ছাত্রীর দুঃখজনক মৃত্যু, দিহান ও ভরসার প্রেম

আনোয়ার সাদী

ছাত্রীর দুঃখজনক মৃত্যু, দিহান ও ভরসার প্রেম

করোনার এই সময়ে একটা চাপা আতঙ্ক নিয়ে আমরা এখন বসবাস করছি। একটু গভীর রাতে কেউ ফোন দিলে অন্যপ্রান্তের মানুষটা একরাশ আতঙ্ক নিয়ে ’হ্যালো’ বলে। না জানি কী খারাপ খবর শুনতে হয়, সে টেনশন এখন প্রায় সবারই মনে কাজ করে। এজন্যই বোধহয় এমন সময়টাকে মহামারী বলা হয়।

এরমাঝে কলাবাগানে এক ছাত্রীর মৃত্যু সমাজকে নীরবে বিরাট এক ধাক্কা দিয়ে গেছে। পিতা-মাতা বুকের ভেতরে তার মেয়েটার নিরপাত্তা নিয়ে একটা হাহাকার টের পেয়েছেন। অনেক ছেলে সন্তানের বাবা –মা হয়তো এখন উঁকি দিচেছ নিজের ছেলের ঘরে, আর ভাবছে ঠিকঠাক বড় হচ্ছে তো ছেলে!

ধর্ষণ ও এরপর হত্যা, বিকৃত যৌনাচারে হত্যা, প্রেমে প্রলুব্ধ করে হত্যা, অপহরণ করে ধর্ষণ ও হত্যা নাকি স্বেচ্ছায় প্রেমের ফাঁদে জীবন বলি – এমন নানা বিশ্লেষন নানা কথা, চারদিকে শুনেছি, পড়েছি আরো শুনবো হয়তো পড়বো। আমি সে সব নিয়ে কিছু বলতে চাই না। পুরো বিষয়টি আদালতের হাতে ছেড়ে দিতে চাই। চাই সঠিক তদন্ত হোক, আদালত অপরাধের প্রকৃত ধরণ চিহ্নিত করুক, সে অনুয়ায়ী আইন যা সিদ্ধান্ত দিয়ে রেখেছে তা বাস্তবায়িত হোক। তদন্ত ও বিচার যেন নিজের গতিতে চলে। আমার কথা বলার জায়গাটি ভিন্ন।

ছাত্রীর মৃত্যূ একটি আস্থাহীনতার গল্পকে সামনে আনে। সম্পর্ক যা-ই হোক, বন্ধুত্ব বা প্রেম, একটা মেয়ে পরিপূর্ণ আস্থা না রাখলে একটা ছেলের ডাকে সাড়া দিয়ে তার বাড়ি, বা পার্ক বা হোটেল বা মাঠে দেখা করতে যায় না। আমাদের সমাজে মেয়েরা এতোটাই দূর্বল থাকে নিজেরা একটু বেড়াতে গেলেও এমনকী শপিং এ গেলেও সঙ্গে একজনকে নিয়ে যেতে পছন্দ করে। আর অপহরণের ভয় মেয়েদেরকে ছোটবেলা থেকেই দেখানো শুরু হয়।

বাচ্চাদের বলা হয় ওখানে যেও না তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে। একা যেও না তোমাকে চুরি করে নিয়ে যাবে। অপহরণের শিকার হলে মেয়েদের দুর্গতি কী হয়, তা প্রকাশের ভাষা আমার নেই।  আমি ভাবি, এসব কথা না বলে, মেয়েদের যদি দৌড়াতে দেওয়া হয়, ছেলে বাচ্চাদের মতো শারীরিক শক্তি অর্জনের তাগিদ দেওয়া হয়, মানসিক দক্ষতা আরো বাড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, দেশের কতোই না উপকার হতো। ধনীদেশের মেয়েদেরকে কী ‘অবলা’ বলা হয়? এটাই বোধহয় আমাদেরই ধনধান্যপুষ্প ভরা দেশ, যাদের পেটে মানুষ হয়, তাদের জন্য ‘অবলা’ শব্দ বরাদ্দ করে রেখেছি।   
 
আজ থেকে বিশ বছর আগেও সহপাঠিরা মেয়েদের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা ছিলো। বন্ধুরা বন্ধুদের বড় সমর্থন ও নিরাপদ জায়গা ছিলো বলে এখন দাবী করা যায়। বন্ধুর কাছে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়া, শরীরের বিশেষ জায়গা থেকে রক্তক্ষরণে চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনকার বন্ধুত্ব ও প্রেমকে অনিরাপদ হিসাবে চিহ্নিত করে দিচ্ছে না কি?

গ্রুপ স্টাডি বা বান্ধবীর বাড়িতে যাচ্ছি বলে, প্রেম করতে যাননি এমন প্রেমিক বা প্রেমিকা কয়জন আছে? তারা হয়তো একটু হাত ধরতে পারলে সুখে বর্তে যেতো। কেউ হয়তো একটা চিঠি দিয়ে আসতো । কী জানি ব্যতিক্রমতো আছেই কেউ কেউ হয়তো আরো সাহসী হয়ে শারীরিক সম্পর্কে যেতো, তাতে মরে যেতো কী ?

কলাবাগানের ঘটনায় যে অবিশ্বাস মানুষের মনে গেঁথে দিয়ে গেলো, তা মেগা সিটির মানুষের গৌরব মোটেও বাড়ায়নি, এ কথা পরিষ্কারভাবে বলা যায়।

বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। দ্রুত বদলে যাচ্ছে সব। পৃথিবীর প্রয়োজনে এখন আমাদের মাঝে বিশ্ব নাগরিক হওয়ার প্রবণতা আছে। বিশ্বায়নের জানালা দিয়ে শুধু উন্নত জীবনবোধই আসবে তা কেন? বিশ্বের সমস্যাগুলোও তো আসবে। সত্য সুন্দর মানবিক বিনোদন শুধু আসছে তা নয়, অপসংস্কৃতিও আসছে, স্বাভাবিক সুন্দরের পাশাপাশি বিকৃতিও গ্রহন করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সে সব বেছে নেওয়ার দক্ষতা কী আমাদের তরুণরা অর্জন করতে পারছে? সেই দক্ষতা অর্জনের পরিবেশ কী আছে?  
এখন প্রশ্ন আসে, বড়রা কী ছোটদেরকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো সহযোগিতা করছে? এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া জরুরি। সমাজের বড়রা মানে অভিভাবক, চোখের সামনে আদর্শ হওয়া লোকটি যদি নিজে ঠিক থেকে ছোটদের ঠিক রাখার পথটি দেখিয়ে দিতে না পারে, তাহলে ছোটদের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? এ এক প্রশ্ন । 

কলাবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা কেউ চাই না। কিন্তু আমাদের চাওয়া বাস্তবায়নের উদ্যোগ কেউ কী নিয়েছে ? জানি এর জবাব নীরবতা। আপনার সন্তান যেহেতু আপনার সবচেয়ে প্রিয়, তাকে রক্ষা করতে তার সঙ্গে কথা বলুন। কথা বললে দূরত্ব কমে আসবে। দূরত্ব কমে আসা মানে সন্তানকে সুরক্ষা দিতে পারার বুদ্ধি দেওয়ার মতো পরিবেশে থাকা, নিজের মনকেও নিরাপত্তার প্রশান্তিতে রাখা । 

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

লকডাউন, ক্ষুধা ও ভালোবাসা প্রসঙ্গ

আনোয়ার সাদী

লকডাউন, ক্ষুধা ও ভালোবাসা প্রসঙ্গ

বৃহস্পতিবার আমি একটা পোস্ট লিখেছিলাম লকডাউন মানার তাগিদ দিয়ে । ফেইসবুকে তার নিচে কিছু কমেন্ট পেয়েছি। কমেন্টদাতারা মানুষের ক্ষুধার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ভালো, মানুষ মানুষের জন্য দরদ দেখাবে এটা স্বাভাবিক। কমেন্টগুলো আমি ইতিবাচকভাবে নিতে চাই। 

লকডাউন দেওয়া হয় মানুষের জীবন বাঁচাতে। এটাও মানুষের জন্য একধরনের ভালোবাসার প্রকাশ। আবার না খেয়ে কেউ মারা যাবে তা মানতে না পারাও মানুষের প্রতি একধরনের ভালোবাসার প্রকাশ। এখন মুশকিল হলো ভালোবাসার দুই ধরনকে পরষ্পরের বিপরীতে ব্যবহার করার প্রবণতা কাউকে কাউকে পেয়ে বসেছে। একদল বলছে লডডাউন কড়াকাড়ি বাস্তবায়িত না হলে মানুষ বেঘোরে প্রাণ হারাবে। অপর দল বলছে লকডাউনের নামে সব বন্ধ রেখে মানুষকে ক্ষুধার কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। কাজেই এই বিষয়ে বলার মতো আরো কিছু কথা আমার আছে। আমি সেগুলো আপনাদের কাছে বলতে চাই। 

প্রথম কথা হলো, মানুষ না খেয়ে থাকবে এমন কোনো পরিস্থিতির পক্ষে আমি নই। এই লকডাউনে দেশের সব মানুষ না খেয়ে থাকবে এটা ঠিক নয়। কতোজনের অর্থ বা খাবার সহায়তা লাগবে তার একটা হিসাব সরকারের কাছে থাকা উচিত। সরকারের নানা সামজিক কার্যক্রম আছে, তার আওতায় তাদের খাবার সরবরাহ ঠিক রাখা যায়। আচ্ছা, এবার সমালোচকরা বলবে, ত্রাণ হাপিস হয়ে যায়। গত লকডাউনে ত্রাণ মেরে দেওয়ার অভিযোগে বেশ কিছু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা না থাকলে, এনজিওর মাধ্যমে অতি দরিদ্রদের লকডাউনের দিনগুলোতে খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা যায়। 

আমাদের দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি আছে। গ্রামে গ্রামে তাদের নেতা আছে, কর্মী আছে । তারা চাইলে এই জনবল কাজে লাগিয়ে, ত্রানও দিতে পারে, মাস্ক ব্যবহার করতে আগ্রহী করতে পারে , আরো অনেক কিছু পারে। চাইলে খাবারও দিতে পারে।  এবার একটু ইসলামি প্রসঙ্গ টানি। এখন রমজান মাস চলছে। আল হাদীস অনুযায়ী আশপাশের চল্লিশ বাড়ি আমার বা আপনার প্রতিবেশি। প্রতিবেশীর খোঁজ খবর রাখার বিষয়ে ধর্মে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার বা জনপ্রতিনিধি বা এনজিও  কেউ যদি সহায়তা না করে তাহলে আপনি আপনার আশপাশের চল্লিশ বাড়ির খবর নিতে পারেন। এভাবে পুরো দেশেই্ সবাই সবার নজরে চলে আসতে পারে। সবাই মিলে এই মহামারী তখন সহজেই কাটিয়ে উঠা যাবে। তাই না?  কারোর তো আর না খেয়ে থাকার কথা নয়। 

এবার আসি করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে। কেন আপনাকে আমাকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হচ্ছে । ভাইরাসটি বহন করে মানুষ। আক্রান্ত মানুষ কথা বলার সময় বা হাঁচি -কাঁশি দেওয়ার সময় মুখ থেকে যে পানি বের হয়, পানির যে অতি ছোট কণা বের হয় তাতে সেই ভাইরাস থাকে। ফলে, মাস্ক ছাড়া হাঁচি-কাশি দিয়ে একজন আক্রান্ত ব্যাক্তি কোটি কোটি ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় এবং তার আশপাশে যারা থাকে তাদেরকে আক্রান্ত করে। এটাকে ড্রপলেট ছড়ানো বলে। আবার নাকদিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস ছাড়ার সময় অতি সূক্ষ্ম পানির কণা বের হয়। এটাকে বলে এরোসল। এতে অনেক ভাইরাস থাকতে পারে। ফলে, মাস্ক ব্যবহার করে ও  তিনি ফুট দূরত্ব বজায় রেখে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার উপায়কে বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানা। তাহলে প্রশ্ন হলো এটা করে ভাইরাস ঠেকানো গেলে লকডাউন কেন দরকার হলো। দরকার হলো কারণ অনেকেই মাস্ক পরেন না। পরলেও সঠিক নিয়মে পরেন না। আবার বেশ কিছু তথাকথিত শিক্ষিত মানুষকে আমি দেখেছি মাস্ক পরে ঘুরছে, হাঁচি দেওয়ার সময় মাস্ক খুলে হাঁচি দিচ্ছে। তাহলে  স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে না জানা, জানলেও অবহেলা করা, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায়।  

যাহোক, যেখানে নাগরিকরা নিজেরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদাসীন সেখানে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়। অনেক উন্নত দেশে এই ভাইরাসকে মোকাবিলার জন্য এমনকী কার্ফিও জারি করা হয়েছে। 

এখন প্রিয় নাগরিক ভাই ও বোনেরা, ভেবে দেখুন স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচাবেন নাকি নিজেও আক্রান্ত হয়ে অন্যের মৃত্যুর কারণ হবেন? ভেবে দেখুন লকডাউন কড়াকড়ি বাস্তবায়িত করবেন নাকি রোগের বিস্তারে ভূমিকা রাখবেন? ভেবে দেখুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু কমেন্ট করেবেন নাকি প্রতিবেশির জন্য আপদকালীন খাবারের ব্যবস্থা করবেন। আর সরকার কী করছে তা দেখার জন্য প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ছি। 
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেশে করোনায় একদিনে মৃত্যুর এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড

শরিফুল হাসান

দেশে করোনায় একদিনে মৃত্যুর এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘন্টায় আরও ১০১ জন মানুষ মারা গেলেন। একদিনে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। ১০১ জন মানুষের মৃত্যু মানে ১০১ টা পরিবার শোকের সাগরে। শুধু তো এই ১০১ জন নয়, গত ১৫ দিনে হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বহু পরিবারে মানুষটাই হয়তো ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম। এই যে সর্বগ্রাসী করোনায় এর শেষ কোথায়? আর করোনার বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে লড়ছি তাতে আমাদের ভবিষ্যত কী?  

আমার নিজের মনে হয়, প্রথম দফায় করোনা নিয়ে আমাদের কোন প্রস্তুতি না থাকলেও আল্লাহর রহমতে অল্পের উপর দিয়ে গিয়েছিল। আমরা তখন ধরে নিয়েছিলাম, আমাদের আর কিছুই হবে না। নাগরিকরা যেমন আমরা অসচেতন ছিলাম সরকারেরও যথাযথ প্রস্তুতি ছিল না। দ্বিতীয় দফার বিপদের মাত্রা আঁচ করতে পারিনি বলেই আমাদের সমন্বয়হীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফেব্রুয়ারির পর মার্চমাসজুড়ে যখন করোনা বাড়ছিল আমরা যা ইচ্ছে করেছি। 

আমাদের প্রস্তুতি ও সমন্বয়হীনতার অনেক উদাহরণ আছে। আমরা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট আইসিইউ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। প্রতিটা জেলায় আইসিইউ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও হয়নি। আজ চারিদেকে আইসিইউর জন্য হাহাকার। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে রোগী ছুটছে। একেকটা পরিবারের উপর দিয়ে যেন ঝড় যাচ্ছে। আচ্ছা আমরা কেন পারছি না যথাযথ ব্যবস্থা নিতে?
আমাদের কী টাকার অভাব আছে? মোটেও না। এই দেশে এখন হাজার কোটি টাকার নিচে প্রকল্পই হয় না। লাখ কোটি টাকার বাজেট। অথচ স্বাস্থ্যখাতের কী ভয়াবহ দশা! বিশ্বব্যাংকের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আছে অথচ আমরা যন্ত্রপাতি কিনতে পারছি না। আবার যাও বা কিনছি  শত শত ভেন্টিলেটর,  অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ নানা যন্ত্রপাতি পড়ে ছিল বিমানবন্দরে। অন্যদিতে স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগের নামে অনিয়ম আর কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের কথা  আসছে। 

একবার ভাবেন! আমাদের এই দেশে এই সমাজে বহু বিত্তশালী আছে যাদের কোটি কোটি টাকা। একদল আছে যারা শুধু সম্পদ করছেনই। অথচ দেখেন আজ হাহাকার করেও আমরা একটা আইসিইউ পাচ্ছি না। কী হবে এতো ফ্ল্যাট বাড়ি গাড়ি সম্পদ দিয়ে। আমাদের মৌলিক স্বাস্থ্যখাতের তো বেহাল দশা। কাজেই বহু উন্নয়ন বা সম্পদ গড়ার আগে আমাদের উচিত স্বাস্থ্যখাতের দিকে নজর দেয়া। কাজটা শুধু সরকারের একার না, সবাই মিলেই করতে হবে। 

আসলে করোনার এক বছর হয়ে গেলেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেখা যায়নি। বরং অনেকেই এটিকে দুর্নীতি আর লুটপাটের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। নানা কর্তৃপক্ষই যে শুধু দায়িত্বহীন ছিল তাই নয়, আমাদের নাগিরকরাও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন। মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন চেষ্টাই আমাদের ছিল না। এতো মৃত্যুর পরও যথেষ্ট সচেতনতা বা সতকর্তা নেই। এভাবে চললে ভবিষ্যত কী?

আমি জানি না ভবিষ্যত কী? লকডাউন দিয়ে করোনা সমস্যার সমাধান হবে না। কীসে যে সমাধান হবে সেটাও আমরা জানি না। কিন্তু এটা অত্যন্ত প্রমানিত যে মানুষজন মাস্ক পরলে, দূরত্ব বজায় রাখলে, হাত ধুলে অন্তত ঝুঁকি কমে। কিন্তু সেগুলোও আমরা মানছি না। কাল পুরান ঢাকার ইফতারের একটা ছবি দেখছিলাম। কে বলবে করোনা আছে। আবার ধানমন্ডিতে শিক্ষিত মানুষের জিলাপি কেনার ভীড়ও আছে। এভাবে চললে ভবিষ্যত কী?

আমার আসলে জানা নেই। গত এক বছরে কতো হাজারবার মাস্ক পরার কথা লিখেছি, স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা লিখেছি গুনে শেষ করতে পারবো না। কিন্তু নূন্যতম সচেতনতা দেখিনি। একইভাবে দায়িত্বশীল যারা, যাদের এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবার কথা ছিল তারাও যথাযথভাবে দায়িত্ববান ছিলেন না। আমার আজকাল ভয় হয়, না জানি আরও কী ভয়ঙ্কর দিন আসছে! 

এই রোযার মাসে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি আমাদের রহম করুন। ভয়াবহ রুগ্ন স্বাস্থ্যখাতের এই দেশে বড় কোন বিপদ এলে আমরা যে শেষ হয়ে যাবো। কাজেই আল্লাহ আমাদের রহম করুক। সরকারের কাছে অনুরোধ, সংকট মোকাবেলায় এমন কিছু করুন যাতে আমরা করোনার আগে ছুটতে পারি। আর জনগনের কাছে অনুরোধ, প্লিজ চলুন আমরা সতর্ক হই। সচেতন হই। মাস্ক পরি। দূরত্ব বজায় রাখি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রহম করুন।

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আইসিইউ নিয়ে প্রশ্নের আগে মানুষকে সহস্রবার ঘরে থাকতে বলা উচিৎ

শওগাত আলী সাগর

আইসিইউ নিয়ে প্রশ্নের আগে মানুষকে সহস্রবার ঘরে থাকতে বলা উচিৎ

পৃথিবীর কোনো দেশেই হাজার হাজার আইসিইউ থাকে না। সেটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, টরন্টো, মন্ট্রিয়ল, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন যেখানেই হোক না। সবদেশেই হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার একটা সীমা থাকে। অসংখ্য মানুষের এক সাথে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে, আইসিইউর প্রয়োজন হলে, অক্সিজেনের দরকার হলে - পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও তার ব্যবস্থা করতে পারে না।

আমেরিকার মতো মহাপরাক্রমশালী দেশেও কোভিডে যে হাজার হাজার মানুষ মরে গেছে- তার কারণও কিন্তু  ছিলো একটাই। একসাথে এতো মানুষ অসুস্থ হয়েছে, তাদের হাসপাতালে জায়গা দেয়া সম্ভব হয়নি, আইসিইউ দেয়া সম্ভব হয়নি। তার মানে কিন্তু এই না, আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ, সরকার সেখানে অবহেলা করেছে। পুরো দেশ অসুস্থ না হলে কারোই এতো বেশি সংখ্যক আইসিউর দরকার হয় না। আমেরিকারও দরকার ছিলো না।

কানাডার অন্টারিওতেও এখন একই অবস্থা, হাসপাতালে সিট নাই, আইসিইউতে জায়গা নেই। রোগীদের নানাস্থানে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্যেই কোভিড মহামারীর শুরু থেকে দেশে দেশে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। লকডাউনের প্রয়োজনীয়তাও এসেছে এই ধারনা থেকেই।

বিজ্ঞান বলছে, মানুষ যতো নানা জায়গায় ঘোরাফিরা করবে, ভাইরাসের সংক্রমণ ততো বিস্তৃত হবে। সেই কারণেই মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়। যাতে কম মানুষ সংক্রমিত হয়, কম মানুষ হাসপাতালে যায়, কম মানুষের জন্য আইসিইউর প্রয়োজন হয়। মানুষ ঘরে থাকলেই আইসিউইর উপর, হাসপাতারের উপর চাপ কমে যায়। কারণ তখন কম মানুষ অসুস্থ হয়।

আরও পড়ুন


মামলা-গ্রেপ্তারে কোনঠাসা হেফাজত, সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

পাঞ্জাবির বোতাম লাগানো নিয়ে গোলাগুলি-হামলা, আহত ৪

জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে এলো মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেডিকেশন নিয়ে সংসার করেছি, কাজের জায়গাতেও একই রকম


হাসপাতালে সিট নেই কেন, আইসিইউ নাই কেন- এই প্রশ্ন আমরা যতোবার তুলি তার চেয়ে সহস্রবার বেশি মানুষ যাতে ঘরের বাইরে না যায়, মানুষ যাতে ঘরে থাকে সেই কথা বলা উচিৎ। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে হাসপাতালের যে আসন সংখ্যা আছে, যে আইসিইউ আছে তা দিয়েই সবকিছু সামলানো যায়।

কেউ কোভিডে আক্রান্ত হলে, তার অক্সিজেনের দরকার হলে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে সেই খরচ তো সরকার দেয় না। যিনি সংক্রমণের শিকার হোন, তিনিই সেই খরচ বহন করেন। সেই খরচটা বাঁচানোর জন্য হলেও মানুষের কিছু দিন ঘরে থাকা দরকার।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কেন লকডাউন মেনে চলবেন

আনোয়ার সাদী

কেন লকডাউন মেনে চলবেন

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় বা বাইরে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে। সড়কে গাড়ীর সংখ্যাও বেশি। কোথাও কোথাও যানজট আছে। পুলিশের কঠোর অবস্থান থাকার পরও রাস্তায় গাড়ীর সংখ্যা বেড়েছে। লকডাউনের প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে মানুষের ঘরের বাইরে আসার প্রবণতাকে লকডাউন শিথিল হয়ে যাওয়ার লক্ষন হিসাবে না ভাবাই ভালো। কেননা, লকডাউনের প্রথম দিন ছিলো পহেলা বৈশাখ, সরকারি ছুটির দিন। স্বাভাবিক সময়ে এই দিনে রমনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক যে ভিড় হয়, তা এবছর দেখা যায়নি। মানুষ ঘরেই ছিলো। তবে দ্বিতীয় দিনে চাকরিজীবীরা ঘরের বাইরে এসেছেন। সুতরাং মানুষের উপস্থিতি কিছুটা বাড়ারই কথা। 

মুভমেন্ট পাস পেতে গত ৪৬ ঘণ্টায় ১৬ কোটি হিট পড়েছে অ্যাপে। এই ছোট্ট অথচ ভয়ংকর তথ্যটি মানুষের বাইরে আসার প্রবণতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে। মুভমেন্ট পাস ছাড়া এই লকডাউনে কারা কারা বাইরে যেতে পারবেন তার একটা তালিকা পুলিশের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। তারা 

হলেন: ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল স্টাফ, কোভিড টিকা/চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি/স্টাফ, ব্যাংকার, ব্যাংকের অন্যান্য স্টাফ, সাংবাদিক, গণমাধ্যমের ক্যামেরাম্যান, টেলিফোন/ইন্টারনেট সেবাকর্মী, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী,জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা/কর্মচারী,অফিসগামী সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পকারখানা/গার্মেন্টস উৎপাদনে জড়িত কর্মী/কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ফায়ার সার্ভিস, ডাকসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি/কর্মকর্তা, বন্দর–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/কর্মকর্তা। 

তাদেরকে বাদ দিলে কারা বাইরে যেতে পারেন ভেবে দেখা দরকার। টাকা তুলতে বা জমা দিতে ব্যাংকে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ও বাজার করতে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বাইরে দেখা যেতে পারে। আর একদল মানুষ যারা নানা অজুহাতে বাইরে যেতে চান। 

আরও পড়ুন


বিশ্বে একদিনে করোনায় ১৩৫৩২ জনের মৃত্যু

হেফাজতের আরেক সহকারী মহাসচিবকে আটকের অভিযোগ

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম, সময় ও রাকাআত

খালেদা জিয়াকে জাপানের রাষ্ট্রদূত ও পাকিস্তান হাইকমিশনারের চিঠি


এখন বলি লকডাউন কেন এলো। লক ডাউন এসেছে সংক্রমনের হার কিছুটা কমাতে। সংক্রমনের হারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের হাসপাতালগুলো কুলাতে পারছে না। আইসিও -তে শয্যা নেই। কেউ মারা গেলে কিংবা সুস্থ হয়ে আইসিও ছেড়ে গেলে আরেকজন সুযোগ পায় ভর্তি হওয়ার। এটা অতি অস্বাভাবিক দৃশ্য। প্রাণী জগতের মধ্যে শকুন এমন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে। মানুষের এই শকুন পরিস্থিতি বেমানান। তাই্ দরকার সংক্রমন কমানো। বৃহস্পতিবার একদিনে ৯৪ জন মারা গেছে । আল্লাহ না করুক যদি একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়ে তাহলে এটা আপনার আমার মনে কীধরনের আতঙ্ক তৈরি করবে তা কী ভেবে দেখেছেন? যদি পরিস্থিতি এমন হয়, চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে বা রাষ্ট্র চিকিৎসা দেওয়ার সামর্থ্য হারায় তাহলে কী হবে, ভাবতে পারেন? তাহলে এখন আমাদের কর্তব্য বিনা প্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া। সংক্রমন কমানো। 

এখন অনেকে বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু খোলা রাখা উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মানার কাজটি আমাদের দেশে যথাযথভাবে মানা হয়নি। এটা স্বীকার করতে হবে। বাইরে থেকে ভাইরাস আসা ঠেকানো যায়নি। দেশে ভাইরাস আসার পরও আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঠিকঠাক আলাদা রাখা যায়নি। মাস্ক পরানো যায়নি। সামজিক দূরত্ব ঠিকমতো মানানো যায়নি। কেন যায় নি তা আলোচনা করার দাবি রাখে অবশ্যই। 

যাহোক, যে কোনো কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতি শক্তিশালী মানুষরা কাটিয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিও শক্তিশালী মানুষরা কাটিয়ে উঠবে। তারজন্য অভ্যাসে এখন অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমে জানতে হবে এই ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়। মাস্ক পরে , অন্যের সঙ্গে দূরত্ব রেখে , আক্রান্তদেরকে চিকিৎসা দিয়ে এই সময়টা পার করা যাবে। কিন্তু এখন যদি জনসাধারণ সচেতন না হয়, তবে এই ভাইরাস থেকে যেতে পারে অনেক দিন। তা যদি হয় তাহলে, জীবন, জীবিকা, অর্থনীতি, গড় আয়ু অনেক কিছুতেই প্রভাব ফেলবে এই ব্যাধি। তাহলে আসুন আমরা ব্যক্তিগতভাবে অঙ্গীকার করি, নিজেকে সংক্রমন থেকে রক্ষা করবো। নিজে ভাইরাসটি ছড়াবো না। লকডাউনে অযথা বাইরে যাবো না। সবাই্ ভালো থাকুন। 

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তারা প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে জানে, মেরেছে…

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

তারা প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে জানে, মেরেছে…

হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় এমন দূরত্বের দেশ শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভূটানের করোনা পরিস্থিতির দিকে তাকান, প্রায় স্বাভাবিক।

সংক্রমন খুবই কম, আর মৃত্যু নেই বললেই চলে।

রহস্য কি?

তারা পারে, আমরা পারিনা কেন?

তারা পারে, কারণ, তারা বিয়ের প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে জানে, মেরেছে।

পরিস্থিতি যখনই নাজুক হতে পারে ভেবেছে তখনই লকডাউন না, সোজা কারফিউ জারি করেছে।

আর আমাদের দেশে একটি ল্যাংড়া টাইপের লকডাউন দিতেও ১০মন নস্যি ফুরায়, ১২ জনে ৪২ পদের আবদার নিয়ে হাজির হয়। আমাদের পণ্ডিতগণ আবার বসে বসে নস্যিটেনে কুষ্ঠি বিচার করে করে আব্দার মেটান, ছাড় দেন।

আরে একসপ্তাহ,দুসপ্তাহের লকডাউনে না মরবে অর্থনীতি না মরবে মানুষ।

একদল অর্থনীতি নামের জুজুর ভয় দেখায় আর একদল মানুষ না খেয়ে থাকবে বলে কেঁদে কেঁদে বাতাস ভারি করে।


আরও পড়ুনঃ


চীনে সন্তান নেয়ার প্রবণতা কমছে, কমছে জন্মহার

কাল-পরশু হয়তো লকডাউনটা আরো ‘ডাউন’ হয়ে যাবে

কুমারীত্ব পরীক্ষায় 'ফেল' করায় নববধূকে বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ

বাদশাহ সালমানের নির্দেশে সৌদিতে কমছে তারাবির রাকাত সংখ্যা


বিপুল যার রির্জাভ, মধ্যআয়ের যে দেশ, সে দেশ দুসপ্তাহের কারফিউ হজম করতে পারবে না, আমি তা বিশ্বাস করি না।

আর যদি সত্যিই হজম করতে না পারে তবে কী মূল্য ঐ সমুদ্রের মত রির্জাভের, কী মূল্য থাকে মধ্যআয়ের দেশের।

মনে রাখা ভাল, করোনা নিয়ন্ত্রনে মাঝামাঝি কোন পন্থা নেই। যত ঢিলেমি, যত ছাড় দেবেন বছর শেষে অর্থনীতির তত বেশী ক্ষতি হবে, লাভ হবে না। মানুষ মরবে, জীবনপ্রবাহ স্থবির হবে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর