মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ কেন ২০ জানুয়ারিতেই হতে হবে
মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ কেন ২০ জানুয়ারিতেই হতে হবে

মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ কেন ২০ জানুয়ারিতেই হতে হবে

অনলাইন ডেস্ক

নানা ঘটনা আর দূর্ঘটনা পার হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন জো বাইডেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৭৮ বছর বয়সী এই বাইডেন হোয়াইট হাউজে পা রাখতে যাচ্ছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনে হারিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয় লাভ করেন।

মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে সারা বিশ্বেই আগ্রহ থাকে।

তবে কিছু বিষয় নিয়ে মানুষের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।  

কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নভেম্বর মাসের মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়? কেনই বা প্রায় আড়াই মাস পরে ক্ষমতা গ্রহণ করতে হয়? সেটা আবার ২০ জানুয়ারিই বা কেন? এমন নানা প্রশ্ন আমাদের মনে জাগে। এসব প্রশ্নের উত্তর একটাই সংবিধানের বিধি নিষেধ।  

মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কেন জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখ শপথ নেন? উত্তর একটাই সংবিধান। মার্কিন সংবিধানের ২০তম সংশোধনী অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনের পরের বছরের ২০ জানুয়ারি দুপুরে নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান হিসেবে অভিষিক্ত হবেন।  


নিজেদের চরকায় তেল দিন, পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশে রাশিয়া


ওই দিন বেলা ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন আগের প্রেসিডেন্ট। এই সময়ের পর আর তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না। এবার যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে ২০ জানুয়ারি ঠিক দুপুরে।

এই রেওয়াজ চালু আছে প্রায় শতবছর। সুস্পষ্টভাবে বললে, ১৯৩৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। ওটা ছিল তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ। প্রথম মেয়াদে তিনি শপথ নিয়েছিলেন সংবিধানে উল্লিখিত ৪ মার্চ। এবং তাঁর আগের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই ওই ৪ মার্চই শপথ নিয়েছেন, ১৭৮৯ সালের সংবিধানের ধারাবাহিকতা মেনে।

প্রশ্ন হলো, নির্বাচনের পর থেকে নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার মধ্যে এত বড় বিরতি কেন? মূলত দুটি কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম কারণটি এই সময়ে শুনতে একটু কেমন লাগলেও সত্য। সেটি হলো, নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটনে এসে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য আসাটা সময় সাপেক্ষ বিষয়। আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ খারাপ ছিল।  

ফলে, দূরের প্রান্ত থেকে কেউ এসে ক্ষমতা গ্রহণ করতে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে জন্য একটা লম্বা সময় এই ভ্রমণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। দ্বিতীয় কারণটিই মুখ্য, আর তা হলো ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া। ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য বিদায়ী প্রশাসনের কাছ থেকে নানা তথ্য নতুন প্রশাসনকে দেওয়া, নতুন প্রশাসনের মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া ইত্যাদি কাজের জন্য একটা সময় প্রয়োজন।  

আগে প্রযুক্তি উন্নত ছিল না। ফলে নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শপথ গ্রহণের জন্য মোটাদাগে চার মাসের একটা সময় রাখা হতো।

সমস্যা হয় ১৮৬১ সালে। সে বছর মার্চে আব্রাহাম লিঙ্কন ক্ষমতা গ্রহণ করতে করতে চলমান গৃহযুদ্ধে মার্কিন পক্ষের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এই একই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সাত দশক পর ১৯৩৩ সালে।

মহামন্দার সেই সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। অবস্থা এতটাই বাজে ছিল যে, মানুষ উদ্‌গ্রীব হয়ে শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের অপেক্ষা করছিল।  

সেই বছরই প্রথম এই দীর্ঘ বিরতি একটা বড় সমস্যা হিসেবে সামনে হাজির হয়। আনা হয় সংবিধানের ২০তম সংশোধনী, যেখানে নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেকের দিন হিসেবে ২০ জানুয়ারির কথা বলা হয়।  

তবে এ ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। কোনো বছরের ২০ জানুয়ারি যদি রোববার পড়ে, তবে প্রেসিডেন্ট শপথ নিলেও বাকি আনুষ্ঠানিকতা পরদিনের জন্য তোলা থাকবে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের সময় এমন ঘটনা ঘটেছিল।

তবে এবার করোনা মহামারি এবং উগ্র ট্রাম্প সমর্থকদের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠান।  

news24bd.tv আয়শা