ঐশি, মুগ্ধ এবং দিহানেরা, আমাদের দায় না কর্মফল?

সাদিয়া নাসরিন: উন্নয়ন কর্মী

ঐশি, মুগ্ধ এবং দিহানেরা, আমাদের দায় না কর্মফল?

সেই একই শিরোনাম, ঐশী রহমান, ফারদিন হুদা মুগ্ধ বা আজকের ফারদিন ইফতেখার দিহান। ঐশি থেকে দিহান। সতেরো আঠারো বছরের জীবনগুলো সব। কারা ওরা ? আমাদের সন্তান? যে সন্তানের সাথে আমাদের বন্ধ দরজার কঠিন আড়াল? সে আড়ালের ওপাশে হয়তো কেউ বুঁদ হয়ে আছে নেশার নীলে, কেউ মেতে উঠেছে ধর্মান্ধ জঙ্গি রাজনীতির রক্তখেলায়, আবার কেউ অনলাইনের পাশবিক যৌন উল্লাসে জীবন বিকোচ্ছে। 

গাঁজার ধোঁয়া, ইয়াবার ফয়েল কিংবা ধর্মের আফিম কিংবা যৌনতার পাশবিক নেশায় নীল হয়ে যাওয়া কিশোর, কারা ওরা? আমাদের কর্মফল নয় তো ? 

আজ থেকে সাত বছর আগে শিরোনাম হয়েছিল সতের বছরের ঐশি। ইয়াবা আসক্ত ঐশি মা বাবা দুজনকে খুন করেছিলো। ঐশির বাবা ছোট্ট একটি চাকরি করতো। যা বেতন তা দিয়ে বাড়ি ভাড়াও হয় না। অর্থ না থাকার দুঃখ ছিল ঐশির মায়ের। বাবা ছুটেছেন অবৈধ অর্থের পেছনে। মা ব্যস্ত ছিলেন অর্থ বিত্ত বৈভব, কেনাকাটা, আত্মীয় পরিজন নিয়ে। মায়ের গর্ব তার মেয়ে ইংরেজিতে কথা বলে, আইফোন-আইপ্যাড ব্যবহার করে। তার মেয়ের বন্ধুরা অনেক ‘স্মার্ট’, তারা একসঙ্গে আড্ডা দেয়, খেতে যায়, হ্যাঙআউটে যায়! আগে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরত। তারপর সন্ধ্যার পর, তারপর গভীর রাত...। একদিন দেখা গেল রাতে বাড়িতে ফিরল না মেয়ে। হঠাৎ করে আবিষ্কার করলেন, মেয়ে অবাধ্য, কথা শোনে না। কি যেন খায়...। চিন্তায় পড়ে গেলেন বাবা-মা। মেয়ের সেই ‘স্মার্ট’ বন্ধুদের সন্দেহ হয়। কিন্তু ততদিনে হাত গলে বের হয়ে গেছে সন্তান।

চারবছর আগে শিরোনাম হয়েছিলো সতের বছরের মুগ্ধ। স্কুল জীবন থেকেই নানা ধরনের বাজে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে মুগ্ধ। বাবা ঠিকাদার ও সেনেটারি ব্যবসায়ি। ছেলেকে দেওয়ার মতো সময় কই তার? আর মা? একটা সতের বছরের ছেলে নেশা করছে, বখে যাচ্ছে টেরও পাননি। কিন্তু চাওয়ার আগেই ছেলের সামনে হাজির করেছেন আলাদিনের চেরাগ। চেরাগ ঘষলে পাঁচ লাখ টাকার বাইক মেলে, বন্ধু মেলে। কিন্তু “বাবা-মা” মেলে না, সোহাগ-শাসন মেলে না। চেরাগে নেশা মেলে, জীবন তো মেলে না। শেষ অবধি দামি মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার আবদার পূরণ না করায় বাবাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে মুগ্ধ। 

আজকের শিরোনাম দিহান। যার নামের আগে স্থায়ী হয়েছে “ধর্ষক” পরিচয়। নিজের বন্ধুকে গ্রুপ স্টাডির কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে ধর্ষণ করেছে এই সতেরোর কিশোরেরা। এই দিহান কিংবা দিহানদের বাবা মায়েরা নিশ্চিতই কোন ধর্ষক জন্ম দেননি।

কিন্তু দিহানরা ধর্ষক হয়েছে। দিহানদের ধর্ষক বানানো হয়েছে। একদিনে হয়নি। দিনে দিনে আমাদের চোখের উপরে, বন্ধ দরোজার ওপাশে “চটিয়াল” কিংবা “আঠার প্লাস আনসেন্সরড” নামে অনলাইন গ্রুপের বিকৃত উল্লাসের আখড়াতে ভিড়ে গিয়েছে দিহানেরা। আমাদের সন্তানেরা। আমরা যাদের হাতে একটা দামী ডিভাইস ধরিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তের ঘুম ঘুমিয়েছি। আমরা জানি না আমাদের সন্তানরা গ্রুপ স্টাডির নামে আমাদের চোখের সামনে দরজা বন্ধ করে মেতে ওঠেছে আট মিনিটের আনসেন্সরড ভিড়িওর বিকৃত সম্ভোগে।

নিরপরাধ সাধারণ মেয়ের ক্লিভেজ, বুক, পেট কিংবা ফেসবুকে পোস্ট করা ছবি চুরি করছে আর পাশবিক যৌনতার নীলে ভেসে যাচ্ছে। আমরা খবর রাখিনি বন্ধ দরজার ওপাশে ফয়েলের ধোঁয়ায় জীবন মুড়িয়ে নিয়েছে আমাদের সন্তানেরা। সেই বন্ধ দরোজা যখন খুলেছে তখন তারা কেউ ধর্ষক, কেউ নেশাখোর, কেউ খুনী। সেই খুনী সন্তানেরা আমাদের খুন করছে শরীর আর মনে। যে সন্তানের জন্য আমরা দশ দুয়ারী ভিখেরির মতো কুড়িয়ে কুড়িয়ে ভালোবাসা আর স্বচ্ছলতা জমিয়ে রেখেছিলাম, সেই স্বচ্ছলতার ছুরি আর আগুন আমাদেরই রক্তাক্ত করে, পোড়ায়।

নিজেদের জীবন পুড়িয়ে দাম শোধ করি আমরা মাতৃত্বের, পিতৃত্বের। হা জীবন !! হা নিয়তি !!! এই নিয়তি তো আমরাই লিখেছি দিনের পর দিন ধরে। আমাদের অসততায়, অবহেলায়, উদাসিনতায়, দায়িত্বহীন বেপরোয়া ব্যস্ততায় হাতের ফাঁক গলে আমাদের ঘুমঘোরে নষ্টের কাবুলিওয়ালা এসে চুরি করে নিয়ে যায় আমার সন্তান, আমাদের বুকের ওম না পেয়ে কোন সময় নেশার ওমে বুঁদ হয়েছে আমাদের সন্তান তা আমরা জানতেও পারি না!! সর্বস্ব হারিয়ে আমরা দাবি করতে থাকি পিতৃত্ব আর মাতৃত্বের।

আমাদের সন্তানরা শিরোনাম হয়। কিন্তু এই প্রশ্ন আমরা কখনো করি না, আমাদের হিসেবে কি তবে কোথাও ভুল ছিল? কোথাও কী বড় ফাঁক থেকে গিয়েছিল আমাদের মাতৃত্ব পিতৃত্বের? ভুল তো হয়েইছিল। আমরা সন্তান জন্ম দিয়েই ভেবেছিলাম “মা-বাবা” হয়ে গেছি। কিন্তু এই “মা-বাবা” হওয়াটাই ছিল মস্ত বড় শুভঙ্করের ফাঁকি। সন্তান গর্ভে ধারন করে যথাসময়ে জন্ম দিলে বা ঔরস দিলেই, সবাই 'মা-বাবা' বলে হয়তো। কিন্তু 'মাতৃত্ব'! পিতৃত্ব!! তার যে অনেক দায়! 


কেই এই দিহান?

যেভাবে মানুষের ‘রুহ’ কবজ করা হয়

সম্পর্ক মধুর হয় যে কারনে


প্রাণের সাথে প্রাণের প্রেম, প্রাণ থেকে প্রাণের শুরু...এ এক অপার্থীব জীবন আবেদন। এই জীবন আবেদনে সন্তানের প্রাণের সাথে যোগাযোগ করতে না করলে কিসের মা-বাবা হওয়া! মাতৃত্ব আর পিতৃত্ব তো সেই বোধ, যেখানে নারী-পুরুষ উভয়কেই বহন করতে হয় মায়া-মমতা, নিজের পাপ-পূন্যের জগত। যেখানে নিজের গর্ভে, নিজের রক্তমাংসে জীবন পাওয়া সন্তান "মা" বলে জড়িয়ে ধরে। 

যেখানে পিতা তার উত্তরাধিকারিকে দিতে প্রস্তুত তার সেরাটুকু, সবটুকু, সমস্ত কিছু। অথচ এই মাতৃত্ব পিতৃত্বের বোধটুকুই অনেক সময় আমরা ধারন করতে পারি না শেষ পর্যন্ত। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থেকে, নিজের ভালোবাসা আর শাসনের মধ্যে ব্যালেন্স করতে না পেরে, অন্যকে দেখাবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে নিজের হাতে তুলে দিই

সন্তানের হাতে আমাদের মৃত্যুবান আর যখন আমাদের সন্তান খবরের শিরোনাম হয়ে যায়, তখন ভাবতে বসি, কোথা থেকে কি হয়ে গেল ? আমরা পেছনে তাকিয়ে দেখি না, কতটা আমার ভুল আর কতটা দায়। আমার নাড়ি ছেঁড়া সন্তান কেন আমাকে পেছনে ফেলে ছুটে যায় জীবন হারানো ওই ভয়ঙ্কর মরিচিকার পেছনে? আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি না, সন্তানের ভাষা বুঝতে না পারলে, সন্তানের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারলে, সন্তানের জন্য কোন আদর্শ তৈরি করতে না পারলে আমার সন্তান “বখে” গেছে বলে বিলাপ করার কি মানে আজকে? 

আজকে হতভম্ব হয়ে কিছু শিরোনামের দিকে তাকিয়ে থাকার দায় কার? বাবা-মাকে খুন করার আগে ঐশি একবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। একটা চিঠিও লিখেছিল। সে নিজে এটাকে সুইসাইড নোট হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঐশীর সেই চিঠি প্রতিটি বাবা মায়ের অবশ্য পাঠ্য। ঐশির সে চিঠি আমাদের বন্ধ চোখের অন্ধত্ব কতটুকু সারাবে জানি না, তবু সে চিঠি যতোবার আমি পড়ি ততোবার নিজেকে বারবার আয়নায় দেখি। বুঝার চেষ্টা করি সন্তানের হাতে জীবন দেয়ার পেছনে, কতটা আমাদের দায় আর কতটা নিয়তির।
 

মত ভিন্নমত বিভাগের সব লেখার দায় লেখকের । লেখার আইনগত বা অন্যকোনো দায়ও লেখকের ।

news24bd.আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সামিয়া রহমান

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সামিয়া রহমান

এখন প্রভাবশালী, ক্ষমতাধর, নাটের গুরুদের বক্তব্য-শিকাগো জার্নালের চিঠি মিথ্যা তো কি হয়েছে। অভিযোগ তো সত্য। প্লেজারিজম তো হয়েছে। তাদের চামচারাও সুর মিলিয়ে, তাল মিলিয়ে বলছেন, আরে হ্যাঁ তাইতো, অভিযোগ তো সত্য। চিঠিতে কি এসে যায়! ভুলে যাও চিঠির কথা।

ভাই এই মিথ্যা চিঠির ভিত্তিতেই তো তদন্ত শুরু হলো। চিঠিটা তৈরি করলেন কে তাহলে?  এখন এই কথা বলছেন কেন? পাছে চিঠি তৈরির পেছনের রহস্যে তাদের জড়িত থাকার যদি প্রমান মিলে যায়, তাই ?  ঘটনা তো অন্যদিকে ঘোরাতেই হবে।  

ঘটনা প্লেজারিজমে নিয়ে গেলে, জনগণ তাদের নোংরামি, তাদের ষড়যন্ত্র বুঝবে না, তাই আজ এই সুর! একটা জিনিষের শুরুটাই যখন মিথ্যা তখন বুঝতে হবে পুরোটাই ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা।  

ভাইরে প্লেজারিজমের অভিযোগও মিথ্যা। যে মিথ্যা চিঠি তৈরি করেছেন, অভিযোগ প্রমানীত না হওয়া সত্তেও, সেটাকে সত্যি বলে প্রচার করছেন- সেই চিঠির অস্তিত্ব যেমন মিথ্যা, তেমনি পুরো বিষয়ে আমার জড়িত থাকার প্রমাণও মিথ্যা। 

প্রেস কনফারেন্সে যথেষ্ট বলেছি, তারপরও যাদের মগজে ঢোকেনি, ক্রমাগত বলেই যাচ্ছেন ক্ষমতাধরদের তুষ্ট করতে, ফেসবুকে নোংরামি করতে-তাদের আবার বলছি-মারজান তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছিল লেখা সেই জমা দিয়েছিল, সেই রিভিউ করেছিল, এটা তার অনিচ্ছাকৃত ও অনভিজ্ঞতাবশত ভুল।  

এর জন্য সে দুঃখ প্রকাশও করেছিল। লেখা জমা দেয়া থেকে ছাপানো পর্যন্ত আমার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তদন্ত কমিটিও পায়নি (যে তদন্ত কমিটি শুরু থেকে নাটের গুরু হিসেবে প্রতিহিংসা বিলিয়েই যাচ্ছেন মিডিয়ার সামনে)। 

তদন্ত কমিটি বলেছে আমার জড়িত থাকার দালিলিক প্রমাণ অষ্পষ্ট।  আমার কাছ থেকে লেখা জমা নেবার যেমন কোনো প্রমাণ নেই, তেমনি রিভিউয়ারের কপিও আমার কাছে পৌছায়নি ট্রাইব্যুনালের সদস্য ড. জিনাত হুদাই বলছেন।  মারজানের নিজে জমা দেবার ও রিভিউ করার লিখিত স্বীকারোক্তির পরও কেমন করে তদন্ত কমিটি বলে দালিলিক প্রমান অষ্পষ্ট ? 

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে? চিঠি কি তবে তারাই তৈরি করেছেন?  ট্রাইব্যুনাল বলছে প্লেজারিজম হয়নি। দরকার হলে ট্রাইব্যুনালের সদস্য ড.জিনাত হুদাকে জিজ্ঞেস করুন। ট্রাইব্যুনালের আহবায়ক ড. রহমতউল্লাহ তো নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েই দিয়েছেন এটা প্লেজারিজম হয়নি। সিন্ডিকেট অন্যায় করেছে, তিনিই বলছেন।  


হুইল চেয়ারে বসেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রায় জাফরুল্লাহ

পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি তৃণমূল নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে: কাদের

দেশের থানাগুলোতে ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা চলমান

পুলিশ হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ


সিন্ডিকেট সকল প্রমাণ উপেক্ষা করে ক্ষমতার বলে গায়ের জোরে সিদ্ধান্ত চাপালে মূল ষড়যন্ত্রের সাথে কারা কারা জড়িত প্রমাণ কিন্তু মিলে যায়।

ড. আরেফিন স্যারকে জিজ্ঞেস করুন ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি তাকে আর্টিকেল দেখিয়ে পরামর্শ চেয়েছিলাম কিনা! তিনিই তো আমাকে বলেছিলেন ড. ফরিদউদ্দিনকে বলো বিষয়টি সিন্ডিকেটে তুলতে। ফরিদ স্যার তুললেন না কেন? 

কেন ঘটনাটি সবাই জানার সাত মাস আগে ৫ ফেব্রুয়ারি লেখা প্রত্যাহারের চিঠিতে ডিন ফরিদউদ্দিনের সাক্ষর থাকা সত্ত্বেও সেটি গ্রহণ করেনা তদন্ত কমিটি ও সিন্ডিকেট? কেন ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মারজানকে দেয়া আমার মেইলটিও ( যেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে মারজান সব জমা দিয়েছে, সে রিভিউ করেছে) সেটি তদন্ত কমিটি ও সিন্ডিকেট গ্রহণ করেনা। কেন তাদের এতো প্রতিহিংসা আক্রোশ আমার বিরুদ্ধে? 

আমি রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টে তিনবার অ্যাপিল করার পর বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়ে দেয় আমাকে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হবেনা। কেন? কোন আইন বলে? বিশ্ববিদ্যালয় কি কারো বাপের বাড়ি? নিজের সম্পত্তি? তাই মনে হয় এখন। আপনারা রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি চান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে, সেখানেই সব প্রমাণ দেখতে পাবেন। ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হবে বলেই কি আমাকে কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না?

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সেদিক থেকে আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

সেদিক থেকে আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ

এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আমার এখন কোনো দেশের তালিকায় থাকব তাতো পরিস্কার বুঝতে হবে।

বলা হচ্ছে আমরা এলডিসি (Least Developed Country বা সংক্ষেপে LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) হতে যাচ্ছি।  কথাটির মানে হয় না।

এটা সত্য, এবং একটা গৌরবের বিষয়ও যে আমরা এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসব।  কিন্তু আমরা সবসময়েই উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো, কারণ এলডিসি হলো উন্নয়নশীল দেশ (Developing country)-গুলোর মধ্যেই কিছু দেশের গ্রুপ (উপ-গ্রুপ বা sub-group) যারা বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে কিছু সুযোগ সুবিধা পাবার জন্য সুনির্দিষ্ট তিনটি সূচকের অনগ্রসরতা দিয়ে চিহ্নিত হয়; আমরা সেই সূচকের শর্তগুলো পূরণ করে উন্নয়নশীল দেশের সেই উপ-গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি, নতুন কিছু হতে যাচ্ছি না।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে উন্নত বনাম উন্নয়নশীল দেশের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে কোনো দেশ নিজেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দাবি করে কিছু সুযোগ চাইতে পারে, যদিও অন্য দেশগুলোর সেই দাবি মেনে নেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল না উন্নত দেশ তা নিয়ে এই মুহূর্তে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। কাজেই সেদিক থেকেও আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ এটা ঘোষণা দেবার কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না।

লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মন সুন্দর হওয়া জরুরি

আতিকা রহমান

মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মন সুন্দর হওয়া জরুরি

মানুষের গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নাই। কে ফর্সা আর কে কালো, গায়ের রং কালো বলে তাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলা কিংবা কঠাক্ষ করে কথা বলা আমার একদম পছন্দ না।

গায়ের রং নিয়ে এমন বর্ণবাদী আচরণ আমি খুব অপছন্দ করি।  আমি মনে এটা অত্যন্ত নিকৃষ্টতম কাজ। নোংরা মানসিকতার পরিচয়।

গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিবেচনা করি না কখনো।

তারপরও  কালো বলে খোঁচা মারা কথা শোনার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই আছে। আমার আব্বা আম্মা ফর্সা। তাই অনেকেই আমাকে বলতো, তুমি তো তোমার মায়ের মতো হওনি। মানে ইনডাইরেক্টলি, আমি কালো আমার মা ফর্সা। 
আমার মেয়েকে নিয়েও এরকম কথা শুনতে হয় আমাকে। অনেকেই বলে তোমার মেয়ে অনেক সুন্দর কিউট। আপনার মেয়ে তো একেবারে রাজকন্যা। রূপকথা তো আপনার মতো হয়নি। আপনার সাথে তো মিল নাই। কার মতো হইছে দেখতে?


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


একজন তো বলেই বসলেন,  আপনার মেয়ে এত ফর্সা আর  সুন্দর হলো কীভাবে??

আমি বললাম, আমি কালো বলে আমার মেয়ের ফর্সা হতে তো কোন বাধা নাই। 

অনেকেই ইনডাইরেক্টলি মেয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে আমার ার আমার মেয়ের গায়ের রং এর পার্থ্যক্য বুঝায় দেয়। 
আমার বিয়ের দুই/তিন বছর আগে। তখন বিয়ে করবো না বলে ডিটারমাইন্ড ছিলাম। কোন এক ঈদের পরে, একদিন এক ভদ্রমহিলা আর ভদ্রলোক এলো আমাদের বাসায়। তাদের ছেলের বউ দেখার উদ্দেশ্যে। তারা চাকরিজীবী মেয়ে চায়। 
তো আমাকে দেখে তারা হতাশ হলেন। আমি কালো জন্য ছেলের সাথে বিয়ে দেবেনা। তারা ফর্সা মেয়ে খুজতেছে। 
ভদ্র মহিলা এবং ভদ্রলোকের গায়ের রং কালো। আমাকে দেখে অপছন্দ ভাবটা বুঝলাম।  আমি ভদ্র মহিলাকে বললাম। আন্টি আপনার ছেলের ছবি দেখান।   মহিলা কেন জানি খুব অপ্রস্তুত বোধ করে ছবি দেখালো। আর বললো, আমার ছেলে একটু কালো। ছবিতে দেখলাম। একটু টা ছেলে টা বেশ কালো।

মহিলা আমতা আমতা করে হেসে বললো, আসলে আমার ছেলে অনেক কালো তো। তাই ফর্সা মেয়ে খুঁজতেছি। কারণ নাতি-নাতনি যাতে ফর্সা হয়।

আমি বললাম, দোয়া করি যেন ফর্সা একটা বউ পান। মহিলা আমার এরকম কথায় বেশ অবাক হলেন।

গত বছর আমার খুব ঘনিষ্ট একজন মেয়ের বিয়ের জন্য এক ভদ্রলোককে বললাম। মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত, সব রকম যোগ্যতা আছে সব কিছু ভালো। কিন্তু তারা রিজেক্ট করলেন কারন মেয়ে টা কালো।

কিছু লোকজন আবার সরাসরি কালো বলে না, সৌজন্য করে বলে একটু বেশি শ্যামলা, গায়ের রং টা একটু চাপা। 
এই হলো আমাদের দেশের মানুষের নোংরা মেন্টালিটি।

আমাদের দেশের ৯০ শতাংশ কালো মেয়েদের জন্ম থেকে কবর যাওয়া পর্যন্ত কথা শুনতে হয়।

আমার নিজের গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো মন খারাপ বা হীনমন্যতা নাই। আমি আমার মতো। আমি আমার মতো সুন্দর। আমার মন সুন্দর। এটা নিয়েই আমি গর্ববোধ করি। মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মনটা সুন্দর হওয়া জরুরি। 
যারা গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিচার করে তাদের আমি ঘৃণা করি।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা: সামিয়া রহমান

সামিয়া রহমান

যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা: সামিয়া রহমান

শুনলাম আমার এই প্রেস কনফারেন্সে চরম ক্ষুব্ধ, রাগান্বিত, এবং আমাকে একেবারে ধ্বংস করতে প্রতিশোধপরায়ন হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ ক্ষমতাধর নারী। যেহেতু তার নামটিও চলে এসেছে আমার বক্তব্যে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন ইন্টারভিউতে অথবা প্রেস কনফারেন্সে।

তিনি এখন ভয়াবহ প্রতিশোধপরায়ন হয়ে গতকাল সকল সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করার জন্য উসকাচ্ছেন। বলছেন যে কোনোভাবে সামিয়াকে ধ্বংস করে দিতে হবে। যে কোনো নিউজ দিয়ে, তা মিথ্যা হোক আর যাই হোক। সাংবাদিকদের কাছেই শুনলাম যাদের যাদের তিনি ফোন দিয়েছিলেন। 

বললেন মিথ্যা সত্যের ধার ধারিনা, যে কোনো মূল্যে সামিয়াকে শেষ করতে হবে। যে কোনো নিউজ করতে হবে সামিয়ার বিরুদ্ধে। প্রয়োজন হলে আমার সকল আর্টিকেলকে প্লেজারিজম বলে প্রমাণ করতে হবে। কারন পদ ক্ষমতা তার হাতে, তিনি যদি বলেন তবে এগুলো জনগণ মেনে নেবে। সাংবাদিকরা বললে জনগণ মেনে নেবে। যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা। সামিয়ার এতো বড় সাহস আমাদের বিরুদ্ধে প্রেস কনফারেন্স করে! এবার আমি তাকে শেষ মারটা দেব। 


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


উনার এতো ক্ষোভ কেন আমার বিরুদ্ধে? প্রথম থেকে উনি এবং উনার চামচারা কেন মিডিয়ার সামনে এতো সোচ্চার আমাকে নিয়ে? অ্যালেক্স মার্টিনের মিথ্যা চিঠির ষড়যন্ত্রের কি তিনিই তাহলে হোতা? প্রকাশ হয়ে যাবার ভয়ে আমাকে শেষ মার দেবার চেষ্টা? তার ষড়যন্ত্র প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে তাই আমাকে নিয়ে সাংবাদিকদের নতুন করে উসকানোর চেষ্টায় তিনি এখন অতি ব্যস্ত। 

আচ্ছা যার নিজের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের অভিযোগ আসে, তার ক্ষমতার ভয়ে ২/৩ টি বাদে আর কোনো মিডিয়া সাহস পায়না কাভারেজ দেবার, যিনি নিজে প্লেজারিজমের সাথে যুক্ত অন্তত ৫/৬ টি আর্টিকেলে, তিনি আবার কিভাবে অন্যকে নৈতিকথার কথা বলেন? বিচারক হবার যোগ্যতা তিনি আর রাখেন কি? 

ক্ষমতা পেয়ে কি তিনি এতোটাই করাপ্টেড হতে পারেন ? তিনি এতোই প্রবল প্রতাপশালী যে দিনকে রাত করেন, কোনো সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে লিখলে তার চাকরী চলে যায়, তার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখা ১ ঘন্টার মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে যায়। আমার ফেসবুক বন্ধুদের জানিয়ে রাখলাম, এই মহিলা আবার আমার বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছেন সাংবাদিকদের ফোন দিয়ে, ডেকে ডেকে। তবে আমি এখন প্রায় নিশ্চিত আমার বিরুদ্ধে শিকাগো জার্নালের মিথ্যা চিঠির, পুরো ষড়যন্ত্রের হোতা কে? তিনি ছাড়া আর কি কেউ হতে পারেন?

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই

জিয়াউল হক

সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই

জিয়াউল হক

করোনা বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিয়ত আমাদের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা নিচ্ছে। শরীরে  ভিটামিন সি এবং ডি ঠিক আছে কিনা, জিঙ্ক আছে কিনা ইত্যাদি মাথায় রাখতে হয়। মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে আছে ভীতি এবং শংকা। সর্দি, কাশি হলেই ভয়, জ্বর হল তো কথাই নেই। 

একবার আমার সর্দি, কাশি হলে আমার স্ত্রী বললেন, তুমি কোত্থেকে করোনা বাধিয়ে এসেছ, আল্লাহ মালুম; গতকাল থেকে আমারো কাশি শুরু হয়েছে। দু দিন পর আমার কাশি ভাল হয়ে গেল; তার ও হল। কিছুদিন পর তাঁর কাশি শুরু হল ভয়ানক ভাবে। আমার ও শুরু হল। 

আমি আর ভয়ে বলতেই পারলাম না তোমার কাছ থেকে আমার কাশি শুরু হয়ে গেছে যদিও বা দুজনেরই ছিল নরমাল কাশি। যাই হোক,  শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার পাশাপাশি করোনা অত্যন্ত মহা গুরুতপুর্ন আরেকটা পরীক্ষা নিয়েছে, সেটা হল দাম্পত্য পরীক্ষা। 

প্রথম আলোর রিপোর্ট ও বলছে করোনার সময়ে বিচ্ছেদ বেড়ে গেছে। যাদের বিয়ের বয়স এক বছর বা তার কম তারা বেশ ভাল সময় কাটিয়েছেন। যারা ঠিকে গছেন, তাদের দাম্পত্য নিয়ে ভবিষ্যতে কোন সমস্যা হবার সম্ভাবনা কম। 

দুজনেই ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন, তাদের ফাস্ট ইন কমান্ড কে আর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কে। বেড়াল যা মরার ইতিমধ্যে মরেছে। যাদের বিয়ের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে, তারাও মোটামুটি এই সময়ের মধ্যে লকডাউনে থেকে পারস্পরিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠেছেন। তারা বুঝেছেন ফাস্ট ইন কমান্ড যাই কিছু বলুক, নীরবে সয়ে যেতে হবে। 

যদি পুরুষ ফাস্ট ইন কমান্ড হয় (সম্ভাবনা ক্ষীন!) সেক্ষেত্রে অযৌক্তিক কিছু বললেও স্ত্রীকে মেনে নিতে হয়েছে কারণ বাপের বাড়ি যাওয়ার উপায় নেই; দরজা বন্ধ। আবার স্ত্রী যদি ফাস্ট ইন কমান্ড হয়, সে ক্ষেত্রে তিনি কিছু বললে পুরুষকে মেনে নিতে হয়েছে; রাগ দেখিয়ে বের হওয়ার উপায় নেই আর কষ্টেসৃষ্টে বের হলেও বাইরে হোটেল বন্ধ। 

যাদের বিয়ের বয়েস দশ বছরের বা বিশ বছরেরও বেশি তাদের পরীক্ষা ছিল সবচেয়ে কঠিন; যদিওবা কেউ কেউ বলেন, স্বামী-স্ত্রী বিশ বছর সংসার করলে তাদের সম্পর্ক টা অনেকটা ভাই বোনের মত হয়ে যায়। 

যাই হোক, তারা সত্যিকার অর্থে করোনার মধ্যে খুব কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন। নরমাল রুটিন হল, স্ত্রী মশারি টাঙ্গাবে বা স্বামী সারাদিন চাকরি করেন তাই স্ত্রী বাসায় রান্না করে। করোনার সময় দেখা গেল রুটিন পাল্টে গেল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামী বেচারা মশারি টাঙ্গিয়েছেন অথবা বাসায় রান্না করেছেন। এর বাইরে আরও কাজ আছে, যেমন ঘর ঝাড়ু দেয়া, ঘর মোছা ইত্যাদি। অর্থাৎ বহু দিনের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ভেঙ্গে গেল। 

আবার স্ত্রী কে কাটতে হয়েছে চুল। আমার কাছে মনে হয় এটা ছিল, স্বামীর বা স্ত্রীর অনেকটা মানোন্নয়ন পরীক্ষার মতো বা প্রমোশনের ইন্টারভিউ এর মত। প্রশ্নকর্তার খুব বেশি আগ্রহ নেই প্রশ্ন করার প্রতি আর উত্তর দাতার ও আগ্রহ কম উত্তর দেয়ার দিকে। বিশ বছরের দম্পতি রবীন্দ্রনাথ এর কথা কে ফলো করেছেন। 

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “লোকে ভুলে যায়, দাম্পত্যটা একটা আর্ট, প্রতিদিন ওকে নতুন করে সৃষ্টি করা চাই”। বিশ বছরের দম্পতি্র পক্ষে তো আর প্রতিদিন দাম্পত্য সৃষ্টি করা সম্ভব না; করলেও মহা সমস্যা হয়ে যাবে। একটা কৌতুক বলি। স্ত্রী স্বামীকে বলছে, 
“কাল থেকে তোমার অফিস খুলবে, তাই আমার খুব  মন খারাপ।“
স্বামী জিজ্ঞেস করল “কেন”? স্ত্রী বলল, “তোমার হাতের কাজ আমাদের বাসার বুয়ার চেয়ে বহুগুণ ভালো”।  

এসময় একটা জিনিসের দারুন চর্চা হয়েছে। সেটা হলো রান্না। যারা পারেন তারা তো করেছেন। যারা পারেন না, তারা  তাদের বেস্ট দিয়ে চেষ্টা করেছেন। রমজানের ইফতারির মধ্যে জিলাপি খুব প্রিয় একটা আইটেম। রমজানের মধ্যে ইফতারির জন্য জিলাপির বানানোর দারুন চর্চা হয়েছে। নতুন নতুন জিলাপি উদ্ভাবিত হয়েছে। 

আমরা  জানি, জিলাপি আড়াই প্যাঁচ দিয়ে হয়। কেউ কেউ আবার সাড়ে তিন প্যাঁচ দিয়ে  জিলাপি বানিয়েছে। তারা হয়তো ভেবেছে, প্যাঁচ তো লাগানোর জিনিস, আস্তে আস্তে লাগাতে হয় তাই একটু বেশি করে দিলেই ভালো। এরমধ্যে আবার এসেছে পুরুষ জিলাপি। পুরুষ জিলাপি বুঝলেন না তো? পুরুষ জিলাপি হলো একদম সোজা, কোন প্যাঁচ থাকবে না। 

এখানেও একটা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। যিনি রান্না পারেন না, তার বানানো জিলিপি বা অন্য কোন কিছু খেতে গেলেই যিনি খাবেন, তিনি বুঝতে পারবেন দুর্গতি টা কি! খাওয়ার সময় কিছুই বলা যাবে না; কোন বদনাম করা যাবেনা শুধু আলতো করে মুখে একটা মিষ্টি হাসি ধরে রেখে বলতে হবে, “তুমি কেমন করে গান কর হে গুনি, আমি অবাক হয়ে শুনি”!   

করোনার মধ্যে আবার সিনেমা বিশারদদের দেখলাম বেশ কদর রয়েছে। সিনেমা তো কমবেশি সবাই দেখি। কেউ ক্লাসিক পছন্দ করেন, কেউ একশন ধর্মী, কেউ আবার রোমান্টিক ঘরানার। অথবা কেউ পছন্দ করেন এডভেঞ্চারাস। ফেসবুকে দেখলাম, অনেককে সিনেমার লিস্ট জিজ্ঞেস করছে, কোন কোন সিনেমা দেখা দরকার। তখন সিনেমা বিশারদ যারা আছেন, তারা দেখলাম লিস্ট দিয়েছে। 

লিষ্টের মধ্যে আবার ভাগ আছে; আর্জেন্ট, সেমি  আর্জেন্ট, অডিনারি ইত্যাদি। লিস্ট এর মধ্যে সিনেমার নামের পাশে লেখা থাকে এটা কি রোমান্টিকধর্মী সিনেমা নাকি একশনধর্মী। রোমান্টিক সিনেমার ক্ষেত্রে আবার পাশে ডট ডট আছে। মানে, এই সিনেমাতে ডট ডট  আছে সুতরাং এটা একা একা দেখতে হবে। 


পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ বানানো হয়, প্রশ্ন আইজিপির

আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে: সামিয়া রহমান

বিমা খাতে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরও প্রচার প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

পোশাক খাতে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেললো বাংলাদেশ


তবে অনেকের কমেন্ট পড়ে এবং সিনেমার লিস্ট থেকে মনে হয়েছে, ডট ডট ঘরানার সিনেমা গুলো একটু বেশি জনপ্রিয়! একটা কৌতুক বলি। মাননীয় প্রেসিডেন্ট মহোদয়ের বক্তৃতা থেকে শুনেছি। তাঁর এক বন্ধু একবার সিনেমা হলে গিয়ে একটা ছবি ৪/৫ বার দেখেছেন। ওই সিনেমায় একটা দৃশ্য ছিল, নায়িকা গোসল করছে আর সেই সময় একটা মেইল ট্রেন চলে যায়। তাঁর বন্ধু সিনেমাটা দেখেছিলেন ৫/৬ বার এই আশায় যে যদি একবার মেইল ট্রেন একটু লেট করে আসে!!

পুনশ্চঃ করোনার সময় সবাই সবাইকে সাবধান করেছে, এখন করোনা, ঘর থেকে খবরদার বের হবে না; তবে বের না হয়ে আবার জনসংখ্যা বাডিয়োনা। আল্লাহর রহমতে এখন করোনা কিছুটা কমেছে, তাই উপদেশ দেয়ার মত কেউ নেই। সে সুযোগে যদি কেউ দারুন উৎসাহে কাজে নেমে পড়েন আর গাইতে থাকেন, " আজ খেলা ভাংগার খেলা, খেলবি আয়, আয়, আয় আজ......" তাহলেই বিপদ। সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর