স্বর্ণশিলা ঝুলন্ত প্যাগোডা: প্রকৃতির অপার বিস্ময়

হারুন আল নাসিফ

স্বর্ণশিলা ঝুলন্ত প্যাগোডা: প্রকৃতির অপার বিস্ময়

কিয়াইকতিও প্যাগোডা মিয়ানমারের একটি শীর্ষস্থানীয় তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। এটি গোল্ডেন রক প্যাগোডা নামেও পরিচিত। এটি মিয়ানমার বা বার্মার ইয়াঙ্গুন শহর থেকে প্রায় ১৩০ মাইল বা ২১০ কিমি দূরে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সোমরাজ্যে। রাজ্যের রাজধানী মাওলামিইন থেকে ১৪০ মিটার (৪৬০ ফুট) উত্তরে। এটি পূর্ব ইয়োমা পর্বতের পং-লং শৈলশিরায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার নয় ফুট বা এক হাজার একশ’ মিটার উঁচু কিয়াইকতিও পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কিয়াইকতিওর পাদদেশে কিনপুন গ্রাম। সেখান থেকে এ প্যাগোডার দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার বা প্রায় ১০ মাইল।

প্যাগোডাটি নির্মাণ করা হয় আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে। সোম ভাষায় ‘কিয়াইক’ অর্থ ‘প্যাগোডা’ ও ‘ইয়ো’ অর্থ ‘মাথায় বহন করা’ এবং ‘ইথি’ (সংস্কৃত ঋষি>পালি রিসি) অর্থ ‘ভিক্ষু’। সুতরাং ‘কিয়াইকতিও’ নামটির অর্থ দাঁড়ায় ‘ভিক্ষুর মাথায় বহন করা প্যাগোডা’। প্যাগোডাটির উচ্চতা সূচাগ্র চূড়াসহ মাত্র ২৪ ফুট। এটি দেখতে ভিক্ষুর মাথার মতো একটি ডিম্বাকার গ্রানাইট বোল্ডারের ওপর স্থাপিত, যার উচ্চতা ২৫ ফুট এবং বেড় ৫০ ফুট। বোল্ডারটি আবার মূল পাহাড় থেকে বিচ্ছিন্ন একটি শিলার বহিঃপ্রান্তের ঈষৎ ঢালু স্থানে হেলানো অবস্থায় বসে আছে। বসে কি! বলা ভালো ঝুলে আছে। সোনার শিলা বা পাথর ও এর ভিত্তিশিলা পরস্পর আলাদা। কোনো নির্দিষ্ট কোণ থেকে দেখা হলে এ দু’টোর বিভাজন একেবারে স্পষ্ট দেখা যায়। শিলার ভিত্তি ঘিরে সোনার পাতায় একটি পদ্মের আকৃতি আঁকা হয়েছে।

ভিত্তিশিলার ওপর বোল্ডারটির অবস্খানই এই প্যাগোডার মূল বিশেষত্ব। সোনার শিলাটির দৈর্ঘ্যের প্রায় অর্ধেক এর ভিতের বাইরে। প্রকৃতির কোন গূঢ় ইঙ্গিতে শিলাটি এর ভিতকে নামমাত্র ছুঁয়ে এভাবে একপাশে ঝুঁকে আছে কে জানে? দেখলে মনে হয়, যে কোনো মুহূর্তেই এটি ফসকে গিয়ে গড়িয়ে গিরিখাদে পড়ে যাবে। অথচ বহু শতাব্দী ধরে এবং বেশ কয়েকটি প্রবল ভূমিকম্প সত্ত্বেও এটি কিভাবে দৃশ্যত মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে অগ্রাহ্য করে এমন পতনোন্মুখ নাজুক অবস্খানে ভারসাম্য রক্ষা করে টিকে আছে, তা সত্যিই প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়।

লোকচক্ষুর সামনে এক জাজ্জ্বল্যমান অলৌকিক কীর্তি! বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কাছে যার কোনো উত্তর নেই। তবে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, প্যাগোডায় বুদ্ধের কেশধাতু সংরক্ষণের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। একটি জনশ্রুতি মতে, স্বর্ণশিলাটি বুদ্ধের একটি মাত্র কেশধাতুকে অবলম্বন করেই অটল-অবিচল রয়েছে।

জনশ্রুতি আছে মহাত্মা গৌতম বুদ্ধ আর এক ভ্রমণকালে এক ভিক্ষুকে বার কয়েকটি কেশধাতু দান করেন। ভিক্ষু সেগুলো তার চুলের গিঁটে লুকিয়ে রাখেন। পরে তিনি এটি রাজাকে দেন এবং তার নিজের মাথার আকৃতির একটি বোল্ডারের ওপর একটি প্যাগোডা নির্মাণ করে তাতে এ কেশধাতু সংরক্ষণের অনুরোধ করেন। রাজা তার অলৌকিক ক্ষমতা বলে সাগরে প্রার্থিত বোল্ডারটি খুঁজে পান।

তিনি স্বর্গরাজের সহায়তায় বোল্ডারটি স্থাপনের যথার্থ স্থান নির্ধারণ করে প্যাগোডা নির্মাণ করেন এবং বুদ্ধের কেশধাতু সংরক্ষণ করেন। পাথর পরিবহণে ব্যবহৃত নৌকাটি পাথরে পরিণত হয়। এটি স্বর্ণশিলা থেকে প্রায় তিনশ’ মিটার (৯৮০ ফুট) অবস্খিত। এটি কিওকথানবান প্যাগোডা বা স্তূপ নামে পরিচিত। আক্ষরিক অর্থ: পাথরের নৌকা স্তূপ।


এ প্যাগোডা বৌদ্ধ ধর্মের আধ্যাত্মিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আকারে ছোট হলেও এটি মিয়ানমারের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ও মর্যাদাবান প্যাগোডা। কিয়াইকতিও পাহাড় চূড়ার এ প্যাগোডাটিকে শ্বেদগন প্যাগোডা এবং মহামুনি প্যাগোডার পরে বার্মার তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ তীর্থস্থান হিসাবে গণ্য করা হয়। আসিয়ান দেশগুলোর পর্যটন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক এক প্রকাশনায় এ প্যাগোডাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বিস্ময় হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ত্রিপাদভাইজার ডট কম এটিকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে বিস্ময়কর স্থান’ হিসাবে রেটিং করেছে। মনে করা হয়, এই স্বর্ণশিলা এক ঝলক দেখলেই যে কারো মনে পলকেই বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের স্পৃহা জাগ্রত হয়।

এ প্যাগোডার প্রধান তীর্থ মৌসুম হলো নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এসময় ভোর থেকে সন্ধ্যা অব্দি স্বর্ণশিলাটি নানা রঙে-রূপে ঝলমল করে। বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এটি অপরূপ হয়ে ওঠে। পুরো পাহাড়ে একটি ধর্মীয় আবহের সৃষ্টি হয়। তীর্থযাত্রীদের মন্ত্রোচ্চারণে মন্দির চত্বর গমগম করতে থাকে। সারা রাত ধরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, ধ্যান ও বুদ্ধের কাছে নৈবেদ্য প্রদান চলতে থাকে। পুরুষরা একটি ছোট সেতু দিয়ে গভীর ফাটল পেরিয়ে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বর্ণশিলার পিঠে বর্গাকৃতির সোনার পাত লাগিয়ে দেন। তবে নারীদের পাথর স্পর্শ করার অনুমতি নেই। প্যাগোডা কর্তৃপক্ষ পরে সোনার পাতগুলো গলিয়ে বোল্ডারে লেপে দেন। যার ফলে কালক্রমে বোল্ডারটি সম্পূর্ণ সোনালি রঙ ধারণ করেছে।

মার্চ মাসে তবাংয়ের পূর্ণিমায় মন্দিরে আসা তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। এদিন প্যাগোডা প্রাঙ্গনে ভগবান বুদ্ধকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন হিসাবে নব্বই হাজার মোমবাতি জ্বালানো হয়। প্যাগোডায় আসা ভক্তরা বুদ্ধকে ফলমূল, খাবার ও ধূপকাঠি অর্ঘ্য দেন। মিয়ানমারের সমস্ত অঞ্চল থেকে পূন্যার্থীরা এ প্যাগোডায় তীর্থ করতে আসেন। স্বল্পসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও প্রতিবছর স্বর্ণশিলা ঝুলন্ত প্যাগোডা দেখতে আসেন। কিনপুন থেকে পায়ে হেঁটে বা বাসে যাওয়া যায়। হেঁটে গেলে চার ঘণ্টা আর গাড়িতে গেলে আধা ঘণ্টা সময় লাগে।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিলুপ্তির পথে বিরল প্রাণী বনরুই

হারুন আল নাসিফ

বিলুপ্তির পথে বিরল প্রাণী বনরুই

বনরুই আঁশযুক্ত পিপীলিকাভুক দন্তহীন স্তন্যপায়ী প্রাণী। অনেকে এদের পাতালপুরী রুইও বলে। আঁশযুক্ত শরীর ও মৎসাকৃতি গঠনে বনজঙ্গলে চলাফেরা করা এই প্রাণীটিকে দেখতে রুই মাছের মতো লাগার কারণে বনরুই বলা হয়ে থাকে। এরা বিপদের আভাস পেলে নিজের শরীর গুটিয়ে নেয় বলে মালয় ভাষায় এদের বলে ‘পেঙ্গুলিং’- যেখান থেকে এসেছে এদের ইংরেজি নাম প্যাঙ্গোলিন।

এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় অল্পসংখ্যক বনরুই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায়ও বনরুই আছে।

পৃথিবীর ৮ প্রজাতির বনরুইয়ের মধ্যে বাংলাদেশে তিনটির অস্তিত্ব ছিল। বর্তমানে কেবল ভারতীয় বনরুই (Indian Pangolin) ও চায়না বনরুই (Chinese Pangolin) পাওয়া যায়। এশীয় বৃহৎ বনরুই (Asian Giant Pangolin) নামে অপর একটি বনরুই চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

এদের শরীর ও লেজ গাঢ় বাদামি রঙের। বুক ও পেটে সামান্য লোম; আঁশের ফাঁকে ফাঁকেও লোম দেখা যায়। নাক সরু ও চোখা। জিভ লম্বা ও আঠালো। চোখ ও কান সরু। সামনের নখরগুলি পেছনের নখরের তুলনায় দ্বিগুণ লম্বা।

মাথাসহ শরীরের দৈর্ঘ্য ৬০-৭৫ সেমি, লেজ ৪৫ সেমি। শরীর নিচু ও প্রায় মাটি-ছোঁয়া। পিঠ, পাশ, হাত-পায়ের উপরদিক ও গোটা লেজ বড় বড় ত্রিকোণ শক্ত আঁশে ঢাকা। নিচের চামড়া থেকে আঁশ গজায় এবং বুকের দিক ছাড়া গোটা শরীর রক্ষা করে। আঁশ একেকটি করে ঝরে পড়ে ও নতুন করে গজায়।

এরা ভয় পেয়ে বলের মতো শরীর গুটিয়ে ফেলে, আঁশগুলো খাড়া করলে বনরুইকে সজারুর মতো দেখায়। এরা দুর্গন্ধযুক্ত এক ধরনের তরল নিঃসরণ ঘটাতে পারে।

 

বনরুই বড় ও মজবুত নখর দিয়ে কাঠের শক্ত গুঁড়ি ফেড়ে ফেলে এবং লম্বা ও আঠালো জিভ দিয়ে পোকামাকড় চেটে খায়। বুকে অবস্থিত গ্রন্থি পর্যাপ্ত লালা যুগিয়ে জিভ ভিজিয়ে রাখে। পিঁপড়া ও উইয়ের ঢিবি ভাঙার জন্য ওরা অগ্রপদের বাঁকা নখরগুলো কাজে লাগায়।

এদর নাকে ঢাকনি রয়েছে এবং পিঁপড়া খাওয়ার সময় পুরু চোখের পাতা পিঁপড়ার কামড় থেকে চোখগুলো বাঁচায়। এরা নখর গুটিয়ে অগ্রপদের ওপর ভর দিয়ে শরীর টেনে টেনে হাঁটে, কিন্তু শুধু পিছনের পায়ে ভর দিয়ে লেজের সাহায্যে ভারসাম্য রেখে দৌড়াতে পারে।

এরা নিশাচর, দিনের বেলায় নিজের খোঁড়া ২০০-৫০০ সেমি গভীর গর্তে কিংবা পাথরের মাঝখানে শরীর গুটিয়ে লুকিয়ে থাকে।বছরে একটি বা দৈবাৎ দুটি বাচ্চা প্রসব করে।

১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনে বনরুইকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাণীটি এতোটাই হুমকির সম্মুখীন যে, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) বনরুইকে লাল তালিকায় স্থান দিয়েছে।

বন্যপ্রাণী পাচারের ওপর নজরদারি করা বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ট্রাফিক’-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পৃথিবীতে যত প্রকার স্তন্যপায়ী বন্যপ্রাণী রয়েছে তারমধ্যে মধ্যে বনরুই সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার হয়।


আরও পড়ুনঃ


গালি ভেবে গ্রামের নাম মুছে দিলো ফেসবুক

পাঁচ দেশের সঙ্গে বিশেষ ফ্লাইট শুরুর ঘোষণা

এ বছর ৩৬ লাখেরও বেশি দরিদ্র পরিবার পাবে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

প্রকৃত কোন মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না: ভিপি নুর


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতিবছর কমপক্ষে ২০ টন বনরুইয়ের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচার হয়। এরমধ্যে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে গত ১৬ বছরে অন্তত ১৬ লাখ বনরুই পাচারের ঘটনা ঘটেছে। যা বন্যপ্রাণী পাচারের সংখ্যার দিক দিয়ে সবার শীর্ষে।

২০১৬ সালে সাইটিসের কপ (CITES Conference of Parties) সম্মেলনে আইইউসিএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত, শুধু এই তিন বছরেই বিশ্বব্যাপী পাঁচ লাখ বনরুই পাচারের শিকার হয়েছে।

গবেষকদের মতে, আশু পদক্ষেপ না নিলে এই বন্যপ্রাণীটি অচিরেই বাংলাদেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পৃথিবীর দুই বিরল সাদা জিরাফ

হারুন আল নাসিফ

পৃথিবীর দুই বিরল সাদা জিরাফ
কিছুদিন আগেও পৃথিবীতে চারটি সাদা জিরাফ ছিলো। তিনটি কেনিয়ায়, একটি তানজানিয়ায়। কিন্তু চোরাশিকারিরা ২০২০ সালের মার্চে কেনিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে একটি সাদা মা জিরাফ ও তার বাচ্চাকে মেরে ফেলায় সেখানে এখন মাত্র একটি সাদা জিরাফ অবশিষ্ট রয়েছে।
 
২০১৭ সালে এই মা জিরাফ ও তার বাচ্চাকে কেনিয়ার ইশাকবিনি হিলোরা কনজারভেন্সিতে অন্য জিরাফদের সঙ্গে ঘুরতে দেখা যায়। তখন তাদের বেশ কিছু ছবি ও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।

কলকাতায় বর্ষবরণে মঙ্গল শোভাযাত্রা

যন্ত্রাংশের প্যাকেটে রাখা বোমার বিস্ফোরণে শিশু নিহত

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে করোনা শনাক্ত ৪১৯২


কেনিয়ার অবশিষ্ট জিরাফটির সুরক্ষার জন্য ২০২০ সালের নভেম্বরে এর একটি শিংয়ে একটি ট্রেকিং ডিভাইস সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ডিভাইসটির মাধ্যমে ঘণ্টায় ঘণ্টায় জিরাফটির অবস্থান সম্পর্কে আপডেট পাওয়া যাবে। ফলে চলাফেরা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোরাশিকারিদের হাত থেকে একে বাঁচানোর চেষ্টা করা সম্ভব হবে।

 
তানজানিয়ার তারাংগির ন্যাশনাল পার্কের রয়েছে অপর একটি সাদা জিরাফ। এটি দলের অন্য জিরাফদের সঙ্গে মিলেমিশেই থাকে। এর সঙ্গীরাও তার ব্যতিক্রম রঙে মোটেই বিচলিত নয়। তবে সাদা রঙের কারণে শিকারিরা আকৃষ্ট হয় বেশি। যেমনটি হয়েছে কেনিয়ার মা জিরাফ ও এর বাচ্চার বেলায়।
 
লুসিজম নামক একটি জিনগত সমস্যার কারণে প্রাণীদের ত্বকের কিছু কোষ ছাড়া বাকি কোষগুলো রঞ্জক উপাদান তৈরি করতে পারে না। তাই এদের গায়ের রং সাদাটে ধরনের হয়। তবে এদের সম্পূর্ণ আলবিনো বা ধবলগ্রস্ত প্রাণীদের মতো একেবারেই সাদা দেহ আর নীল বা লাল রঙের চোখ হয় না। আলবিনো প্রাণীদের ত্বকে মেলানিন উৎপন্ন হয় না। এদের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু লুসিস্টিকদের হয় না। ফলে তাদের বেঁচে থাকতে সমস্যা হয় না।
 
এই দুই সাদা জিরাফের মধ্যে কেনিয়ার জিরাফটি একটু বেশি সাদা। আর তানজানিয়ারটি একটু কম। বিশেষ করে এর পায়ের দিকে রঙের ছোপ দেখা যায়। স্বাভাবিক জিরাফের মতো না হলেও তা একবারে সাদাও নয়। কিন্তু শিকারির হাতে মারা পড়া জিরাফদুটো আরো বেশি সাদা ছিলো।
 
news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

করোনায় ম্লান বৈসাবি উৎসব

অনলাইন ডেস্ক

করোনায় ম্লান বৈসাবি উৎসব

বৈসাবি পাহাড়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই আর চাকমাদের বিঝু- এ তিন উৎসবের আদ্যাক্ষর নিয়ে তৈরি বৈসাবি শব্দটি।

বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ সংক্রমণ আতঙ্কের মধ্যেও শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী বৈসাবী উৎসব। সোমবার (১২ এপ্রিল) কাপ্তাই হ্রদের গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে শুরু হয় এই উৎসবের।

সোমবার সকালে বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভগবানের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করেন। এসময় করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হয়।

ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়েই শুরু হয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর ৩ দিনব্যাপী প্রধান এই উৎসব। আগামীকাল মঙ্গলবার মূলবিজু পালিত হবে। বুধবার গোজ্যেপোজ্যে দিন পালিত হবে যার যার ঘরে।


আরও পড়ুনঃ


শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের নিয়েই হবে প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য

বাংলাদেশের জিহাদি সমাজে 'তসলিমা নাসরিন' একটি গালির নাম

করোনা আক্রান্ত প্রতি তিনজনের একজন মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন: গবেষণা

কুমারীত্ব পরীক্ষায় 'ফেল' করায় নববধূকে বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ


এ বিষয়ে বিজু, বৈসু, সাংগ্রাইং-২০২১ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি চাকমা জানান, বৈসাবির উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এই ৩ দিনে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকলেও এবছরও করোনা মহামারী পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। সরকারের নির্দেশনা ও নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে সামাজিক দূরত্ব মেনে পালন করছে বৈসাবি উৎসব।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

শ্রীমুখ: এক ঘর-এক বাড়ি-এক গ্রাম

হারুন আল নাসিফ

শ্রীমুখ: এক ঘর-এক বাড়ি-এক গ্রাম

এশিয়ার সবচেয়ে বড় গ্রাম বাংলাদেশেই। হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং। এটি প্রায় সবাই জানেন। কিন্তু এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রামও যে বাংলাদেশে অবস্থিত এ কথা সম্ভবত খুব কম লোকই জানেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ‘শ্রীমুখ’ গ্রামটিই এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম! ৬০ শতক জায়গাজুড়ে ‘এক ঘর-এক বাড়ি-এক গ্রাম’ খ্যাত এই শ্রীমুখ গ্রাম।

এর আগে এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম হিসেবে আলোচিত হওয়া কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার বেলঘর ইউপির ‘তিলইন’ গ্রামের জনসংখ্যা ৪০ জন। তাদের সবাই সনাতন ধর্মের বলে জানা গেছে।

শতাব্দী-প্রাচীন শ্রীমুখ গ্রামের বর্তমান জনসংখ্যা পাঁচজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একজন শিশু। এদের সবাই একই পরিবারের সদস্য।

শ্রীমুখ গ্রামটি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নে অবস্থিত। সরকারি গেজেটভুক্ত এই গ্রামটিতে দীর্ঘদিন থেকেই একটি মাত্র পরিবার বসবাস করে আসছে।

উপজেলা সদর থেকে নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খাজাঞ্চি ইউনিয়ন। এর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অর্ন্তগত তেলিকোনা ও পশ্চিম নোয়াগাঁওয়ের মধ্যবর্তী স্থানে শ্রীমুখ অবস্থিত।

 

শ্রীমুখ গ্রামে এক সময় ছিল একটি হিন্দু পরিবারের বসবাস। ১৯৬৪ সালে দাঙ্গার সময় পরিবারটি তাদের বাড়ি বর্তমান বাসিন্দা আলতাফ আলীর পূর্ব-পুরুষের কাছে বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে আলতাফ আলীর পরিবার এ বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে আলতাফ আলী সৌদি প্রবাসী। বাড়িতে বসবাস করছেন তার দুই বোন ও স্ত্রী-কন্যা।

গ্রামটির চারদিকে ফসলি জমি, বাঁশ ঝাড়, জঙ্গল ও কাদামাটিতে পরিবেষ্টিত। কাদামাটি ও পানি পেরিয়ে কোনো রকমে ঢুকতে হয় রাস্তাবিহীন এ গ্রামে।

সৌদি প্রবাসী আফতাব আলীর স্ত্রী রাহিমা বেগম। তাদের একমাত্র মেয়ে প্রতিদিন কাদামাটি-পানি পেরিয়ে একটি কিন্ডারগার্টেনে যায়। আর্থিক দুরবস্থার কারণে তাদের ব্যবহার করতে হয় কাঁচা শৌচাগার। একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকায় পুকুরের পানি পান করতে হচ্ছে।


আরও পড়ুনঃ


সন্তানদের লড়াই করা শেখান

নিউইয়র্ককে টপকে এখন বিলিয়নিয়ারদের শহর বেইজিং

শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের নিয়েই হবে প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য

করোনা আক্রান্ত প্রতি তিনজনের একজন মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন: গবেষণা


শ্রীমুখ গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র পাঁচজন হওয়ায় তারা পার্শ্ববর্তী পশ্চিম নোয়াগাঁওপঞ্চায়েতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ছোট একটি আইলই চলাচলের একমাত্র অবলম্বন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে কোথাও যাওয়া যায় না। শুকনো মৌসুমেও কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।

শ্রীমুখের পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিকেরা জমি দিয়ে সহযোগিতা করলে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হলে শ্রীমুখ গ্রামটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে। এমনকি গিনেজ বুকে নাম লেখাতে পারে ‘শ্রীমুখ’।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের বায়ুমন্ডলে আস্বাভাবিক মিথেন নিঃসরণ?

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের বায়ুমন্ডলে আস্বাভাবিক মিথেন নিঃসরণ?

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ক্ষেত্রে গ্রিনহাউস গ্যাস কার্বন-ডাই-অক্সাইডের থেকেও মারাত্মক মিথেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলে উচ্চমাত্রায় মিথেন গ্যাসের ধোঁয়া শনাক্ত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।

তবে এর উৎস নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টিকে ‘রহস্যময়’ বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কায়রোস এসএএস বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলে মিথেন নিঃসরণের ১২টি সর্বোচ্চ হার শনাক্ত করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত গবেষণা করে উক্ত ফরাসি সংস্থাটি।

বাংলাদেশের আকাশে ঘনীভূত মিথেনের চিত্র ধরা পড়েছে ব্লুফিল্ড টেকনোলজিস নামে আরেক পর্যবেক্ষকের নজরেও।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ইয়োতাম এরিয়েল বলেন, আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, বিশ্বের কয়েকটি সর্বোচ্চ মিথেন নিঃসরণ ঘটছে বাংলাদেশে, যা স্যাটেলাইটে শনাক্ত করা যায়।

এদিকে, মিথেন নিঃসরণের বিষয়ে বাংলাদেশ অবগত বলে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

মন্ত্রী বলেন, এটি সম্ভবত ধানক্ষেত থেকে আসছে। কৃষকরা যখন তাদের ক্ষেত সেচ দেন, তখন জলাবদ্ধ মাটিতে ব্যাকটেরিয়া বিপুল পরিমাণ গ্যাস তৈরি করতে পারে। আরেকটা উৎস হচ্ছে ল্যান্ডফিল (ময়লা পুঁতে রাখা) গ্যাস। আমরা এটি কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

গ্লোবাল মিথেন ইনিশিয়েটিভের তথ্যমতে, গৃহপালিত পশু, তেল-গ্যাস শিল্প থেকে লিক হওয়া, ময়লার ভাঁগাড় ও কয়লার খনি হচ্ছে মিথেন নিঃসরণের মনুষ্যসৃষ্ট কয়েকটি স্বাভাবিক মাধ্যম।


আরও পড়ুনঃ


নিউইয়র্ককে টপকে এখন বিলিয়নিয়ারদের শহর বেইজিং

মাওলানা মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ডে 'পুরুষশুন্য' কয়েক গ্রাম!

ফেসবুকে আপনার তথ্য ফাঁস হয়েছে কিনা যেভাবে জানবেন

করোনা আক্রান্ত প্রতি তিনজনের একজন মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন: গবেষণা


এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের হিসাবে, বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্তত এক-চতুর্থাংশের জন্য মানবসৃষ্ট মিথেন নিঃসরণ দায়ী।

ফ্রান্সভিত্তিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইডিএফের প্রধান বিজ্ঞানী স্টিভেন হ্যামবার্গ বলেন, বাংলাদেশের উপরে আমরা যে মিথেন ঘনীভূত হতে দেখেছি, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে- আমাদের আরও গবেষণা দরকার। নির্গমনের বিশ্বাসযোগ্য পরিমাণ এবং উৎস নির্ধারণের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর