এখন থেকে টাকা ছাড়াই হবে করোনা টেস্ট

অনলাইন ডেস্ক

এখন থেকে টাকা ছাড়াই হবে করোনা টেস্ট

দেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই করোনা শনাক্তের হার কমছে; এই অবস্থায় নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে ১০০ টাকা ফি-এর পরিবর্তে পুনরায় বিনামূল্যে টেস্ট করানোর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় এই সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহীদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ হারের নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে লক্ষণবিহীন সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে পরীক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন। পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১০০ টাকা ফি নেওয়া হয়, এটি বিনামূল্যে করার সুপারিশ করছি।

আরও পড়ুন: ‌‘গরীবের ডাক্তার’ খ্যাত লিটুর আগাগোড়া ছিল সততা

সালিশে ধর্ষণের রফাদফা ৭২ হাজার টাকায়, ক্ষোভে কিশোরীর আত্মহত্যা

সভায় নতুন পদোন্নতি পাওয়া জুনিয়র কনসালটেন্টদের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়, তারা বর্তমানে যেসব হাসপাতালে কর্মরত আছেন সেখানেই তাদের রাখার জন্য। কমিটি মনে করে, জুনিয়র কনসালটেন্টদের পদায়ন করা হলে এবং তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে গেলে কোভিড-১৯ রোগীদের যেসব হাসপাতাল চিকিৎসা দিচ্ছেন সেখানে শূন্যতা দেখা দিতে পারে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত না করা পর্যন্ত তাদের পদোন্নতি বর্তমানে যেখানে কর্মরত আছেন, সেখানে রাখা ভালো।

কমিটির সভায় বলা হয়, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘোষিত আর্থিক সহায়তা এখনও পাননি। এজন্য চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা দরকার।

কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামশর্ক কমিটির ২৫তম অনলাইন সভা কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জাতীয় পরামশর্ক কমিটির সদস্যসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মহিবুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল অফিসার আমানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর গত বছরের মার্চে বিনামূল্যেই নমুনা পরীক্ষা করছিল সরকার। কিন্তু গত ২৯ জুন নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়।

যাতে করে হাসপাতাল বা নির্ধারিত বুথে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করালে ২০০ টাকা এবং বাড়ি থেকে নমুনা নিয়ে এলে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার। এরপর গত ১৯ অগাস্ট সরকারিভাবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় ফি ২০০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা এবং বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু- শনাক্তের সর্বশেষ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু- শনাক্তের সর্বশেষ তথ্য

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৪১ জনে। 

এ সময় নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৩৫ জন। মোট শনাক্ত ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৬৭৬ জন এবং এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ১ হাজার ১৪৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

আজ শুত্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য  জানানো হয়েছে।


অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ

জিয়ার অবদান অস্বীকার করার অর্থই হল স্বাধীনতাকে অস্বীকার: ফখরুল

সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে রাজনীতিতে সুযোগ দিয়েছিলেন জিয়া: কাদের

বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের রিটেইলার মিট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত


এতে আরও জানানো হয়, ২১৯টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৮৭৯টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৩হাজার ৭১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ  ১৯হাজার ৩১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

হরকাতুল জিহাদের ৩ সদস্য গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

হরকাতুল জিহাদের ৩ সদস্য গ্রেফতার

নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদের প্রধান সমন্বয়কসহ ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

বিস্তারিত আসছে

আরও পড়ুনঃ


আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে: সামিয়া রহমান

প্রথমবারের মতো দেশে পালিত হচ্ছে টাকা দিবস

ইয়ার্ড সেলে মিললো ৪ কোটি টাকার মূল্যবান চীনামাটির পাত্র!

এই নচিকেতা মানে কী? আমি তোমার ছোট? : মঞ্চে ভক্তকে নচিকেতার ধমক (ভিডিও)


news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইউএস বাংলা এখন আতঙ্কের বাহন!

অনলাইন ডেস্ক

ইউএস বাংলা এখন আতঙ্কের বাহন!

