয়ে গেছে মুখোশের। যা কিছু ভালো তাতেই তা মানুষের শেকড় থাকে। শেকড়ের শক্তি থাকে। সেটা এখন দ্বীপান্তরে নির্বাসিত হবার মতো। উদ্ভিদ মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক করে। মানুষের মধ্যে সৃষ্টির নতুন চিন্তা তৈরি করে। 

একটা উদ্ভিদ মানুষের মধ্যে সৃষ্টির নতুন নতুন চিন্তা তৈরি করে দিলেও মানুষ মানুষের মধ্যে তা তৈরি করতে পারছে না। একটা উদ্ভিদ দিনে দিনে শিক্ষক হয়ে উঠেছে যা মানুষ পারেনি। রসায়ন, পদার্থ বিদ্যা , চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, মেটেরিয়াল সাইন্স, এনার্জি জেনারেশন সহ বিজ্ঞানের সব শাখাতেই উদ্ভিদ মানুষের মধ্যে নতুন জ্ঞান তৈরি করে গবেষণার ভাবনাকে এগিয়ে নিচ্ছে। সাহিত্য, দর্শন, চিত্রকলা, মনস্তত্ব, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব  সহ জীবনের সকল মহতী চিন্তায় উদ্ভিদ মানুষের মনকে এমনভাবে আলোড়িত করে চলেছে যা বিস্ময়কর ও অভূতপূর্ব। উদ্ভিদ মানুষের খাদ্যের যোগান দিয়ে চলেছে নিঃস্বার্থভাবে। আর উল্টোদিকে মানুষের মধ্যে কাজ করছে স্বার্থপরতা, লোভ, প্রতিহিংসা। একটা উদ্ভিদ মানুষের কাছে হতে পারে নগন্য কিন্তু মানুষকে পরোপকারের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে উদারভাবে। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থ ত্যাগ করে নিঃস্বার্থ হবার প্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে অপার দৃষ্টিভঙ্গিতে। একটা নদী সমুদ্রে ভেসে গিয়ে মহাসমুদ্রের জন্ম দিচ্ছে। নদী প্রাণের টানে যেটা করতে পারছে মানুষ তো সেটা পারছে না। মানুষ মানুষ হয়ে জন্ম নিলেই তো মানুষ হয়ে উঠেনা। মানুষের মধ্যে মনুষত্ব থাকলেই মানুষ হয়। 

মানুষের ভিতরে আগাছা জন্মেছে, পরগাছা জন্মেছে। মানুষ পরজীবী প্রাণীও হয়েছে। কিন্তু মানুষের ভিতরের মানুষটা কেন যেন মানুষ হয়ে উঠছে না। মানুষ কি প্রকৃতি নাকি প্রকৃতি মানুষ। সব যেন ওলোটপালোট। যুক্তি তর্কের বাইরে। তারপরও একটা সহজ সমীকরণ মানুষ আর প্রকৃতির কোরিলেশন তৈরি করে মানুষের ভিতরের অদেখা মানুষটাকে টেনে বের করে আনুক মাটির পৃথিবীতে। কারণ মাটিও যে প্রকৃতির অংশ হয়ে পদচিহ্ন রেখে দেয় মাটিতে। যে মাটিতে মানুষের  বিকাশ সে মাটিতেই মানুষের একটু একটু করে মিলিয়ে যাওয়া। হয়তো সময় সেখানে চোখ খোলা রেখেছে আরেক নতুন সময় দেখবে বলে। সময় হয়তো প্রকৃতি কিংবা প্রকৃতি সময়। যেখানে কোনো একটা অনিশ্চিত জায়গায় মানুষ দাঁড়িয়ে আছে একটা অদৃশ্য রেলগাড়ির অপেক্ষায়। মানুষের চোখের জল আর প্রকৃতির জল হয়তো সেখানটায় একটা যোগসূত্র গড়ে রেলগাড়ির সহযাত্রী হবে। কোনো একদিন। হঠাৎ বৃষ্টির জলের মতো করে। হয়তো অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখবে একে অন্যকে। কিন্তু সেখানে দুটো সত্তা একক সত্তা হয়ে খুঁজে পাবেনা কাউকেই। হয়তো একটা জাদুর আয়না খুঁজবে সবাই। তখন হয়তো মানুষের ভিতরের প্রকৃতি ঢুকে যাবে অবলীলায়। প্রকৃতির বিচারটা খুব কঠিন। কিন্তু প্রকৃতি তো উদার। সে উদারতার বন্যায় মানুষের ভিতরের সব অন্ধকার ভেসে গিয়ে আলো হয়ে জন্ম নিবে আবার।

প্রকৃতির এমন অসংখ্য উপাদান আছে যেখান থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আজকের এই মানবিক সংকটের সময়ে সারা পৃথিবীতে প্রকৃতি শিক্ষক হয়ে উঠেছে। এমনটা মানুষ আগে কখনো ভাবেনি। কিন্তু এখন ভাবতে হচ্ছে। হয়তো এমন করে ভাবতে ভাবতেই একদিন সমাধান সূত্রটা প্রকৃতির মাথা থেকে নিঃসৃত হয়ে মানুষের মাথা থেকে বেরিয়ে আসবে বিজ্ঞানের মৌলিক আবিষ্কারের রং মেখে। হয়তো এটা স্বপ্ন আর স্বপ্নই তো একদিন সত্য হয়। যেমন সত্য হয় প্রকৃতির আদরে বড় হয়ে উঠা মূর্খ ও দরিদ্র মানুষটা। যার বড় বড় মানুষ শিক্ষক ছিল না। কিন্তু প্রকৃতির মতো শক্তি শিক্ষক ছিল। যার অর্থ সম্পদ ছিল না কিন্তু মানবিক মূল্যবোধের অহংকার ছিল।

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগ, ডুয়েট
সদস্য, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল আইন বাতিলে লাভ কি?

আসিফ নজরুল

ডিজিটাল আইন বাতিলে লাভ কি?

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন আমিও বাতিল চাই। তবে আমি মনে করি এতে খুব একটা লাভ হবে না। যাকে দমন করার তীব্র ইচ্ছে হবে তাকে সরকার অন্য আইন দিয়ে দমন করবে, না হয় তাকে স্রেফ গুম করে ফেলা হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল হলে দমন করাটা একটু কঠিন হয়ে পড়বে, বাক স্বাধীনতা অল্প কিছুটা বাড়বে, ভয়ের কালো মেঘ সামান্য ফিঁকে হয়ে যাবে -এগুলোই যা লাভ। তবে যদি আমরা যদি মনে করি এর ফলে দমন, নিপীড়ন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, বাক স্বাধীনতা উল্লেখজনকভাবে বাড়বে -সেটা ভুল হবে। কারন নিপীড়ন করার সুযোগ অন্য  আইনেও আছে।

একজন ভয়ংকর মানুষের হাত থেকে একটা অস্র নিয়ে নিলে সে অন্য অস্র ব্যবহার করবে। কোন অস্র না থাকলে গলা টিপে কাউকে মেরে ফেলবে। বিনা ভোটের সরকার হচ্ছে ভয়ংকর সরকার। কারন সে ক্ষমতার আসে ও থাকে অত্যাচার, নির্যাতন ও দূর্নীতির উপর ভর করে।  এসব কাজে ডিজিটাল আইনের মতো সহায়ক আইন না থাকলে সে অন্য আইন ব্যবহার করবে, বা আইন ছাড়াই কাজ চালাবে।

প্রকৃত নির্বাচিত সরকার গঠনের আন্দোলন ছাড়া তাই আমাদের বিকল্প নেই। এমন নির্বাচিত সরকারও অত্যাচারী হবে, তবে বিনা ভোটের সরকারের মতো নয়। জাষ্ট আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সালের সরকারের সাথে ২০১৮ সালেল সরকারের তুলনা করলে বিষয়টি বোঝা যাবে।

আরও পড়ুন:


আবারও স্বর্ণের দরপতন, ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দাম

রণবীরের সঙ্গে ক্যাটরিনার খোলামেলা ছবি বিশ্বাস হয়নি সালমানের

রানার গ্রুপে চাকরির সুযোগ

‘ভয়ঙ্কর একটি শক্তি’ ভিন্নমতের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে: ফখরুল


প্রকৃত নির্বাচনের পরের ধাপে (বা সাথে সাথে) আমাদেরকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে (সংসদীয় কমিটি, উচ্চ আদালত, স্থানীয় প্রশাসন) শক্তিশালী ও স্বাধীন করার আন্দোলন করতে হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যক্ট বাতিলের দাবীর সাথে সাথে অবিলম্বে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী তোলা উচিত বলে আমি মনে করি। না হলে এই আইন বাতিলের সুফল খুব একটা পাওয়া যাবে না।

এই  বিভাগের সব লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।

আসিফ নজরুল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক (ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কাউকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে নয়, লেখালেখি করি দেশের জন্য

শরিফুল হাসান

কাউকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে নয়, লেখালেখি করি দেশের জন্য

সিদ্ধান্ত নিয়েছি লেখালেখি প্রতিবাদ সব বন্ধ করে দেব। আর সবার মতো চুপ থাকব। ফুল-লতাপাতা নিয়ে লিখব। খাওয়ার চেক ইন দেব, বেড়ানোর। কী দরকার লেখালেখি করে ক্ষমতাশালীদের রোষনলে পড়ার? কী দরকার এতো মানুষকে এতো ব্যাখ্যা দেওয়ার?

১৯ বছর ধরে সাংবাদিকতা এবং লেখালেখি করছি। সবসময় ক্ষমতাসীনদের গালিগালাজ-হুমকি-মামলা এমনকি মাইরও খেতে হয়েছে। তারপরেও স্বপ্ন দেখে গিয়েছি দেশটা একদিন ঠিক হবে। নিশ্চয়ই একদিন ঠিক হবে। আমি এখন আশা হারাচ্ছি। বলতে দ্বিধা নেই ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভেবেছিলাম এইবার বুঝি দেশটা ঠিক হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর ভেবেছিলাম সব জঞ্জাল দূর হবে। কিন্তু আশাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
 
গত ১২ বছরে দেখছি অন্য এক বাংলাদেশ। একসময়ে যাদের মনে হতো বিপ্লবী এখন দেখি তারাই ক্ষমতার স্বাদে বা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে অন্যায়কে ন্যায় বলে। চুপ করে থাকে। উল্টো অন্যায়ের বৈধতা দেয়ার জন্য নানা কথা বলে। ভীষণ লজ্জা লাগে। ভীষণ অচেনা মনে হয় এদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতার কথা ভুলবো না। জহরুল হক হলে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পরোক্ষভাবে হুমকি দিলো, বললো তারেক রহমান নাকি আমাকে টাকা দিয়েছে কোটা সংস্কার নিয়ে সাংবাদিকতা করার জন্য। ভীষণ কষ্ট পেলাম। এর কয়দিন পর দেখি তারেক রহমানের সঙ্গে আমার ফেসবুক আলাপের ভুয়া স্ক্রিনশট। ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। না তারপরেও থেমে যাইনি। মনে হয়েছিল, দেশের জন্য লড়াই করি।
 
আপনারা হয়তো ভুলে গেছেন কিন্তু আমি ভুলিনি মোবাশ্বার হাসান সিজারের কথা। তাকে মুক্ত করার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য নানা জায়গা থেকে গালি খেয়েছি। এর মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়েছে আরেকদল পঙ্গপাল। এরা কথায় কথায় বলবে, ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে কেন লিখি না? আরেকদল এসে বলবে, আওয়ামী লীগের দালাল। যাচ্ছে তাই ভাষায় গালিগালাজ করবে। এতোসব হ্যাপা নেয়ার দরকার কী? এর চেয়ে ভালো লেখালেখি বন্ধ করে দেই।
 
শুধু আপনাদের বলি, আপনারা যারা আওয়ামী লীগের লোক বলে গালি দেন আচ্ছা আওয়ামী লীগের লোকজন যখন যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করে তখন কোথায় থাকেন আপনারা? যখন সাংবাদিক শফিক রেহমানের বাড়িতে হামলা হয়েছে শুনে অফিসের ফোন পেয়ে সেই অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেদের হাতে বেদম পিটুনি খাই কোথায় থাকেন আপনারা? যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রিয় বন্ধুরা সতর্ক করে দিয়ে বলে, এইসব লেখালেখি বন্ধ করেন তখন কোথায় থাকেন আপনারা?
না একটা কথা সত্য আমি লিখি অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমি লেখি একটা সুন্দর বাংলাদেশের জন্য। আপনারা সরকারবিরোধী যারা ভাবেন আমি সরকার পতনের জন্য লেখালেখি করবো, সারাক্ষণ আপনাদের ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে গালিজালাজ করবো আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি কোন দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য লেখালেখি করি না। করবোও না।

আবার আপনারা ক্ষমতাসীন দলের লোকজন যারা ভাবেন আমি আপনাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে লেখালেখি করবো, আমি এমনভাবে লিখবো যাতে আপনাদের কেউ গালি না দেয়, তারাও আমাকে ক্ষমা করবেন। কাউকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা আমার কাজ নয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো কাউকে ক্ষমতায় না নেওয়ার জন্যই যদি আমি লিখি, আবার কারও ক্ষমতা সুসংসহত করতেই যদি না লিখি তাহলে আমি লিখি কেন? আমি আসলে লিখি এই দেশের জন্য। মানুষের জন্য। আমার কোন লেখায় যদি তারুণ্যের সমস্যার সমাধান হয়, আমার কোন লেখায় যদি মানুষের উপকার হয় এই আশায় লিখি। আমি সৎভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। তাই লিখি।

আরও পড়ুন:


সৌদির কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ২৪ ঘন্টায় ৩ বার ড্রোন হামলা ইয়েমেনের

চাকরি দেবে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস

ইসরাইলি জাহাজে হামলার দাবি নাকচ ইরানের

উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে বেড়েছে সিমেন্টেরও দাম


আরও শুনবেন? আমি লিখি একটা সুন্দর বাংলাদেশের জন্য। আমি চাই এমন একটা দেশ যেখানে দুর্নীতি-লুটপাট থাকবে না। থাকবে না অপশাসন। কোন মানুষ ক্রসফায়ার-গুমে মারা যাবে না। কোন অপশাসন থাকবে না। আমি চাই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। আমি চাই আমার চার বছরের ছেলেটা একটা সুন্দর বাংলাদেশ পাবে।

আমি লিখি এই কারণে যে এই বাংলাদেশ ছাড়া আমাদের আর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু আজকাল মনে হয় এই বাংলাদেশ গড়ার লড়াইটা করতে পারছি না। তাই ভাবছি এতো সবার বিরাগভাজন হওয়ার চেয়ে লেখালেখি বন্ধ করে দেই। কারণ এই বাংলাদেশ বোধহয় চায় না আমরা লিখি। ছবি আঁকি। কার্টুন আঁকি। কাজেই আপনারা থাকেন আপনাদের ক্ষমতা নিয়ে। আমরা বরং লেখালেখি বন্ধ করে দেই। চুপ থাকি।

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর