রোমানিয়ার কবি মিহাই এমিনেস্কুর ভাস্কর্য: সৃজনশীলতার অনন্য চূড়া

হারুন আল নাসিফ

রোমানিয়ার কবি মিহাই এমিনেস্কুর ভাস্কর্য: সৃজনশীলতার অনন্য চূড়া

ইউরোপের বিভিন্ন শহরজুড়ে রয়েছে নানা ধরনের অগুনতি নজর-কাড়া ভাস্কর্য। এক-একটি এক-এক কারণে আলোচনার দাবি রাখে। আধুনিক যুগে শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমের মতো ভাস্কর্য শিল্পেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। শিল্পীরা তাদের মেধা, মনন, ও সৃজনশীলতার প্রয়োগ ঘটাতে প্রচলিত ধারার বাইরে এসে উদ্ভাবন করেছেন নতুন নতুন প্রকরণ। সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য ব্যতিক্রমী, চোখ-ধাঁধানো, বিস্ময়-জাগানো নান্দনিক ভাস্কর্য।


বন্ড গার্লের মৃত্যু

ধর্ষককে বিয়ে না করে ইতিহাস গড়েছিলেন যে নারী

হার্ট অ্যাটাক থেকে মুক্তি ‘গোল্ডেন আওয়ার’রে


 

রোমানিয়ার ওনেস্টিতে রয়েছে তেমন এক ব্যতিক্রমী পাবলিক ভাস্কর্য। সেদেশের প্রখ্যাত রোমান্টিক কবি মিহাই এমিনেস্কুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। বিশ শতকের ৩০ দশকের গোড়ার দিকে রোমানিয়ার মেধাবী ভাস্কর অস্কার হান(১৮৯১-১৯৭৬) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এটি নির্মাণ করেন। ভাস্কর্যটি এখনো সেদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সারা বিশ্ব থেকে আগত শিল্পানুরাগী ও সৌন্দর্য-পিপাসু অগুনিত পর্যটকদের বিস্ময়াবিষ্ট করে তোলে।

মহান লেখক মিহাই এমিনেস্কু রোমানিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন, একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক। ১৮৫০ সালে জন্ম নেয়া এ কবি মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ১৮৮৯ সালে মারা যান। এই অল্প সময়ে রচিত তার লেখা পাণ্ডলিপি প্রকাশিত হয়েছে ৪৬ খণ্ডে। যাতে রয়েছে ১৪ হাজার পৃষ্ঠা। কবিতায় তিনি অধিবিদ্যা, পুরান ও ইতিহাস-আশ্রিত বিষয় ব্যবহার করে খ্যাতি লাভ করেন।


মিহাই এমিনেস্কু ১৮৮২ সালে ৩২ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো সমুদ্র ভ্রমণে আসেন। ক্লিনিক্যাল সুপারিশে ১০ দিনের জন্য সমুদ্র স্নানের লক্ষ্যে কনস্টান্টায় আসতে হয় তাকে। এসেই সমুদ্রের অপার জলরাশি এবং এর অনিন্দ্য সৌন্দর্যের নিদারুণ প্রেমে মজে যান তিনি। রচনা করেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘দ্য স্টার’ বা তারা। এ কবিতার একটি চরণে তিনি বলেছেন:
‘একটা ইচ্ছা আছে আমার:
রাত্রির নিস্তব্ধতায়
যেনো আমি মরি
সমুদ্রের কিনারায়।...’

কবির এ ইচ্ছা পূরণ করতে কনস্টান্টার কাইনো-সমুদ্রতীরের কাছে ওনেস্টিতে স্থাপন করা হয়েছে এ অনবদ্য ভাস্কর্য। এটি একজন কবির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধার্ঘ্য বলেই মনে হয়। সমুদ্রতীরগামী একটি পশ্চিমমুখী সড়কের ইন্টারসেকশনে অবস্থিত সড়কদ্বীপে আকাশের পটভূমিতে স্থাপিত ভাস্কর্যটি বিশেষ করে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় খুবই মনোরম রূপ ধারণ করে। এছাড়া আবহাওয়া ও প্রকৃতির রঙ বদলের সঙ্গে এটিও নানা রূপে-রঙে বদলে যায়। গোধূলির আকাশে অস্তরাগের আবিরে এটি রঙিন, নির্মল নীলিমার পটূমিতে নীল বা আকাশি, শীতে তুষারপাতের সময় সফেদ আর সড়ক-পাশের গাছ-গাছালির প্রেক্ষাপটে সবুজ। আবার কখনো বা রাতের অন্ধকারে নিজেকে ঢেকে দেয় অভিমানের মলিন  কালো চাদরে!


ভাস্কর্যটি প্রচলিত ত্রিমাত্রিক কাঠামো বা দেহাবয়ব নয়। দুটি স্টীলের গাছের শূন্যে ডানা মেলা পত্র-পল্লববিহীন ডাল-পালার বিলোল বিন্যাসে ভাস্কর তার ঐকান্তিক শৈল্পিক দক্ষতায় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এমিনেস্কুর মুখের নিখুঁত আদল। গাছ দুটির ডালগুলো যেনো আকাশের ক্যানভাসে শিল্পীর সুকুমার তুলির সুনিপূণ আঁচড়। আর এর মাঝে ফুটে উঠেছে সুদূরে দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থাকা কবির সৌম্য মুখাবয়ব। আধুনিক ভাস্কর্য শিল্পে এ শিল্পকর্মটি নিঃসন্দেহে সৃজনশীলতার এক অনন্য চূড়ায় আরোহণের বিরল গৌরব দাবি করতে পারে। নির্মাণের প্রায় ৯০ বছর পরও এটি প্রথাভাঙা সৃজনশীল ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

মিহাই এমিনেস্কুর এই স্মৃতি-ভাস্কর্য নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কনস্টান্টার এককালের উজ্জ্বল আইনজীবী, লেখক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও কনস্টান্টার তৎকালীন মেয়র আই এন রোমানের নাম। কবির সঙ্গে ছিলো তার ব্যক্তিগত পরিচয়। তিনিই কবির সম্মানে ভাস্কর্যটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং তহবিল সংগ্রহ করেন। দুর্ভাগ্যক্রমে, এ ভাস্কর্য নির্মাণ শেষ হওয়ার আগে ১৯৩১ সালে এই শিল্প ও কাব্যানুরাগী মারা যান।


ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ ১৯৩২ সালে শেষ হলেও এটি স্থাপন করা হয় দু’বছর পর ১৯৩৪ সালের ১৫ আগস্ট রোমানিয়ার নেভি দিবসে। রোমানিয়ার রাজা দ্বিতীয় ক্যারোল এটি উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় করে রাখতে রাজা এমিনেস্কুর ‘দ্য স্টার’ কবিতার প্রথম স্তবকটি আবৃত্তি করেন। উপস্থিত গানের দল ‘আমার একটি ইচ্ছা আছে’ বৃন্দগীত পরিবেশন করে।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রঙ, সৌন্দর্য ও অবচেতন

হারুন আল নাসিফ

রঙ, সৌন্দর্য ও অবচেতন

ফর্সা বা সাদা আর সুন্দর কখনোই এক নয়। সৌন্দর্য মূলত বর্ণনিরপেক্ষ। রঙের মধ্যে সৌন্দর্য খোঁজার কারণ কুসংস্কার ও অশিক্ষা। বিশেষ কোনো রঙকে সুন্দর ভাবা এক ধরণের বর্ণবাদিতা তো বটেই। সাধারণ শিক্ষা এই বর্ণবাদিতা অপনোদন করতে পারে না। কখনো বরং আরো পোক্ত করে।

আধুনিক শিক্ষিত মানুষের চেতনা বা মনের গহীনে তাই এই বর্ণবাদিতা বিদ্যমান থাকে বা খাকতে পারে। কারো জ্ঞাতে, কারো বা অজ্ঞাতে। সাধারণভাবে এটা ধরা পড়ে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে তা ঠিকই বেরিয়ে আসে। মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েডের ভাষায় এটা হলো সাব-কনশাস। অনেকে বাংলায় এটাকে অবচেতন বলেন। এটি যে সবসময় ব্যষ্টিক হয়, তা নয়, এটি সামষ্টিকও হতে পারে।

‘কালো, তবু সুন্দর’-এই ধরনের বাক্যে মনের গভীরে ওঁত পেতে থাকা ‘কালো সাধারণত সুন্দর হয় না‘ এই কুসংস্কার ‘মুখ বা কলম ফস্কে’ বেরিয়ে আসে। এই বেরিয়ে আসাটা স্বাভাবিক। ভেতরে আছে বলেই বাইরে বের হয়। প্রমাণিত হয়, বর্ণ-কুসংস্কার আছে। যদিও অধিকাংশ লোক থাকা উচিত নয় বলে মনে করে। উচিত-অনুচিত এক, বাস্তবতা আরেক। কিন্তু এই বেরিয়ে আসাটা ভালো। ফলে আমরা অনুচিতের বিপক্ষে কথা বলার সুযোগ পাই।

এই প্রসঙ্গ বা আলাপ থেকে আরো একটা জিনিস প্রমাণিত হয়, তা হলো মনে যা-ই থাক, সমাজ প্রকাশ্যে কালোকে অসুন্দর বলা সমর্থন করে না। কালোর বিপক্ষে বলাটা সমাজের বিপক্ষে যাওয়ার সামিল। তাই যারা কালোকে সুন্দর মনে করে না, তারা তা প্রকাশ্যে বলার সাহস করে না বা বলে বিরোধিতার মুখে পড়ার কিংবা বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। ফলে তাদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেদের মত বা বিশ্বাসকে চেপে রাখতে হয়। 

ফ্রয়েডের ভাষায় এটা অবদমন। এই অবদমিত ‘বিষয়’ অবচেতনে লুকিয়ে থেকে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ খোঁজে। অসাবধানতা বশত বা অবদমনের দুয়ার আলগা পেলে তা স্ববভাবতই বেরিয়ে আসে। আসবেই।


কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সৌদি আরবের উট-সংস্কৃতি ও উটের ভাস্কর্যের বিশ্ব রেকর্ড

কিউবিস্ট ভাস্কর্য: অদৃশ্য কলাকার


কুসংস্কার মন থেকে দূর না হলে তা ‘মুখ বা কলম ফস্কে’ বেরিয়ে এসে নিজেকে বা সমাজকে বিব্রত করতেই পারে। বিশেষ রঙকে অসুন্দর বা সুন্দর মনে করার সংস্কার মানুষের বা সমাজের মনের গভীরে প্রোথিত। পশ্চিমা ধর্মবিশ্বাস ও ইতিহাস এক্ষেত্রে অনেকটা উসকানি হিসেবে কাজ করে থাকে। এই কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব না হলেও একেবারে সহজ নয়, অদূর ভবিষ্যতে তো নয়ই।

ফলে আমাদের দেশে বিশেষ করে কালো-বিদ্বেষের কুৎসিত চেহারা মাঝে-মধ্যে এভাবে বেরিয়ে এসে যে আমাদের বিব্রত করবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এই বিব্রত হওয়াটা কিন্তু ইতিবাচক। বিব্রত না হতে চাওয়াটা যতো আন্তরিক ও সুদৃঢ় হবে, বর্ণ-কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও ততো বাড়বে।

হারুন আল নাসিফ: কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মাসুদা ভাট্রি

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

এ বছরও পৃথিবী স্বাভাবিক হবে না, নতুন রূপে মহামারী ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে— এই ভয়ের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে। কোনো দেশই খুলছে না নিজেদের, ভেতরে ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে নিজেদের মতো করে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, এখানেও যতটা সম্ভব জীবন-জীবিকা বাঁচানোর তাগিদ ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবনে লক্ষ্যমান।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখনও কেবল তরতাজা যুক্তরাষ্ট্রের নয়া সরকারের কায়কারবার আর মধ্যপ্রাচ্য। ইওরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার কোনো খবর নেই। আর দক্ষিণ এশিয়ায়ও ভারতই কেবল শিরোনামে।


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


বাংলাদেশকে নিয়ে চেষ্টা হচ্ছে প্রবল কিন্তু করোনা-রাজনীতি বা করোনা-পরিণাম কোনোটিই বাংলাদেশকে ঠিক ‌‘বাটে’ ফেলতে পারছে না। এর কারণ নিশ্চয়ই একেকজনের কাছে একেক রকম, আমি ভাবছি এই যে বিচ্ছিন্ন পৃথিবী আবার পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মানুষে মানুষে যদি যোগাযোগই না থাকে তবে কীসের বেঁচে থাকা কীসের কী বিশ্বায়ন? তৃতীয় মাসে পা দিল ২০২১, কেউ কি বুঝতে পারছেন ২০২০-এর চেয়ে আজকের দিনটি ভিন্ন?

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম

নাজনীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ

নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম

গতকাল সময় পাইনি তাই আজকে লিখলাম। সপ্তাহ পেরুলেই যখন নারী দিবস, যখন নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে, নারীর অগ্রগতির চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে চুলচেরা আলোচনা করব আমরা, ঠিক তখনই জাতীয় কোনো বড় দৈনিকে যখন পুরো একটি ক্রোড়পত্রের শিরোনাম হয় "কালো তবু সুন্দর", তখন প্রশ্ন জাগে, কোন ঢাল তলোয়ার নিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা লড়াই করছি আমরা?


কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন তুরস্কের, ভারতের ক্ষোভ

আবারও ইকো ট্রেন চলবে ইরান-তুরস্ক-পাকিস্তানে

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিজিবির অভিযান, বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার

দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে কি না?


হয়তো ওই রিপোর্ট এর উদ্দেশ্য ছিল নারীর চলার পথের সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে পর্যালোচনা। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যে শিরোনাম ব্যবহৃত হলো তার মধ্যেই প্রোত্থিত আছে নারীর অবমাননা। নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম । তাই এক্ষেত্রে যারা অগ্রবর্তী এবং শক্তিশালী তাদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীলতা আশা করি।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা কবিতার মতো রোমান্টিক!

জসিম মল্লিক

এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা কবিতার মতো রোমান্টিক!

আমার যখন ২৮ বছর বয়স তখন আমার একটা বড় ধরণের সার্জারি হয়েছিল। সেটা ১৯৯১ সাল। সার্জারি করতে হলে যে এনেসথেসিয়া দিতে হয় বিষয়টা আমার ভাল জানা ছিল না। এনেসথেসিয়া মানে যে চেতনাহীন করা তাও জানা ছিল না। এমনকি চেতনা যে ফিরে নাও আসতে সে তথ্যও আমার জানা ছিল না। এসব বিষয় আমি অনেক পরে জেনেছি। সেটা ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। 

আমার ডাক্তার একদিন বললেন, জসিম তোমার লাম্বার ওয়ান এবং টুর মধ্যে সমস্যা আছে। ফ্লুইড জমেছে। তাই তোমার পেইন হচ্ছে। অপারেশন লাগবে। তুমি কি অপারেশন করতে চাও? 

আমি প্রফেসর রশীদ উদ্দীনকে বললাম, স্যার একশবার করতে চাই। হাজার বার করতে চাই। তিনি পাগলা কিসিমের হলেও দেশের শ্রেষ্ঠ নিউরোলোজিষ্ট তখন। যথেষ্ট গুরুগম্ভীর মানুষ হলেও তিনি হেসে বললেন,  একবার করলেই তুমি ভাল হবা। যাও হাসপাতালে ভর্তি হও।

আমি তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি হলাম। আমার কেবিনে অন্য একজন বয়ষ্ক রোগি ছিলেন। তার আ্ত্মীয় স্বজন আসে তাকে দেখতে। আমি তাদের সুযোগ দিতে তেমন একটা কেবিনে থাকি না। হাজিরা দিয়েই অফিসে চলে যাই। কবে অপারেশনের ডেট পাব জানি না। কারন ডাক্তার সাব গেছেন ইরান টেনিস দলের সাথে। 

তিনি তখন টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি। ফিরতে একমাস। চেষ্টা তদবির করে যেমন হাসপাতালে কেবিন পেয়েছিলাম তেমনি একদিন একই পদ্ধতিতে অপারেশনের ডেট পেলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীও তদবির করেছিলেন। তিনি তখন পিজি হাসাপাতালে প্রিজন সেলে ছিলেন। আমি একদিন দেখা করে এসেছি। তিনি জেনেছেন যে আমি অপারেশনের ডেটের জন্য অপেক্ষা করছি। আমি বিচিত্রার মানুষ জেনেই তিনি আমাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

৩০ জুন সকাল দশটা। আজকে অপারেশন। সবাই হাসপাতালে উপস্থিত। সবাই বলতে আমার স্ত্রী আর শাশুড়ি। অপরেশন থিয়েটার সম্ভবতঃ আট তলায়। এখন আর মনে নেই। বহুবছর আগের কথা। আমি ছিলাম তিল তলায় কেবিনে। আমি হাসিমুখে অপারেশন থিয়েটারেৱ দিকে হেঁটে যাচ্ছি। মনের মধ্যে গভীর আনন্দ। 


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


আহা কি দারুণ ব্যপার। অপারেশনের পরই আমি ভাল হয়ে যাব। আমার আর ব্যাকপেইন থাকবে না। এই আনন্দে আমি পারিপার্শ্ব ভুলে গেলাম। একবার যদি পিছনে তাকাতাম তাহলে হয়ত দেখতাম ওড়নার আঁচলে মুখ চাপা দিয়ে আছে আমার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী। আমার চলে যাওয়া দেখছে। হয়ত ভাবছে আর কি ফিরবে! 

আমি একদল ডাক্তার আর নার্সদের সামনে দিব্যি বেডে শুয়ে পরলাম। তারপর আমার নাকে মুখে এনেথেসিয়ার পাইপ লাগানো হলো। মাত্র তিন কি চার সেকেন্ডের ব্যাপার। কিন্তু ওই সময়টুকুই ছিল আমার কাছে দারুণ সুখকর। গভীর এক ঘুমের রাজ্যে আমি তলিয়ে যাচ্ছি, যাচ্ছি, যাচ্ছি। এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা যে এতো রোমান্টিক কে জানত! কবিতার মতো।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিল যখন এনেসথেসিয়া থেকে ফিরে আসতে শুরু করলাম তখন। রোমান্টিকতা আর থাকল না। চেতনা ফিরে আসতেই গলা কাটা গরুর মতো তীব্র এক যন্ত্রণায় ঝটফট করতে লাগলাম। এমনকি জেসমিনকেও চিনতে পারছিলাম না। আজকাল ব্যাপারটা অনেক আরমাদায়ক হয়ে গেছে। কানাডায় একবার আমি ফুল, দুইবার হাফ(লোকাল) এনেসথেসিয়া করেছি। তেমন কিছুই টের পাইনি।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কানাডায় ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সেরাম ইন্সটিটিউট

শওগাত আলী সাগর

কানাডায় ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সেরাম ইন্সটিটিউট

ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট কোভিডের ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে স্থানীয় (হোষ্ট কান্ট্রি) কোনো ওষুধ কোম্পানির সাথে পার্টনারশিপ করে নেয়। কানাডায় অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য মিসিসাওগার ভ্যারিটি ফার্মাসিউটিক্যালসের সাথে পার্টনারশিপ করেছে সেরাম। এই সপ্তাহে সেরামের পক্ষে ভ্যারিটি ফার্মা ৫০০ হাজার ডোজ অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন কানাডা সরকারের হাতে তুলে দেবে।

কানাডা ২৪ মিলিয়ন ডোজ অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করবে। তার মধ্যে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট থেকে নিচ্ছে মাত্র ২ মিলিয়ন ডোজ। বাকিগুলো আসবে যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাব থেকে। সেগুলো সরবরাহ করবে অ্যাস্ট্রেজেনকা কানাডা। 

কানাডায় ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য বেসরকারিখাতের কোম্পানি ভ্যারিটি ফার্মার সাথে চুক্তি করে সেরাম। সেরামের হয়ে ভ্যারিটি ফার্মা কানাডায় সেরামের তৈরি ভ্যাকসিনের অনুমোদনের জন্য হেলথ কানাডার কাছে আবেদন করে। এর আগে একই ভ্যাকসিনের অনুমোদনের জন্য অ্যাস্ট্রেজেনকা আবেদন করেছিলো।


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


হেলথ কানাডা মূলত অ্যাস্ট্রেজেনকার আবেদনটি পর্যালোচনা করে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়। একই রকম বিবেচনায় ভ্যারিটি/সেরামের আবেদনটিকেও অনুমোদন করে কানাডা।

ভারতের পুণে থেকে ভ্যাকসিন আমদানি করা, কানাডায় স্টোরেজ, সরকারকে পৌঁছে দেয়াসহ সেরামের হয়ে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করার দায়িত্ব ভ্যারিটি ফার্মার। বাংলাদেশের যে কাজটি করছে বেক্সিমকো ফার্মা।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর