যে দোয়ার ফলে ভাগ্যও ঘুরে যায়!

মোহাম্মদ নিজামুল ইসলাম নিজাম

যে দোয়ার ফলে ভাগ্যও ঘুরে যায়!

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো। আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব’ (সূরা মুমিন, আয়াত ৬০।) আরবি দোয়া শব্দের অর্থ ডাকা, আহ্বান করা, প্রার্থনা করা, কোনো কিছু চাওয়া ইত্যাদি। দোয়ার মাধ্যমে বান্দা নিজেকে আল্লাহর কাছে খুব সহজেই সমর্পণ করতে পারে। দোয়া মুমিনদের হাতিয়ার। দোয়ার মাধ্যমে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। এমনকি দোয়ার ফলে ভাগ্যও ঘুরে যায়। 

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে না।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর ২১৩৯।) দোয়া সব ইবাদতের মূল। দোয়ার তাৎপর্য সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম ইবাদত হল দোয়া।’( মুসতাদরাক আল হাকেম, হাদিস নম্বর ১৭৬০।) অন্য হাদিসে এ সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে বেশি মর্যাদাময় আর কোনো আমল নেই।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর ৩৩৭০।)

মানুষের কাছে কিছু চাইলে মানুষ বিরক্ত হয়। আর আল্লাহর কাছে না চাইলে আল্লাহ রাগ হন। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না, আল্লাহ তার ওপর রাগ হন।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর ৩২৯৫।) যে দোয়া করতে অলসতা করে তার সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সবচেয়ে হতভাগ্য মানুষ হল সে- যে দোয়া করতে অলসতা করে। (তাবারানি, হাদিস নম্বর ৬০।) আল্লাহতায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করার জন্য সবসময় প্রস্তুত। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসূল! যখন আমার বান্দা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দিন- আমি বান্দার খুব কাছেই আছি। সে যখনই আমার কাছে দোয়া করে, আমি তার দোয়া কবুল করি’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৬।) রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রভু খুবই লজ্জাশীল। বান্দা যখন দোয়ার জন্য হাত উঠায়, সে হাত খালি ফিরিয়ে দিতে আল্লাহ লজ্জা পান।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৩৩৭০।)

দোয়া কবুলের অনেক শর্ত আছে। এখানে বিশেষ কিছু শর্ত তুলে ধরা হল। আল্লাহর উদ্দেশে একমাত্র তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য খালেস দিলে দোয়া করা। সুন্নাত তরিকা মেনে দোয়া করা। দোয়ায় অসৎ উদ্দেশ্য না থাকা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার আবেদন না করা। দোয়াকারীর খাবার ও পোশাক হালাল উপার্জনের হওয়া।

দোয়ার সুন্নাত তরিকা হল- আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরূদ পড়ে দোয়া করা। বিনয় কাকুতি-মিনতি করে দোয়া করা এবং দোয়া কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নিজের প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি-মিনতি করে এবং সঙ্গোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না’ (সূরা আরাফ, আয়াত ৫৫।) আশা ও ভয়ভীতি নিয়ে দোয়া করা। 

এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তাঁকে ডাকো ভয় ও আশা নিয়ে’ (সূরা আরাফ, আয়াত ৫৬।) সম্ভব হলে অজু করে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করা। নিজের গোনাহের কথা স্বীকার করে আল্লাহর নেয়ামতের স্বীকৃতি দেয়া। দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তগুলো হল, আজান ও ইকামাতের মাঝের সময়, ফরজ সালাতের পর এবং শেষ রাতে, জুমার দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এবং পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের সময় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয় বলে হাদিস শরিফে বলা হয়েছে। আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছেন যাদের দোয়া নিশ্চিত কবুল হয় বলে নবীজি (সা.) বলেছেন। 

তারা হলে, বাবা-মা, নেক সন্তান, মুসাফির, মজলুম ব্যক্তি, ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোগী এবং হাজী। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ চায় যে বিপদের সময় তার দোয়া কবুল হোক, তাহলে সে যেন সুখের দিনগুলোতে বেশি বেশি দোয়া করে’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর ৩৩৮২।) করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে চোখ ভেজা মোনাজাতে নিজেকে সমর্পণ করুন। ইনশাল্লাহ! দোয়ার ফলে আল্লাহ পৃথিবীর ভাগ্যে সুদিন ফিরিয়ে দেবেন। হে আল্লাহ! পৃথিবীবাসীকে ধ্বংসাত্মক করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি দিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