ফ্লাইট ছাড়ার আগে দেখা গেল ফ্লাইটের ওয়েদার রাডার কাজ করছে না। ঠিক করার জন্য বলা হলো তখন অফিস থেকে হচ্ছে হবে করা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর কর্তৃপক্ষের একজন ফোন করে বলছেন, স্পেয়ার নেই বা এটা এখন ঠিক করতে গেলে ফ্লাইটের টাইম এলোমেলো হয়ে যাবে। এভাবেই চালিয়ে যেতে হবে। এভাবেই বাধ্য করে ফ্লাইট চালানো পাইলট যাত্রী সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। কথাগুলো বলছিলেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের একজন পাইলট।

মাত্রাতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের এভাবে পাইলটদের চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ অনেক পুরনো। নেপালের কাঠমান্ডুতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৫১ জনের প্রাণহানির ক্ষেত্রেও সেই ফ্লাইটের আগে পাইলট আবিদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ আছে ইউএস-বাংলা এয়ালাইনসের ওপর।

ইউএস বাংলার এয়ারলাইনসে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া চিকিৎসক ডা. আদিবা মাহবুবা জানান, এরা বিমানের ক্রটি নিয়ে জোর করে যাত্রী নিয়ে রওনা হয়, তার পর ইমারজেন্সি ল্যান্ডিং করায়। এটা প্রথমবার নয় এর আগেও বহুবার এরকম হয়ে গেছে। এদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। একটা প্লেনের ল্যান্ডিং গিয়ার ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই কিভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব।

জানা যায়, সম্প্রতি ইউএস-বাংলার মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট যাত্রাপথে কারিগরি ত্রুটি দেখতে পেয়ে ঢাকায় ফিরে এসে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর পরই ল্যান্ডিং গিয়ারের সমস্যা বুঝতে পেরে শাহ আমানত (রহ.) বিমানবন্দরেই জরুরি অবতরণ করে ইউএস-বাংলার আরেক ফ্লাইট।


এ ছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর রানওয়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজের পেছনের চাকা ছিটকে যায়। উড়োজাহাজটি নির্ধারিত জায়গা থেকে আরও সামনে অবতরণ করে। রানওয়ের একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে এটি থামে।

এর আগে ২০১৮ সালের মার্চে ঘটে বাংলাদেশের এভিয়েশনের সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গত ১২ মার্চ নেপালে ইউএস বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জনের মৃত্যু হয়। কাঠমান্ডুর এভিয়েশনের দাবি, পাইলটও ছিলেন মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে এবং সেই এয়ারক্রাফটের কারিগরি সক্ষমতার অভাব ছিল।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও ইউএস বাংলার সাবেক পাইলট ওয়াহিদ-উন-নবী বলেন, পাইলটের দক্ষতায় একবার দুবার করে তিনবার হয়তো বেঁচে গেলাম। কিন্তু চারবারের বেলায়ও যে বেঁচে যাব তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে। আর যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়া বিমান নিশ্চয়ই কারও কোনো টেস্টিং গ্রাউন্ড হতে পারে না। তিনি বলেন, হ্যাঁ এটা সত্য পাইলটরা পেশাদার, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেন। কিন্তু এয়ারক্রাফটের কারিগরি সক্ষমতার দিকগুলো মেনে না চললে এভিয়েশন খাত ধ্বংস হয়ে যাবে এটা সবারই মনে রাখা ও মেনে চলা উচিত।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, কারগরি ত্রুটি হতে পারে, কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। বাংলাদেশের প্রাইভেট এয়ারলাইনসগুলোর বিরুদ্ধে লাভের জন্য কিছু বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে, এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে সিভিল এভিয়েশনকে। যথাযথ নিয়ম রক্ষা না হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিভিল এভিয়েশনকে এয়ারলাইনসগুলোর জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা গেলেও বাংলাদেশে তা হয় না।

জানা যায়, পরপর একাধিক দুর্ঘটনায় পড়া বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলার বহরে থাকা বিমানগুলোর কারিগরি মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। এয়ারক্রাফটগুলোর বয়স, এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সঠিক প্রক্রিয়ায় হয় কিনা, এগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকেও একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফায় চিঠি দিয়ে, বহরের প্রতিটি বিমানের কারিগরি মান ও পরিস্থতি জানাতে বলা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সব থেকেই কোনো ত্রুটিহীন প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এয়ারক্রাফটের কারিগরি সক্ষমতার দিক দেখার দায়িত্ব সিভিল এভিয়েশনের। তারা এর দায় এড়াতে পারে না। এখন যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বহরে থাকা বিমানগুলো বাধ্যতামূলক সি-চেক বা পর্যালোচনা করতে হবে এবং ত্রুটি পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিতে হবে সেই এয়ারক্রাফটের পরিষেবা। 

অভিযোগ আছে, ফ্লাইট পরিচালনার শুরু থেকেই গ্রাহক হয়রানির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এয়ারলাইনস সংস্থাটি। ইউএস বাংলা, তাদের ফ্লাইটসমূহে সোনা চোরাচালান ও মাদক চালান বহনেরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইদানীং ইয়াবা বহনকারী মাদকচক্রও নিরাপদ বাহন হিসেবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটগুলো অবাধে ব্যবহার করছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিএস ১৪৬ যোগে ঢাকায় আসা যাত্রী শাকিল মিয়ার কাছ থেকে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ২ হাজার ২৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ইয়াবার বাজার মূল্য সাড়ে ১১ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, কক্সবাজারের টেকনাফের জনৈক আবিরের কাছ থেকে সে এই ইয়াবা সংগ্রহ করে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছাতে ইউএস বাংলার ফ্লাইট ব্যবহার করে থাকে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা থাকায় মাদকের বড় চালানগুলো বিমানে যাত্রীবেশে আনার ঘটনা ঘটে চলছে। এক্ষেত্রে ফ্লাইটের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ থাকারও অভিযোগ উঠেছে।

গন্তব্যে যাত্রী পৌঁছাতে না পেরে অন্য বিমানে যাত্রী তুলে দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে। তাছাড়া মাঝ আকাশ থেকেই যাত্রীসমেত ফ্লাইট ফিরিয়ে আনা, এক স্থানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে অন্য গন্তব্যে পৌঁছানো, এসি বিকল থাকায় হাত পাখার বাতাস নিতে নিতে ইউএস বাংলার ফ্লাইট ভ্রমণের হাস্যকর নানা কাহিনি এখন যাত্রীদের মুখে মুখে ঘুরেফিরে।

এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্ট একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে সরকারি এয়ারলাইনসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে সময় ঠিক রাখার জন্য আগ্রাসীভাবে ফ্লাইট চালাচ্ছে তারা। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ থেকেও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফ্লাইট পরিচালনা। কুয়াশার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ ফ্লাইট বন্ধ রাখলেও কোনো কোনো বেসরকারি এয়ারলাইনস তার মধ্যেই ফ্লাইট চালিয়েছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ভ্যাট ফাঁকিতে বেপরোয়া ইউএস বাংলা গ্রুপের ১২ প্রতিষ্ঠান!

অনলাইন ডেস্ক

ভ্যাট ফাঁকিতে বেপরোয়া ইউএস বাংলা গ্রুপের ১২ প্রতিষ্ঠান!

কালোবাজারি আর চোরাচালানের পাশাপাশি ভ্যাট ফাঁকিতেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইউএস বাংলা গ্রুপের ১২ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এ তথ্য দিয়ে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাৎ করে মাত্র কয়েক বছরে ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ হয়েছে ইউএস বাংলা গ্রুপ। 

ইউএস বাংলা গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানের একটির বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান ও আরেকটির বিরুদ্ধে বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে। এ অবস্থায় ইউএস বাংলা গ্রুপের ১২ অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ফাঁকি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভ্যাট বিভাগ সূত্র। এ প্রসঙ্গে জাতাীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. আবদুল মান্নান শিকদার বলেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন চলমান প্রক্রিয়া। এ জন্য অডিট করা হয়। মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট গোয়েন্দাও কাজ করছে।

জানা গেছে, মাত্র এক দশক আগে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএস বাংলা গ্রুপের এখন ১২টির বেশি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো- ইউএস বাংলা অ্যাসেটস্, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস, ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ইউএসবি এক্সপ্রেস, ইউএস বাংলা লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউএস বাংলা ফুটওয়্যার, ইউএস বাংলা হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউএস বাংলা অটোমোবাইলস্, ইউএস বাংলা ফুডস্, ইউএস বাংলা ফ্যাশনসসহ আরও নানাবিধ প্রতিষ্ঠান। সময়ের হিসাবে ইউএস বাংলা গ্রুপের ব্যবসার পরিধি রহস্যজনকভাবে বেড়েছে, যা বাংলাদেশে অনেকটাই বিরল।


 ভ্যাট প্রশাসন সূত্র জানায়, ইউএস বাংলা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউএস বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেড ঢাকার অতিসন্নিকটে পূর্বাচলে যে ‘পূর্বাচল আমেরিকান সিটি’ প্রকল্প রয়েছে, তাতে ভ্যাট ফাঁকি চলছে ফ্রিস্টাইলে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএস বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের অন্য দুই আবাসন প্রকল্প হলো- ইস্ট আমেরিকান সিটি ও হলিডে হোমস কুয়াকাটা। এ তিন আবাসন প্রকল্পের ভ্যাট ফাঁকি দীর্ঘদিন যাবৎ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। 

ইউএস বাংলা গ্রুপের কুরিয়ার সেবা প্রতিষ্ঠান ইউএসবি এক্সপ্রেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই ভ্যাট প্রশাসনে। প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য পরিবহন করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য পরিবহন করায় ইউএসবি এক্সপ্রেসকে জরিমানা করা হয় বলে তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের তৎকালীন কমিশনার ড. মইনুল খান। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রাপ্য ভ্যাটও আদায় করা হয় বলে তথ্য দিয়েছেন।

ইউএস বাংলা গ্রুপের জুতা ও চামড়াজাত তিন প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকিও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ইউএস বাংলা লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের নামে থাকা বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা আমদানি পণ্য কালোবাজারিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইউএস বাংলা ফুটওয়্যার লিমিটেড ও ভাইব্রেন্ট ফুটওয়্যার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান দুটির উৎপাদন ও বিক্রির বিপরীতে সরকার প্রাপ্য ভ্যাট থেকে বঞ্চিত। শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত ইউএস বাংলা লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার আড়ালে কালোবাজারিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্র জানায়, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ অনিয়মে জড়িত ইউএস বাংলা লেদার। প্রতিষ্ঠানটির বছরের পর বছর রপ্তানি নেই। তবু বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানি করছে। কালোবাজারিতে জড়িত থাকার অপরাধে ইউএস বাংলা লেদারকে এরই মধ্যে জরিমানা করা হয়েছে। ইউএস বাংলা লেদারের শুল্ক ফাঁকি উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


ইউএস বাংলা গ্রুপের দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়ছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে প্রাপ্য ভ্যাট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। ২০০৩ সালে যাত্রা করা গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে বর্তমানে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন।

ইউএস বাংলা গ্রুপের আরেক বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উড়োজাহাজ সেবাদানকারী ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড। ১৭ জুলাই ২০১৪, সালে যাত্রার পর প্রতি বছর বিক্রি হওয়া লাখ লাখ টিকিটের বিপরীতে আদায় হওয়া প্রাপ্য ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি বলে মনে করেন ভ্যাট প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, প্রভাবশালী এ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সরকার কয়েক শ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। 

জানা গেছে, ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে জড়িত ইউএস বাংলা হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ সঠিক প্রক্রিয়ায় ভ্যাটের রিটার্ন দাখিল না করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এ ছাড়া কোটি কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ফ্রিস্টাইলে ব্যবসা পরিচালনা করছে ইউএস বাংলা মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন, ইউএস বাংলা ফুড, ইউএস বাংলা ভেভারেজ অ্যান্ড এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইউএস বাংলা রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ও ইউএস বাংলা এগ্রো লিমিটেড।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সোনা চোরাচালানে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস

অনলাইন ডেস্ক

সোনা চোরাচালানে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস

সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছে বেসরকারি উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড। সংস্থাটির উড়োজাহাজ থেকে দফায় দফায় চোরাচালানের সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারও করেছেন এয়ারলাইনসটির কর্মীরা। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

কাস্টমস সূত্র জানান, সবশেষ মাসকাট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট থেকে ৭ কেজি ২৯০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এর আগে গত বছর ১১ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস থেকে ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়। একই বছরের ৩১ জুলাই একই বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার যাত্রী বহনকারী গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৩ কেজি ৭১২ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে কাস্টমস, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
 
২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর ১৭ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি সোনার বারসহ আটক হন ইউএস-বাংলার কর্মী। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। একই বছরের ২০ এপ্রিল প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে কাস্টমস, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা হওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সোনা চোরাচালানের বিষয়ে গভীর মনোযোগ রয়েছে কাস্টমসের। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে রয়েছে কাস্টমস। এয়ারলাইনসের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’
 
বাংলাদেশ জুয়েলারি প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এয়ারলাইনসগুলো জড়িত না থাকলে কোনোভাবেই আকাশপথে সোনা চোরাচালান সম্ভব নয়। তাদের সঙ্গে অন্যরাও জড়িত। বিমানবন্দরে ১৭টি সংস্থা কাজ করে, তাদের আড়াল করে সোনা চোরাচালান অনেক কঠিন।’

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি-বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘এত দিন আমরা জেনেছি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে এয়ারলাইনসগুলোর ক্রুরা জড়িত থাকেন।’ তবে সরাসরি এয়ারলাইনসগুলো জড়িত না থাকলে বিপুল পরিমাণ সোনা চোরাচালান কেবিন ক্রুরা করতে পারেন কিনা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর  এই সহসভাপতি।

কাস্টমস সূত্র জানান, ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। সোনার বারগুলো কালো স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান প্রতিরোধে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর বিএস৩১৬-এর যাত্রী অবতরণের সিঁড়ির নিচে ৪০টি সোনার বার পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর শাহজালালে তিনটি সোনার বারসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ওমর ফারুককে আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউস। বিদেশ থেকে সোনার বারগুলো নিয়ে আসা মামুন মিয়া নামে এক যাত্রীকেও আটক করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ট্রানজিট ও বোর্ডিং এলাকায় নজরদারি এবং তল্লাশি করে। আটক যাত্রী ও ইউএস-বাংলার কর্মীকে পুলিশে দেওয়া হয়।

একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ কেজি সোনার বারসহ গ্রেফতার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে। এ সময় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক তোফাজ্জল হোসেন।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মৌসুমীকে প্রায় ১০ কেজি সোনাসহ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় এপিবিএনের এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মৌসুমীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সোনা চোরাচালান আইনে মামলা করেন। মামলায় ইউএস-বাংলা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যোগ দেওয়া কেবিন ক্রু নেছার উদ্দিন, তার স্ত্রী, যাত্রী সুহেল খাঁ, লাকী ও বাপ্পীকে আসামি করা হয়।

২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। ওই দিন বিকালে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাইটের টয়লেটে ওই সোনা পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা জানায়, প্রতিটি ১০ তোলা ওজনের মোট ১২০টি সোনার বার উদ্ধার হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদ পায়, ব্যাংকক থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের (বিএস ২১৪) ফ্লাইটের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হবে। উড়োজাহাজটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে বিমানের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই বারগুলো পাওয়া যায়।
 
২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস৩২২) ১১ এ ও ১১ বি সিটের ভিতর থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তখন জানায় ঢাকা কাস্টম হাউস।

একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস২০২) থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর