যেওভাহ্ উইটনেসরা তাদের আদর্শে অটল
যেওভাহ্ উইটনেসরা তাদের আদর্শে অটল

মনিজা রহমান

যেওভাহ্ উইটনেসরা তাদের আদর্শে অটল

মনিজা রহমান

পৃথিবীর সব খ্রিস্টানরা যে আজ ক্রিসমাস উদযাপন করছে, তা কিন্তু নয়। যেওভাহ্ উইটনেস (Jehovah’s Witnesses) নামে খ্রিস্টানদের একটা দল আছে যারা ক্রিসমাস পালন করেনা। শুধু তাই নয়, তারা এই দিনটিকে স্বীকারও করে না।  

অথচ এখন সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ধর্মীয় উৎসবের নাম –ক্রিসমাস।

মুসলমান, ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধরাও অনেকে বাড়িতে ক্রিসমাস ট্রি সাজায়। মায়েরা সান্তা ক্লজের কথা বলে সন্তানদের ‘উপহার’ দেয়।  

নিউইয়র্কে সব ধর্মের বাঙালিরা ক্রিসমাস এলে বাসায় দেশীয় পিঠা-পুলি বানায়। মুসলমান ধর্মের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ নবী হলেন- যীশু খ্রিস্ট বা হযরত ইসা (আ:)। ক্রিসমাস হল তাঁর জন্মদিন। মা মেরি বা মরিয়মের নামে আলাদা সুরাও আছে কোরআনে। যে কারণে মুসলমানদের ক্রিসমাস পার্টি করতে কোন দ্বিধা কাজ করে না।  

আজকাল হিন্দি সিরিয়াল দেখলে বোঝা যায় ক্রিসমাস, হ্যালোউইনের মতো ধর্মীয় উৎসব বেশ জনপ্রিয় ভারতে। কিন্তু আমেরিকায় থেকেও যেওভাহ্ উইটনেসরা সেটা পালন করেনা।  


 এক নজরে অভিনেতা আবদুল কাদেরের বর্ণাঢ্য জীবন

অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে আপনি ওসিডিতে আক্রান্ত নাতো?

আমরা একটা টানেলের ভেতর আছি


ক্রিসমাস, হ্যালোউইন, থ্যাংকস গিভিং, জন্মদিন, মাদার্স ডে, ফাদার্স ডে কোন কিছুর গুরুত্ব নেই তাদের কাছে। ওদের কাছে নাকি প্রত্যেকটি দিনই বিশেষ দিন! তাই বিশেষভাবে কোন দিবস পালন করার প্রয়োজন নেই। ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একমাত্র ইস্টার- যেটা তারা পালন করেনা, তবে তার অস্তিত্ব স্বীকার করে।

যেওভাহ্ উইটনেস পরিবারের কোন সন্তান যদি কোন ক্লাসে থাকে তো টিচারদের জীবন শেষ। এমনিতে বছরের শেষ তিন মাসে একের পর উৎসব থাকে। স্কুল রুমগুলো সেই উৎসবের আলোকে সাজানো হয়। হ্যালোউইনে ক্যান্ডি নিয়ে আসে একদল, থ্যাঙ্কসগিভিংয়ে হয় পামকিন আর টার্কি পার্টি আর ক্রিসমাসে তো নানা রকম উপহার আর উপহার! কিন্তু এসব উপহার ওই পরিবারের শিশুদের দেয়া যাবে না। কোন আয়োজনে ওদের অংশ নিতে দেয়া যাবে না। ক্লাসে কোন পার্টি হলে, ওদের কোথায় লুকিয়ে রাখা হবে এই নিয়ে একটা হৈচৈ পড়ে যায়।


যুগ যুগ জিও বিটিভি

অপূর্ণতায় মানুষের মেরুদণ্ডটা নুয়ে পড়ে, ভেঙে যায় না


অনমনীয় এমন মানুষদের সব ধর্মে দেখা যায়। যেওভাহ্ উইটনেসরা কিন্তু তাদের আদর্শে অটল। তারা এতটাই সংকল্পবদ্ধ যে তারা অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য একেক দেশের ভাষা শিখে ফেলে। আমার ছোট ছেলেকে নিয়ে মাঝে মাঝে বাসার আশেপাশে হাঁটাহাঁটি করি। এমন একদিন হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে পরিচয় হল স্টেফানি নামে একজনের সঙ্গে। ওর মুখে বাংলা কথা শুনে আনন্দে আত্নহারা হয়ে ওকে বাসায় নিয়ে আসলাম। পরে জানলাম, ও একজন যেওভাহ্ উইটনেস।

সেদিন থেকে আমাকে হেদায়েত করা শুরু করেছে। এখন তো যত বারই সে বাসার কলিংবেল বাজায়, আমি গিয়ে বেডরুমের দরজা লাগিয়ে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকি। বড় ছেলে স্টেফানিকে গিয়ে বলে- ‘আম্মু তো এখন ঘুমাচ্ছে’। তবু ওর আসা বন্ধ হয়নি। মাঝে মাঝে বাংলায় আমাকে ‘বান্ধবী’ উল্লেখ করে চিঠিও পাঠায় পোস্টে।

লেখক: মনিজা রহমান, নিউইয়র্ক

news24bd.tv নাজিম