সুরার নাম ‘ইখলাস’। ‘সূরা ইখলাস’ পবিত্র কোরআন শরীফের ১১২ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। আল ইখলাস সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ইখলাস অর্থ হলো- একনিষ্ঠতা, নিরেট খাঁটি বিশ্বাস, ভক্তিপূর্ণ উপাসনা। দুনিয়ার সব বিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলে।

এই সূরাটিকে ইসলামের শেষ পয়গম্বর মুহাম্মদ (সা:) বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।  তাৎপর্যের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই আয়াতে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব ও সত্তার সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি কুরআনের অন্যতম ছোট একটি সূরা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে। এই সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। 

হজরত আবু হোরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আল্লাহর রাসূল (স.) বললেন, তোমরা সবাই একত্রিত হয়ে যাও। আমি তোমাদেরকে কোরআনের তিনভাগের একভাগ শুনাব। অতঃপর যাদের পক্ষে সম্ভব ছিল তারা একত্রিত হয়ে গেলে তিনি আগমন করলেন এবং সূরা ইখলাস পাট করে শুনালেন। তিনি আরও বললেন, এ সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান (মুসলিম ও তিরমিজী)।

যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণ পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার লাশ বহন করার জন্য হয়রত জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরন করবেন। সেই ফেরেশতারা তাঁর লাশ বহন করবে এবং জানাজায় শরিক হবে।

রাসুল (সাঃ) এর সময় একবার এক এলাকার একজন ইমাম সাহেবের নামে বিচার এল। বিচারের দাবী ছিল যে সেই সাহাবী প্রতি ওয়াক্ত নামাজে শুধু সুরা ইখলাস পড়ত। এই প্রসঙ্গে সেই সাহাবীকে তিনি জিজ্ঞেস করলে সাহাবা উত্তরে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সুরা ইখলাসে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব এমনভাবে বর্ণিত আছে যে এই সূরা আমার অনেক ভাল লাগে। তাই আমি সব নামাজে এই সূরা পড়ি। 

এই কথা শুনে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) কিছু বলার আগেই আল্লাহ বলে পাঠালেন যে শুধু তার সূরা ইখলাসের প্রতি এই ভালবাসাই তার জন্য জান্নাত নিশ্চত করে দিয়েছে।

আসুন জেনে নিই সূরা আল ইখলাসের অনুবাদ ও অর্থ-

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ : কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি )
অর্থ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা ইখলাস)


ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

রোনালদোর গোলেও হোঁচট খেল জুভেন্টাস


সুরা ইখলাসের ফজিলত

সুরা ইখলাস-এর ভাব ও মর্মার্থ বুঝে পড়লে তাতে বান্দার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলী গেঁথে যাবে। মনে প্রাণে ওই ব্যক্তি হয়ে উঠবে শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হবে। আর তার বিনিময়ে সে লাভ করবে দুনিয়া ও পরকালের অনেক উপকারিতা ও ফজিলত।

একবার এক সাহাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।’ (বুখারি, তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে, তার ৫০ বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে ঋণগ্রস্ত হলে তা ক্ষমা হবে না।’ (তিরমিজি)

হজরত সাহল ইবন সাদ সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দারিদ্র্যতার অভিযোগ করল তিনি বললেন, ‘যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং একবার সুরা ইখলাস পড়বে। এ আমল করার ফলে কিছু দিনের মধ্যে তার দারিদ্র্যতা দূর হয়ে যায়।’ (তাফসিরে কুরতুবি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়।’ (ইবনে কাসির)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে সুরা ইখলাস তেলাওয়াত করতে শুনলেন। তিনি বললেন, ‘এটা তার অধিকার।’ সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, তার অধিকার কী? তিনি উত্তরে বললেন- ‘তার অধিকার হচ্ছে জান্নাত।’ (মুসনাদে আহমাদ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা ইখলাসের ভাব ও মর্মার্থ নিজেদের মধ্যে ধীর বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর একত্ত্ববাদ ও ক্ষমতায় পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত মর্যাদা ও ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অশ্লীলতা ও পর্ণ আসক্তি থেকে পরিত্রাণের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

অশ্লীলতা ও পর্ণ আসক্তি থেকে  পরিত্রাণের দোয়া

বর্তমান সময়ের বলি বা অতীতের প্রযুক্তির সকল আবিষ্কারগুলো আল্লাহর একান্ত রহমত ও তার শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন।প্রযুক্তির ব্যবহারের সাথে সাথে  আমরা কোনো না কোনো খারাপ অভ্যাসের সাথে জড়িয়ে যাই। কিন্তু এক সময় গিয়ে তা আসক্তিতে পরিণত হয়। তখন আর চেষ্টা করলেও সেই খারাপ আসক্তি থেকে সহজে বেরিয়ে আসা যায় না। কিন্তু খারাপ আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাহাবিদেরকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়ে গেছেন।

হাদিসে বিষয়টি এভাবে ওঠে এসেছে-

হজরত আবু আহমাদ শাকাল ইবনু হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল্লাম- আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, তুমি বল-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি সাময়ি, ওয়া মিন বাচারি ওয়া মিন শাররি লিসানি ওয়া মিন শাররি ক্বালবি ওয়া মিন শাররি মানিয়্যি।’


ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

রোনালদোর গোলেও হোঁচট খেল জুভেন্টাস


অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কানে মন্দ কথা শোনা থেকে আশ্রয় চাই। চোখ দিয়ে মন্দ কিছু দেখা থেকে আশ্রয় চাই। জিহ্বা দিয়ে মন্দ কিছু বলা থেকে আশ্রয় চাই। অন্তরের খারাপ চিন্তা থেকে আশ্রয় চাই। দেহের কামনা-বাসনার খারাপ চিন্তা থেকেও আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ)

মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসে শেখানো এ দোয়াটির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা ও পর্ণ আসক্তি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। আল্লাহর সাহায্য পেতে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে এ দোয়ার আমল বেশি বেশি করা। আর তাতেই দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা ও পর্ণ আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার সব পর্ণ আসক্তি থেকে মুক্তি থাকতে হাদিসে শেখানো দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

জীবনে চলার পথে আমরা অনেকেই বিভিন্ন সময় ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ি। এ ঋণ বা লোনের টাকা প্রকৃত পক্ষে কারো জীবনেই সুখের কোনো বার্তা বয়ে নিয়ে আসে না। আর তাই জীবনে সব সময়ই আমাদের উচিত ঋণ থেমে মুক্ত থাকা।   ঋণ থেকে মুক্তিলাভের জন্য হাদিস শরিফে দু’টি বিশেষ ও কার্যকরি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়া দু’টি শিখে নিই-

দোয়া-

আরবি:
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكِ عَمَّنْ سِوَاكَ

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা ওয়া আগনিনী বিফাদ্বলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক।

বাংলা অর্থ:‘হে আল্লাহ! হারামের পরিবর্তে তোমার হালাল রুজি আমার জন্য যথেষ্ট করো। আর তোমাকে ছাড়া আমাকে কারো মুখাপেক্ষী করো না এবং স্বীয় অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে স্বচ্ছলতা দান কর।’

একবার হযরত আলি রা. এর কাছে এক ব্যক্তি তার ঋণ পরিশোধের জন্য কিছু সাহায্য চায়। এ সময় আলি রা. তাকে বলেন, আমি কি তোমাকে কয়েকটি শব্দ শিক্ষা দেবো, যা আমাকে রাসূলুল্লাহ সা. শিক্ষা দিয়েছেন? যদি তুমি এটা পাঠ করো, তাহলে আল্লাহই তোমার ঋণমুক্তির ব্যাপারে দায়িত্ব নেবেন, যদি তোমার ঋণ পর্বতসমানও হয়। এরপর আলি রা. ওই ব্যক্তিকে এই দোয়া পড়তে বলেছিলেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩, আহমদ, হাদিস: ১৩২১)।


অভাব দুর হবে, বাড়বে ধন-সম্পদ যে আমলে

সূরা কাহাফ তিলাওয়াতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার কৌশল


দোয়া-

আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-‘আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল।

বাংলা অর্থ:
বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। (বুখারি, ৭/১৫৮, ২৮৯৩)।

ঋণ মানুষের জন্য মারাত্মক বোঝা। এ ঋণগ্রস্ততা মানুষের দুশ্চিন্তা, অশান্তি ও অনৈতিকতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহ তাআলার কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়া। বেশি বেশি এ দোয়া করা যে, তিনি যেন ঋণ গ্রহণ ছাড়াই সব প্রয়োজন পূরণ করে দেন। যেভাবে আশ্রয় চাইতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে ঋণ থেকে মুক্ত থাকতে এ দোয়া করতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِالمَحْيَا وَفِتْنَةِ المَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ .
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জালি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহয়ি ওয়া ফিতনাতিল মামাতি; আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল মাছামি ওয়াল মাগরামি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। জীবনের ফেতনা ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গোনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।’

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঋণমুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

অনলাইন ডেস্ক

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

দুনিয়ায় সকল মানুষই আল্লাহ নিকট মুখাপেক্ষী। বান্দার সুস্থ্য জীবন-যাপন আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো বান্দা এক কদমও চলতে পারে না। সেই মহা মনিবের দরবারে প্রত্যেক বান্দারই রয়েছে একান্ত চাওয়া-পাওয়া। আল্লাহর দরবারে বান্দার দোয়া করার সময় ও সুযোগ সব সময়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর প্রতিটি মুসলিম আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। এছাড়া অন্যান্য নফল নামাজের পর বান্দা দোয়া করছে। তবে নির্ধারিত নফলের মধ্যে তাহাজ্জুদ সর্বোৎকৃষ্ট আমল বলে বহু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

এই নামাজকে ‘সালাতুল লাইল’ বা ‘কিয়ামুল লাইল’ নামাজও বলা হয়। তাহাজ্জুদ নামাজ নবীজি (সা.) নিয়মিত পড়তেন।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবী (সা.)-কে উদ্দেশ করে বলেন, এবং রাত্রির কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদে)।’ (বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭৯)।


অভাব দুর হবে, বাড়বে ধন-সম্পদ যে আমলে

সূরা কাহাফ তিলাওয়াতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার কৌশল


হজরত আলী (রা.) বলেন, যারাই আল্লাহর নৈকট্য লাভে ঊর্ধ্বারোহণ করেছেন, তারাই সাহার বা শেষ রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়েছেন। (দিওয়ানে আলী (রা), নাহজুল বালাগা)।

তাহাজ্জুদ নামাজের আগে ও পরে কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা খুবই ফজিলতের বিষয়।এ সময় সুরা মুজাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির, সুরা মুলক, সুরা ওয়াকিআহ, সুরা দুখান, সুরা আর রহমান, সুরা ইয়াসিন, সুরা হাশর ও সুরা কাহাফ এবং অন্যান্য সুরা তিলাওয়াত করা অত্যন্ত বরকতময় ও ফলদায়ক।

এটি দোয়া কবুলের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। প্রতি রাতে এ সময় আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দার ফরিয়াদ শোনেন।

মধ্যরাতের পরে বা রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলে তাহাজ্জুদ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়। সেই হিসেবে রাত দুইটার পর থেকে ফজরের নামাজের ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত। সাহরির সময় শেষ হলে তথা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শেষ হয়।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

সুরা ফাতিহা কোরআন মজিদের প্রথম ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সুরা। ‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ভূমিকা, প্রারম্ভিকা। সুরা ফাতিহাকে উম্মুল কোরআন বলা হয়। 

উম্মুল-এর আভিধানিক অর্থ ‘মা’ বা ‘জননী’। কোরআনের সারমর্ম বলা হয় এই সুরাকে। আল্লাহর কাছে সুরাটি এতটাই প্রিয় যে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য এই সুরা পড়া ফরজ করে দিয়েছেন। 
 
সূরার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

অনুবাদ : শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন।

অনুবাদ : যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : আররহমা-নির রাহি-ম।

অনুবাদ : যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

উচ্চারণ : মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।

অনুবাদ : বিচার দিনের একমাত্র অধিপতি।

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

উচ্চারণ : ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-ন

অনুবাদ : আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

উচ্চারণ : ইহদিনাস সিরাতা’ল মুসতাকি’-ম


কেউ অসুস্থ হয়ে মারা গেলে কি করার আছে?: প্রধানমন্ত্রী

মিছিল থেকে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা

জিয়ার অবদান অস্বীকার করার অর্থই হল স্বাধীনতাকে অস্বীকার: ফখরুল

সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে রাজনীতিতে সুযোগ দিয়েছিলেন জিয়া: কাদের


অনুবাদ : আমাদের সরল পথ দেখাও।

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

উচ্চারণ : সিরাতা’ল্লা যি-না আনআ’মতা আ’লাইহিম গা’ইরিল মাগ’দু’বি আ’লাইহিম ওয়ালা দ্দ-ল্লি-ন।

অনুবাদ : সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর