‘অনেক ভেবে বুঝেছি- আমাকে আমি অনেক আগেই হারিয়েছি’

আঁখি আলমগীর

‘অনেক ভেবে বুঝেছি- আমাকে আমি অনেক আগেই হারিয়েছি’

আজ ২০২০ এর শেষ দিন। এর মধ্যে একজন বলছিলেন, তোমার জীবন নিয়ে একটা নাটক লিখো, উত্তর দিয়েছি ২৪ পর্বের ধারাবাহিক হবে তাহলে বা মেগা সিরিয়াল। হঠাৎ মনে হলো ৮ মাস ধরে ভোর ৬ টায় ঘুমাতে যাওয়া আমি আজ সময় মতো ঘুমিয়ে উঠে কি করব, বরং সকালটা সেলিব্রেট করি কিছু লিখে। বছরখানা তো এবার সবার জন্যেই খুব ভালো ছিল না। সামনের বছর খুব ভালো হবে আমি আশা করছি না, তবে এবারের চেয়ে ভালো হতে পারে। ক্ষত হতে যা সময় লাগে, তার থেকে অনেক বেশি সময় লাগে ক্ষত শুকাতে।

২০২০ এর শুধু মার্চ মাসেই আমার শো ছিল ১৮টার উপর, আগে পরের কথা নাই বলি। সব ক্যানসেল হয়েছে। আমি ভেঙ্গে পড়িনি। টিমকে সাহস দিয়েছি। বাচ্চাদের আনন্দে রাখার চেষ্টা  করেছি। এপ্রিল থেকে আমি অসুস্থ হওয়া শুরু করি। ভীষণ অসুস্থ। বিস্তারিত বলতেই আর ইচ্ছা হচ্ছে না। শুধু বলব সবাই যখন করোনার ভয়ে ঘরে বসে হাহাকার করেছেন আমি তখন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হসপিটালে দৌড়েছি। আমার হাতে ক্যানোলা লাগানো ছিল ২০ দিন। সেলাইন এ্যন্টিবাইয়োটিক চলতো, কেন? সেই উত্তর আমাদের যোগ্য ডক্টর রা আজো দিতে পারবেন কি না জানিনা। MRI, CT scan, Xray, 100 blood tests, সব ছিল ডাল-ভাত-পানি। আমার ESR কেনো ১৫-২০ এর টা ১০৯ ছিলো তার উত্তর আমরা কেউ জানি না।

শুধু অসুখের জার্নি নিয়ে আরেকদিন লিখব। তবে শারীরিক না, ভীষণ শক্ত এই আমি ভেঙেছি মানসিক ভাবেও। এত বেশি হাসপাতালে যেতাম বলে পরিবারের মানুষের সেফটির কথা ভেবে আমি করোনা না হয়েও নিজেকে এক ঘরে করে ফেলেছিলাম। দূরে সরিয়ে ফেলেছিলাম সবাইকেই। ক্ষমা চেয়েছি অনেকের কাছেই, মৃত্যু ভয় আমাকে খাবলে খাচ্ছিল। এখনও প্রতিদিনই ভালো থাকার যুদ্ধ। তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি আগের চেয়ে, কাজ তখনও করেছি, এখনও করছি।

আমার অসুস্থতার যুদ্ধের সময়টা আমি হারিয়েছি অনেক, যা বুঝেছি চিনেছি, উপলব্ধি করেছি তার চেয়েও বেশি। আমার পারিবারিক পরিচয়টা বিশাল, রাজকীয় বললেও ভুল হবে না। শো অফ নেই, কিন্তু এটাই সত্যি। আমার নিজস্ব প্রাপ্তিকে নিন্দুকও ছোট করে দেখার অবকাশ সৃষ্টিকর্তা রাখেননি। কিন্তু আমি কি শুধুই আমার পরিবারের ভারি টাইটেলগুলোর উত্তরসূরী মাত্র? আমি শুধু জনগণের? আমি কি শুধুই একজন মা? আমার জীবন কি শুধুই জবাবদিহি , দায়িত্ব আর স্ট্যাটাসের আবর্তে ঘূর্ণায়মান? এত কিছুর ভিড়ে 'আমি' কোথায়? অনেক ভেবে বুঝেছি, আমাকে আমি অনেক আগেই হারিয়েছি। অপ্রয়োজনীয় বিসর্জন দিয়েছি অনেক, কোন দরকারই ছিলো না সেগুলোর।

পরিবার কি বলবে, সমাজ কি বলবে, কলিগরা হাসবে, বাচ্চারা কি করবে, মিডিয়া কি লিখবে, এইসব প্রশ্নের তারকাঁটার বেড়াজালে আমরা বেশিরভাগ মেয়ে বা মেয়ে শিল্পীরা পাগলপ্রায় হয়ে থাকি। সব ব্যালেন্সের খেলায় একসময় নিজেরাই মানসিক ব্যালেন্স হারাই। সুখে থাকার অভিনয়ের প্রতিযোগিতায় মেতে থাকি। আসলে কতজন সুখে আছেন? কতজন ঘুমানোর আগে একটা দীর্ঘনিশ্বাস নিয়ে চোখটা বন্ধ করেন না? কতজন আসলে ঘুমান ?
 
নানান পুরস্কার এ আমার ঘর ভরে আছে। সব, সব পেয়েছি। বিশেষ করে ২০১৯, ২০১৮, ২০১৭ ছিলো পুরস্কারের বছর। আজীবনের শো বা কনসার্ট এর সংখ্যা বলতে চাই না। তবে না বলা সংখ্যাও কিন্ত একটা রেকর্ড। মেয়ে দুটো মাশাআল্লাহ অনেক বুদ্ধিমতী, যথেষ্ট বাস্তববাদী। ওদের কাছে আমি বা আমার বংশ পরিচয় কোন ম্যাটার করে না। ওরা আমাদের নিয়ে গর্ব করে, তবে এটা ওদের কাছে কিছুই না। ওরা জীবনকে অন্য ভাবে চিনেছে। ওরা ওদের জন্য বাঁচবে, ওদের মতো চলবে। কিছু আরোপ করে দেয়া অসম্ভব, তাই বলে ওরা বেয়াদব না। আমি সেভাবেই ওদের বাঁচতে শিখিয়েছি। জীবন তো একটাই। দোষ হোক ভুল হোক ভালো হোক যাই হোক, মেয়েদের আমি একা মানুষ করেছি, তাই ওদের সবটাই আমার। এখানে জবাবদিহির কোন অবকাশই নাই।


স্বামীর 'গোপন অঙ্গ' কেটে বিচ্ছিন্ন করল স্ত্রী!

টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে নববধূ উধাও


২০২০ এ আমি হারিয়েছি অনেক কিছু। যা হারিয়েছি তা ফিরে পাবার নয়। হারিয়েছি মানুষ, হারিয়েছি বিশ্বাস, হারিয়েছি অনেক আনন্দ। যা বুঝেছি, শিখেছি বা দেখেছি তা না হলেও হতো। আমার উপলব্ধি এমনিতেও গভীর, তা আরও গভীর হয়েছে। আমি বুঝেছি মানুষ চেনার কোন শেষ নাই আর শেখার কোন বিকল্প নাই।

আমি বুঝেছি যারা প্রবল অনুভূতিপ্রবণ, তারা একা। যারা স্বার্থপর, লোভী, অনুভূতিহীন, তারা সুখী, যদিও সেই সুখটাও ধার করা।আমি বুঝেছি আমি আমার জন্য বাঁচতে চাই, আমার মতো করে। হয়তো পারব বা পারবো না। কিন্তু এটাই এই বয়সে এই কঠিন বছরের শেষে এসে আমার চাওয়া। 

২০২০ এ আমি সংযমী হয়েছি অনেকটাই। হালকাভাবে বললে মনে হচ্ছে সামনের বছরগুলোতে বেঁচে থাকলে বড়লোক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

২০২১ থেকে আমি করোনা মুক্ত পৃথিবী চাই। সবার ভালোটাই চাই সব সময়ের মতো। আমি আমার মতই থাকতে চাই, একটু দূরে, একটু একা। বরাবরের মত কাজ করে যেতে চাই, মানুষের পাশে থাকতে চাই। আমি মিথ্যা ঘৃণা করি, তাই মিথ্যা বলতেও চাই না, শুনতেও চাই না।সত্যের একটা শক্তি আছে যা আমরা ভুলে যাই।

কারো মনে হতে পারে, ২০২০ শুধু খারাপই ছিলো! না, বললাম তো, এটা ছিলো শেখার বছর, উপলব্ধির বছর। বন্ধু পেয়েছি, বন্ধু চিনেছি। এভাবে লিখতে পারাটাও আমার জন্যে এক রকম মুক্তি। এই মুক্তি আমার ভীষণ প্রয়োজন ...

সবার নতুন বছর ভালো হোক। পরিবার পরিজন ভালোবাসার মানুষ পাশে থাকুক সবার। জীবন আসে জানান দিয়ে, বেশিরভাগ মৃত্যু অকস্মাৎ হয়। পরিবারের কাছে আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। আপনাদের কাছেও ক্ষমা চাই। একজন মুসলিম হিসেবে এটা আমাদের করণীয়। ক্ষমা চাই আল্লাহর কাছে। সব সমাধান তাঁর কাছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমিও দোয়া করি সকলের জন্য, বিশ্ববাসীর জন্য। আমার যে শত্রু, সেও ভালো থাক, তাদের যেন হেদায়েত হয়।

এবার না হয় নতুন বছরে আমরা নতুন করে মানুষ হতে চেষ্টা করবো। ভালো থাকা হোক, শুধুই ভালোবাসা হোক, বছর শুরু হোক সত্যের হাত ধরে ....

Happy new year!

ps: ছবিটা জুন জুলাই এর। তানভীর খান ভাই এর প্রজেক্ট ছিল কোনো। হাত লুকিয়ে শুটিং করেছি ১০৩ জ্বর নিয়ে ।প্রতিদিন দুই বেলা ইন্টারভেনাস ইনজেকশন চলছিল। সবাইকে সেই সময়টাতে ইচ্ছা করেই নানান অজুহাতে দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম, জানি না কেন! 

দয়া করে কেউ ডাক্তারি কমেন্ট করবেন না। এটা না হয় আরেকদিন হবে। আজ হোক happy new year

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

news24bd.tv / কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বৃদ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী

আসিফ নজরুল

বৃদ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী

মিটুনের (আনিসুল হক) কিছু জিনিষ ভালো লাগে না। সে যথেষ্ঠ প্রতিবাদী না, উপন্যাসিক হিসেবে একটু ওভাররেটেড, নিজের পত্রিকাগুলোয় তার প্রচারণা বেশী। এগুলো হলো ঈর্ষা বা হয়তো আমার ছোটলোকী থেকে ভাবা। 

কিন্তু আসল কথা হলো আমি তাকে শ্রদ্ধা করি, সমীহ করি এবং তার প্রতিভায় মুগ্ধ হই। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ে মিটুনের পড়াশোনা ও লেখার ক্ষমতা অসাধারন, মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা অপরিসীম, দেশপ্রেম নিখাদ এবং আশাবাদী থাকার ক্ষমতা অতুলনীয়। মেধায় সে জিনিয়াস পর্যায়ের।  


জামালপুরে নারীর সঙ্গে ভিডিও ফাঁস হওয়া সেই ডিসির বেতন কমল

‘পরমাণু সমঝোতার একমাত্র পথ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’

এইচ টি ইমামের জানাজা ও দাফনের সময়

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর শোক


মিটুনকে বোধহয় আমি ভালোওবাসি। করোনার সময় তার একটা ষ্ট্যাটাস পড়ে সাথে সাথে দোয়া পড়তে শুরু করেছিলাম। মিঠুন যথন তার মৃত্যু-প্রেম বা প্রস্তুতি নিয়ে লিখে, আমার সমস্ত অন্তরাত্মা প্রতিবাদ করে ওঠে। মনে হয়, এমন বাজে সংবাদ কখনো যেন পেতে না হয় আমাদের।  

তিনদশক আগে একটা অন্যায় করেছিলাম তার সাথে। পরে অনেকবার ভেবেছি ক্ষমা চাই। তারপর মনে হতো এতো অনুভূতিপ্রবণ মানুষ, নিশ্চয়ই বুঝতে পারেন এজন্য কতোটা লজ্জিত আমি। এসব তার বোঝার কথা। কিন্তু এটা হয়তো বুঝতে পারেন না আমিও তাকে কতোটা ভালোবাসি এখন। বৃ্দ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী। শুভ জন্মদিন মিটুন।

আসিফ নজরুল, শিক্ষক, ঢাবি। 

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রঙ, সৌন্দর্য ও অবচেতন

হারুন আল নাসিফ

রঙ, সৌন্দর্য ও অবচেতন

ফর্সা বা সাদা আর সুন্দর কখনোই এক নয়। সৌন্দর্য মূলত বর্ণনিরপেক্ষ। রঙের মধ্যে সৌন্দর্য খোঁজার কারণ কুসংস্কার ও অশিক্ষা। বিশেষ কোনো রঙকে সুন্দর ভাবা এক ধরণের বর্ণবাদিতা তো বটেই। সাধারণ শিক্ষা এই বর্ণবাদিতা অপনোদন করতে পারে না। কখনো বরং আরো পোক্ত করে।

আধুনিক শিক্ষিত মানুষের চেতনা বা মনের গহীনে তাই এই বর্ণবাদিতা বিদ্যমান থাকে বা খাকতে পারে। কারো জ্ঞাতে, কারো বা অজ্ঞাতে। সাধারণভাবে এটা ধরা পড়ে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে তা ঠিকই বেরিয়ে আসে। মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েডের ভাষায় এটা হলো সাব-কনশাস। অনেকে বাংলায় এটাকে অবচেতন বলেন। এটি যে সবসময় ব্যষ্টিক হয়, তা নয়, এটি সামষ্টিকও হতে পারে।

‘কালো, তবু সুন্দর’-এই ধরনের বাক্যে মনের গভীরে ওঁত পেতে থাকা ‘কালো সাধারণত সুন্দর হয় না‘ এই কুসংস্কার ‘মুখ বা কলম ফস্কে’ বেরিয়ে আসে। এই বেরিয়ে আসাটা স্বাভাবিক। ভেতরে আছে বলেই বাইরে বের হয়। প্রমাণিত হয়, বর্ণ-কুসংস্কার আছে। যদিও অধিকাংশ লোক থাকা উচিত নয় বলে মনে করে। উচিত-অনুচিত এক, বাস্তবতা আরেক। কিন্তু এই বেরিয়ে আসাটা ভালো। ফলে আমরা অনুচিতের বিপক্ষে কথা বলার সুযোগ পাই।

এই প্রসঙ্গ বা আলাপ থেকে আরো একটা জিনিস প্রমাণিত হয়, তা হলো মনে যা-ই থাক, সমাজ প্রকাশ্যে কালোকে অসুন্দর বলা সমর্থন করে না। কালোর বিপক্ষে বলাটা সমাজের বিপক্ষে যাওয়ার সামিল। তাই যারা কালোকে সুন্দর মনে করে না, তারা তা প্রকাশ্যে বলার সাহস করে না বা বলে বিরোধিতার মুখে পড়ার কিংবা বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। ফলে তাদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেদের মত বা বিশ্বাসকে চেপে রাখতে হয়। 

ফ্রয়েডের ভাষায় এটা অবদমন। এই অবদমিত ‘বিষয়’ অবচেতনে লুকিয়ে থেকে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ খোঁজে। অসাবধানতা বশত বা অবদমনের দুয়ার আলগা পেলে তা স্ববভাবতই বেরিয়ে আসে। আসবেই।


কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সৌদি আরবের উট-সংস্কৃতি ও উটের ভাস্কর্যের বিশ্ব রেকর্ড

কিউবিস্ট ভাস্কর্য: অদৃশ্য কলাকার


কুসংস্কার মন থেকে দূর না হলে তা ‘মুখ বা কলম ফস্কে’ বেরিয়ে এসে নিজেকে বা সমাজকে বিব্রত করতেই পারে। বিশেষ রঙকে অসুন্দর বা সুন্দর মনে করার সংস্কার মানুষের বা সমাজের মনের গভীরে প্রোথিত। পশ্চিমা ধর্মবিশ্বাস ও ইতিহাস এক্ষেত্রে অনেকটা উসকানি হিসেবে কাজ করে থাকে। এই কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব না হলেও একেবারে সহজ নয়, অদূর ভবিষ্যতে তো নয়ই।

ফলে আমাদের দেশে বিশেষ করে কালো-বিদ্বেষের কুৎসিত চেহারা মাঝে-মধ্যে এভাবে বেরিয়ে এসে যে আমাদের বিব্রত করবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এই বিব্রত হওয়াটা কিন্তু ইতিবাচক। বিব্রত না হতে চাওয়াটা যতো আন্তরিক ও সুদৃঢ় হবে, বর্ণ-কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও ততো বাড়বে।

হারুন আল নাসিফ: কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মাসুদা ভাট্রি

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

এ বছরও পৃথিবী স্বাভাবিক হবে না, নতুন রূপে মহামারী ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে— এই ভয়ের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে। কোনো দেশই খুলছে না নিজেদের, ভেতরে ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে নিজেদের মতো করে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, এখানেও যতটা সম্ভব জীবন-জীবিকা বাঁচানোর তাগিদ ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবনে লক্ষ্যমান।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখনও কেবল তরতাজা যুক্তরাষ্ট্রের নয়া সরকারের কায়কারবার আর মধ্যপ্রাচ্য। ইওরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার কোনো খবর নেই। আর দক্ষিণ এশিয়ায়ও ভারতই কেবল শিরোনামে।


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


বাংলাদেশকে নিয়ে চেষ্টা হচ্ছে প্রবল কিন্তু করোনা-রাজনীতি বা করোনা-পরিণাম কোনোটিই বাংলাদেশকে ঠিক ‌‘বাটে’ ফেলতে পারছে না। এর কারণ নিশ্চয়ই একেকজনের কাছে একেক রকম, আমি ভাবছি এই যে বিচ্ছিন্ন পৃথিবী আবার পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মানুষে মানুষে যদি যোগাযোগই না থাকে তবে কীসের বেঁচে থাকা কীসের কী বিশ্বায়ন? তৃতীয় মাসে পা দিল ২০২১, কেউ কি বুঝতে পারছেন ২০২০-এর চেয়ে আজকের দিনটি ভিন্ন?

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম

নাজনীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ

নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম

গতকাল সময় পাইনি তাই আজকে লিখলাম। সপ্তাহ পেরুলেই যখন নারী দিবস, যখন নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে, নারীর অগ্রগতির চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে চুলচেরা আলোচনা করব আমরা, ঠিক তখনই জাতীয় কোনো বড় দৈনিকে যখন পুরো একটি ক্রোড়পত্রের শিরোনাম হয় "কালো তবু সুন্দর", তখন প্রশ্ন জাগে, কোন ঢাল তলোয়ার নিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা লড়াই করছি আমরা?


কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন তুরস্কের, ভারতের ক্ষোভ

আবারও ইকো ট্রেন চলবে ইরান-তুরস্ক-পাকিস্তানে

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিজিবির অভিযান, বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার

দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে কি না?


হয়তো ওই রিপোর্ট এর উদ্দেশ্য ছিল নারীর চলার পথের সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে পর্যালোচনা। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যে শিরোনাম ব্যবহৃত হলো তার মধ্যেই প্রোত্থিত আছে নারীর অবমাননা। নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম । তাই এক্ষেত্রে যারা অগ্রবর্তী এবং শক্তিশালী তাদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীলতা আশা করি।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা কবিতার মতো রোমান্টিক!

জসিম মল্লিক

এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা কবিতার মতো রোমান্টিক!

আমার যখন ২৮ বছর বয়স তখন আমার একটা বড় ধরণের সার্জারি হয়েছিল। সেটা ১৯৯১ সাল। সার্জারি করতে হলে যে এনেসথেসিয়া দিতে হয় বিষয়টা আমার ভাল জানা ছিল না। এনেসথেসিয়া মানে যে চেতনাহীন করা তাও জানা ছিল না। এমনকি চেতনা যে ফিরে নাও আসতে সে তথ্যও আমার জানা ছিল না। এসব বিষয় আমি অনেক পরে জেনেছি। সেটা ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। 

আমার ডাক্তার একদিন বললেন, জসিম তোমার লাম্বার ওয়ান এবং টুর মধ্যে সমস্যা আছে। ফ্লুইড জমেছে। তাই তোমার পেইন হচ্ছে। অপারেশন লাগবে। তুমি কি অপারেশন করতে চাও? 

আমি প্রফেসর রশীদ উদ্দীনকে বললাম, স্যার একশবার করতে চাই। হাজার বার করতে চাই। তিনি পাগলা কিসিমের হলেও দেশের শ্রেষ্ঠ নিউরোলোজিষ্ট তখন। যথেষ্ট গুরুগম্ভীর মানুষ হলেও তিনি হেসে বললেন,  একবার করলেই তুমি ভাল হবা। যাও হাসপাতালে ভর্তি হও।

আমি তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি হলাম। আমার কেবিনে অন্য একজন বয়ষ্ক রোগি ছিলেন। তার আ্ত্মীয় স্বজন আসে তাকে দেখতে। আমি তাদের সুযোগ দিতে তেমন একটা কেবিনে থাকি না। হাজিরা দিয়েই অফিসে চলে যাই। কবে অপারেশনের ডেট পাব জানি না। কারন ডাক্তার সাব গেছেন ইরান টেনিস দলের সাথে। 

তিনি তখন টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি। ফিরতে একমাস। চেষ্টা তদবির করে যেমন হাসপাতালে কেবিন পেয়েছিলাম তেমনি একদিন একই পদ্ধতিতে অপারেশনের ডেট পেলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীও তদবির করেছিলেন। তিনি তখন পিজি হাসাপাতালে প্রিজন সেলে ছিলেন। আমি একদিন দেখা করে এসেছি। তিনি জেনেছেন যে আমি অপারেশনের ডেটের জন্য অপেক্ষা করছি। আমি বিচিত্রার মানুষ জেনেই তিনি আমাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

৩০ জুন সকাল দশটা। আজকে অপারেশন। সবাই হাসপাতালে উপস্থিত। সবাই বলতে আমার স্ত্রী আর শাশুড়ি। অপরেশন থিয়েটার সম্ভবতঃ আট তলায়। এখন আর মনে নেই। বহুবছর আগের কথা। আমি ছিলাম তিল তলায় কেবিনে। আমি হাসিমুখে অপারেশন থিয়েটারেৱ দিকে হেঁটে যাচ্ছি। মনের মধ্যে গভীর আনন্দ। 


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


আহা কি দারুণ ব্যপার। অপারেশনের পরই আমি ভাল হয়ে যাব। আমার আর ব্যাকপেইন থাকবে না। এই আনন্দে আমি পারিপার্শ্ব ভুলে গেলাম। একবার যদি পিছনে তাকাতাম তাহলে হয়ত দেখতাম ওড়নার আঁচলে মুখ চাপা দিয়ে আছে আমার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী। আমার চলে যাওয়া দেখছে। হয়ত ভাবছে আর কি ফিরবে! 

আমি একদল ডাক্তার আর নার্সদের সামনে দিব্যি বেডে শুয়ে পরলাম। তারপর আমার নাকে মুখে এনেথেসিয়ার পাইপ লাগানো হলো। মাত্র তিন কি চার সেকেন্ডের ব্যাপার। কিন্তু ওই সময়টুকুই ছিল আমার কাছে দারুণ সুখকর। গভীর এক ঘুমের রাজ্যে আমি তলিয়ে যাচ্ছি, যাচ্ছি, যাচ্ছি। এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা যে এতো রোমান্টিক কে জানত! কবিতার মতো।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিল যখন এনেসথেসিয়া থেকে ফিরে আসতে শুরু করলাম তখন। রোমান্টিকতা আর থাকল না। চেতনা ফিরে আসতেই গলা কাটা গরুর মতো তীব্র এক যন্ত্রণায় ঝটফট করতে লাগলাম। এমনকি জেসমিনকেও চিনতে পারছিলাম না। আজকাল ব্যাপারটা অনেক আরমাদায়ক হয়ে গেছে। কানাডায় একবার আমি ফুল, দুইবার হাফ(লোকাল) এনেসথেসিয়া করেছি। তেমন কিছুই টের পাইনি।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর