তোমার ভবিষ্যত, তোমার হাতে

শওগাত আলী সাগর

তোমার ভবিষ্যত, তোমার হাতে

আগামী পাঁচ বছর পর তুমি কেমন মানুষ হবে- তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে, তুমি এখন কাদের সাথে মিশছো, কি বই পড়ছো- তার উপর ‘। – এই পর্যন্ত শুনে আমি ভিডিওটা পজ করি। আবার প্রথম থেকে শুনি। এই লাইন কটাই আমি বার বার শুনতে থাকি।

আমি যে কোম্পানিটির সাথে কাজ করি, তারা প্রতিদিনই বেশ কিছু ছোটো ছোটো ভিডিও ক্লিপ পাঠায়। ভিডিও গুলোতে ইন্সপিরেশনাল নানা ধরনের বক্তব্য থাকে, নেতৃত্বের  গুনাবলী সম্পর্কে উপদেশ থাকে, নিজের জীবন গঠন নিয়েও কথাবার্তা থাকে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে- কোম্পানিটি যে সেবাখাতের ব্যবসায় নিয়োজিত সেই ব্যবসা নিয়ে এই সব ভিডিওতে কোনো কথাবার্তা থাকে না। মনে হয়, কোম্পানি ব্যবসার চেয়েও তার কর্মীর ব্যক্তিগত উন্নয়নের ব্যাপারেই বেশি মনোযোগি। আসলে কিন্তু কোম্পানি নিজের ব্যবসাইকেই বড় করে দেখে। তারা জানে, তাদের কর্মী, তাদের ব্যবস্থাপকদের ব্যক্তিগত  জীবন উন্নত হলে তার ফলটা কোম্পানিই পাবে। 


আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনে পূর্ণতা পায় স্বাধীনতা


তাই তারা কর্মীর ব্যক্তিগত জীবন উন্নয়নের নানা টিপস সম্বলিত ভিডিও পাঠায়।

’তুমি কার সাথে মিশছো, কি বই পড়ছো’- সেটিই নির্ধারণ করবে আগামী পাঁচ বছর পর তুমি কেমন মানুষ হবে’ কথাগুলো মাথায় গেঁথে যায় একেবারে। আসলেই তো তাই। কথাগুলো যতোবারই মাথায় চক্কর দেয় ততোবারই মনে হয়-মেলামেশার তালিকাটা কি অনায়াসেই না ছেঁটে ফেলা যায়, কোন বইগুলো ডেস্ক থেকে সরিয়ে ফেললে কোনো ক্ষতি নেই তার তালিকা করাটাও কেমন সহজ হয়ে যায়।

ভিডিওটা শুনতে শুনতে ‘পাঁচ বছর পর তুমি কেমন মানুষ হবে তা নির্ভর করছে এখন তুমি কার সাথে মিশছো, কি বই পড়ছো’- এই লাইনটার সাথে  আমি নিজের মতো করে আরো একটা লাইন যোগ করে নেই। ‘অনলাইনে, ফেসবুকে কার সাথে তুমি সময় কাটাচ্ছো, ফেসবুকের  কোন গ্রুপ, কোন পেজে তুমি  সময় কাটাচ্ছো- সেটিও তোমার জীবনকে প্রভাবিত করবে।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

 

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রাজনীতি হলো মানুষকে খাঁচায় রাখার কৌশল

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

রাজনীতি হলো মানুষকে খাঁচায় রাখার কৌশল

ইমতিয়াজ মাহমুদ নামের এক ভদ্রলোক বিজ্ঞানকে গালমন্দ করেছেন। গালমন্দটি আমার নজরে এসেছে, এবং পড়ে মনে হয়েছে, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পার্থক্য না জানা কোনো বুড়ো মানুষের প্রলাপ। এ প্রলাপ অনেকে গ্রহণও করেছে, কারণ আলোর সাথে এ অঞ্চলের বাসিন্দারে যোগাযোগ খুব কম। প্রলাপটি তিনি শুরু করেছেন এভাবে:

“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সর্বনাশ করছে বিজ্ঞান। এমনকি রাজনীতির চেয়েও বেশি।  সহজ ভাষায় পুরোনো কথা বলি, সাগর আর মাটি প্লাস্টিক দিয়ে ধ্বংস করে ফেলছে। সেই প্লাস্টিক বিজ্ঞানের দান। বাতাস ধ্বংস করে ফেলছে, বিজ্ঞান।…..”

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে, আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে একটু ব্যাখ্যা করতে চাই। বিজ্ঞান হলো একটি প্রক্রিয়া, যে-প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে মানুষ নতুন জ্ঞানের অন্বেষণ করে থাকে। আর প্রযুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রাপ্ত কোনো জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ। এ প্রয়োগের প্রকৃতি কেমন হবে, তা নির্ধারিত হয় প্রযুক্তিটির ম্যানুফ্যাকচারার বা স্পন্সর দ্বারা। স্পন্সর যদি মাদার তেরেসা হন, তাহলে প্রযুক্তি এক রকম হবে, আর যদি লেসলি গ্রুভস (গ্রুভস ছিলেন ম্যানহাটন প্রজেক্টের পরিচালক) বা প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান হন, তাহলে অন্য রকম হবে। 
মানুষ যখন জঙ্গলে ছিলো, তখন দেখলো যে— কোনো বস্তু যদি শক্ত হয়, যেমন পাথর বা লোহা, এবং এর একটি প্রান্তকে যদি ঘষে ঘষে সরু করা যায়, তাহলে এটি দ্বারা নরম বস্তুদের কাটা বা বিদ্ধ করা সম্ভব হবে। এ চিন্তাটা হলো বিজ্ঞান। আর এ চিন্তার প্রয়োগের ফলে যে-রামদা বা কোদাল বা বর্শা পাওয়া গেলো, তা হলো প্রযুক্তি। কোনো সমাজে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয় রাজনীতি দ্বারা। রাজনীতি যদি গার্হস্থ্য ধরণের হয়, তাহলে রামদা, কোদাল, ও বর্শা ব্যবহৃত হবে পশু শিকারে, কৃষিকাজে, ও রান্নাবান্নায়। আর যদি প্রভাব বিস্তারমূলক হয়, তাহলে তা ব্যবহৃত হবে গোত্র-কলহ ও যুদ্ধে। 

আধুনিক প্রযুক্তি বলতে মানুষ যা বোঝে, তার বয়স খুব বেশি নয়। এসব প্রযুক্তির বহু আগে থেকে পৃথিবীতে বিজ্ঞান ছিলো। নিউটনের কথাই ধরা যাক। তাঁর ল অব গ্র্যাভিটেশন এবং ক্লাসিকেল মেকানিক্সের ফর্মুলেশনগুলো বেশ বয়স্ক। কিন্তু পৃথিবীর ইস্কেইপ ভেলোসিটি আর বায়ুমন্ডলের ফ্রিকশোনাল হিট আমলে নিয়ে আকাশে স্যাটেলাইট ছুড়া হয়েছে মাত্র কয়েক দশক আগে। এই স্যাটেলাইট ছুড়াছুড়ি কিন্তু বিজ্ঞান নয়। এগুলো মানুষের রাজনীতি ও ব্যবসার অংশ মাত্র। 

ইমতিয়াজ মাহমুদের দাবি, প্লাস্টিক বিজ্ঞানের দান। তাকে দোষ দিই না, চিন্তা যখন খর্বাকৃতির হয় তখন প্লাস্টিককে অনেকেই বিজ্ঞানের দান মনে করতে পারেন। বিজ্ঞানের দান হলো পলিমারাইজেশোন ও পলিকনডেনসেশোন নামের দুটি কৌশল, যা ছিনতাই করে পুঁজিবাদী বণিকেরা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছে প্লাস্টিক। আর এ প্লাস্টিক তারা তুলে দিয়েছে তাদের হাতে, যারা মাটি ও সাগরের প্রতি যত্নশীল নয়। তবে মুফতি ইব্রাহিম আর বাবা রাম রহিমের দেশ দুটি বাদে, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের মানুষই তাদের নিজ নিজ মাটি ও সাগরের প্রতি যত্নশীল। তারা প্লাস্টিক বর্জ্যকে এমন একটি ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে এসেছে, যেখানে একটি ছোট্ট পলিথিন ব্যাগের পক্ষেও আর সাগর বা কৃষিজমি ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ কৃতিত্ব যতোটা না বিজ্ঞানের, তার চেয়েও বেশি রাজনীতিকদের। ওই দেশগুলোর রাজনীতিকেরা বিচক্ষণ বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। 

আর “বাতাস ধ্বংস করে ফেলেছে, বিজ্ঞান” এ কথাটি দিয়ে তিনি সম্ভবত গাড়ি ও কলকারখানার ধূয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তার বুঝা উচিত ছিলো যে, টয়োটা বা গুয়াংডং কর্পোরেশনের সাথে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক আছে মানুষের লালসা, ও অর্থনীতির। বিজ্ঞান শুধু বলেছে, তাপকে মেকানিক্যাল মোশন ও ইলেকট্রিসিটিতে রূপান্তর করা সম্ভব। বাকিটুকো এগিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকেরা। অটোহানরা শুধু দেখিয়েছিলেন, পরমাণুকে ভাঙা সম্ভব, এবং এ ভাঙন থেকে, যেটিকে আমরা নিউক্লিয়ার ফিশান বলি, পাওয়া যেতে পারে অকল্পনীয় শক্তি। কিন্তু বোমা  বানানোর জন্য লস আলামোস ল্যাব স্থাপন করেছিলো রাজনীতিক ও মিলিটারি জেনারেলরা। আর বায়ুদূষণের একটি বড় কারণ গবাদি পশুর খামার। এ বোভাইনদের পেট থেকেই সবচেয়ে বেশি মিথেন গ্যাস নির্গত হয়। 

আর বাংলাদেশ তো হয়ে উঠেছে জাপানি গাড়ির ডাম্পিং স্টেশন। যেখানে দেশটির উচিত ছিলো ব্রান্ড নিউ এবং ইলেকট্রিক ভেহিকলকে কর সুবিধা দেয়া, সেখানে তারা এগুলোর উপর বেশি করে কর আরোপ করেছে, এবং মানুষজনকে বাধ্য করছে পুরাতন জাপানি ভাঙা গাড়ি ক্রয় করতে। এ রিকন্ডিশোন্ড বা ভাঙা গাড়িগুলোর যে-ইঞ্জিন, তা বাংলাদেশের বাতাসের পুরোটিকেই বিষ বানিয়ে ছাড়বে। এক ভদ্রলোক একটি টেসলা আমদানি করেছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের বুদ্ধিমানেরা ওই লোক থেকে ছয়শো শতাংশ কর আদায় করেছে। যেখানে উচিত ছিলো গাড়িটিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া, সেখানে তারা এটির প্রবেশ রোধ করতে চেয়েছে। 

অস্ট্রেলিয়ার বাতাসে তোলা ছবি, বাংলাদেশের বাতাসে তোলা ছবির চেয়ে বহুগুণ সুন্দর কেন? একই কথা প্রযোজ্য ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, এবং সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে। ওই দেশগুলো তো প্রযুক্তিতে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই, যদিও মূর্খতায় তারা অবশ্যই আমাদের চেয়ে পিছিয়ে আছে। আমার বাড়ির পাশ দিয়ে একটি খাল বয়ে গেছে, যেটিতে ছোটবেলায় আমি সাঁতার কেটেছি। তখন খালটির পানি ছিলো পানি, যা পান করে তৃপ্তি পেতো গ্রামের গরু, ভেড়া, ও হাঁসেরা। কিন্তু এখন, পুরো খালটি হয়ে উঠেছে আলকাতরার নালা। আমি অতিরঞ্জন করছি না, সত্যি সত্যিই আলকাতরা রঙের রাসায়নিকে ঢেকে গেছে খালটি। এ কৃতিত্ব একটি ডেনিম কারখানার। জেলার ডিসিকে আমি বহুবার ব্যাপারটি জানিয়েছি, কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন নি। ব্যাপারটি এরকম নয় যে শুধু বাংলাদেশেই কল কারখানা আছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলিউশানের জন্ম হয়েছে যে-দেশগুলোতে, সে-দেশগুলোর বাতাস ও পানির মানের দিকে তাকালেই টের পাওয়া যাবে, বিজ্ঞান নয়, আমাদের বাতাস ও পানির দুরবস্থার জন্য দায়ী রাজনীতি, অর্থনীতি, ও দুর্নীতি। আমি চীনের কারখানাগুলোতে যে-মানের ইটিপি দেখেছি, তার এক তৃতীয়াংশ মানের ইটিপিও বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে দেখি নি। যদিও বাংলাদেশের পরিবেশ আইনে, ফুল ফাংশোনাল ইটিপি স্থাপনের বাধ্যবাদকতা রয়েছে। ইটের ভাটাগুলির কথা নাই বা বললাম। ইটের ভাটা যে কতো বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, তা তো আমরা সকলেই জানি। 

ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেছেন, “বিভিন্ন দেশ অসংখ্য স্যাটেলাইট পাঠিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথরেও বস্তি বানাইয়া ফেলছে”। মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর চারটি কারণ আছে। প্রথম কারণটি গবেষণা, দ্বিতীয়টি বাণিজ্যিক, তৃতীয়টি রাজনীতিক বা সামরিক, আর চতুর্থটি শখ বা অহংকার। সম্প্রতি একটি দেশ, অহংকার প্রদর্শনের জন্য আকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে আমেরিকার স্নায়ুযুদ্ধের সময়, গবেষণার চেয়ে রাজনীতিক কারণেই বেশি স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছিলো। আর এখন এলন মাস্ক নিয়ে এসেছে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বাণিজ্যিক মডেল। আর্থ অরবিটাল যদি কোনো সময় সত্যিই ঢাকার কড়াইল বস্তি ওঠে, তাহলে দায়ী করতে হবে এই দ্বিতীয়, তৃতীয়, ও চতুর্থ কারণকে। বিজ্ঞান বা গবেষণাকে নয়। 

“বিজ্ঞান পৃথিবীরে এক দিলে কেড়ে নিছে দশ” এটি মনগড়া রোম্যান্টিক কথা। এটি বলে কিছু মানুষের মন উদাস করা যেতে পারে, নির্বোধ মর্টালদের কাছ বাহবা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু বাস্তবতার সাথে এ কথার দূরত্ব আলোক বর্ষের সমান। প্রথমত, মানুষের ম্যাটেরিয়াল অবসেসোনের জন্য বিজ্ঞান দায়ী নয়, দায়ী প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিব্যবসায়ীদের লোভ। পৃথিবীতে ভোগবাদ নামে যে নতুন ধর্মটি তৈরি হয়েছে, তার সাথে বিজ্ঞানের কোনো দেখা সাক্ষাৎ ঘটে না। এটি টিকে আছে মানুষের মগজহীনতাকে পুঁজি করে। দ্বিতীয়ত, আগে প্রকৃতি মানুষকে দশটি সন্তান দিলে কেড়ে নিতো নয়টি, আর এখন বিজ্ঞানের আঘাতে (আসলে হবে প্রযুক্তির আঘাতে) কেড়ে নিতে পারে না একটিও। এ বিষয়ে উদাহরণ দেয়া যাবে অনেক, তবে আমি কথা বাড়িয়ে আলোচনা লম্বা করতে চাই না। 

এবার ইমতিয়াজ মাহমুদ আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিপক্ষকে ডিহিউম্যনাইজ করার কৌশলের। ডিহিউম্যানাইজেশনের বাংলা, হুমায়ুন আজাদ করেছিলেন ‘বিমানবিকীকরণ’, আর আমি করেছিলাম ‘প্রাণীকরণ’ (কারণ গসেতের ডিহিউম্যানাইজেশন অব আর্টের চেয়ে আমার কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিলো মানুষের এনিম্যালাইজেশন)।

তিনি লিখেছেন— “তো, এইসব কথা বললেই বিজ্ঞানরে পবিত্র জ্ঞান করা  কাঁটাবনের বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানানুভূতি আহত হয়। তারা বলে, বিজ্ঞান ঠিক আছে, মানুষ খারাপ। আরে ভোঁদরের দল, ঐ হিসাবে রাজনীতি, ধর্ম ইত্যাদি সবই ঠিক আছে, শুধু মানুষ খারাপ।”
এখানে ইমতিয়াজ মাহমুদ তার প্রতিপক্ষের মোরাল ভেঙে দেয়ার জন্য সাহায্য নিয়েছেন এনিম্যালাইজেশনের, এবং টেনে এনেছেন ভোঁদরের মতো একটি সুন্দর প্রাণীকে। উদ্দেশ্য যখন অসুন্দর হয়, তখন এরকম একটি সুন্দর প্রাণীকে কুৎসিতভাবে উপস্থাপন করাটা বিস্ময়কর কিছু নয়। পুঁটি মাছ যখন কাতলা মাছের চরিত্রে অভিনয় করে, তখন এ বিপর্যয় ঘটে। কবি হুইটম্যান তাঁর একটি কবিতায় ভোঁদরদের (প্রাণীদের) খুব প্রশংসা করেছিলেন, এবং মনে মনে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ভোঁদর (প্রাণী) হওয়ার: 

I think I could turn and live with animals, they are 
so placid and self-contain’d,
I stand and look at them long and long.
They do not sweat and whine about their condition,
They do not lie awake in the dark and weep for their sins,
They do not make me sick discussing their duty to God,
Not one is dissatisfied, not one is demented with the mania of owning things,
Not one kneels to another, nor to his kind that lived thousands of years ago,
Not one is respectable or unhappy over the whole earth….

রাজনীতি আর ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের অত্যন্ত মৌলিক পার্থক্য আছে। ধর্ম স্থির, অবিচল। এর মূলনীতি— প্রচারেই প্রসার। এটি নিজের ধ্বংস অনুমোদন করে না। কিন্তু বিজ্ঞানের এক তত্ত্বকে আরেক তত্ত্ব দিয়ে বাতিল করা যায়। এরিস্টোটলের সময়ে, বিজ্ঞানের চোখে পৃথিবী যেরকম ছিলো, কোপার্নিকাসের সময়ে সেরকম ছিলো না। নিউটনের সময়ে মহাকর্ষ ছিলো একরকম, কিন্তু আইনস্টাইনের জেনারেল রিলেটিভিটির পর মহাকর্ষ হয়ে গেলো অন্য রকম। এরিস্টোটলের চারটি স্পিরিটের কথা এখন আর কেউ বলে না। এখন আমরা আত্মা নামক ভূতের আশ্রয় না নিয়ে, মগজে নিরন্তর ঘটতে থাকা বায়ো-কেমিক্যাল রিয়েকশানের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারি মানুষের মনকে। আর কাঁটাবনের বিজ্ঞানী কারা, এ সম্পর্কে আমার বিশদ জানা নেই। সম্ভবত তারা মুফতি ইব্রাহিম ঘরানার কেউ হবেন। এরকম হলে, কাঁটাবনের বিজ্ঞানী অভিধাটিতে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু ইমতিয়াজ মাহমুদ নিজে কাঁটাবনের বিজ্ঞানী কি না এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ থেকে যাবে।
 
রাজনীতি হলো মানুষকে খাঁচায় রাখার কৌশল, আর বৈজ্ঞানিকভাবে রাজনীতিক চিন্তা করা হলো মানুষকে খাঁচা থেকে বের করার কৌশল। দুটি দুই জিনিস। হবস  ও হিউম যেভাবে চিন্তা করতেন, সেটি ছিলো রাজনীতির বৈজ্ঞানিক চিন্তা। একটি লেবিয়াথান লেখা আর ভোটের জন্য রাজনীতি করা এক ব্যাপার নয়। হিউম তাঁর কাজকে বর্ণনা করেছিলেন ‘দ্য সায়েন্স অব হিউম্যান ন্যচার হিশেবে’, যেটিকে আমরা এখন রাজনীতি বলি। সে-হিশেবে রাজনীতিক তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হলেও রাজনীতি করা কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাপার নয়। মানুষ রাজনীতি করে থাকে ক্ষমতা উপভোগের জন্যে, আর ক্ষমতার এ উপভোগ টিকিয়ে রাখার জন্যে সে আশ্রয় নেয় প্রযুক্তির। এক প্রযুক্তি দিয়ে মানুষ ফেসবুকে ঢোকে, আর আরেক প্রযুক্তি দিয়ে রাজনীতিকেরা ফেসবুক বন্ধ করে। ম্যাকিয়াভেলি তাঁর প্রিন্সকে মানুষ দমনের যে-বুদ্ধি দিয়েছিলেন, রাজনীতিকেরা প্রযুক্তির সাহায্যে সে-বুদ্ধিরই বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছে। এখানে মূল উৎপাদ হলো রাজনীতিকের লক্ষ্য। হ্যাঁ, কিছু বাইপ্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে, যেগুলোর জন্য ইমতিয়াজ মাহমুদ অন্ধভাবে বিজ্ঞানকে গালমন্দ করছেন। আমেরিকার ডিফেন্স পলিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রি-এম্পটিভ মিজার বা আগাম সতর্কতা। এই প্রি-এম্পটিভ মিজারের অংশ হিশেবেই তারা সাগর মহাসাগরে অনেকগুলো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, এবং তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে, কিন্তু বাইপ্রোডাক্ট হিশেবে পৃথিবী পেলো তেজস্কক্রিয় জলবায়ু, দূষিত পানি, আর নানা প্রাণীর মৃতদেহ। এ কাজগুলো যারা করেছে তারা অস্ত্রধারী, এবং অস্ত্রধারী কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে আমরা বেশ ভয় পাই। ফলে গালাগালির জন্য অনেকে বেছে নেন নিরস্ত্র বিজ্ঞানকে। ইমতিয়াজ মাহমুদও তাই করেছেন। 

“গ্যালাক্সির দার্শনিক” শব্দগুচ্ছটির ‘গ্যালাক্সি’ অংশটি কিন্তু বিজ্ঞানের আবিষ্কার। আর ‘দার্শনিক’ শব্দটি বাংলাদেশে হয়ে উঠেছে ছাগলের মাথার মুকুটের মতো। যে যেভাবে পারছে শব্দটিকে ব্যবহার করছে। এদেশে যে কোনো কালে কোনো দার্শনিক জন্মান নি, এবং দর্শনের সাথে যে আমাদের কোনো পরিচয় নেই, তার বড় প্রমাণ এ শব্দটির অপপ্রয়োগ। একটি প্রিন্সিপিয়া ম্যাথম্যাটিকা বা ফেনোমেনোলজি অব স্পিরিট কি আমাদের আছে? কান্টের তিনটি ক্রিটিকের সাথে, বা রাসেলের অন ডিনোটিংয়ের সাথে, বা শোপেনহাওয়ারের উইলের সাথে বা বেন্থামের ফ্রাগমেন্টের সাথে কি কোনো ভাবাবেগময় পদ্যের তুলনা করা যায়? কিন্তু বাঙালি করছে কবরবাসীর আচরণ। তারা যাকে তাকে ডাকছে দার্শনিক! আমি বিভিন্ন সভা সেমিনারেও লক্ষ করেছি, সস্তা রাজনীতি ও ইতিহাস উচ্চারণকারীদের দার্শনিক ডাকা হচ্ছে! গল্প, উপন্যাস, ছড়া, এবং কবিতা লেখেন, এমন মানুষদেরও দার্শনিক ডাকা হচ্ছে! এসব দেখে অন্য গ্যালাক্সিতে লুকিয়ে থাকা রুশো, লক, বার্কলেরা নিশ্চয়ই হাসাহাসি করছেন। 

“বিজ্ঞানরে পবিত্র জ্ঞান করার কিছু নাই”, বিজ্ঞান কি কারও কাছে পবিত্রতা দাবি করেছে? বিজ্ঞান কি মানুষ যে এর স্থলন ঘটে? যাদের লুঙ্গি সারাক্ষণ নষ্ট থাকে তারা এ কাজ করলে করতে পারে, কিন্তু এদের সাথে বিজ্ঞানের কোনো যোগাযোগ নেই। এরা বড়জোর প্রযুক্তিভক্ত উন্মাদ। আর মানুষের অভ্যাস বদলিয়েছে মানুষ। এক মানুষ আরেক মানুষকে টোপ দেখিয়েছে নতুন পণ্যের, আর অমনি আলসে মানুষেরা গিলেছে ওই বড়শী। এখন আটকা পড়ে লাথি মারছে বিজ্ঞানের উপর। স্বর্ণ তো এক প্রকার ধাতব পাথর, মানুষের জীবনে এটি কোনো কাজে লাগে বলে শোনা যায় না, কিন্তু এটি লাখ টাকা দিয়ে কেনার অভ্যাস মানুষ কেন করলো? স্বর্ণ মূল্যবান, এটি তো বিজ্ঞান রটায় নি। রটিয়েছিলো অর্থলোভী মানুষেরা। স্মার্টফোনের ব্যবসা তো সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা করছে না, করছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা। 

মানুষকে ক্ষুধা, ভয়, মৃত্যু, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির দায়িত্ব বিজ্ঞান নেয় নি, নিয়েছিলো ধর্মনেতা ও রাজনীতিকেরা। রুশ জারদের হাত থেকে এ দায়িত্ব লেনিন নিয়েছিলো, এবং মানুষ দিয়ে ভরে ফেলেছিলো কারাগার। বহু দেশে এখন, না খেয়ে মারা যাওয়ার চেয়ে মেদ-ভুঁড়িতে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অসুখে মারা যাওয়ার চেয়ে যুদ্ধে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এগুলো মানুষের দুর্দশার বৈজ্ঞানিক কারণ নয়, সামাজিক ও রাজনীতিক কারণ। 

“হাজার হাজার বছরেও মানুষের বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয় নাই। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব অহংকার নিয়ে মানুষ এখনো কুত্তার মতন অসহায়”, এগুলো হলো চিপ রেটোরিক। কুত্তা কখনোই অসহায় ছিলো না। কুত্তা অসহায় হয়েছে মানুষ কর্তৃক কুত্তার ডোমেস্টিকেশন বা গৃহপালিতকরণের পর। মানুষ ও কুত্তা যখন উভয়েই জঙ্গলে ছিলো, তখন কুত্তা মানুষের চেয়ে ভালো খাবার খেতো। মানুষকে দীর্ঘকাল অন্য প্রাণীর উচ্ছিষ্ট খেতে হয়েছে। শক্তিমান প্রাণীরা যখন শিকার ধরে মাংস খেতো, এবং মাংস খেয়ে হাড়গোড় ফেলে যেতো, তখন মানুষ ওই ফেলে যাওয়া হাড় ভেঙে বোনম্যারো খেতো। 
বিজ্ঞানকেও গালমন্দ করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে, কিন্তু ইমতিয়াজ মাহমুদ ওই পড়াশোনো আর পরিশ্রমের পথে হাঁটতে চান নি। তিনি হেঁটে গিয়েছেন সেই পথে, যে-পথে বাঙালি, লাইন ধরে পিঁপড়ার মতো যায়। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ 

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অসময়ের নোট বুক

হারুন আল নাসিফ

অসময়ের নোট বুক

সমসাময়িক ঘটনাবলি আমাকে খুবই প্রভাবিত করে। মাঝে-মধ্য মনের শান্তি কেড়ে নেয়। সারা রাত ঘুমাতে পারি না। একটা ঘটনা অনেক সময় আমার মধ্যে হাজারো প্রশ্নের উদ্রেক করে। ভাবনার অতলে হারিয়ে যাই। কোনো কূল-কিনারা করে উঠতে পারি না। মনে হয় অকূল সমুদ্রে একা ও একাকী ভেসে বেড়াচ্ছি।

অনেক সময় চেষ্টা করি উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে চারপাশের জগৎটাকে ভুলে থাকতে। পারি না। কোনোভাবেই পরিবেশ-পারিপার্শ্বিকতা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন-বিযুক্ত করা যায় না। যা-দেখছি, যা-শুনছি, যা-জানতে পারছি তা সব ঠিক আছে এমন ভাবনা ভাবতে পারলে কোনো অসুবিধে হতো না।

কেনো জানি সমাজের অনেক কিছুই মানতে পারি না। আর পারি না বলেই যতো ঝামেলা। মনের ঘরে সিঁদ কেটে ঢুকে পড়ে অশান্তির সিঁদেল চোর। সে আমার যাবতীয় শান্তি চুরি করে পালিয়ে যায়। আর রেখে যায় রাজ্যের শূন্যতা। আর তা বুকজুড়ে বাজতে থাকে এক মর্মন্তুদ মরমী হাহাকার হয়ে।


মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনির ১মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল

ডাক্তার-পুলিশের এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত: হাইকোর্ট

একদিনে করোনা শনাক্ত ৪৫৫৯

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৯১ জন


হেফাজতের মাওলানা মামুন কী করেছে, তার সাথে তারা কী করেছে- এসব নিয়ে আমার না ভাবলেও দিন চলে যেতো। তবু এ ঘটনায় আমার মাথায় অজস্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়, উত্তর পেতে চায় অবুঝ মন। কিন্তু পায় না। না পেয়ে বিমর্ষ হয়, অবসাদে ভোগে। রাগ-ক্ষোভ প্রচুর নেতিবাচক রসায়নের নিঃসরণ ঘটায়। ক্ষতি হয় আত্মার-মননের।

করোনা মহামারীতে মানুষের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, দুনিয়াজুড়ে। যে কোনো সময় নিজের বা পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওযার এবং এর পরিণতি ভোগের আশঙ্কা যে মনকে পীড়িত করবে এটি অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া নানা ক্ষেত্রের প্রিয় মানুষদের মৃত্যুর খবর যে মনকে সারাক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখছে তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

মোদির বাংলাদেশে আসার বিরোধিতার নামে সৃষ্ট গোলযোগে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৭-এর বেশি মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির রেশ কাটতে না কাটতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাঁচ শ্রমিকহত্যার ঘটনা যখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে তখন নতুন কোনো চাপ নেওয়ার মতো অবস্থা আমার অন্তত ছিলো না।

না থাকলে তো আর হবে না! কপালে থাকলে গোঁদের ওপর বিষফেঁড়া হতেই পারে। হলোও তা। এলো ডাক্তার বনাম পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট বাহাসের ভাইরাল ভিডিও। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি দিচ্ছেন অনেকে। আমিও আর এর বাইরে থাকতে পারলাম না। নানা প্রশ্ন-উত্তর আমার নাজুক মাথায়ও ঘুরপাক খাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ঘূর্ণিপাকের মতো আমার চেতনাকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে তা হলো, আমাদের চারপাশে আমরা যে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত অগুনতি, অজস্র সম্মানিত পেশাজীবীদের দেখতে পাচ্ছি তারা কি কেবল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, অধ্যাপক, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ইত্যাদি? মানুষ না?

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বাংলা ভাষা থেকে তুই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

আফসার আহমেদ

বাংলা ভাষা থেকে তুই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

আফসার আহমেদ

ডাক্তার কাণ্ড-১ : 'তুই' সম্বোধন বাংলা ভাষা থেকে তুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব।

প্রথম কথা হল, ‌'তুই' সম্বোধনটা বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষা থেকে তুলে দিতে হবে আইন করে। নিজ পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য যে কাউকে 'তুই' বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

তাহলে পর্যায়ক্রমে  'সর্বনাশা সর্বনাম' এই  'তুই' সম্বোধনটি বাংলা ভাষা থেকে চিরতরে বিদায় নেবে, এক পর্যায়ে। শুধু তাই নয়, সরকারি কাজে তুমি সম্বোধনও তুলে দিতে হবে। সবাই সবাইকে আপনি করে বলবে।  এমন একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ আওয়ামী লীগ সরকার নিতে পারে, যা হবে আরেকটি সামাজিক মুক্তিযুদ্ধ।

কেন এই প্রস্তাব? 

প্রাচীন বাংলায় 'তুই' সম্বোধন ছিল না। এমন কি সংস্কৃত ভাষায়ও ছিল না। আধিপত্য আরোপের জন্য তুই চালু করা হয়েছে।  সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোন থেকে তুই এমন একটি  সর্বনাম, যা সামাজিক সংহতির অন্তরায়, সামাজিক ন্যায়ের (সোশ্যাল জাস্টিস) বিরোধী এবং শ্রেণি বিভাজনের প্রকাশক। 

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাঙালির ঐক্যবিরোধী এই সর্বনাম সম্পর্কে বলেছেন, 'তুই এর মধ্যে ধিক্কার থাকে, অস্মমানের উপাদানও থাকে। তুই অবশ্য আদরের ডাকও, তবে তা কেবলই আপনজনদের ভেতরে। কিন্তু সামাজিক 'তুই' দিয়ে একটি অপদস্থ প্রাণী শূদ্রে পরিণত হয়। ... তুই দিয়ে অপমান করা, শূদ্রে পরিণত করার কর্ম (এখনও) অব্যাহত রয়েছে। তুই কেবল যে শ্রেণিদূরতের চিহ্ন তা নয়, শ্রেণি আধিপত্যের অস্ত্রও বটে। 


বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যা বললেন হেফাজত নেতারা

কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভের দোয়া

২০ এপ্রিল, ইতিহাসে আজকের এই দিনে

সিঙ্গাপুরগামী বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ছে আজ


সর্বনাম শুধু অভিধান বা ব্যাকরণের ব্যাপার নয়, সমাজেরও সরঞ্জাম বটে, এমন কি অস্ত্র।' (সূত্র : বাঙালীর  জাতীয়তাবাদ, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী; উদ্ধৃত অংশটি সংক্ষেপিত)।

সুতরাং মানুষকে তুচ্ছ করতে আমরা তুই ব্যবহার করি বটে। কিন্তু তুই মোটেও তুচ্ছ বা ছোটখাটো কোনো সম্বোধন বা সর্বনাম  নয়। তুই একটি ভয়ঙ্কর হাতিয়ার। সমাজে এমন কোনো প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ নেই যারা তুচ্ছার্থে তুই সম্বোধনের শিকার হন না। বাটে পড়লে উচ্চ শ্রেণির লোকেরাও 'তুই' সম্বোধনের শিকার হন। তবে এই বাটে পড়া নিয়ে মজা পাওয়ার সুযোগ নেই। সাম্য চাইতে গেলে 'তুই' কে রাখা  চলে না।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

জীবন-জীবিকা বাঁচাতে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে হবে

নাজনীন আহমেদ

জীবন-জীবিকা বাঁচাতে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে হবে

করোনা ঠেকাতে লকডাউন। তাতে করোনার সাময়িক প্রকোপ কমলো, কিন্তু  ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমিক, কারিগর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যে ত্রাহি অবস্থা আমরা দেখছি, তাতে আমাদের এই অর্থনীতি লকডাউনের চাপ কতটা নিতে পারবে তা ভাবা দরকার।

লকডাউনে রপ্তানি শিল্পসহ বেশকিছু জরুরী শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা আছে, ফলে তাদের ক্ষতি কম। কিন্তু নানান পণ্য উৎপাদনকারী অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র পণ্যের উদ্যোক্তা যারা ঈদসহ নানান উৎসবকে ঘিরে তাদের পণ্য বিক্রয় পসরা সাজান -তারা পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। সেই সাথে আছে রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, পার্লার, নানান রকম আইসিটি সম্পৃক্ত সেবা -যারা তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারছেন না। এই সকল উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত আছে লক্ষ লক্ষ কারিগর, শ্রমিক কর্মচারী। এসকল খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষে তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন কতদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব? বড় উদ্যোক্তারা যেখানে শ্রমিকের বেতন দেওয়ার জন্য সরকারের সাহায্য নিতে হয়, তাহলে এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কীভাবে সেই বেতন চালিয়ে যাবেন?

গতবছরের প্রণোদনা প্যাকেজের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বন্টন হয়েছে খুব ধীরগতিতে। এখনো পর্যন্ত ৭৫ ভাগ এর মত বন্টিত হয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা সেই সুবিধা পাননি। বিশেষ করে যাদের ব্যাংকের সাথে লেনদেন নেই কিংবা যাদের ব্যবসার ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছিল, তারা কিন্তু এই প্রণোদনার আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই অবস্থায় পণ্য বিক্রি করতে না পারলে এই উদ্যোক্তা এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা কাজ হারিয়ে, আয় হারিয়ে মারাত্মক সংকটে পড়তে পারেন।

আবার যারা প্রণোদনার ঋণ সুবিধা পেয়েছিলেন, তারা যদি এখন ব্যবসা-বাণিজ্য করতে না পারেন, তাহলে ঋণের টাকা ফেরত দেবেন কীভাবে, সেটিও চিন্তার ব্যাপার।

দিনমজুর, রিক্সাওয়ালা, দোকানপাট মার্কেটের ফরমায়েশ খাটা কর্মী, দারোয়ান, কুলি, মুচি, ঝালমুড়ি বিক্রেতা -এই সাধারণ মানুষগুলো কতদিন এভাবে চলতে পারবেন?

অন্যদিকে বাস্তবতা হলো লকডাউন দিয়ে করোনাকে কিছুটা দমানো গেলেও এটা স্পষ্ট যে করোনার সাথে আরো হয়তো অনেক মাস কিংবা বছর আমাদের বসবাস করতে হবে। এখনো পর্যন্ত মাত্র ৩% জনগণকে ভ্যাকসিন এর আওতায় আনা গেছে। যতদিন না পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক সকলকে ভ্যাকসিন এর আওতায় আনা যায়, ততদিন পর্যন্ত করোনা মোকাবেলায় পন্থাগুলো ভাবতে হবে। আবার ভ্যাকসিন সবাইকে দেয়া গেলেও তা সবার জন্য পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

সেক্ষেত্রে আমাদের অন্তত এক বছরের একটা সার্বিক করোনা মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা দরকার। আমাদের মনে রাখতে হবে এভাবে দিনের পর দিন লকডাউন থাকলে তার অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করা অনেক মানুষের পক্ষেই সম্ভব না। আমাদের বুঝতে হবে এই লকডাউন এর পরেই করোনা বিদায় নিচ্ছে না।

করোনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ব্যাপক ও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন করাই হচ্ছে উপায়। ঘরের বাইরে অফিস-আদালতে এবং পাবলিক প্লেসে মাস্ক পরা কঠোরভাবে পালন করতে হবে।

অতি দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য গত বছরের মতো ব্যবস্থা নিতে হবে, খাদ্য বিতরণের আওতা বাড়াতে হবে। এই হতদরিদ্র মানুষদের অনেকের কাছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবনের ঝুঁকির চেয়েও খাদ্য কষ্টের চিন্তা অনেক বেশি প্রকট।

যেসকল খাতকে লকডাউন এর আওতায় মধ্যে রাখা হয়েছে অর্থাৎ যারা তাদের ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারছেন না তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। এদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে ঋণ নিয়েছেন তার ফেরত দেয়ার সময় বাড়িয়ে দিতে হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা দিতে হবে। 

যে সকল খাত লকডাউন এর আওতায় বাইরে আছে অর্থাৎ যারা তাদের উৎপাদন কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন, তাদেরকে আর কোন নতুন প্রণোদনা দেয়া যাবে না, কিংবা তাদের ইতোমধ্যে গৃহীত ঋণের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য কোন বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রয়োজন নাই।

স্বাভাবিক অর্থনৈতিক অবস্থাতে আমরা দেখেছি যে,  বাংলাদেশের উন্নয়নের উজ্জ্বল চিত্রের পাশাপাশি দুর্বল দিক হচ্ছে আয় বৈষম্য । সেই আয় বৈষম্য আরো বাড়বে যদি আমরা বড় বড় উদ্যোগগুলোকে শুধু লকডাউন এর আওতায় বাইরে রাখি, আর ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো হিমশিম খেতে থাকে বেঁচে থাকার জন্য। তাই আগামীর প্রণোদনা হতে হবে শুধু এই অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য । 

স্বাস্থ্য বিধি মানা কঠোরভাবে আরোপ করতে দরিদ্র মানুষের মধ্যে মাস্ক ও সাবান বিতরণ করতে হবে; স্বাস্থ্যবিধির মানার গুরুত্বের বিষয়ে ব্যাপকভাবে  প্রচার প্রচারণা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে। স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সর্বাত্তক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকতে হবে । আগামী অন্তত এক বছর কোনভাবেই স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে শিথিলতা আনা যাবে না। এটি পালন করতে পারলে সহসাই আবার লকডাউন দেয়ার প্রয়োজন হবে না।

এদেশে অনেক স্বচ্ছল মানুষ আছেন যারা মাসের-পর-মাস ঘরে থাকতে পারবেন, কোন কাজ না করলেও জীবনযাপনের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখা কোন সমস্যা হবে না।  কিন্তু স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে তা সম্ভব না । সরকারের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী বিত্তবানদেরকেও এই মানুষগুলোকে সাহায্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।

আর সকলের প্রতি আহবান, যাদের সামর্থ্য আছে তারা যত বেশি পারেন দেশীয় পণ্য কিনুন । তাতে এদেশের অনেক কারিগর, ডিজাইনার, শ্রমিকসহ পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের সাথে জড়িত নানামুখী মানুষের আয় বাঁচাতে, পেশা বাঁচাতে তা ভূমিকা রাখবে।

মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে আরো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় এগিয়ে নিতে হবে।

নাজনীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পদ-পদবি দিয়ে স্ট্যাটাস হয় না, স্ট্যাটাস অন্য বিষয়

আশরাফুল আলম খোকন

পদ-পদবি দিয়ে স্ট্যাটাস হয় না, স্ট্যাটাস অন্য বিষয়

প্রায় একবছর আগের ঘটনা। করোনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে লকডাউন চলছে। নারায়ণগঞ্জ তখন খুবই করোনাপ্রবণ, তাই লকডাউন খুব কড়াকড়ি। ঢাকাতেও লকডাউন। কাজকর্ম একটু কম। আমি তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত। সাথে আমারই এক সহকর্মী সারেয়ার ই সরকার জীবন । আমার গ্রামের বাড়ি যাবার জন্য বের হয়েছি। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে বালু নদী অতিক্রম করলেই নারায়ণগঞ্জের এরিয়া শুরু। আমাদের বিপত্তিও সেখানেই শুরু হলো। রাস্তাতে চেকপোস্ট। আমাদের গাড়ি যথারীতি থামালো।

ড্রাইভারদের ভাবচক্কর একটু বেশিই থাকে। আমরা কিছু বলার আগেই সে এটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়ি বলে গাড়িতে লাগানো কার্যালয়ের স্টিকার আঙ্গুল দিয়ে পুলিশকে দেখালো। পুলিশ সদস্য বললেন, “তা বুঝলাম কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীতো আর গাড়িতে নাই। গাড়ি অনুমতি ছাড়া এই এলাকাতে ঢুকতে পারবে না।” আমাদের কাছে লকডাউন এলাকায় প্রবেশ করার কোনো অনুমতি পত্রও নেই। বুঝলাম আমরা ভুল করেছি। কোনো রকম তর্কে না জড়িয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্যপথ দিয়ে গন্তব্যে গিয়েছি।

এতদিন পর এইসব লেখার কারণ হলো গতকালের একটি ঘটনা। একজন ডাক্তার,একজন ম্যাজিস্ট্রেট, আরেকজন পুলিশ। দেশের প্রথম শ্রেণীর তিনজন কর্মকর্তার কান্ডকীর্তি দেখে। জানিনা কার কি হয়েছে, আমি লজ্জা পেয়েছি। নিশ্চিত ওনাদের মুক্তিযোদ্ধা বাবারাও লজ্জা পেয়েছেন। নিশ্চয় তারা চাননি তাদের সন্তানদের কর্মকান্ড তাদের বীরত্বকে মানুষের কাছে হাস্যরসের পাত্র করবে। সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তির জন্য সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন মাত্র লক্ষাধিক বীর। আর কেউ না জানুক,সন্তান হিসাবে অন্তত আপনাদের বুঝা উচিত আপনাদের বাবারা কত উঁচু মাপের মানুষ।

কে দোষী কে দোষী নন এটা বিতর্কের বিষয়। তবে একজন সাধারণ মানুষেরও জানা উচিত, জরুরি অবস্থায় অবশ্যই, আবারো বলছি অবশ্যই পরিচয় পত্র বা অনুমতি পত্র নিয়ে বের হয় উচিত, আপনি যে পেশার মানুষই হন না কেন। ডাক্তার মহোদয় ভুল করেছেন আর গাড়ি আটকিয়ে মেজিস্ট্রিট এবং পুলিশ সঠিক কাজটিই করেছেন। আমার বক্তব্য এই তিনজনের পরবর্তী কর্মকান্ড নিয়ে। কেউ পাগল হলে তার সাথে পাগল হতে হয় না। কেউ বেয়াদব হলে তার সাথে বেয়াদব হতে হয় না।


আরও পড়ুনঃ


বাইডেনের প্রস্তাবে রাজি পুতিন

গালি ভেবে গ্রামের নাম মুছে দিলো ফেসবুক

একজন মিডিওকার যুবকের ১৮+ জীবনের গল্প এবং অন্যান্য

মৃত্যুতে যারা আলহামদুলিল্লাহ বলে তারা কী মানুষ?


এমন যদি হতো, ডাক্তার ম্যাডাম পরিচয়পত্র সাথে আনেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এবং এই কথাতে সন্তুষ্ট হয়ে মেজিস্ট্রেট ও পুলিশও সুন্দর ব্যবহার করে ওনাকে যেতে দিয়ে পরবর্তীতে পরিচয় পত্র সাথে নিয়ে বের হবার জন্য মনে করিয়ে দিয়েছেন। ডাক্তার ম্যাডামও ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন।

আমার মনে হয়না এমন হলে কারো স্ট্যাটাস কিংবা ক্ষমতা কমে যেত। আসলে পদ-পদবি দিয়ে স্ট্যাটাস হয় না। স্ট্যাটাস অন্য বিষয়। যা শুধু পদ ও সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্য দিয়ে অর্জন করা যায় না। ভদ্রতা ও আচরণ বলে দুইটা গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আছে। যা সবারই জানা উচিত। বাচালতা ও উগ্রতা শুধু আপনাকে নয়, আপনার বংশ এবং পরিবারকেও ছোট করে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর